রিমান্ড
রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা: আয়াসসহ রিমান্ডে ৪
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। সেই সঙ্গে আয়াস ও তার সহযোগী সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল (শনিবার) শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এ মামলায় গ্রেপ্তার রিমি রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। তখন রিমি বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। এ সময় পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে স্লোগানও দেন তারা। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ফুটপাত-সংলগ্ন দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগহসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
৪ দিন আগে
সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
গত শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গতকাল (শনিবার) তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগ মামলায় রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
১১ দিন আগে
সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রিমান্ডে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল-বেরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আদালত সূত্র জানায়, গতকাল (শুক্রবার) গ্রেপ্তারের পর আজ (শনিবার) রিমান্ড শুনানির জন্য আখতারুজ্জামানকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের পেছনে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগে মামলায় রয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
১২ দিন আগে
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল ফের রিমান্ডে
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে ফের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. জেহাদ হোসেন রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার চার মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি অডিও ডিভিডিতে ধারণ করে জব্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অডিওতে থাকা নমুনা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে আসামির কণ্ঠস্বরের তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য তাকে ফের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে তাদের রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই রাকিবুলকে ওসির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।
১৭ দিন আগে
ফের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন এলাকার ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার দিন মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় একটি চিঠি পাওয়া যায় বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও প্ররোচনা বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে গাজী নজরুল ইসলামকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং অভিমান ও পারিবারিক বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছেন—এমন তথ্য গাজী নজরুলের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
২১ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে অভিনেতা ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক মজিবুর রহমান ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী কারণে, কার ইন্ধনে এবং কীভাবে বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে সম্পর্কেও তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।
গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন: সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। তবে ডনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। এ ঘটনায় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।
পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। সে সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে, ডনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সালমান শাহর ভক্তরা আজ সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
৪৯ দিন আগে
সিলেটে তিনজনকে গলাকেটে হত্যা: ৪ দিনের রিমান্ডে আটক বাবুল
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় ৩ জনকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপলু চৌধুরী।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা কথাকাটাকাটির জেরে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন।
তবে, পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার। তাদের দাবি, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেছেন তারা।
মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা বলেন, একজনের পক্ষে একসঙ্গে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তার অভিযোগ, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। গৃহকর্মী তাহমিনার পিতাও একই দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ঘটনার পর ১৩ আগস্ট সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে হত্যা করেছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে বেসিনে হাত ও ছুরি ধোয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করেছে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তাহমিনার খারাপ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। প্রথমে তাহমিনার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে বাধা দিতে আসলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও শেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া ওই বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিস বা গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো নগরজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
৬০ দিন আগে
সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা সাত দিনের রিমান্ডে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তার জামিন আবেদন নাকচ করে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে, বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আনোয়ার হোসেন জগলুল পাশার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
গত ৩ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় ১১১ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসহ খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নেন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন।
এতে আরও বলা হয়, আসামিরা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সড়ক বন্ধ করে এবং খালেদা জিয়া যাতে সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়া সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করেও বের হতে পারেননি। এ সময় আসামিরা পেপার স্প্রে ব্যবহার করলে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
এ মামলার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জগলুল পাশার বিরুদ্ধে।
৭০ দিন আগে
চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনসহ চার আসামি ১০ দিনের রিমান্ডে
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ফটিকছড়িতে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করে পুলিশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই মামলায় ওই আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের রিমান্ড শুনানীকে ঘিরে আদালত এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোরের কোতোয়ালী থেকে গ্রেপ্তার ইমনসহ ৪ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৩টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।
মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন (২৫) ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা।
রিমান্ডে নেওয়া ডেভিড ইমন ছাড়াও এই মামলার অপর আসামিরা হলেন— তার সহযোগী মো. শামীম, সাফায়েত হোসেন এবং আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানায় হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামি ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের কাছ থেকে অপরাধ জগতের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৭৪ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ২ দিনের রিমান্ডে আসামি
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে তার রিমান্ড কার্যকর হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সদর আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার একমাত্র আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ (বুধবার) সকালে নড়াইল সদর থানায় আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত সোমবার উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহতের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনার পরদিন (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় জনতা।
নিহত জান্নাতি দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে ফাঁসির দাবিতে এসপি অফিসের সামনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান করেন ছাত্র-জনতা।
অপরদিকে, নড়াইল-বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর বিকেল ৩টায় নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা।
নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেন। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশপাশের বাড়িতে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে অভিযুক্তের ঘরের মেঝে থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত একাই তার ঘরে থাকতেন। তিনি বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।
এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অপরাধীকে ধরতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের কাছে মোবাইল ফোন ছিল না। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তাকে শনাক্ত করতে। তার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে। তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যত ধরনের আইনগত সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে। আশা করছি, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮৫ দিন আগে