পদ্মা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আলীনগর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই কিশোর হলেন— সদর উপজেলার সুন্দরপুর এলাকার আলমাসের ছেলে রাসেল (১৫) এবং একই এলাকার জেমের ছেলে রিফাত (১৬)। তারা দুজনই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে রাসেল ও রিফাত নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।
৬ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবির পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
৯৯ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় ৫ দিন পর ভেসে উঠল নিখোঁজ রেজাউলের মরদেহ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভেসে উঠেছে রেজাউল শিকদারের মরদেহ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌপুলিশ। আজ (সোমবার) সকালে নৌপুলিশ ও নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতের ভাই মোস্তফা শিকদার বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাদের বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর জানায় ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। প্রথম দেখেই মরদেহটি চিনে ফেলি। এরপর মরদেহের পরণে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমারা রেজাউলের মরদেহ শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, মরদেহ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওনা হয়েছি।
সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানান। খবর পেয়ে তাদের মরদেহটি আটকানোর কথা বলে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
এই নৌপুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটি গতকাল বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি।
তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল সেদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার সেদিন দাবি করেছিলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
আজ দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের ৫ দিন পর গতকাল (রবিবার) রাতে পদ্মায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে সেটিকে রেজাউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
১৪৭ দিন আগে
পদ্মায় ভাসছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ, ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বিপরীতে পদ্মা নদীর চরের কিনারে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে দৌলতদিয়া ঘাট নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ। এর আগে শনিবার বেলা ১১টার থেকে লাশটি ভাসতে দেখেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মায় মাছ ধরার সময় স্থানীয় কয়েকজন জেলে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের বিপরিতে উত্তর দিকের পদ্মা নদীর মাঝে বালুর চরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখেন।
পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে নৌ-ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। রাত ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর যুবকের বস্তাবন্দি হাড়গোড় উদ্ধার
ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে খবর পেয়ে তারা লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার (১৬ মে) বিকালের দিকে ঝড়ের সময় ফেরি বা লঞ্চ থেকে এই ব্যক্তি পদ্মা নদীতে পড়তে পারেন। নিহত ব্যক্তির বয়স অনুমান ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মতো হতে পারে। তবে সুরতহালকালে লাশের শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পকেট থেকে ৪৫০ টাকা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ রবিবার (১৮ মে) সকালে ফরিদপুর থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আসার কথা রয়েছে। তারা আসলে প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।’
ত্রিনাথ সাহা জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। বর্তমানে লাশটি দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে।
৪১৪ দিন আগে
পদ্মায় বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড, একজন মুচলেকায় মুক্ত
নাটোররে লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে চারজনকে একমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ মে) সকাল ১০টা থেকে অভিযান শুরু করে তাদের আটক করে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ড্রেজার মেশিন, ২টি বালু ভর্তি ট্রলার জব্দ করা হয়।
একমাসের কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন— সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার খোকন ও শাহামুদ্দিন, পাবনার ভাঙ্গুরার রাকিবুল ও রবিউল এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বোরহান উদ্দিন।
আরও পড়ুন: পদ্মা নদীতে বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান, ড্রেজার-ট্রলার জব্দসহ আটক ৫
এর মধ্যে বোরহানের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাকি চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লালপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি আজিজুল কবীর।
৪৩০ দিন আগে
পদ্মায় ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবি, নিখোঁজ স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
পাবনার সুজানগরে পদ্মা নদীতে বেড়াতে গিয়ে নৌকাডুবির ১৬ ঘণ্টা পর স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার হলেন— পাবনার কোলচরী গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় ও তার স্ত্রী মৌ আক্তার।
নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল তাদের লাশ উদ্ধার করে। এর আগে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকাল ৬টার দিকে নিখোঁজ হন তারা।
স্থানীয়রা জানায়, সুজানগর উপজেলার সাতবারিয়ায় কাঞ্চন পার্কে পদ্মা নদী এলাকায় বেড়াতে যান বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ। একপর্যায়ে তারাসহ ২০ থেকে ২৫ জন শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠেন।
নৌকায় থাকা অবস্থায় নদীর মাঝখানে হঠাৎ করে পদ্মা নদীর স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। সবাই সাঁতরিয়ে নদী পার হয়ে তীরে উঠতে পারলেও হৃদয় খান ও তার স্ত্রী নিখোঁজ হন।
৪৫৭ দিন আগে
পদ্মায় মাছ ধরতে গিয়ে আটক বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিল বিএসএফ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় আটক আলমগীর শেখ নামে এক বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর আটক জেলেকে ফেরত দেওয়া হয়। আজ (মঙ্গলবার) বিকালে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আলমগীর শেখ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিত থেকে জানা যায়, সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রঘুনাথপুর সীমান্তে প্রবাহিত পদ্মা নদীতে ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরার সময় অবৈধভাবে ভারতের প্রায় ৭০০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েন আলমগীর শেখ। এ সময় ভারতের নিমতিতা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিল ভারত
এ ঘটনা জানার পর ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনির-উজ-জামান ভারতে অনুপ্রবেশকারী আলমগীর শেখকে ফেরত চেয়ে বিএসএফের কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ১০/৪-এস নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নৌকা ও জালসহ আলমগীর শেখকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত পাওয়া আলমগীর শেখকে নৌকা ও জালসহ শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৪৭৫ দিন আগে
পদ্মায় গোসলে নেমে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে করতে নেমে ফরহাদ নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার মডেল থানার সামনে পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ফরহাদ গোদাগাড়ী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমন্তপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম বাবুর ছেলে। গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরহাদসহ কয়েক বন্ধু দুপুরে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামলে এক পর্যায়ে পানিতে ডুবে যায় ফরহাদ।
আরও পড়ুন: যশোরে দেয়ালচাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত
স্থানীয়রা নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করলেও সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় রাজশাহীর ডুবরিরা তার লাশ উদ্ধার করে।
রাজশাহী ফায়ার সর্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সামা বলেন, ‘ফায়ার স্টেশন থেকে ডুবুরি দল পাঠানো হয়। পরে ডুবুরি দল নিখোঁজ ফরহাদের লাশ উদ্ধার করে।’
৪৮৪ দিন আগে
পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিশালাকৃতির কুমির
পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া অংশে জেলের জালে একটি বিশালাকৃতির কুমির ধরা পড়েছে। কুমিরটির ওজন আনুমানিক সাড়ে ৩ মণ এবং লম্বায় প্রায় ১০ ফুট।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তালবাড়িয়া ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে শরিফুল ইসলাম নামের এক জেলের মাছ ধরার জালে কুমিরটি ধরা পড়ে।
জালে কুমির আটকে থাকতে দেখে জেলেসহ আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে ডাঙায় তুলে আনলে হাজার হাজার উৎসুক জনতা কুমিরটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায়।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে রিসোর্ট থেকে কুমির উদ্ধার
এ বিষয়ে জেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ৭-৮ জন জেলে প্রতি দিনের মতো নদীতে মাছ ধরতে যাই। দুপুর ১টার দিকে নদীতে জাল ফেলি। জাল টানার পর প্রথমে মনে করেছিলাম বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে, কিন্তু জাল তোলার পরে দেখি বিশাল আকৃতির একটি কুমির। আমরা জাল কেটে কুমিরটিকে বের করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখি। পরে বন বিভাগের লোক এসে কুমিরটিকে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহ-সভাপতি শাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই স্থানীয়রা পদ্মা এবং গড়াই নদীতে কয়েকটি কুমির দেখতে পাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা মুরগি, হাঁস ও ছাগল দিয়ে রাখি নদীতে। কয়েকবার দেখা গেলেও হাজারো মানুষের ভিড়ের কারণে শেষ পর্যন্ত আর কুমিরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার দিকে জানতে পারি, তালবাড়িয়া ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে একটি কুমির ধরা পড়েছে। খবর পেয়ে আমরা বিবিসিএফ টিম এবং কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে জেলেদের জাল কেটে কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কুমিরটিকে নিরাপদ কোনো স্থানে অবমুক্ত করা হবে।
এ ব্যাপারে সামজিক বনায়ন কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (জগতি) মো. আতিয়ার রহমান জানান, এটি একটি মিঠা পানির কুমির। এসব কুমির লম্বায় ১০ ফুটও হতে পারে। কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। পরবর্তীতে উপযুক্ত স্থানে আমরা এটিকে অবমুক্ত করব।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে মৌয়ালের মৃত্যু
৫৫৯ দিন আগে
চাঁদপুরে পদ্মায় দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ
চাঁদপুরে পদ্মা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।
এ সময় যাত্রী হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। লঞ্চ দুটি হলো-কীর্তনখোলা ১০ ও এমভি প্রিন্স আওলাদ ১০।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের পদ্মা নদীর হরিনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিআইডব্লিউটিয়ের বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, দুর্ঘটনার পর কীর্তনখোলা ১০ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরলেও প্রিন্স আওলাদ লঞ্চ পার্শ্ববর্তী চরে নোঙর করতে বাধ্য হয়। পরে প্রিন্স আওলাদের যাত্রীদের নিয়ে আরেকটি লঞ্চ এমভি শুভরাজ বরিশাল নৌবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
বরিশাল নৌ বন্দর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘যাত্রী হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দুই লঞ্চের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রিন্স আওলাদের যাত্রীদের অন্য একটি লঞ্চের মাধ্যমে বরিশাল আনা হচ্ছে।’
দুর্ঘটনা কবলিত প্রিন্স আওলাদের যাত্রী হিরামনি উকিল রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর আমাদের আরেকটি লঞ্চে তুলে দিয়েছে। এই লঞ্চে খাবার নেই। যাত্রীদের কাছ থেকে নতুন করে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে আছেন যাত্রীরা।’
বরিশাল সদর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত একটি লঞ্চের যাত্রীদের অন্য লঞ্চে বরিশাল আনা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর নেই।’
৫৬১ দিন আগে