পদ্মা
পদ্মার পানি কমলেও দৌলতপুরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, ছড়াচ্ছে রোগবালাই
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। এতে দুর্গত এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যায় পদ্মাতীরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে এক হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, গত তিন দিনে পদ্মার পানি প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর এলাকার বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ বলেন, আশপাশের গ্রাম ডুবে যাওয়ায় অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে শুকনো খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানান।
চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর গ্রামের গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে। সন্তানদের নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খাওয়ার পানিও মিলছে না। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যক্যাম্প স্থাপন ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
৭ দিন আগে
নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ১১ দিন ফেরি বন্ধ, ট্রলার ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
পদ্মায় প্রবল স্রোতে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌপথে বন্ধের ১১ দিন পরও চালু হয়নি ফেরি। ফলে এ রুটের যানবাহনগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু হয়ে চলাচল করছে। অন্যদিকে, উপায় না পেয়ে যাত্রীরা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। এ সুযোগে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ধাওয়াপাড়া ঘাট থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে আর ফেরি যায়নি। ধাওয়াপাড়ায় অপেক্ষমাণ যানবাহন নিয়ে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় ফেরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এরপর ফেরিটি ধাওয়াপাড়া ঘাটে নোঙর করে থাকে। ফলে যানবাহনগুলো কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু ঘুরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছে।
এই নৌপথে ‘ক্যামেলিয়া’ ও ‘কপোতি’ নামক দুটি কেটাইপ (মাঝারি) ফেরি চলাচল করত। কিন্তু দুর্বল ইঞ্জিন স্রোতের বিপরীত চলতে না পারায় গত ২৩ জুলাই থেকে কপোতি বন্ধ রয়েছে। একমাত্র ভরসা ক্যামেলিয়াও গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায়।
৮ দিন আগে
পদ্মায় নৌকাডুবি, ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের পর নিয়ে গেছে বিএসএফ
১২ বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি নৌকা পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা ১০ জনকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে গেছে।
অন্য দুজনের মধ্যে একজন সাঁতরে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারলে আরেকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নৌকাটি বিকেল ৫টার দিকে বাখেরআলী ঘাট থেকে জোহুরপুরটেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাত্রা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর প্রবল বাতাস ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। পরে খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা নদী থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যান।
অন্যদিকে ওয়াসিম (২৫) নামের এক যাত্রী সাঁতরে বাংলাদেশে তীরে উঠতে পারলেও মোস্তাফা নামের আরেক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে যায়। নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ।
এদিকে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধারের বিষয়টি বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) জানিয়েছে।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া নিখোঁজ মোস্তফার সন্ধানে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
১৩ দিন আগে
পদ্মায় ফুটবল খেলতে গিয়ে শিশু নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মোস্তাকিম হোসেন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া ইব্রাহিম হোসেন (১২) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ মোস্তাকিম উপজেলার সোনাতলা গ্রামের হায়দারের চর এলাকার রতন জমাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া ইব্রাহিম একই গ্রামের জিয়ারুল শাহের ছেলে। তারা দুজনই সোনাতলা দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছয়জন শিশু ভাগজোত ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর পানিতে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে তীব্র স্রোতের টানে মোস্তাকিম ও ইব্রাহিম গভীর পানির দিকে চলে যায়। তারা দুজনই পানিতে ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে প্রবল স্রোতের কারণে মোস্তাকিমকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনাস্থলে মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। সকালে খাওয়াদাওয়া শেষে মাদ্রাসায় না গিয়ে ছুটির দিনে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে খেলতে গিয়েছিল। পরে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এখনও আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাইনি।’
মাদ্রাসার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সকালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে খাওয়া শেষে মোস্তাকিম বন্ধু ও স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে আসে। পরে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শিশুটি ভেসে অন্যত্র চলে যেতে পারে।’
২৮ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আলীনগর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই কিশোর হলেন— সদর উপজেলার সুন্দরপুর এলাকার আলমাসের ছেলে রাসেল (১৫) এবং একই এলাকার জেমের ছেলে রিফাত (১৬)। তারা দুজনই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে রাসেল ও রিফাত নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।
৮৭ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবির পঞ্চম দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চলছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম চালান তারা। এ সময় দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িক সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযান কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নদী পাড়ি দিতে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌছে। ঘাটে থাকা অপর একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় অপর ফেরির অপেক্ষা করতে থাকে বাসটি। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পন্টুনের দিকে এসে পদ্মায় পড়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
এ সময় বাস থেকে ১৮টি মরদেহ এবং পরদিন আরও ৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল। তার আগে, দুর্ঘটনার পরপর চার যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানান, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের সন্ধান পাননি। তারপরও কারো মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন দেখা না দেয়, তার আলোকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
১৮০ দিন আগে
রাজবাড়ীর পদ্মায় ৫ দিন পর ভেসে উঠল নিখোঁজ রেজাউলের মরদেহ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভেসে উঠেছে রেজাউল শিকদারের মরদেহ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় নৌপুলিশ। আজ (সোমবার) সকালে নৌপুলিশ ও নিহতের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতের ভাই মোস্তফা শিকদার বলেন, গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাদের বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর জানায় ওই ব্যক্তি। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। প্রথম দেখেই মরদেহটি চিনে ফেলি। এরপর মরদেহের পরণে নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমারা রেজাউলের মরদেহ শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, মরদেহ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশে আমরা রওনা হয়েছি।
সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানান। খবর পেয়ে তাদের মরদেহটি আটকানোর কথা বলে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে নিহতের পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
এই নৌপুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় মরদেহটি গতকাল বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে ছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি।
তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল সেদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান।
নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার সেদিন দাবি করেছিলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
আজ দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের ৫ দিন পর গতকাল (রবিবার) রাতে পদ্মায় মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে সেটিকে রেজাউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিহতের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
২২৮ দিন আগে
পদ্মায় ভাসছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ, ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বিপরীতে পদ্মা নদীর চরের কিনারে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে দৌলতদিয়া ঘাট নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ। এর আগে শনিবার বেলা ১১টার থেকে লাশটি ভাসতে দেখেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মায় মাছ ধরার সময় স্থানীয় কয়েকজন জেলে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের বিপরিতে উত্তর দিকের পদ্মা নদীর মাঝে বালুর চরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ ভাসতে দেখেন।
পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে নৌ-ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। রাত ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর যুবকের বস্তাবন্দি হাড়গোড় উদ্ধার
ওসি ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘সন্ধ্যার আগে খবর পেয়ে তারা লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার (১৬ মে) বিকালের দিকে ঝড়ের সময় ফেরি বা লঞ্চ থেকে এই ব্যক্তি পদ্মা নদীতে পড়তে পারেন। নিহত ব্যক্তির বয়স অনুমান ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মতো হতে পারে। তবে সুরতহালকালে লাশের শরীরে কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পকেট থেকে ৪৫০ টাকা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ রবিবার (১৮ মে) সকালে ফরিদপুর থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আসার কথা রয়েছে। তারা আসলে প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।’
ত্রিনাথ সাহা জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। বর্তমানে লাশটি দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে।
৪৯৬ দিন আগে
পদ্মায় বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড, একজন মুচলেকায় মুক্ত
নাটোররে লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে চারজনকে একমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ মে) সকাল ১০টা থেকে অভিযান শুরু করে তাদের আটক করে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ড্রেজার মেশিন, ২টি বালু ভর্তি ট্রলার জব্দ করা হয়।
একমাসের কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন— সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার খোকন ও শাহামুদ্দিন, পাবনার ভাঙ্গুরার রাকিবুল ও রবিউল এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বোরহান উদ্দিন।
আরও পড়ুন: পদ্মা নদীতে বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান, ড্রেজার-ট্রলার জব্দসহ আটক ৫
এর মধ্যে বোরহানের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাকি চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লালপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি আজিজুল কবীর।
৫১১ দিন আগে
পদ্মায় ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবি, নিখোঁজ স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
পাবনার সুজানগরে পদ্মা নদীতে বেড়াতে গিয়ে নৌকাডুবির ১৬ ঘণ্টা পর স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার হলেন— পাবনার কোলচরী গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় ও তার স্ত্রী মৌ আক্তার।
নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল তাদের লাশ উদ্ধার করে। এর আগে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকাল ৬টার দিকে নিখোঁজ হন তারা।
স্থানীয়রা জানায়, সুজানগর উপজেলার সাতবারিয়ায় কাঞ্চন পার্কে পদ্মা নদী এলাকায় বেড়াতে যান বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ। একপর্যায়ে তারাসহ ২০ থেকে ২৫ জন শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠেন।
নৌকায় থাকা অবস্থায় নদীর মাঝখানে হঠাৎ করে পদ্মা নদীর স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। সবাই সাঁতরিয়ে নদী পার হয়ে তীরে উঠতে পারলেও হৃদয় খান ও তার স্ত্রী নিখোঁজ হন।
৫৩৮ দিন আগে