ঈদযাত্রা
কুমিল্লায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের ধাক্কায় নিহত ১২
কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ১২ যাত্রী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৫ যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ নারী ও ২ শিশু রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালান।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রমকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ওই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। সে সময় চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে বাসটির ধাক্কায় ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে যায়। এরপর ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে থাকায় ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এতে করে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়।
এ সময় ট্রেন যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তারা তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আজ সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে চট্টগ্রামমুখী লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় চট্টগ্রাম অভিমুখী চট্টগ্রাম মেইল কুমিল্লা স্টেশন ছেড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসক রেজা হাসান ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৩ দিন আগে
লঞ্চে ‘নেশাদ্রব্য খাইয়ে’ ছিনতাই, ভোলায় যাত্রীর মৃত্যু
স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তিনি ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে যাত্রাপথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সমীরণ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী-আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক, স্বস্তিতে যাত্রীরা
এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী ও চালকরা স্বস্তি অনুভব করছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও আজও কোথাও যানজট নেই এবং যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।
দেশের ‘লাইফলাইন’ খ্যাত এই মহাসড়ক দিয়ে কয়েকদিনে হাজার হাজার যানবাহনে লাখ লাখ মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও রোভার স্কাউটস সদস্যরা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানজট না থাকলেও যানবাহনের চাপের কারণে ধীরগতিতে চলছে গাড়ি।
এ সময় মহাসড়কের দাউদকান্দি, গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, পদুয়ার বাজার, মিয়ানমার ও চৌদ্দগ্রামের স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করতে দেখা গেছে।
৫ দিন আগে
ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
আগামীকাল দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌপথে ঈদযাত্রার শেষ সময়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিভিন্ন লঞ্চে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লঞ্চের ভেতরে যাত্রী পরিবহনের সার্বিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই প্রতিরোধে তিনি উপস্থিত থেকে কয়েকটি লঞ্চকে নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী নিয়ে টার্মিনাল ত্যাগের নির্দেশ দেন।
এ সময় ঘাট ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমজীবী মানুষের দায়িত্বনিষ্ঠ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের নৌপথে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ ছাড়াও তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ঘাট পরিচালনায় নিয়োজিত সকল সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেন, যাতে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
৫ দিন আগে
ঈদযাত্রায় পদ্মা ও যমুনা সেতুতে টোল আদায় ও যানবাহন পারাপারে রেকর্ড
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতুতে টোল আদায় ও যানবাহন পারাপারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৭ থেকে ১৯ মার্চ—এই তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৮০২টি। একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
অন্যদিকে, যমুনা সেতুতে ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। একই দিনে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও সহজ করতে কাজ চলমান রয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও এবার বড় কোনো দুর্ঘটনা বা দীর্ঘ যানজট দেখা যায়নি, যা সমন্বিত ব্যবস্থাপনার সফলতা নির্দেশ করে।
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি (ETC) চালু, উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা, রেকার মোতায়েনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা ইত্যাদি।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব উদ্যোগের ফলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করা হয়।
৫ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পাড়ি দেওয়া নিয়ে যাত্রীদের শঙ্কা
সিলেটে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর ঈদযাত্রা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা ছুটির আমেজে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে নগরজুড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি। আর সোমবার ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস। বিকেল গড়াতেই নগরীর সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। শুরু হয় প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন যাত্রা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এ সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এর আগে, ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জরুরিসেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকছেন। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাও চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ আনন্দের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চলমান উন্নয়নকাজ এবং কিছু স্থানে সরু সড়কের কারণে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ ঈদযাত্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাছাড়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাটিহাতা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছয় লেন প্রকল্পের ধীরগতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। একইসঙ্গে মহাসড়কের অন্তত দুইটি লেন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় প্রতিবারই ভোগান্তির কারণ হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার সড়কটি ভোগান্তির মূল কারণ। ছয় লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক অংশ চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকছে। ঈদে যানবাহন বাড়লে এই ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচল করে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন। রাজধানী পার হওয়ার পর বেশিরভাগ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা গেলেও আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর অংশ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। দুইটি গোলচত্বরে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
গত কয়েক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মহাসড়কের এই অংশজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। একইসঙ্গে বিশ্বরোড, কুট্টাপাড়া, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর এবং সোনারামপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যানজটের অন্যতম কারণ।
একইভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের দুইটি স্থানে তীব্র যানজট দেখা যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারের অংশে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কটির কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, তন্তর, তিনলাখ পীর, সৈয়দাবাদ, মনকসাইর, খাড়েরা এবং কুটি চৌমুহনীতে মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের শঙ্কা আছে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, তিন চাকার যান চলাচলও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
এদিকে, সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোনা সেতুর উদ্বোধনকালে বলেন, ঈদ উদযাপনে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে।
৭ দিন আগে
ঈদযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ নেই, সেবা নিশ্চিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: নৌপরিবহনমন্ত্রী
নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, এবারের ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তারপরও যাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদরঘাট থেকে নদীপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শেখ রবিউল বলেন, ‘ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সেবা দিতে হবে। আমরা চাই, তারা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা বিঘ্নের মতো বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তারপরও সতর্ক থাকব, যাতে যাত্রীসেবার মান বজায় থাকে।’
পরিদর্শনকালে তিনি লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন গেট, যাত্রীসেবাকেন্দ্র ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং ঈদে ঘরমুখো মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ঘাট শ্রমিকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, শ্রমিকদের কারণেই আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা ঈদযাত্রায় ঘাট ব্যবহার করা যাত্রীদের সহযোগিতা করবেন। মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করলে যাত্রীরাও আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। কোনো যাত্রী যেন হয়রানির শিকার না হন।
এ সময় তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ও হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে উঠল পৌনে ৩ কোটি টাকা টোল
ঈদ উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ। এতে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পারাপারে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যমুনা সেতু পারাপারে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ইতোমধ্যেই রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। এতে যমুনা সেতু পারাপারে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এ পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
টোল আদায়ের বিষয়ে সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গতকাল (সোমবার) দুপুর থেকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬৫৮টি গাড়ি সেতু পারাপার করেছে। এতে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এর মধ্যে যমুনা সেতু পূর্বপাড় থেকে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং পশ্চিম পাড় থেকে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা আদায় হয়েছে।
এ টোল আদায় আরও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
৮ দিন আগে
ঈদে ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে: সড়কমন্ত্রী
সড়ক, রেলপথ, নৌপরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদ উদযাপনে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোনা সেতুর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়কমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এখনও ২ লেনের রাস্তা। স্বাভাবিক চলাচল প্রশ্নে এটা অত্যন্ত সরু। এই মাহসড়ক আরও চওড়া করা দরকার। এটা সরকার উপলব্ধি করে। এবার এসে আমিও নিজ চোখে দেখে গেলাম। দ্রুত কীভাবে কাজটা শুরু করা যায়, সেই পরিকল্পনা সরকারের আছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। এই সরকার দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়।
গোনা সেতু উদ্বোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই সেতুটির ফলে কেবল যে একটি এলাকার মানুষ উপকৃত হবে তা কিন্তু নয়, বরং বরিশালের সঙ্গে পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন একটি অংশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এটি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যাবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল বাবা, মা, ছেলের, মেয়ে হাসপাতালে
লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলায় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীসহ একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে উপজেলার মির্জারকোট মডেল মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামে একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন নিহত শরিফুল ইসলাম (৩৪)। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের মনসাপুর গ্রামে।মঙ্গলবার সকালে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন তিনি। পথে পাটগ্রামের মির্জারকোট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্বামী-স্ত্রী ও ছেলে নিহত হন। আর গুরুতর আহত মেয়েকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
৮ দিন আগে