মাদরাসা
মাদরাসা সুপারের ছেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে র্যাবের জালে তিন শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে তখন চলছে এসএসসি (দাখিল) স্তরের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হলের বাইরে চলছিল এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব জালিয়াতির উৎসব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদ শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর এই সাজানো নাটকটি মাঝপথেই ভেঙে দেয় র্যাবের একটি দল।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন তারা বাইরে বসে খাতা লিখছিলেন, তখনই হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
গল্পের মূল চরিত্র মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। তবে তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, সে ওই মাদরাসারই সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের এক অদ্ভুত ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন তিন শিক্ষক।
আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন— মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।
তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, আটকের পর ওই তিন শিক্ষক নিজেদের বাঁচাতে সব দোষ চাপিয়েছেন মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে। তাদের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এই জালিয়াতি করেননি; মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৯ দিন আগে
বনশ্রীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আব্দুল্লাহর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে গত রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এ সময় বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডের আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের কোথাও কোনো জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার পায়ুপথে অস্বাভাবিক ফাঁকা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
১০ দিন আগে
শার্শায় ৪২ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলাট মাদরাসা: বৃষ্টি এলেই বাজে ছুটির ঘণ্টা
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট গ্রামে অবস্থিত ‘পাঁচভুলাট দাখিল মাদরাসা’। খুলনা বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রাখলেও দীর্ঘ ৪২ বছরেও মাদরাসাটির ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ভবন। অবকাঠামোগত চরম সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জরাজীর্ণ টিনশেডেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদরাসার টিনশেড ঘর দুটির জরাজীর্ণ দশা। টিনের চালে শত শত ছিদ্র, নেই দরজা-জানালাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ সয়লাব হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি নামলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার ভয়ে দপ্তরি ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ভোরেই ক্লাস নিতে হয়। এভাবেই দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে লেখাপড়া করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সাফল্যে শীর্ষে, সুযোগ-সুবিধায় শূন্য
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয়। মাদরাসাটিতে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ইতোমধ্যে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বসার জায়গাটুকুও নেই। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত একটি ছোট্ট হলুদ ঘরে শুধু জরুরি নথিপত্র রাখা হয়। অধিকাংশ শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত এখানে মোট ৫৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে এবতেদায়ীতে ১৬২ জন এবং দাখিলে ৩৫০ জন।
প্রতি বছর এই মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং অনেকেই কর্মজীবনে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ এই সাফল্যও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে একটি পাকা ভবন এনে দিতে পারেনি।
শিক্ষার্থীদের আকুতি
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা খাতুন জানায়, গরমের সময় মাদরাসার পুরাতন টিনশেডে ক্লাস করা যায় না। আমাদের অনেক বান্ধবী গরমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।
আলিম ও দাখিলের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসনাইন বলেন, ঘরগুলোর দরজা-জানালা নেই। টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। কখন ঘরগুলো বাতাসে ভেঙে পড়ে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এমন কষ্ট নিয়ে বছরের পর বছর পড়াশোনা করছি আমরা।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসনে আরা ও ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলে, শ্রেণিকক্ষের একেবারে বেহাল অবস্থা। টিনের চালগুলো জরাজীর্ণ। ঘরের বেড়া নেই। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়; তখন শ্রেণিকক্ষে থাকা যায় না। আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। তবু আশপাশে বড় মাদরাসা না থাকায় এখানে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
মাদরাসায় একটি পাকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের কোনো ভবন নেই, শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই। একটি ছোট রুমে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে কষ্ট করে বসতে হয়। অনেক শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে প্রবল আতঙ্কে থাকতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলেই ঝড়বৃষ্টির ভয়ে মাদরাসা ছুটি দিতে হয় বাধ্য হয়ে। অভিভাবকরা এখন আর সন্তানদের এই অবস্থায় এখানে পাঠাতে চান না। নতুন ভবনের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নূরুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মাদরাসায় পর্যায়ক্রমে পাকা ভবন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের কোন ঘোষণা আসেনি। ওই মাদরাসা ভবনের জন্য আবেদন করা থাকলে নতুন পাকা একটি ভবন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাস হবে। তখন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদও পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদরাসাটির টিনশেড ঘরটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
১৮ দিন আগে
ধর্ষণে মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: নেত্রকোনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হযরত ফাতেমা তুজ-জোহরা মহিলা কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
নয়মুল হাসান বলেন, শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিশু শিক্ষার্থী এখন সাত মাসের অন্ত্বঃসত্ত্বা। সম্প্রতি ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির শারিরীক গঠন দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির পরিবার তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বাড়িতে আসার পর শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে নিয়ে যান। এ সময় নির্জন স্থান পেয়ে ওই শিক্ষক তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেন। এরপর প্রযুক্তির সহযোগিতায় র্যাব-১৪-এর সদস্যরা তাকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার এড়াতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি এটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।
অপরদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক নারী চিকিৎসককে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমকি দিয়েছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই চিকিৎসক।
র্যাব জানায়, শিশুটি পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির সঙ্গে থেকে শিশুটি ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
২৪ দিন আগে
পাবনায় মাদরাসার নৈশ প্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা
পাবনায় ওসমান গনি মোল্লা (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে অবস্থিত সিকেবি রুস্তমিয়া আলিম মাদরাসার নৈশ প্রহরী ছিলেন।
মঙ্গলবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, সোমবার (৯ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে মাদরাসার কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওসমান গনি মোল্লা সোমবার সন্ধ্যায় মাদরাসায় দায়িত্ব পালন করতে আসেন। একপর্যায়ে রাত ১টার দিকে কেউ বা কারা মাদরাসায় প্রবেশ করে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আহত অবস্থায় ওসমানকে দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয় এবং তাকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: খুলনার আঠারো বেকী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে ফোন করলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
৩৫৪ দিন আগে
খালে নেমে নিখোঁজ মাদরাসার খাদেমের লাশ নদী থেকে উদ্ধার
চাঁদপুর মতলবে খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আনোয়ার হোসেনে নামে এক মাদরাসার খাদেমের লাশ পার্শ্ববর্তী একটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মতলব উত্তর উপজেলার গাজীপুর পাম্প হাউস এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
আনোয়ার মতলব দক্ষিণের শামছুল হক মডেল মাদরাসার খাদেম ছিলেন।
আরও পড়ুন: পল্লবীতে ২ সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা
মতলব দক্ষিণ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস বিভাগের স্টেশন প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আনোয়ার হোসেন মাদরাসার পাশে খালের পানিতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন। একদিন পর শুক্রবার বিকালে স্থানীয় লোকজন ধনাগোদা নদীতে আনোয়ারের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় তার লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশটি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মতলব দক্ষিণের শামছুল হক মডেল মাদরাসার পরিচালক মো. সিফাত উল্লাহ বলেন, তার মাদরাসার কর্মচারী আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল ইউএনবিকে বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই
৫৬০ দিন আগে
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক মাদরাসার ভেতরে, ১২ শিক্ষার্থী আহত
লালমনিরহাটে চলন্ত ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাদরাসার দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ায় ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদেরকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৫
বুধবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার হাড়িভাঙা তালিমুল ইনসান হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে একটি ট্রাক লালমনিরহাট যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টো পথে গিয়ে মাদরাসার ওয়ালে ধাক্কা দেয়।
এতে মাদরাসার দেয়াল ভেঙে ঘুমন্ত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়। এদের মধ্যে মোরসালিন (১২), নোমানসহ (১১) ৩ থেকে ৪ অবস্থা আশঙ্কাজনক।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের বলেন, ট্রাকটি আটক করা হলেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে ৩৯২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৬, আহত ৮১৩
৫৯৭ দিন আগে
অফিস সহকারীর উত্ত্যক্তের কারণে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ ছাত্রীর, আতঙ্কে পরিবার
গাইবান্ধার দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারী মো. আল আমিন মিয়ার উত্ত্যক্তের কারণে প্রায় ১৭ দিন ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ রয়েছে এক ছাত্রীর। আতঙ্কে রয়েছে পরিবার।
সম্প্রতি সময়ে তাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় (ফেসবুক) নানা কথা ছড়িয়ে পড়ায় মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া আল আমিনের হুমকির কারণে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না অভিভাবক ও ওই মেয়ে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে আবেদন করেও নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না তার পরিবারের লোকজন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে আহত
আবেদনে উল্লেখ আছে, যে এসএমএসটিকে কেন্দ্র করে অভিযোগ দেওয়া হয় সেটি আল আমিন মিয়ার মোবাইল ফোন থেকে মেয়েটির ফোনে আসে। তারও আগে থেকে বিভিন্ন ধরনের এসএমএস দিয়ে বিরক্ত করা হয় তাকে। ফোন করা হয় গভীর রাতেও। আল আমিনের কথা মতো চলতে বাধ্য করার জন্য শারীরিক নির্যাতনের কথাও উল্লেখ আছে অভিযোগে। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে একাধিক অভিযোগও দিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। কোনো সুরাহা না পেয়ে ইউএনও অফিসে অভিযোগ দেন সঠিক বিচারের আশায়।
ভুক্তভোগী মেয়েটির মামা আমজাদ হোসেন বলেন, ভাগ্নি আমাদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। বর্তমান সে ওই মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ছে। ঘটনার দিন ভাগ্নির মোবাইল ফোনটি আমাদের কাছে ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আল আমিনের মোবাইল নম্বর থেকে একটি এসএমএস আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে ভাগ্নির সঙ্গে কথা বলি। তখন অফিস সহকারী তাকে উত্যক্ত করে বলে বিষয়টি তখন স্বীকার করে সে। পরে ইউএনও অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পর অশান্তি আরও বেড়ে যায়। আপস-মিমাংসার জন্য এলাকার এবং সুন্দরগঞ্জের মাতবররা চাপ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ। ন্যায় বিচার পাব কি না সন্দেহ হচ্ছে।
মেয়ের বাবা আয়নাল হক বলেন, আমরা বিচারের আশায় গত ৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগ দিয়েছে আমার মেয়ে। এখনও বিচার পাইনি। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হুমকি-ধমকিসহ চাপ দিচ্ছে। ঘটনার দিন থেকে মাদরাসা যাচ্ছে না মেয়েটি। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী আল আমিন মিয়ার বলেন, আমার মোবাইল ফোন থেকে মেয়েটির ফোনে এসএমএসটি গিয়েছে এটা ঠিক। তবে আমি পাঠাইনি। আমার মাদরাসার নাইটগার্ড আমার মোবাইল ফোন থেকে এসএমএসটি পাঠিয়েছেন।
আল আমিনের বড়ভাই ও দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে ছাত্রীকে শারীরিকভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত
৬১৬ দিন আগে
মাদরাসার পাশের পুকুরে ভেসে উঠল নিখোঁজ ছাত্রের লাশ
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় মাদরাসার পাশের পুকুরের পানি থেকে শিক্ষার্থীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষার্থীর নাম সিয়াম হোসেন (১৪)।
শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার শিতলী গ্রামের শিতলী বেগম রোকেয়া খাতুন নূরানী হাফেজিয়া মাদরাসার পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে পিকনিকের ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ২ জনের লাশ উদ্ধার
সিয়াম কালীগঞ্জ উপজেলার পারখিদ্দাহ গ্রামের শামিম হোসেনের ছেলে এবং শিতলী বেগম রোকেয়া খাতুন নূরানী হাফেজিয়া মাদরাসার ছাত্র।
মাদরাসার সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মাদরাসার পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে সিয়াম। গোসল শেষে সবাই মাদরাসায় ফিরে এলেও সিয়াম ফেরেনি। পরে দুপুর ৩টার দিকে পড়ানোর সময় তাকে না পেয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে গোসল করতে নেমে আর ফেরেনি। পুকুরে মাছ ধরার জাল ফেলেও তার খোঁজ মেলেনি। পরে শনিবার সকালে পুকুরে তার লাশ ভেসে ওঠে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে আবাসিক হোটেল থেকে লাশ উদ্ধার
হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ওই মাদরাসা ছাত্র সাঁতার জানতো না বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাই পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজা থেকে ৫ জিম্মির লাশ উদ্ধার করেছে ইসরায়েল
৬৭২ দিন আগে
বগুড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নাকিব হোসেন নামে এক মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার সিও অফিস মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
নিহত নাকিব হোসেন ওই এলাকার নাসির হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন।
দুপচাঁচিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল ইমরান বলেন, ‘দুপচাঁচিয়া উপজেলার সিও অফিস মাস্টারপাড়া এলাকায় পুকুরের ধারে রয়েছে পেয়ারা গাছ। ওই পেয়েরা গাছ ঘেষেই বৈদ্যুতিক খুঁটি।’
‘নাকিব দুপুরে ওই গাছ থেকে পেয়ারা পাড়তে গিয়ে পা ফসকে যায় এবং নিজের ভারসাম্য রক্ষায় খুঁটির টানা তার ধরে। এতে বিদ্যুতায়িত হয়ে সে পুকুরের পানিতে ছিটকে পড়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের কারও কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে পৃথক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
নড়াইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হনুমানের মৃত্যু
৬৯৮ দিন আগে