ঈদযাত্রা
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেন চালু: উত্তরবঙ্গের ঈদযাত্রায় স্বস্তি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেনটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গুরুত্বপূর্ণ এই লেনটি চালু হওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাটিকুমরুল গোলচত্বর ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। এই গোলচত্বর থেকেই মূলত ঢাকা-পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহনগুলো পৃথক লেনে বিভক্ত হয়ে নিজস্ব গন্তব্যে যায়। স্বাভাবিক সময়ে যানবাহনের চাপ নিয়মিত থাকলেও ঈদ মৌসুমে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাসসহ প্রায় ৫২ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
বিগত বছরগুলোতে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়ক থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত অংশে ঈদযাত্রায় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো। ফলে উৎসবের আনন্দ বিষাদে রূপ নিত এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিরসনে নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জের এই বিশেষ লেনটি গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসের চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় হাটিকুমরুল মোড় ছিল এই রুটের যাত্রী ও চালকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম। তবে নতুন লেনটি চালু হওয়ায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।
সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন বলেন, ‘উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন এই নতুন লেন ব্যবহার করে চলাচল করছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এই হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের সার্বিক কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস একসঙ্গে চলায় এই চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেনটি চালু হওয়ায় এবার মহাসড়কে গাড়ির গতিশীলতা স্বাভাবিক রয়েছে এবং ইতোমধ্যে চাপ কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তায় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা মহাসড়ককে যানজট ও অপরাধমুক্ত রাখতে সমন্বিতভাবে সক্রিয় রয়েছেন।
২১ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৫ যাত্রী নিহত, আহত ৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ যাত্রী।
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রডবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটিতে চেপে কিছু মানুষ ঈদযাত্রায় ঘরে ফিরছিলেন। ভোরে ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ এবং যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ৬ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধার কাজের কারণে ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে যমুনা সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
২২ ঘণ্টা আগে
নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার স্বস্তির হবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম।
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে।’
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসছে।’
এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী সড়কে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার ও আহত ৩৩ জনের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৫৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৩ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ঘাটে দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলোতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. রাজিব আহসান বলেন, কোনো ঘাট এলাকায় অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি ঘরমুখো যাত্রীদের উদ্দেশে সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদে ঘাট পারাপারের আহ্বান জানান।
৪ দিন আগে
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ ওঠানামা বন্ধে কড়া বার্তা নৌ প্রতিমন্ত্রীর
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় তিনি অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে ওঠানামার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী লঞ্চ মালিক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে অনুরোধ জানান, কোনো অবস্থাতেই যাত্রীরা নৌকা বা ট্রলার ব্যবহার করে লঞ্চে ওঠানামা করবেন না। তিনি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।
ঈদযাত্রায় কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
তিনি প্রতিটি লঞ্চে দৃশ্যমান স্থানে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন, যাতে যাত্রীরা সহজেই নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
নৌপথে নিরাপদ ঈদযাত্রায় বিআইডব্লিউটিএর একগুচ্ছ নির্দেশনা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং নৌ-দুর্ঘটনা রোধে একগুচ্ছ নির্দেশনা ও সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক জরুরি নৌ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে নৌপথে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করে। এই সময়ে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীদের টিকিট কেটে লঞ্চে ওঠার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
নৌ-দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর একটি ‘অতিরিক্ত যাত্রী’ উল্লেখ করে বিআইডব্লিউটিএ জানায়, কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বা লঞ্চের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না। ছাদে যাত্রীর কারণে নৌযান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তাড়াহুড়া না করে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লঞ্চে আরোহণ ও অবরোহনের জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিতে হবে এবং দুর্যোগপূর্ণ বা খারাপ আবহাওয়ায় কোনোভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। মাঝ নদীতে ট্রলার থেকে চলন্ত লঞ্চে ওঠানামা করা থেকেও বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে আরোহণের পর লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়ার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের কবল থেকে বাঁচতে অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদের ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে আগেভাগেই পরিবার-পরিজনকে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ঘাটে লঞ্চ না আসা পর্যন্ত টার্মিনালের ভেতরেই অপেক্ষা করা উচিত।
জরুরি পরিস্থিতিতে বা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব হটলাইন নম্বরসহ (১৬১১৩) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ৩৩৩ (সরকারি তথ্য ও সেবা), ১০২ (ফায়ার সার্ভিস), ১৬১১১ (কোস্ট গার্ড) ও নৌ-পুলিশের (০১৭৬৯-৭০২২১৫) নম্বরগুলোতে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১১ দিন আগে
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে দেশব্যাপী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১১ মে) অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে।
এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ’র ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বা পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রাখা হবে।
ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ঢাকা মহানগরী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাসও প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া পিক আওয়ারে যাত্রীচাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম পেশাদার চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর অধিক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তদারককারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এ সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতারা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০ জন
এবারের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু রয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১১৬ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৩৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ৪৭ জন পথচারী (১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ), বাস যাত্রী ৪১ জন (১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ) ট্রাক-পিকআপ আরোহী ১৩ জন (৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২০ জন (৬ দশমিক ৭১ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৫০ জন (১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৯ জন (৩ দশমিক ০২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেলআরোহী ২ জন (.৬৭ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
এ সময় ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত ও ২ জন নিখোঁজ এবং ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত ও ২০৯ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩০ দশমিক ৮৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৩ দশমিক ১৬ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ শহরের সড়কে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ সংঘর্ষে এবং ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ অঞ্চলে ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ১২ জন নিহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ বাড়ি ফিরেছেন এবং সারাদেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে— সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে দুইজন নিহত, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সেতু উল্টে চার শিশু নিহত, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহত। এসব ঘটনাকে প্রতিবেদনে ‘কাঠামোগত ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের একই সময়ে ১১ দিনে ২৫৭টি দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এ বছর দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে এই হ্রাসকে প্রকৃত উন্নতির সূচক নয় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালনাকে দায়ী করা হয়েছে।
সংস্থাটি নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন, গণপরিবহন বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের সুপারিশ করেছে।
৫৩ দিন আগে
কুমিল্লায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের ধাক্কায় নিহত ১২
কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ১২ যাত্রী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৫ যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ নারী ও ২ শিশু রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালান।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রমকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ওই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। সে সময় চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে বাসটির ধাক্কায় ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে যায়। এরপর ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে থাকায় ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এতে করে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়।
এ সময় ট্রেন যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তারা তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আজ সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে চট্টগ্রামমুখী লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় চট্টগ্রাম অভিমুখী চট্টগ্রাম মেইল কুমিল্লা স্টেশন ছেড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসক রেজা হাসান ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৬৪ দিন আগে
লঞ্চে ‘নেশাদ্রব্য খাইয়ে’ ছিনতাই, ভোলায় যাত্রীর মৃত্যু
স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তিনি ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে যাত্রাপথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সমীরণ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী-আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৬৫ দিন আগে