বাংলাদেশ
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা জানান।
সাক্ষাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
১ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ‘হোম শো ব্রাজিল’ মেলায় বাংলাদেশ
দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ মেলায় অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আর্থিক সহযোগিতায় এবং ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় সাউ পাওলোর দিসিত্রিও আনিয়েম্বি প্রাঙ্গণে গতকাল (মঙ্গলবার) এই মেলা শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলবে।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ এই মেলায় বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান ৫টি বুথে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট এবং ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস।
এ ছাড়াও অন্য একটি বুথে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে ব্রাজিল বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ব্রশিওর, লিফলেট, বিভিন্ন প্রকাশনা প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রসার ও প্রচারবিষয়ক বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত পণ্য, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, ঘর সাজানোর সামগ্রী, বাঁশজাত পণ্য, টেরাকোটা ও মাটির তৈরি সামগ্রী এবং নকশীকাঁথা প্রদর্শন করছে।
৬ ঘণ্টা আগে
চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, তা ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আরাধনার ফল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। ফলে চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশকে ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো বাংলাদেশকে কখনোই পরনির্ভরশীল বা ‘ক্লায়েন্ট’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে আর কখনো সেই অবস্থায় ফিরে যেতে না দেওয়া।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ ও অদম্য মনোবল প্রজন্ম পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে দেশের পরিস্থিতি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস সময়গুলোর একটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বাইরে থেকে দেখেছি যে ছোট ছোট বাচ্চারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তারপর একসময় পুরো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে নৃশংস সময়, স্বাধীনতার পর এমন কালো অধ্যায় আমরা আর দেখিনি।
তিনি জানান, সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমানের কথায়, ‘আগস্টের একেবারে শুরুর দিকে আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। পয়লা আগস্ট আমি ইমোশনালি এতটাই কাতর হয়ে পড়েছিলাম যে আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরে ফোন করব। বাংলাদেশে এই ধরনের একটা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না—সেই বিষয়টি আমি তাকে বলেছি।’
‘আমার ধারণা, তিনি নিশ্চুপ বসে ছিলেন না। এর কিছুদিন পরেই দেখি যে অন্তত কিছু কিছু বাহিনীর ক্ষেত্রে গুলি বর্ষণ বন্ধ হয়েছে। আমার ধারণা, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সম্ভবত এর একটি ভূমিকা ছিল।’
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে সরকারে যোগ দিতে আহ্বান জানান এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে (গণতান্ত্রিক) উত্তরণ সম্পন্ন করা। তিনটি কাজই আমরা করতে পেরেছি।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ৫ মাসের মাথায় প্রথম এ সিইপিএ করেছে।
তিনি বলেন, এ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। দক্ষিণ কোরিয়া ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ইকোনমিক সাইজে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। তার জন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকারণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইনে কাজ করতে চাই।
কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ চুক্তির ফলে এখন কোরিয়ান কোম্পানিগুলো এদেশে সুবিধাজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
৮ দিন আগে
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, পৃথক এক বার্তায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই আলোচনাটির কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক আগ্রহ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
৯ দিন আগে
দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ দেশ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’
ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন তৃণ ছড়িয়ে থাকত, যদি চারদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়ত কোনো একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভেতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়ত যারা পরিচ্ছন্নকর্মী তারা হয়ত পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকত আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’
সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই, আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি, তাহলে ধীরে ধীরে হয়ত আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনামুক্ত করতে পারব। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব।’
দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’
৯ দিন আগে
সাংহাইভিত্তিক ডব্লিউএআইসিওতে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবে বাংলাদেশ
চীনের সাংহাইভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউএআইসিও) প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক (অবজারভার) হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের ১৬ জুলাই গঠিত সাংহাইভিত্তিক আন্তঃসরকারি এই সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা, বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং এআই প্রযুক্তি যেন মানবকল্যাণে নিরাপদ ও উপকারীভাবে ব্যবহৃত হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়া।
গত ১৬ জুলাই সাংহাইয়ে ২৯টি দেশ ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও) প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করে।
চীনের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া কাজাখস্তান, লাওস, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে সই করে তাদের দেশকে ডব্লিউএআইসিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, সংস্থাটি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা সমুন্নত রাখবে এবং ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ অবদান ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করবে।
এআই যেন নিরাপদ, ন্যায্য ও মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক সুশাসন জোরদার করার পাশাপাশি এ প্রযুক্তির স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল বিকাশে কাজ করাই হবে সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।
১১ দিন আগে
বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ: আইপিসির বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্লেষণভুক্ত মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে রয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)’–এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আইপিসি হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বিশ্লেষণ এবং শ্রেণিবিন্যাসের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিকল্পনায় একটি অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে।
সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও তদারকি ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওরাঞ্চল, কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
কর্মশালায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইপিসির এই বিশ্লেষণ আমাদের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে সাহায্য করবে।’
খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘কার্যকর নীতিনির্ধারণে তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, এই আইপিসি প্রতিবেদনের ফলাফল নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী এবং মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
১৭ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ প্রস্তাব গৃহীত
সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি (কালচার অব পিস) বিষয়ক ঘোষণা ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাধারণ পরিষদের এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
প্রস্তাবটি উপস্থাপনকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে অব্যাহত সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য।
তিনি প্রস্তাবটি নিয়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ও ব্যাপক সমর্থনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রথম গৃহীত এ প্রস্তাবটি গত প্রায় আড়াই দশক ধরে জাতিসংঘে ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।
বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সংহতি ও অহিংসার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার পাশাপাশি প্রস্তাবটি সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
১৮ দিন আগে