ফারাক্কা বাঁধ
ফারাক্কা ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে: গোলাম মোস্তফা
বাংলাদেশের জন্য ফারাক্কা বাঁধ অভিশাপ। গত ৫০ বছর এই অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ফারাক্কার কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়; এখন ভারতও সেই ফারাক্কা ব্যারেজের ‘কুয়ায়’ পড়েছে। ফারাক্কা এখন বাংলাদেশের মতো ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভিসিসি)-রংপুর, আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও ভিসিসি চেয়ারম্যান এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া।
গোলাম মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশের পানির অধিকার নিয়ে বিগত পাঁচ দশকে ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অনড় অবস্থানে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তবে, ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে, ভারতও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভারতেও ফারাক্কার বিরুদ্ধে জনমতো জোরালো হচ্ছে।
তিনি জানান, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। বাঁধটি চালু হওয়ার পর থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদীভাঙনের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। আশির দশকের ছোটখাটো ভাঙন নব্বইয়ের দশকে এসে মারাত্মক রূপ নিতে থাকে। ১৯৯০-২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছু ইউনিয়ন নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, বহুদিন ধরেই মালদহ-মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা তীরবর্তী দুর্ভোগ ও বিপর্যয়-কবলিত মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ফারাক্কা বাঁধ বড় রকমের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিহারও ফারাক্কার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিহার রাজ্য সরকারের দাবি, ফারাক্কার কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় প্রতিবছরই এই রাজ্য বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা বলেন, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবের এই বিষয়টি মওলানা ভাসানী তখনই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আর এই কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থে ফারাক্কার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশের সরকারগুলো সব সময়ই পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উদাসীন।
ভারত বাংলাদেশকে কখনও পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না—এ কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে তার পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ বিষয়ে উদাসীন থাকলে দেশ বিপদের সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অধিকার আদায় করতে হয়, সে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন চিরপ্রতিবাদী মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী।
এনডিপি মহাসচিব ও ভিসিসি নির্বাহী পরিচালক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, ৫০ বছরে ফারাক্কা সমস্যার মতো জাতীয় সংকটও যখন আমাদের জাগাতে পারেনি, নব্য কারবালার আহাজারিকেও যখন বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছি, তখন আরও বড় বিপর্যয় যে আসবে, এটাই তো স্বাভাবিক। বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ভারতীয় পরিকল্পনাটি এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ মহাসংকটকালে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে মওলানা ভাসানীর পথে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান বলেন, জাতি একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী, দূরদর্শী, নেতৃত্বের শূন্যতা প্রবলভাবে অনুভব করছে। জাতির এ ক্রান্তিকালে মওলানা ভাসানীর মতো একজন সিংহপুরুষের দরকার। আজ সময় এসেছে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশিদের এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশের স্বার্থে উচ্চকণ্ঠী হবার। ভারতের অন্যায়, আগ্রাসী পানি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার।
বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও ভিসিসি চেয়ারম্যান এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়ার সভাপতিত্ব এবং সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক অশোক ধর, বিশিষ্ট সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিক তালুকদার, বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এএফএম শরীফুল আলম, সংগঠনের পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
৯ দিন আগে
ফারাক্কার প্রভাবে ভাঙছে নবগঙ্গা-মধুমতি
নড়াইল, ০৫ অক্টোবর (ইউএনবি)- ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়ায় নড়াইলের মধুমতি-নবগঙ্গা নদীতে মাত্রাতিরিক্ত পানি বেড়ে গেছে। নিচু এলাকা যেমন প্লাবিত হচ্ছে, তেমনি মধুমতি-নবগঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
২৪২৪ দিন আগে