বইমেলা
বইমেলাকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
আগামীতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হবে। পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা-জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একুশে বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধামন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই সর্বসাধারণের জন্য মেলার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ জন্য আমাদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে-মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন করা হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার ভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কিনা কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কিনা—এই বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে।
এ সময় তিনি প্রস্তাব দেন, বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলায়ও আয়োজিত হতে পারে। বই প্রকাশকরাও এ নিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
১১ দিন আগে
পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার পর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে শুরু হলো এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং সংস্কৃতিসচিব মো. মফিদুর রহমান।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
এদিন দুপুর ২টায় মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগী উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, সহকারী উপাচার্য মামুন আহমেদসহ কবি, শিল্পী ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা এক হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
অমর একুশে বইমেলায় এবার প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুচত্বর। শিশুদের অবাধ বিচরণে শিশুচত্বরে থাকবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে থাকবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
এবার বইমেলার পরিবেশ-সুরক্ষায় সচেতন থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। এছাড়া মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে। থাকবে মশকনিধনের সার্বিক ব্যবস্থাও।
বাইমেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুত করতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ— পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শেষ সময়ে এসেও নিজেদের স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।
প্রকাশকদের মতে, অনেকে প্রথম দিন মেলায় স্টল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন না। মেলার দিনেও অনেক স্টল সাজানোর কাজ চলবে।
১১ দিন আগে
ঢাবি স্টেশনে ২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ মেট্রোরেল
আজ দুপুর দেড়টা থেকে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ কারণে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন সাময়িকভাবে ২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না। একইসঙ্গে এ সময় কোনো ট্রেনও স্টেশনে থামবে না।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনে মেট্রো ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকবে না। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
১২ দিন আগে
অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ
নানা সংকট কাটিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। বইমেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দেবেন।
এবারের বইমেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। এবার মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এবার বইমেলার পরিবেশ-সুরক্ষায় সচেতন থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। এছাড়া মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে। থাকবে মশকনিধনের সার্বিক ব্যবস্থাও।
বাইমেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুত করতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ— পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে এবারের বইমেলার বিন্যাস, তবে কিছু আঙ্গিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে মেলার বাহিরপথ গতবারের চেয়ে এবার একটু সরিয়ে মন্দির গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ থাকবে।
খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে করা হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের সুব্যবস্থাও থাকবে। নামাজের স্থান, প্রসাধনকক্ষসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় এবার প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুচত্বর। শিশুরা অবাধে বিচরণে শিশুচত্বরে থাকবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে থাকবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
বইমেলা উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখাঁরপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে বলে মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শেষ সময়ে এসেও নিজেদের স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।
প্রকাশকদের মতে, অনেকে প্রথম দিন মেলায় স্টল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন না। মেলার দিনেও অনেক স্টল সাজানোর কাজ চলবে।
১২ দিন আগে
বয়কটের হুমকির মধ্যেও বইমেলা আয়োজনে এগোচ্ছে বাংলা একাডেমি
বাংলাদেশের প্রধান সাহিত্য উৎসব অমর একুশে বইমেলা চলতি মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাচ্ছে। তবে রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজন করলে প্রকাশনা খাতে বড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রকাশকরা এর বিরোধিতা করছেন।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে। এদিকে বইমেলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা না করলে মেলা বর্জনের হুমকি দিয়েছেন তিন শতাধিক প্রকাশক।
অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা জানান, মেলার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে বেশ এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের লটারি সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন প্রকাশকরা তাদের নির্ধারিত জায়গা সাজানোর কাজ শুরু করতে পারবেন।’
স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আগেই বরাদ্দের অর্থ পরিশোধের সময়সীমা ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি করেছিল বাংলা একাডেমি।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১৩৩টি বেশি। এর মধ্যে ২৪টি নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। অপরদিকে, মেলায় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ২৩টি। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠিত এবং ১২টি নতুন প্রকাশনা সংস্থার জন্য।
বয়কটের হুমকি
২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ দিনব্যাপী রমজানের মধ্যে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে প্রকাশকরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশকদের একটি অংশ জানায়, ৩২১টি প্রকাশনা সংস্থা রমজানের পর মেলা আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। মেলার এ সময়সূচি পরিবর্তন করা না হলে তারা মেলায় অংশ নেবে না।
অনেক প্রকাশক জানান, তারা আগেই এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজানে সাধারণত কর্মঘণ্টা কম থাকে এবং দিনের বেলা ক্রেতারা খুব বেশি খরচও করেন না—যা বই বিক্রিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নিলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা
মেলার বিষয়ে তাদের দাবি আদায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও খোলা চিঠি পাঠিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’। তারা মেলার আয়োজন বন্ধের ব্যাপারে দেশের সম্ভাব্য এ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের মতে রমজানে মেলায় অংশ নেওয়া ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল হবে। ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি মূলধারার প্রকাশক মেলায় অংশ নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন।
প্রকাশকরা উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এছাড়া কাগজের আকাশচুম্বী দাম ও আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকরা এমনিতেই দিশেহারা। এমন বাস্তবতায় বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনে অনড়, যা রমজান মাসে পড়বে।
‘রোজার কারণে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রকাশকরা শঙ্কিত। ফলে মেলা পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ অবস্থায় বারবার পুনর্বিবেচনার আবেদন সত্ত্বেও কেন বাংলা একাডেমি মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রকাশকরা।
মেলা পেছানোর আহ্বান
প্রকাশকরা জানান, আমরা মেলা বর্জন করতে চাই না। আমরা চাই, সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা। রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা ঈদের পর মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে চিঠিতে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। তা হলো— ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত ‘নামমাত্র’ বইমেলা স্থগিত করার নির্দেশনা এবং ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে ও সব প্রকাশকের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
তারা আশা প্রকাশ করেন, ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে প্রকাশনা শিল্প বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্যও সংরক্ষিত থাকবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলায় আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা চান মেলার ঐতিহ্য রক্ষা করে ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলার আয়োজন করতে। অপরদিকে প্রকাশকরা চান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে মেলার আয়োজন পিছিয়ে নিতে।
২২ দিন আগে
বইমেলায় নজর কাড়ল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’
অমর একুশে বইমেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্টল ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’ নজর কেড়েছে আলাদা করে। স্টলটিতে ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষদের বই পড়ার’ কথা শুনে প্রশংসা করছেন অনেকেই। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে দেখছেন বইপড়া।
স্টলে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেনৈ আরিফুর রহমান, জান্নাতুল উষা এবং নাজিম। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘স্পর্শ ফাউন্ডেশনের ‘স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা’ ২০১১ থেকে বইমেলায় বই প্রকাশ করে আসছে।’
আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা বই প্রকাশ করি। এ বছর আটটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর সবই ফ্রিতে দিচ্ছি। এর জন্য ফ্রিতে রেজিস্ট্রেশনও ফ্রিতে করতে হয়। আমরা মেলার শেষের দিকে একটা তারিখ ঠিক করি। সে অনুযায়ী আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ১০০ জনের বেশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে বই দেয়া হয়েছে।’
কি কি ধরনের বই আছে জানতে চাইলে উষা বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের বই আছে এখানে। যেমন ছড়া, উপন্যাস, স্বাস্থ্য বিষয়ক বইও রয়েছে। তবে এবার সাড়া একটু কম।’
স্টলে আসা একজন শিক্ষার্থী আশা বলেন, ‘মেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পর্শ ব্রেইল ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন প্রশংসনীয়। এখানে এসে ব্রেইল কেমন হয় সেটা প্রথম দেখলাম। বই ছুঁয়ে দেখলাম। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাও যে সাহিত্যকে এভাবে ধারণ করতে পারেন, দেখেই ভালো লাগছে।’
আরও পড়ুন: তসলিমা নাসরিনের বই নিয়ে বইমেলায় উত্তেজনা
অমর একুশে বইমেলায় শুধু ছবি তোলার জন্য নজর কেড়েছে আরেকটি ডেমো স্টল। যার নাম ‘৩৬ জুলাই’। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন রূপক ছবি ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। অনেকেই দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।
৩৭৮ দিন আগে
একুশের টান প্রজন্মের ঊর্ধ্বে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তারই জ্বলন্ত প্রমাণ: প্রধান উপদেষ্টা
একুশের টান বয়স, প্রজন্মের ঊর্ধ্বে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘একুশের টান প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিস্তৃত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই টান গভীরতর হয়েছে, আমাদের দুঃসাহসী করেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।’
তিনি বলেছেন, ‘দুঃস্বপ্নের বাংলাদেশকে ছাত্র-জনতা নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে। আমাদের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী রাস্তার দেওয়ালে দেওয়ালে তাদের স্বপ্ন, আকাঙক্ষা ও দাবিগুলো অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় এঁকে দিয়েছে। আমাদের রাস্তার দেওয়াল এখন ঐতিহাসিক দলিলে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এগুলোর স্থান এখন আমাদের বুকের মধ্যে ও জাদুঘরে হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আমার শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির ঘাড়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চেপে থাকা স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে। আমাদের সাহসী তরুণদের এই অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এই বিজয়ের মাধ্যমে এসেছে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ইস্পাত-কঠোর প্রতিজ্ঞা।’
এ সময় জুলাইয়ের ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে যে সকল দুঃসাহসী ছাত্র-জনতা-শ্রমিক প্ৰাণ দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন তাদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। বলেন, ‘মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অভ্যুত্থান এবারের বইমেলা নতুন তাৎপর্য নিয়ে আমাদের সামনে এসেছে। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং তার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণ।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘বরাবরই একুশে মানে জেগে উঠা। একুশে মানে আত্মপরিচয়ের মুখোমুখি হওয়া। একুশে মানে অবিরাম সংগ্রাম। নিজের পরিধিকে আরও অনেক বাড়িয়ে নেওয়া। এবারের একুশের পরিপ্রেক্ষিত আমাদের নতুন দিগন্তে প্রতিস্থাপন করেছে।’
‘বরকত, সালাম, রফিক, জাব্বারের বুকের রক্তে যে অঙ্গীকার মাখা ছিল তাতে ছিল জুলাই অভ্যুত্থানকে নিশ্চিত করার মহাবিস্ফোরক শক্তি। অর্ধশতাব্দী পর এই মহবিস্ফোরণ গণঅভ্যুত্থান হয়ে দেশ পাল্টে দিল। এই বিস্ফোরণ আমাদের মধ্যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় গ্রোথিত করে দিয়ে গেল। ১৭ কোটি মানুষের প্রতিজনের সত্তায় এই প্রত্যয় গভীরভাবে গ্রোথিত। অমর একুশের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এই প্রত্যয়ে শপথ নিতে এসেছি।’
আরও পড়ুন: বইমেলা উপলক্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে যান চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল
তিনি বলেন, ‘একুশ আমাদের মূল সত্তার পরিচয়। একুশ আমাদের ঐক্যের দৃঢ় বন্ধন। এই বন্ধন ছোট-বড়, যৌক্তিক-অযৌক্তিক, ক্ষণস্থায়ী-দীর্ঘস্থায়ী সকল দূরত্বের ঊর্ধ্বে। এজন্য সকল প্রকার জাতীয় উৎসবে, সংকটে, দুর্যোগে আমরা শহিদ মিনারে ছুটে যাই। সেখানে আমরা স্বস্তি পাই; শান্তি পাই, সমাধান পাই; সাময়িকভাবে অদৃশ্য ঐক্যকে আবার খুঁজে পাই।’
‘২১ আমাদের মানসকে এভাবে তৈরি করে দিয়েছে। একুশ আমাদের পথ দেখায়। একুশ আমাদের জাগিয়ে তোলে। মাত্র ছয় মাস আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতিকে এক ঐতিহাসিক গভীরতায় ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছে, যার কারণে আমরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক দিক থেকে বিধ্বস্ত এক দেশকে দ্রুততম গতিতে আবার উদ্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তৈরি করার জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহস খুঁজে পেয়েছি।’
৪০১ দিন আগে
বইমেলা উপলক্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে যান চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল
অমর একুশে বইমেলায় আসা ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের যে বিধিনিষেধ থাকে, তা অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে শিথিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাবির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অমর একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এই মেলা উপভোগ করতে আসেন। বইমেলা উপভোগ করতে আশা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোয় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের যে বিধিনিষেধ থাকে তা অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে শিথিল করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ব্যারিকেড রাখবে না। তবে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ এ প্রবেশপথগুলোতে যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যানবাহনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পার্কিং করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৪০২ দিন আগে
বইমেলার সমাপ্তি: ৩১ দিনে ৬০ কোটি টাকার বিক্রি
২০২৪ সাল ‘লিপ ইয়ার’ হওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাস ছিল ২৯ দিনে। পাশাপাশি বইমেলা ২ দিন বাড়ানো হয়েছিল। ফলে ৩১ দিনের দীর্ঘ বইমেলা ছিল এবারেরটি। গতকাল শনিবার ছিল মেলার শেষ দিন। এই মেলায় মোট ৩ হাজার ৭৫১টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ দর্শনার্থী এসেছিলেন।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির প্রশাসন উপ-বিভাগের উপ-পরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ এবারের মেলার বিক্রির পরিসংখ্যান ও সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন।
বইমেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের মেলায় বিক্রি ৬০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৪৭ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালে ছিল ৫২ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ এর সময় বাড়ল ২ দিন
মেলায় মোট ৩ হাজার ৭৫১টি বইয়ের মধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ২৬২টি, ছড়ার বই ১০৬টি, গবেষণা ৭৬টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৬৯টি, ইতিহাসের ৬৪টি, শিশুতোষ উপন্যাস ৭১টি, ভ্রমণবিষয়ক ৬৪টি বই, ৬১টি অনুবাদ, ৪৪টি বিজ্ঞানের বই, ৩৬টি সায়েন্স ফিকশন, ২৯টি রচনা, ধর্ম ক্যাটাগরির ৩৩টি, কমিকস ক্যাটাগরির ৩১টি, নাটক ৩৪টি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২৭টি, রাজনীতি বিষয়ক ২৯টি বই, স্বাস্থ্য বিষয়ক ২৯টি বই এবং অভিধান সম্পর্কিত ১৯টি বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ২২২টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
অথচ বাংলা একাডেমি নিজেই ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ীর বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি আটটি প্রকাশনা সংস্থাকে চারটি বিভাগে পুরস্কার বিতরণ করে যেখানে বিষয় ও মানের দিক থেকে সর্বাধিক সংখ্যক মানসম্পন্ন বই প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করে।
এছাড়া শিল্প ও মানের দিক থেকে সেরা বই প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশ, জার্নিম্যান বুকস ও ঐতিহ্য প্রকাশনীকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়।
ময়ূরপঙ্খী পাবলিকেশন শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক মানসম্পন্ন বই প্রকাশের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয় এবং অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী, নিমফিয়া পাবলিকেশন এবং বেঙ্গল বুকস শ্রেষ্ঠ অভ্যন্তরীণ ডিজাইনের জন্য কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পায়।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে প্রাণবন্ত বইমেলার শিশুচত্বর
৭৩৭ দিন আগে
চট্টগ্রামের সিআরবিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বইমেলা
চট্টগ্রামে আজ শুক্রবার (৯ ফ্রেরুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ২১ দিন ব্যাপী আমর একুশে বইমেলা।
সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে বিকাল ৫টায় নগরীর সিআরবির শিরীষতলায় এই বই মেলার উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
এবার প্রথম সিআরবির শিরীষতলায় (নতুন স্থানে) মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার আয়তন ৪৩ হাজার বর্গফুট। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৯২টি প্রকাশনা সংস্থার ১৫৫টি স্টল থাকবে। এর মধ্যে ডাবল স্টল ৭৮টি ও সিঙ্গেল স্টল ৭৭টি।
সিটি মেয়র রেজাউল বলেন, ‘মেলার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খোলা জায়গা প্রচুর রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য চারদিকে টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামরা ও পুলিশ প্রহরা থাকবে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব সিকিউরিটিসহ নিরাপত্তা বলয় থাকবে।
মেলা শেষ হবে ২ মার্চ বলে জানান তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে এবারের বইমেলায়
সভাপতিত্ব করবেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
এই আয়োজনের বিভিন্ন দিনে থাকবে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লোক উৎসব, মরমি উৎসব, বসন্ত উৎসব, তারুণ্যের উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, শিশু উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, নারী উৎসব, চাটগাঁ উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, পেশাজীবী সমাবেশ, কবিতা আবৃত্তি ও ছড়া উৎসব, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, গুণিজন সংবর্ধনা, সম্মাননা পদক এবং সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
আরও পড়ুন: বইমেলায় জমজমাট উপস্থিতির প্রত্যাশা প্রকাশকদের
৭৬০ দিন আগে