পদ্মা নদী
পদ্মার এক পাঙ্গাশ বিক্রি হলো ৩৩ হাজার টাকায়
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর ২০ কেজি ওজনের এক পাঙ্গাশ মাছ ৩৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে জেলেরা এই মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা কিনে নেন। পরে তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাত্র ১ হাজার টাকায় লাভে মাছটি বিক্রি করেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা ও যমুনা নদীতে জেলেদের জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের জেলেরা বর্তমানে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনের মতো আজ (মঙ্গলবার) ভোরের দিকে পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার জেলেরা। এ সময় অন্যদের সঙ্গে জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন কুমার হালদারও জাল ফেলেন। ভাসতে ভাসতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে বাহির চর দৌলতদিয়া কলারবাগান এলাকায় পৌঁছালে তার জালে ঝাঁকি লাগে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। পরে জাল গুটিয়ে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান বড় একটি পাঙ্গাশ মাছ। আনন্দে আত্মহারা নিরঞ্জন হালদারসহ নৌকায় থাকা জেলেরা দ্রুত জাল গুটিয়ে ফেরি ঘাটে নৌকা ভেড়ান।
পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট মাছ বাজারের কেছমত হালদারের আড়তে পাঙ্গাশটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। এ সময় ওজন দিয়ে দেখা যায়, মাছটি প্রায় ২০ কেজি ওজনের। নিলামে তোলা হলে ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছটি কিনে নেন।
চান্দু মোল্লা বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মা নদীতে বিভিন্ন মাছ ধরা পড়ছে। এই পাঙ্গাশটি ছিল মৌসুমের সবচেয়ে বড়। প্রায় ২০ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৩২ হাজার টাকায় কিনে নিই। পরে মাছটি ফেরিঘাটে আমার আড়তে নিয়ে আসি। তারপর বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করলে বেলা ১১টার দিকে ঢাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ী কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৩৩ হাজার টাকায় সেটি কিনে নেন। পরে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পাঙ্গাশটি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পদ্মা ও যমুনা নদীতে কিছু ইলিশের পাশাপাশি কাতলা, রুই, পাঙ্গাশ ও রিঠা মাছ ধরা পড়ছে। পদ্মা নদীর এসব সুস্বাদু মাছের দাম অনেক হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মানুষজন সাধারণত এ ধরনের মাছ কিনতে পারেন না। ঢাকাসহ দূরাঞ্চলের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ ও প্রবাসীরা এ ধরনের মাছের বেশিরভাগ কিনে থাকেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
১২ দিন আগে
পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়লো ৪০ কেজির বিশাল কাতলা
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়লো এক মণ ওজনের বিশাল কাতলা মাছ। পরে মাছটি ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পদ্মা নদীর রায়টা পাথরঘাট এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) বিকেলে স্থানীয় জেলে মুরাদ প্রতিদিনের মতো মাছ শিকারের উদ্দেশে কিছু সংখ্যক জেলেদের নিয়ে পদ্মা নদীতে বেড়জাল ফেলেন। জাল ফেলার কয়েক ঘণ্টার পর বিকেল ৫টার দিকে জেলেরা জালে বড় একটা কিছুর অস্তিত্ব লক্ষ করেন। এক পর্যায়ে জাল কিনারায় আনলে তারা দেখতে পান বিশালাকার কাতলা মাছটি।
জেলেরা জানান, এত বড় মাছ এর আগে তাদের জালে কোনোদিন ওঠেনি।
তারা জানান, কাতলা মাছটির ওজন হয়েছে ৪০ কেজি। প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে মাছটির মোট দাম হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।
ভেড়ামারার বাসিন্দা রিপন আলীসহ কয়েকজন মিলে পরবর্তীতে মাছটি কিনে ভাগ করে নেন।
এ সময় মাছটি দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে। অধিকাংশই জানান, তাদের জীবদ্দশায় এত বড় মাছ এর আগে কখনও দেখেননি। এমনকি পদ্মা নদীর এই অংশে এত বড় মাছ ধরা পড়েছে কি না তাদের জানা নেই।
১৫ দিন আগে
পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত, পাটুরিয়ায় ফেরি-লঞ্চে ওঠানামায় বেড়েছে দুর্ভোগ
পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার পাঁচটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটির পন্টুন ডুবে গেছে। ফলে ওই তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ২ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করছে। ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে এবং ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
১৫ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী আমন ধানের জমিতে চাষাবাদের সময় ট্রাক্টর উল্টে নদীতে পড়ে জয় বিশ্বাস (২০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা, জয় বিশ্বাস বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ট্রাক্টরের চালক ছিলেন। গত দুই দিন ধরে তিনি ওই ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে তিনি ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। সে সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন জয়। রাতে তার সঙ্গে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি তখন কেউ জানতে পারেনি।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল, পুরোটা ডুবে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়া বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৫১ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙাশ এবার বিক্রি হলো ৭১ হাজার টাকায়
এবার রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর এক পাঙাশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৭১ হাজার টাকায়। আজ মঙ্গলবার ভোরে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ২৫ কেজি ওজনের এই পাঙাশ মাছটি ধরা পড়ে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাজারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বাজার থেকে নিলামে ৭০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচরের ছাত্তার মেম্বার পাড়ার এরশাদ শেখ জাল নিয়ে নদীতে যান। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের মাঝামাঝি পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেললে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাল টেনে নৌকায় তুলেই দেখেন বড় আকারের একটি পাঙাশ। পরে সেটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের রেজাউল মন্ডলের আড়তে গিয়ে মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন প্রায় ২৫ কেজি হয়েছে। এরপর নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা পাঙাশ মাছটি কিনেন।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, এ বছরের সবচেয়ে বড় পাঙাশটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ২৫ কেজি ওজনের পাঙাশটি ৭০ হাজার টাকায় কিনি। পরে কুষ্টিয়ার এক বড় ব্যবসায়ী মাছটি কেজি প্রতি ৫০ টাকা করে লাভ দিয়ে ৭১ হাজার টাকায় কিনেন।
তিনি আরও বলেন, এই মৌসুমে এটিই সবচেয়ে বড় বড় পাঙাশ মাছ। এর আগে, ১৮ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ বাজারে উঠেছিল।
২৫ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছটি আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব উল হক বলেন, সাধারণত এই শুস্ক মৌসুমে বড় বড় মাছ ধরা পড়ে। নদীর গভীরতা বেড়ে গেলে এ ধরনের মাছ সহসা ধরা পড়বে না। এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্যও সুখবর।
৮৯ দিন আগে
ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে কুমির আটক
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে এক জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে একটি কুমির। পরে কুমিরটি নিয়ে জেলেরা ঘাটে আসেন। খবর পেয়ে কুমির উদ্ধার করতে খুলনা থেকে রওনা দিয়েছে বন বিভাগের একটি দল।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে জেলেদের বড়শিতে এই কুমিরটি ধরা পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো মাছ ধরার সময় গোপালপুর ঘাটের নিকটে জেলেদের হাজারী বড়শিতে একটি কুমির আটকে যায়। পরে অন্যান্য জেলেরা মিলে কুমিরটিকে আটকে সকালে স্থানীয় কাজি বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন।
কুমির ধরা পরার কথা শুনে তা দেখতে ভীড় করে উৎসক জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারি ও বিল্লাল খান জানান, প্রতিদিনের মতো তারা নদীতে বড়শি ফেলে মাছ ধরার জন্য যায়। কুমিরটি স্বপন ব্যাপারীর বড়শিতে আটকে গেলে সবাই মিলে সেটি উদ্ধার করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, কুমিরটির বিষয়ে আমরা বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এটি উদ্ধার করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখন ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা ফজলে করিম বলেন, এটি যে একটি কুমির সেটা নিশ্চিত হয়েছি আমরা। কিন্তু কোন প্রজাতির কুমির তা আমাদের বিশেষজ্ঞরা না আসলে বলতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, খুলনা থেকে আমাদের টিম রওনা দিয়েছে, তারা আসলে কুমিরটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেবে। তারাই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
৯০ দিন আগে
পদ্মার বিশাল কাতলা ও রুই মাছ বিক্রি হলো সোয়া লাখ টাকায়
রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কয়েকদিন ধরে বড় বড় রুই, কাতলা মাছ ধরা পড়ছে। আজ (সোমবার) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকারের কাতলা এবং প্রায় ১৪ কেজি ওজনের একটি রুই মাছ ধরা পড়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে মাছ দুটি পদ্মা নদীর মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কাতলা মাছটি ৬৮ হাজার ৫০০ টাকায় এবং রুই ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ফেরি ঘাট এলাকার জেলে ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, বর্তমানে পদ্মা নদীর মোহনা দৌলতদিয়া এলাকায় জেলেদের জালে বড় বড় রুই, কাতলা জাতীয় মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল-সংলগ্ন মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল (রবিবার) মধ্যরাতে নদীতে জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট অন্তারমোড় এলাকার জেলে জমির হালদার। আজ ভোর ৪টার দিকে পদ্মা নদীর মোহনায় কুশাহাটায় তিনি জাল ফেলেন।
ভাসতে ভাসতে ফেরি ঘাটের অদূরে অবস্থানকালে জালে প্রচণ্ড ঝাঁকি দিলে জমির হালদার বুঝতে পারেন যে তার জালে বড় মাছ আটকা পড়েছে। জাল নৌকায় তুলেই তিনি দেখেন বিশাল আকারের এক কাতলা। এরপর তিনি মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল-সংলগ্ন বাজারের রেজাউল ইসলাম মন্ডলের আড়তে।
৯৭ দিন আগে
পদ্মায় তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই শতাধিক যাত্রী
পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লঞ্চটিতে থাকা দুই শতাধিক যাত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লঞ্চটি দৌলতদিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
লঞ্চে থাকা যাত্রীদের অভিযোগ, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি রেজোয়ান লঞ্চটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে তেলবাহী একটি জাহাজের পেছনের অংশের সঙ্গে লঞ্চটির ধাক্কা লাগে। এতে প্রায় ১০ জনের মতো যাত্রী কমবেশি আহত হন। কেউ হাতে-পায়ে গুরুতর আঘাত পান, কেউ মাথায় আঘাত পান।
দুই যাত্রী এ সময় নদীতে পড়েও যান। তবে তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরে সাঁতরে লঞ্চে উঠতে সক্ষম হন। লঞ্চের মাস্টারের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
তেলবাহী জাহাজটি সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে কর্মরত রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মো. জিল্লুর রহমান প্রামাণিক বলেন, মাঝ নদীতে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে এমভি রেজোয়ান লঞ্চের ধাক্কা লাগে। এতে কিছু সংখ্যক যাত্রী আহত হন। আহত যাত্রীরা দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে ঘাটে পৌঁছালে আমরা তাদের নিরাপদে লঞ্চ থেকে নামিয়েছি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয়ের টার্মিনাল তত্বাবধায়ক মো. শিমুল ইসলাম বলেন, জাহাজ বা লঞ্চ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় সংঘর্ষ ঘটে। তবে কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নৌপুলিশ দেখভাল করছে।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা দুপুর ১২টার দিকে বলেন, আহত যাত্রীদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় তার স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। ঈদের সময় হওয়ায় লঞ্চটি আটকে না রেখে যাত্রীর ট্রিপ নিতে ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
১২৯ দিন আগে
ফেরি থেকে পদ্মায় লাফ দিয়ে যুবক নিখোঁজ, ২৪ ঘণ্টায়ও হয়নি উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি বড় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। ডুবুরি দলের ২৪ ঘণ্টার চেষ্টায়ও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে অপেক্ষমান ওই ফেরি থেকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারপর থেকে তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায় ডুবুরি দল। এরপর আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় অভিযান শুরু করে দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম রেজাউল শিকদার (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যানবাহনের জন্য অপেক্ষমান ওই ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দেন ওই যুবক। তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল শেখ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৩ নম্বর ঘাটের ফেরিতে জুয়াড়িরা জুয়া খেলার টাকা নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজাউল ফেরির পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা খোয়ানো ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। পরে ঘাটে থাকা লোকজন ওই যাত্রীকে টেনে তুলতে সক্ষম হলেও রেজাউলকে টেনে তোলার আগে তিনি নদীতে তলিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
নিখোঁজ রেজাউলের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদর বলেন, জমি নিয়ে জুয়াড়ি চক্রের হোতাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি। আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার হাসান আলী বলেন, ফেরিতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরিটি যানবাহন লোডের অপেক্ষায় ছিল। পরে স্থানীয়দের থেকে তিনি এমন ঘটনা শুনেছেন।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, ফেরিতে জুয়াড়িরা কৌশলে এক যাত্রীর টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই যাত্রীর সঙ্গে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে রেজাউল নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে গিয়ে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের কোনো সন্ধান পাননি। যাত্রীটি ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া চলে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দে ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
ডুবুরি দলের প্রধান মনিকগঞ্জের আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নাল আবেদিন জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ছয় সদস্যের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পায়নি। আমরা আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় তার সন্ধানে ছয় সদস্যের দল অভিযান শুরু করেছি।
১৭২ দিন আগে
পদ্মায় কুমির, রাজবাড়ীর নদীপাড়ে আতঙ্ক
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাঝারি আকারের একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে দুপুরের পর মাঝেমধ্যে কুমিরটিকে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। এর আগেও একাধিকবার কুমিরটিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে গত দুই দিন ধরে মাঝেমধ্যে একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর ওই জায়গায় স্থানীয়রা নিয়মিত গোসল করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা শামীম মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। সকালে এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে কুমিরটি দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যান।
২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে স্থানীয় লোকজন কুমির দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সামনে নদীতে কুমির দেখতে পাওয়ায় আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ অনেক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নদীতে গোসল করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আজ (বুধবার) সকালে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সানজিদা সুলতানা বলেন, গতকাল বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখা পাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য আজ এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ কয়েকদিন নদীপাড়জুড়ে পাহারা দেবে। এরপর কুমিরটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার পর আমি কুমিরের বিষয়টি জানতে পারি। এরপর উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে আপাতত কেউ যাতে না নামেন, সেজন্য আজই নদীপাড়ে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাল কাপড় টানাতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৯৪ দিন আগে