বাংলাদেশ
ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থী দিল বাংলাদেশ
২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। এরপর ওই পদে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। প্রার্থী দেওয়ায় এ পদে এবার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ।
৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিনের আগেই প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। তবে ফিলিস্তিনকে আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক ২০২৬ সালের মে মাসে প্রার্থীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভার আহ্বান করবেন।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে এ মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও এ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে তারেক-সরকার বদ্ধপরিকর: লন্ডনে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম
লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি সত্যিকারের মাইলফলক। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে ভিশন উপস্থাপন করেছে, তা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি রুমে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইলেকশন: হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন, চ্যাথাম হাউজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো সিতেজ বাজপেয়ী এবং ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সোহেলা নাজনীন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, সংসদ সদস্য রূপা হকসহ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবনার মধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সামঞ্জস্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে তিনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল দর্শন হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
অন্যদিকে, ব্যারোনেস উইন্টারটন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অর্থ পাচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারোনেস উইন্টারটন জানান, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বা আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে।
প্যানেলিস্ট সিতেজ বাজপেয়ী বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপির এই নির্বাচনী বিজয় প্রত্যাশিতই ছিল।
৫ দিন আগে
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত হতে চলা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার’ জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘প্লান অব অ্যাকশান অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কর্পোরেশন’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচি জাপানের সরকার ও দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অভিনন্দন বার্তায় তাকাইচি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান একটি বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রাকে স্বাগত জানান তাকাইচি। দুই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তার বার্তায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত এবং একটি সমৃদ্ধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৩ দিন আগে
জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ
২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশনের ৫ সদস্যের ব্যুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কমিশনের ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে মরক্কোকে সভাপতি এবং জার্মানি, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে।
পিবিসি একটি আন্তঃসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যা সংঘাত-আক্রান্ত দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। এ কমিশন ৩১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত, যারা সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নেতৃস্থানীয় সৈন্য এবং আর্থিক অবদানকারী দেশগুলো থেকে নির্বাচিত।
বাংলাদেশ ২০০৫ সালে কমিশনটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এর সদস্য। এর আগে, বাংলাদেশ ২০১২ ও ২০২২ সালে কমিশনের সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তার সচিবালয়ের প্রধান সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা শান্তি বিনির্মাণে কমিশনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখায় কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
৩২ দিন আগে
আইসিসির সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাবে বিসিবি
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বিসিবির শঙ্কা সমাধানে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক এই সংস্থা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইসসির কাছ থেকে জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আইসিসি তাদের বার্তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনে বিসিবির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিসিবির মতামত ও পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে এবং তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।’
মঙ্গলবার রাতে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা শঙ্কা আর ভারতে খেলতে না যাওয়ার অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি আইসিসি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বলা হয়েছে। নাহলে পয়েন্ট হারানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
তবে এই খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে বোর্ডকে আল্টিমেটাম (চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে) দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির নজরে এসেছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং আইসিসির কাছ থেকে পাওয়া বার্তার ধরন বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নির্বিঘ্ন ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বোর্ড আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদারভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যেখানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই সহযোগিতামূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সব সময়ই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
৫৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ ভিসা বন্ড তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও ব্যবসা ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে।
এই কর্মসূচির আওতায়, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর পাসপোর্টধারীদের অন্যান্য সব যোগ্যতা পূরণ থাকলে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতে বলা হতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘পে ডট গভ’ (pay.gov)-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৩৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ দেশই দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলভুক্ত।
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, কিউবা, নেপাল, নাইজেরিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ। নতুন এই শর্ত ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান (ওভার স্টে) নিরুৎসাহিত করতেই বন্ডের এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তবে বন্ডটি ফেরতযোগ্য। যদি ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন সময়ের মধ্যে কিংবা মেয়াদের শেষ দিন কেউ প্রস্থান করে তাহলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া ভিসার মেয়াদের মধ্যে ভ্রমণ না করলে অথবা ভিসা আবেদনের পর প্রত্যাখ্যান করা হলে জামানতের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভিসার মেয়াদের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে অথবা আশ্রয় প্রার্থনা করলে জামানতের শর্ত ভঙ্গ বলে বিবেচনা করা হবে।
উন্নয়নশীল দেশের অনেক আবেদনকারীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কার্যত নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরে আরোপিত এই নীতিটি সমালোচিত হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
৫৫ দিন আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ
আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
গতকাল উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত এ কারণেই ভারতে দল না পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কেও জানিয়েছে বিসিবি।
আজ এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসিকে বিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের ভেন্যুগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে সেখানে বাংলাদেশ দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে বোর্ড।
চিঠিতে বিসিবি আরও উল্লেখ করে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহী থাকলেও খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ অবস্থায় বিকল্প কোনো দেশে ম্যাচগুলো আয়োজনের সুযোগ থাকলে সে বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।
এর আগে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার জেরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন বিসিবির পরিচালকেরা। গতকাল রাতেও অনলাইনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবশ্য অধিকাংশ পরিচালক ‘এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার’ পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অবস্থান বদলায় বোর্ড।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতে। ওই সময়ে লিটন-মোস্তাফিজদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা—সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
৫৭ দিন আগে
বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইইউ’র
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
এ উপলক্ষে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবসকে প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ইইউ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে এটি হবে বিশ্বের যেকোনো স্থানের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অনুশীলন।
বিজ্ঞপ্তিতে ইইউ জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাস বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইভার্স ইজাবস বলেন, বাংলাদেশে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের নেতৃত্ব পেয়ে সম্মানিত বোধ করছি। এই মিশন নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন তুলে ধরবে।
তিনি আরও বলেন, এই মিশন বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ইইউর সমর্থনের বাস্তব উদাহরণ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড অনুযায়ী পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করবে।
৭৬ দিন আগে
ভারতের অনুমতি মেলেনি, বুড়িমারীতে আটকে ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট চালান
বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে থাইল্যান্ড থেকে আনা ভূটানের প্রথম পরীক্ষামূলক চালান ভারতের অনুমতি না পাওয়ার কারণে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকা পড়ে আছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে পর্যন্ত সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে ট্রানশিপমেন্ট পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে থাইল্যান্ড থেকে সমুদ্রপথে আসা ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান বন্দরে আটকে রয়েছে।
জানা যায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংক গত ৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবিত ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কন্টেইনারে করে ছয় ধরনের পণ্য (ফল, জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু স্বাদের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পু) পাঠায়। ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে ছাড়ানো এসব পণ্য ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রথম কন্টেইনারটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন ২৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে নিয়ে আসে।
বড়িমারী স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতের সড়কপথ হয়ে ভুটানে পৌঁছানোর জন্য যে অনুমোদন দরকার, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ তা পায়নি। ফলে ট্রানশিপমেন্ট কন্টেইনারটি বুড়িমারী বন্দরের ইয়ার্ডে গাড়িসহ অবস্থান করছে।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও বেনকো লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী ফারুক হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে আনা ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান এখনও বুড়িমারীতেই আছে। ভারত অনুমোদন দেয়নি, তাই পাঠানো সম্ভব হয়নি। অনুমতি পেলে চালানটি ভুটানে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভুটানের চালানের কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস থেকে অনুমতি পেলে পণ্য ভুটানের দিকে পাঠাতে পারব।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ একটি প্রটোকল চুক্তি সই হয়। পরে গত বছরের এপ্রিলে ভুটানে দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রানশিপমেন্ট চালান পাঠানো হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রথম কন্টেইনারটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন গত ২৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে নিয়ে আসে। এরপর ২৮ ও ২৯ নভেম্বর বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনকো লিমিটেড কয়েকবার চেষ্টা করলেও ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে কন্টেইনারটি প্রবেশের অনুমতি পায়নি।
৯৩ দিন আগে