বাঁধ নির্মাণ
উদ্বোধনের ৩ সপ্তাহেও শুরু হয়নি কাজ, হাওরের বাঁধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শুরু হয়নি। গত ১৫ ডিসেম্বর নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও তারপর পেরিয়ে গেছে ২২ দিন। অথচ, মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ে না।
হাওর থেকে পানি নামতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন দাবি করলেও কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন ভিন্ন বাস্তবতার কথা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙা অংশ বন্ধ করা ও মেরামতের জন্য হাওরের অধিকাংশ এলাকাই কাজ শুরুর উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের একাংশ এবং তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের প্রায় অর্ধশত প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়েনি। যদিও এসব হাওরের কয়েকটি অংশ দিয়ে পানি নামছে, তবে প্রাক্কলিত বাঁধের অধিকাংশ স্থানেই কাজ করার মতো পরিবেশ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) অধ্যুষিত শাল্লা ও ধর্মপাশা ছাড়াও মধ্যনগর, তাহিরপুর, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় এখনও বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কোথাও কোথাও এখনো পিআইসি গঠন প্রক্রিয়াই শেষ হয়নি। এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ শুরু তো দূরের কথা, অনেক উপজেলায় এখনো পিআইসি গঠনই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে কৃষকসহ হাওরাঞ্চলের সচেতন মানুষের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জেলায় এ বছর প্রায় ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধের মধ্যে ১০৪টি স্থানে ভাঙা অংশ (ক্লোজার) রয়েছে। হাওরের কৃষক ও ফসলের নিরাপত্তায় সরকার প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দিয়ে আসছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে পানি নামার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল একফসলি এলাকা। বছরে একবারই এখানে বোরো ধান উৎপাদন হয়। এই একমাত্র ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলে হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশার শেষ থাকে না। এখানকার বোরো ফসল দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে কারণেই সরকার প্রতি বছর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে থাকে। কিন্তু গাফিলতির কারণে কাজ পিছিয়ে পড়লে বড় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।
ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরপাড়ের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, ‘আমরার হাওরে বান্ধের কাজটাজ এখনও শুরু হইছে না। ঠিক টাইমে কাজ করলে মাডি বয় ভালা (বসে ভালো), বাঁনও (বাঁধও) শক্তিশালী হয়। শেষ সময়ে আইয়া তাড়াহুড়া কইরা মাটি কাটব, বাঁন থাকব দুর্বল, পানির ধাক্কা খাইলেই বাঁন ভাইঙা যে শ্রম-ঘাম দিছি সব তলাইয়া যাইব।’
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের দুই পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া ও নূর মিয়া জানান, বাঁধ নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তারা নিজেরাও নিশ্চিত নন। তাদের ভাষ্য, এখনও বাঁধের কাজের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের পিআইসি নম্বরও তারা জানেন না।
শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ‘১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর এখানকার কোনো বাঁধেই এখনও কাজ শুরু হয়নি। ছয়টি হাওরে শতাধিক প্রকল্প রয়েছে। এখনও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পিআইসি নেওয়ার জন্য তদবির চলছে। এ অবস্থায় সময়মতো কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
হাওর পরিদর্শন শেষে হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি রফিকুল বিন বারী বলেন, ‘গত রবিবার হালির হাওর ঘুরেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। কাজ কখন শুরু হবে, কখন শেষ হবে—তা বলা মুশকিল। এভাবে চললে শেষ পর্যন্ত কৃষকরাই বিপদে পড়বে। তখন দৌড়ঝাঁপ করে কোনো লাভ হবে না। সময় থাকতে কাজে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’
এ বিষয়ে কাবিটা প্রকল্প তদারক কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘অনেকগুলো বাঁধে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বেশ কিছু মেশিন হাওরে ঢুকেছে। দু–একদিনের মধ্যেই পুরোপুরি কাজ শুরু হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চার-পাঁচটি পিআইসি এখনও গঠন হয়নি। সেগুলো সরেজমিনে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘হাওরের অনেক জায়গা দিয়ে এখনও নদীতে পানি নামছে। পানি নামার কারণেই কাজে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।’
৯ দিন আগে
উপকূলে অশনিসংকেত: কয়রায় অসময়েও ভাঙছে বাঁধ
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর প্লাবিত হওয়া খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রতি বছর গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে কয়রার মানুষ চরম আতঙ্কে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন, জোয়ার-ভাটার তীব্রতা এবং নদীর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা উপকূলীয় এই অঞ্চলের প্লাবন-ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত টেকসই বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন আশার আলো জাগালেও কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মেগা প্রকল্পে যথেষ্ট বরাদ্দ থাকার পরও অবৈধভাবে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তা বাঁধ নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ছাড়া গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে নদী চরের সবুজ বনায়ন। যার ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব কমছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা যায়, গেল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের দোশহালিয়া থেকে হোগলার মধ্যকার একটি অংশের বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয়রা সেখানে মাটি দিয়ে মেরামত করেন। এ ছাড়া নদীতে পানির চাপ ও কোনো প্রকার ঝড়ো বাতাস ছাড়াই গত ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে হঠাৎ করে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বাঁধটির বিশাল অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে প্লাবিত হয় সংলগ্ন এলাকা। পরের দিন ভাটার সময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হলেও তাদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১১টার পর থেকেই নদীর পাড়ের মাটি সরে যাওয়ার অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরে সেখানে গিয়ে দেখেন, বাঁধের বড় বড় খণ্ড নদীতে ধসে পড়ে ২০০ মিটারের মতো বাঁধ ভেঙে এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের স্থায়ী সংস্কার এবং নদী খননে অবহেলার কারণে এই অঞ্চলে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ধানচর, শামুকপোতা, কুতুবেরচর, গাবতলা ও খোলপেটুয়া পাড়ের বেশ কয়েকটি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাটিয়াভাঙ্গার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ সেদিন রাতের ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘চোখের সামনে দিয়ে বাঁধটা নদীতে চইলে গেল। মনে হচ্ছিল, আজই বুঝি সব শেষ; বাড়িঘর সবকিছুই বুঝি তলাই যাবেনে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ‘প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে। কয়েক দিনের মধ্যে তিনটি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জরার্জীণ থাকলেও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
মাটিয়াভাঙ্গা বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশটি মেগা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই বছর যাবৎ বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ চলমান থাকলেও তাতে রয়েছে চরম ধীরগতি। মাটিয়াডাঙ্গার ওই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় থাকলেও সংস্কারে গুরুত্ব দেননি ঠিকাদার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কয়রা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের দুটি পোল্ডারে (১৪/১ ও ১৩–১৪/২) প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ঢাল সংরক্ষণ, নদীশাসন ও চরবনায়নের কাজ করা হচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গার ভাঙনকবলিত এলাকাটিও এই প্রকল্পের অংশ।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘সুন্দরবনঘেঁষা আড়পাঙ্গাসিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের মোহনার পাশে থাকা এ বাঁধটিতে এক মাস আগেই ফাটল দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তার ভাষ্যে, ‘অল্প কিছু বস্তা ডাম্পিং করে দায়সারা কাজ করা হয়েছিল তখন। তাই গতরাতে আগের ফাটলটা হঠাৎ বড় রূপ নিয়ে ধসে গেছে।’
রাতে গ্রামবাসী ও পাউবো মিলে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নদীর ভাঙন ঠেকাতে রিং বাঁধ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রিং বাঁধের স্থায়িত্ব খুব স্বল্প। যেকোনো মূহুর্তে সেটি ভেঙে যেতে পারে। দ্রুত যদি মূল বাঁধ সংস্কার করা না হয়, তাহলে ধ্বসের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বায়ক এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে, তার আশপাশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া নদীর চর থেকে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে নদীর চরের গাছ কেটে বনায়ন নষ্ট করা হচ্ছে।’ এসব বিষয় উল্লেখ করে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাগরিক সমাজের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের ঘুর্ণিঝড় আয়লার পর থেকে প্রত্যেক বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কোনো না কোনো এলাকা ভেঙে যেতে দেখা যাচ্ছে। এ বছর বর্ষা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে এলাকা প্লাবিত হাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেও শীত মৌসুমে প্লাবিত হলো। শীতকালে এমন ভাঙন এর আগে কখনো দেখিনি।
‘আমাদের প্রাণের দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। আমাদের দাবির কথা বিবেচনা করে সরকার বরাদ্দ দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু বরাদ্দের সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বিষয়টি কি শুধুই প্রকৃতির তাণ্ডব, নাকি বাঁধের কাঠামোগত দুর্বলতাও—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।
কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর মাটিয়াডাঙ্গা এলাকার মেগা প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে পাউবোর সাতক্ষীরা–২ বিভাগ। ওই বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবির বলেন, ‘কাজ চলমান অবস্থায়ই বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে কংক্রিট ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় এলাকা প্লাবিত হয়নি। সকাল থেকে জোরেসোরে আমাদের বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।’
৩৬ দিন আগে
বাঁধ নির্মাণে উচ্ছ্বসিত মধুমতি পাড়ের বাসিন্দারা
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী ও মধুখালী এই তিনটি উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মধুমতি নদী।
বিগত দিনগুলোতে ভাঙনে এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, ফসলি জমি, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছেন হাজারো মানুষ। নদীতে বসতবাড়ি বিলীন হয়ে অনেকেই হয়েছেন নিঃস্ব।
স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে মধুমতির তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েক যুগের বুকের মধ্যে পুষে রাখা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাচ্ছে; তাই উচ্ছ্বসিত মধুমতি পাড়ের বাসিন্দারা।
এখনও হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কয়েক শত বসতবাড়ি। প্রতিনিয়ত সর্বনাশা নদী চোখ রাঙাচ্ছে বসতভিটা কেড়ে নিতে।
স্থানীয়দের দাবি ছিল, নদীটির স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধের। অবশেষে প্রতিক্ষার অবসান হয়েছে তাদের। তাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
২৯২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বালু দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাটির পরিবর্তে নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু দিয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
সোমবার সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী বালু দিয়ে বাঁধ মেরামতের নিয়ম না থাকলেও মাটিয়ান হাওর উপ প্রকল্প নামক ৭৫ নং পিআইসি'র ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে মাটির পরিবর্তে নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এছাড়াও ৭৬ ও ৭৭নং পিআইসির বাঁধেও বালু দিয়েই কাজ করছে সংশ্লিষ্ট পিআইসি কমিটির লোকজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে তাহিরপুর উপজেলায় ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ১১২টি প্রকল্পের মধ্যে ৮৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ১৩ গ্রাম প্লাবিত, টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি
এরমধ্যে পাউবো'র অধীনে থাকা মাটিয়ান হাওরের ৭৫নং পিআইসির বাঁধটি মেরামতের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যেভাবে বাঁধের কাজ মাটি দিয়ে করানো হচ্ছে তাতে ভারি বৃষ্টিপাত হলে এক মাসও বাঁধ টিকবে না।
এছাড়াও মাটির পরিবর্তে এভাবে বালু ফেলে বাঁধ মেরামত কাজ করা হলে চৈত্র মাসের প্রথম দিকেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোরে আগাম ফসলহানীর আশঙ্কা রয়েছে।
হাওরপাড়ের কৃষক বলেন, ৭৫নং পিআইসির বাঁধটি শুরু থেকেই বালু দিয়ে মেরামত না করার জন্য বলেছি। কিন্তু বাঁধের দায়িত্বশীলরা অনুমিত নিয়েই নাকি বাঁধের কাজ করছেন বলে আমাদের জানান।
এছাড়া নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে সহজে বালু দিয়ে বাঁধের নামে সরকারের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ৭৫নং পিআইসির সভাপতি মলাই মিয়া ও সেক্রেটারি বলেন, পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী শওকত উজ্জমানের অনুমতি নিয়েই বালু দিয়ে বাঁধের কাজ করা হচ্ছে।
আমাদের মতে মাটির চেয়ে বালু দিয়ে বাঁধের কাজ খুবই টেকসই হবে। ড্রেজারের বালু শক্ত ভাবে মাটিতে বসে যায়।
তবে এ বিষয়ে পাউবো'র উপসহকারী প্রকৌশলী শওকত উজ্জমান বলেন, ৭৫নং পিআইসির কাজ নদীতে থাকা পানির লেভেল পর্যন্ত ড্রেজার দিয়ে করার কথা। তবে সম্পূর্ণ বাঁধ বালু দিয়ে করতে বলা হয়নি।
এছাড়াও যেসব বাঁধ বালু দিয়ে করার অভিযোগ পেয়েছি সেই সব বাঁধে পরিদর্শনে যাচ্ছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য রমেন্দ্র নারায়ন বৈশাখ বলেন, বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কোন বিধান নেই। বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদি কেউ বালু দিয়ে বাঁধের কাজ করে তাহলে তা অনিয়ম করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, বালু দিয়ে বাঁধ মেরামত করা যাবেনা, ৭৫ নং পিআইসি ড্রেজার দিয়ে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট পিআইসির সভাপতিকে ড্রেজার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি।
আরও পড়ুন: কয়রায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণে সহস্রাধিক মানুষ
ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি, হতাশ কৃষকেরা
১০৭৪ দিন আগে
খুলনায় ‘অপরিকল্পিত’ শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, মরে যাচ্ছে শত শত গাছ
অপরিকল্পিতভাবে শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শিবসার চরে বনায়ন প্রকল্পের শতাধিক গাছ মরে যাচ্ছে।
পাইকগাছা উপজেলার শিবসার নিম্নাঞ্চলে লবণ পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু এই বেড়িবাঁধের উদ্বোধন করেন।
বেড়িবাঁধের কারণে মাত্র তিন মাসের মধ্যে বাঁধের ভেতরে পানি জমে এলাকার গাছপালা মারা যাচ্ছে। ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় পৌরসভাকে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন পাইকগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
আরও পড়ুন: গণপরিবহন বন্ধ, খুলনাবাসী নগর পরিবহন ফেরার অপেক্ষায়
শিবসা উপজেলায় নদীর তীরে অবস্থিত পাইকগাছা পৌরসভা ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এপ্রিল মাসে নির্মিত একটি বাঁধ ছাড়া গত ২৪ বছরে এই এলাকায় কোনো বাঁধ নির্মিত হয়নি। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় নদীর পানি ফুলে উঠে এবং পুরো এলাকার ঘরবাড়ি, দোকান-পাট এবং রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়।
এছাড়া গত কয়েক বছর থেকে খুলনা সদর থেকে হাড়িয়া নদী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা ভরাট করছে দখলকারীরা। এই সময় দখল ঠেকাতে ভরা অংশের বিভিন্ন এলাকায় বনায়ন গড়ে তুলে উপজেলা প্রশাসন। এতে একদিকে যেমন বন্ধ হয় দখল প্রক্রিয়া অন্যদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শিবসা নদীতে শহর রক্ষা বাঁধের ফলে জোয়ার-ভাটার পানি প্রবেশ করতে না পারলেও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বাঁধ এলাকা।
আরও পড়ুন: গণপরিবহন বন্ধ, খুলনাবাসী নগর পরিবহন ফেরার অপেক্ষায়
পাইকগাছা উপজেলা বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় জানান, শিবসা নদীর চর ভরাটি জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুন্দরবনাঞ্চলীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে বনায়ন করা হয়েছে। যার মধ্যে বাইন, কেওড়া, ওঁড়া, সুন্দরী ও গোলপাতাগাছ রয়েছে।
তিনি বলেন, এ গাছগুলো জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সম্পর্কিত। যদি বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়, তা হলে জলাবদ্ধতার কারণে সেখানকার সব গাছ মরে যাবে। ইতোমধ্যে গাছ মরা শুরু হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে ক্রমশ সব গাছের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন, নদীর মাঝখানে না করে লোকালয়ের পাশে বাঁধ তৈরি করলে গাছগুলো বেঁচে থাকত।
পাইকগাছা উপজেলা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি প্রশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, নদী দখলের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাঁধের কারণে শিবসা নদী তার গভীরতা হারাচ্ছে। এছাড়া নদীটি সংকুচিত হয়ে উপচে পড়া পানিতে পৌর এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পাইকগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু নদীর মাঝখানে বাঁধ নির্মাণে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু: খুলনার পর্যটন শিল্পের দুয়ার উন্মোচন
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন, ‘নদীর জায়গা দখল করে শহর রক্ষা বাঁধ দেয়া যাবে না। মানুষের প্রয়োজনে শহর রক্ষা বাঁধটি হতে হবে শহরের পাশ দিয়ে। বনায়ন ও নদীর ক্ষতি করে এমনভাবে বাঁধ দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, বাঁধ অপসারণে পৌরসভাকে সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাঁধ অপসারণ না করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হবে।
১২৬৪ দিন আগে
পরিদর্শনে এসে নদী ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা প্রতিমন্ত্রীর
প্রকল্পের কাজ দেখতে এসে নদী ভাঙন থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।
১৮৬৭ দিন আগে
কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে বুড়িরহাট ও গাবুর হেলান স্পার ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
২০০০ দিন আগে