বাংলাদেশ
বাংলাদেশে সবুজ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম চালু
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন প্রকল্পের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষায়িত ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (জলবায়ু অর্থায়ন) প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জাতীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ যখন কাজ করছে, তখন ব্যাংকযোগ্য (ব্যাংক ফাইন্যান্সের উপযোগী) সবুজ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি ও বেসরকারি মূলধনের সমন্বয় এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রাথমিকভাবে তিনটি খাতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন।
· নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় পর্যায়ের সৌর ও বায়ুশক্তি এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অর্থায়ন করা হবে, যাতে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
· জ্বালানি দক্ষতা খাতে বস্ত্রশিল্পসহ উচ্চ জ্বালানি-নির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় কমানো এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
· পানি শোধন খাতে জলবায়ু সহনশীল পানি বিশুদ্ধকরণ ও শোধন অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এডগার কেয়ার্কভাইক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর পরিবর্তন আনা। প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি মূলধনকে টেকসই ও ব্যাংকযোগ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় জলবায়ু ও অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারের বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’
তিনি জানান, প্ল্যাটফর্মটিতে একটি বিশেষ পোর্টাল রয়েছে, যেখানে প্রকল্প উদ্যোক্তারা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে, বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা করতে, প্রকল্প মূল্যায়নের মানদণ্ড জানতে এবং তহবিলের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা থেও ওয়েস্টগেস্ট বলেন, টেকসই অবকাঠামো বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং কার্যকর মূলধন বরাদ্দের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ খান বলেন, ‘এই কাঠামোর মাধ্যমে আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য বাংলাদেশের নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগের একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করছি। উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে বাংলাদেশের এমন অর্থায়ন কাঠামো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পানি শোধন খাতে ব্যাংকযোগ্য স্থানীয় প্রকল্পের সঙ্গে বেসরকারি অর্থায়নের সংযোগ তৈরি করে সবুজ অর্থায়নের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত আমদানি করা জ্বালানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা, দেশীয় গ্যাসের মজুত কমে যাওয়া এবং শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় অনেক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পানি শোধন প্রকল্প উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়, জমির স্বল্পতা এবং বিশেষায়িত ঋণ সুবিধার অভাবে বাস্তবায়নের পথে বাধার মুখে পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকল্প সহায়তা, ঝুঁকি প্রশমন এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্প বাজারে আনার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগ্রহী প্রকল্প উদ্যোক্তা, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তহবিলের অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা বা অর্থায়ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করে।
‘ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে এই ঋণ ব্যাংক খাতের সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে।
ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার।
বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশকে এমন কিছু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে, যা ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।
এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি মূলত সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
৮ দিন আগে
সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে নর্ডিক রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশের সঙ্গে দৃঢ় অংশীদারত্বের অঙ্গীকার
একটি পরিবেশবান্ধব, আরও উদ্ভাবনী, নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলায় ঘনিষ্ঠভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন। প্রধান প্রধান খাতগুলোতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ উন্মোচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও আরও টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
সোমবার (২২ জুন) আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এ বিষয়ে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। যৌথ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে আলোচনায় স্থান পায় পারস্পরিক বিশ্বাস, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সবুজ প্রবৃদ্ধি, শ্রমিক অধিকার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ধাপে ধাপে মেলবন্ধন এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো।
তারা বলেন, নর্ডিক দেশগুলোর কাছে আস্থা হচ্ছে সোনার মতো (নর্ডিক গোল্ড)। আস্থার এই ধারণাকে নর্ডিক অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন এই আস্থার সংস্কৃতি বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চায়।
চলমান ‘অ্যাম্বাসেডরস লেকচার সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড নর্ডিক কান্ট্রিস: প্রগনোসিস ফর পার্টনারশিপ’ (বাংলাদেশ ও নর্ডিক দেশসমূহ: অংশীদারত্বের পূর্বাভাস) শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে কসমস গ্রুপের সমাজকল্যাণমূলক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কসমস ফাউন্ডেশন।
বিশিষ্ট গবেষক ও কসমস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সিম্পোজিয়ামটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতউল্লাহ খান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ক্যাথরিন গ্রেস গার্ডনার খান।
এনায়েতউল্লাহ খান বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (গ্রিন টেকনোলজি), ডিজিটাল সুশাসন, উদ্ভাবন, টেকসই নগর পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির (বৃত্তাকার অর্থনীতি) ক্ষেত্রে নর্ডিক দেশগুলোর ব্যাপক দক্ষতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একত্রে আমাদের এমন পরিপূরক শক্তি রয়েছে যা যৌথ সমৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।’
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-নর্ডিক রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতামূলক সম্পর্কের জন্য এনায়েতউল্লাহ খান পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতের প্রস্তাব দেন। এগুলো হলো— সবুজ জ্বালানি অংশীদারত্ব, টেকসই টেক্সটাইল ও সার্কুলার ফ্যাশন, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট গভর্ন্যান্স, জলবায়ু অভিযোজন ও ব্লু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারত্ব।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও অবদান রাখবে।’
৮ দিন আগে
টাইগারদের হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
চট্টগ্রামে লড়াকু বাংলাদেশকে মাত্র ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ছুড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে থমকে যায়।
হাই-স্কোরিং ম্যাচের শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তার মাঝে নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন অ্যারন হার্ডি। শেষ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। তবে হার্ডির করা শেষ বলে ৩৫ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় আউট হলে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ওভারটিতে দুটি ওয়াইড দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ের কাছে একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করে বসেন হার্ডি। তবে অজি পেসারের করা শেষ স্লোয়ার বলটি কাভার করতে গিয়ে ডিপ লং-অন অঞ্চলে টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৭২ রান তুলে উড়ন্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাট রেনশর শিকার হন। এরপর মিডল ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান।
অন্যদের মধ্যে সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে ইমন ও সাইফের বিদায় স্বাগতিকদের রান তোলার গতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস তার ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা টেনে ধরেন। অন্যদিকে হার্ডি ৪০ রান খরচায় নেন ২ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ উইকেটটি। এছাড়া অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। লেগ-স্পিনার নাসুম আহমেদ মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নেন জশ ইংলিশ (১১) ও নিখিল চৌধুরীর (৮) উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানও শুরুর দিকে আঘাত হেনে যথাক্রমে কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাজঘরে পাঠান।
তবে চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে অজিদের ম্যাচে ফেরান রেনশ ও ডেভিড। ২৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ডেভিড। পরে তিনি আব্দুল গফফার সাকলাইনের বলে আউট হন। সাকলাইন ৪ ওভারে ৫৩ রান দেন।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজানো তার এই নান্দনিক ইনিংসটিই সফরকারীদের ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি এনে দেয়।
১৩ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ অন্তত ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির দাবি, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা বা কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে ইউএসটিআর।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসাম্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আর এই বৈষম্য মেনে নেব না। কিছু দেশ ইউএসএমসিএ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলেও জোরপূর্বক শ্রমকে উৎসাহিত ও স্থায়ী করে তোলে—এমন বাণিজ্যিক পরিবেশ রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে, বাকি দেশগুলোর পণ্যের ওপর অতিরিক্ত সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্ধারিত পরিমাণ আমদানি কম হারের শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে জনমত গ্রহণের জন্য আগামী ৭ জুলাই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ২২ জুনের মধ্যে আবেদন ও সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে। লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ সময় ৬ জুলাই।
চলতি বছরের ১২ মার্চ ইউএসটিআর স্বপ্রণোদিত হয়ে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে জনমত গ্রহণ ও প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ জন সাক্ষীর বক্তব্য এবং ৫০০টির বেশি পাল্টাপাল্টি মন্তব্য গ্রহণ করা হয়।
তদন্ত শেষে ইউএসটিআর সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশসহ ৫৪টি এমন দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণেই ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অনেক দেশ।
অন্যদিকে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও ইকুয়েডরকে এমন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইউএসটিআরের মতে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বৈশ্বিকভাবে শ্রম শোষণ নির্মূলের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে। একই সঙ্গে এটি জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে উৎপাদনের সুযোগ দিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শ্রম মানদণ্ড মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভজনকতা কমিয়ে দেয়।
এ ছাড়া এই ব্যর্থতা মার্কিন বাজার ও রপ্তানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৯ দিন আগে
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক শ্রম কূটনীতিতে বাংলাদেশ নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে।
সোমবার (১ জুন) জেনেভায় শুরু হওয়া আইএলওর বার্ষিক এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহানের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জেরার্ডো মার্টিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আইএলওর ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সমর্থনে নাহিদা সোবহানের এ নির্বাচিত হওয়াকে বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গণতন্ত্রায়ন বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও সমর্থনেরও প্রতিফলন ঘটেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সম্মেলনের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং শ্রম খাতসংক্রান্ত বিভিন্ন বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আইএলওর সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
আইএলওর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘বিশ্বের শ্রম সংসদ’ হিসেবে পরিচিত এ সম্মেলনে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সরকার, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
এ বছরের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
৩০ দিন আগে
সবাই যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। পরে দুপুরে তিনি ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার, জেসিও এবং সাধারণ জওয়ানদের সঙ্গে প্রীতিভোজে অংশ নেন।
প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে একটা সুন্দর জায়গায় দেখতে চাই। আমরা চেষ্টা করছি, পর্যায়ক্রমে সবার জন্য দেশ গড়তে। যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে আমরা কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়তে পারব। আমরা যাতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেটিই চাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য আমাকে গর্বিত করে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় রাষ্ট্রের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর অবদান দেশের মানুষের কাছে গভীরভাবে মূল্যায়িত। আশা করি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।’
প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সেনা মেসে অবস্থানরত সৈনিকদের জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেনা মেস চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এছাড়া সেনা মেসের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের পর উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩৫ দিন আগে
কুয়েতে বাংলাদেশের খাদ্য সহায়তা হস্তান্তর, সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বরোপ
কূটনৈতিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কুয়েতের জনগণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেরিত খাদ্য সহায়তার প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) কুয়েতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ’র নিকট বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে বাংলাদেশ-কুয়েত ভ্রাতৃত্বের অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে কুয়েতে পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম কুয়েতের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর উদ্দেশে পাঠানো একটি পত্রও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
৩৮ দিন আগে
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (২৪ মে) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটা বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়, বরং এটা বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক। জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে আমার মনে হয় একটা বার্তা আমরা স্পষ্টভাবে দিতে পারব। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সকল সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি ছাদ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয়, তবে বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ খুব দ্রুতই একটি সবুজ এবং টেক উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘লুই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আর সেই ভবনের ছাদে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি যে নেতৃত্ব কিংবা নীতিতে নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডে প্রতিফলন হতে হবে।’
৩৯ দিন আগে
সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান পেল বাংলাদেশ
চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জন্য ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে।এ উপলক্ষে বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং উপস্থিত ছিলেন।মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, অনুদান হিসেবে দেওয়া সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল পোলিও টিকা এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে এসব টিকা সরবরাহ করা হবে।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নিয়ে দেশের এই সময়ে সহযোগিতা করায় চীনের প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, সেটি আবারও প্রমাণ হয়েছে।
৫০ দিন আগে