নোবেল পুরস্কার
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার ধারণা বদলে নোবেল পেলেন ২ অর্থনীতিবিদ
অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার মডেল নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।
তাদের গবেষণায় তৈরি মডেলগুলো জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে বলে, এই দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণা অর্থনৈতিক উত্থান-পতন মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করছে।
এক বিবৃতিতে একাডেমি আরও বলেছে, ‘বিজয়ীরা অর্থনীতির উত্থান-পতন মসৃণ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন।’
রবার্ট ই হল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাইকেল উডফোর্ড নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।
এদিন নিউইয়র্ক থেকে ফোনে পুরস্কার কমিটির সঙ্গে কথা বলেন উডফোর্ড। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, একই সঙ্গে বিস্ময়কর।’
অর্থনীতিতে পুরস্কার দেওয়ার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বিজয়ীদের কাজ এমন মডেলের স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার ব্যবহার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব মডেলের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।’
সরাসরি সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে ফোনে দেওয়া বক্তব্যে উডফোর্ড বলেন, তার গবেষণায় ‘বাজারে থাকা ও ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া মানুষদের বোঝার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার কী করছে, তা জনগণকে বোঝানোর সুযোগ তৈরি করে—এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। বিশ্লেষণধর্মী কাঠামো তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল শুধু মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করা নয়, বরং কেন কী করা হচ্ছে, তা মানুষকে বোঝানোও।’
গত বছর ব্যবসায়িক উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণার জন্য তিনজন গবেষক এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। নতুন পণ্য ও উদ্ভাবন কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ বৃদ্ধি করে, এমনকি পুরোনো কোম্পানিগুলোকে পেছনে ফেলে দেয়—তা ব্যাখ্যা করেছিলেন তারা।
পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার’। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পুরস্কার চালু করে। এর আগে ঊনবিংশ শতাব্দীর সুইডিশ ব্যবসায়ী ও রসায়নবিদ আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেন এবং পাঁচটি নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেন।
নোবেল পুরস্কারের বিশুদ্ধতা নিয়ে যারা কঠোর অবস্থান নেন, তারা মনে করিয়ে দেন, অর্থনীতির এই পুরস্কার আসলে নোবেল পুরস্কার নয়। তবে নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী ১০ ডিসেম্বর অন্য পুরস্কারগুলোর সঙ্গে এটিও দেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজয়ীর ছোট দল কিংবা কোনো সংস্থা—পুরস্কার যে-ই পাক, অর্থমূল্য একই থাকবে।
৬ দিন আগে
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন
কানাডীয় কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে সরস সংলাপের মধ্য দিয়ে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের’ জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমি পুরস্কারটি ঘোষণা করে।
সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইংগ্রিড কার্লবার্গ বলেন, একাডেমি যখন কারসনকে পুরস্কার জয়ের খবর জানাতে যোগাযোগ করে, তখন তিনি আইসল্যান্ডে ‘বাতাসের শব্দ শুনছিলেন’।
নোবেল পাওয়ার খবর পেয়ে কারসন ‘খুবই বিস্মিত হয়েছেন’ বলেও জানান কার্লবার্গ।
টরন্টোতে জন্ম নেওয়া ৭৬ বছর বয়সী কারসন তার সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও কাহিনি ব্যবহার করেন, যেখানে প্রায়ই কবিতা, প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ দেখা যায়।
তার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’, যেখানে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যে আকাঙ্ক্ষার আনন্দ ও বেদনা তুলে ধরা হয়েছে; পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’; কবিতা ও গদ্যের সংকলন ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’, যা ২০০১ সালে কবিতার জন্য কানাডার গ্রিফিন পুরস্কার জিতেছিল; এবং ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’, যেখানে মেরিলিন মনরো ও ট্রয়ের হেলেনের তুলনা করা হয়েছে।
কারসন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের বেশ কিছু রচনাও অনুবাদ করেছেন, যেগুলোকে সুইডিশ একাডেমির মতে ‘নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে’।
কারসন উত্তর আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন। তিনি আইসল্যান্ডেও বসবাস করেছেন, যেখানে তিনি ও তার স্বামী রবার্ট কারি ২০২২ সালে নাগরিকত্ব পান।
গত বছর হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তার পরাবাস্তব ও নৈরাজ্যবাদী উপন্যাসগুলোতে বিষণ্ন বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তীক্ষ্ণ রসবোধের মিশ্রণ রয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি বিজ্ঞান পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহার করে, এমন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদান রাখায় তিন বিজ্ঞানী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন।
এছাড়া বিরল একটি শ্রেণির নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে একজন বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন। আর অণুর রহস্যময় দর্পণ-প্রতিবিম্ব নিয়ে গবেষণার জন্য দুই বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পেয়েছেন, যাদের আবিষ্কার অসংখ্য ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ সপ্তাহের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর্ব শেষ হবে শুক্রবার শান্তি পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে সোমবার।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)।
১০ দিন আগে
অণুর ‘দর্পণ-প্রতিবিম্ব’ গবেষণায় রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
রাসায়নিক অণুর রহস্যময় দর্পণ-প্রতিবিম্ব নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে এ রহস্যের সমাধানে অবদানের জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অঁরি বি কাগান ও কেনসো সোয়াই।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই দুই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটি ফর কেমিস্ট্রির চেয়ারম্যান হাইনার লিঙ্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো একটি রাসায়নিক রহস্যের সমাধান দিয়েছেন—কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটি সৃষ্টি হতে পারে। তারা যে রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো উদ্ভাবন করেছেন, সেগুলো অসাধারণ।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই দুই বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ‘ওষুধ তৈরির জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশা করা রসায়নবিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে’।
ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করা ৯৫ বছর বয়সী কাগান ফ্রান্সের ওর্সেতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে জাপানে জন্ম নেওয়া সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত।
নোবেল কমিটি থেকে ফোন পেলে সোয়াই জানান, তখন তিনি নিজের বাড়ির কাছাকাছি একটি দোকানে কেনাকাটা করছেন।
গত বছর তিন বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। বিপুল পরিমাণ গ্যাস আটকে রাখতে সক্ষম নতুন ধরনের আণবিক কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের উদ্ভাবন বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করা কিংবা মরুভূমি এলাকায় বাতাসের আর্দ্রতা সংগ্রহের সম্ভাবনার পথ তৈরি করেছে।
এ বছরের নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় গত সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহার করে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এরপর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয় মহাবিশ্ব থেকে আসা বিরল এক ধরনের নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনে এক বিজ্ঞানীর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে।
বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)। একজন ব্যক্তি, কয়েকজন নোবেলজয়ীর ছোট একটি দল কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান—যে ক্ষেত্রেই পুরস্কার দেওয়া হোক, অর্থের পরিমাণ একই থাকবে।
১১ দিন আগে
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন
মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার এবং আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে অবদানের জন্য এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘ফ্রান্সিস হালজেন গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা আমাদের একটি অসাধারণ যন্ত্র দিয়েছেন। তার অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।’
এদিন ইতালি থেকে ফোনে নোবেল কমিটির সঙ্গে কথা বলেন হালজেন। তিনি বলেন, ‘এটি বড় ধরনের বিস্ময় এবং আমি অবশ্যই এটি প্রত্যাশা করিনি।’
হালজেন বলেন, এর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তিনি নোবেল পুরস্কার পাবেন, তবে ঘোষণা শোনার পরও তার ‘অদ্ভুত’ অনুভূতি হয়েছে।
বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া ৮২ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের সঙ্গে যুক্ত।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলে এর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসন এর মূল প্রতিষ্ঠান।
নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র মহাজাগতিক কণা, যাদের ভর অকল্পনীয় রকম কম। তবু এগুলো সর্বত্র রয়েছে, সূর্যের মতো নক্ষত্র থেকে এগুলো নির্গত হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের মাঝ দিয়ে চলে যায়।
বিজ্ঞানীরা চারপাশে ছুটে চলা এই রহস্যময় ‘ভূতুড়ে কণা’কে সরাসরি দেখতে পারেন না। বরং এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর সঙ্গে পদার্থের অন্যান্য কণার সংঘর্ষের সময় কী ঘটে, তা পরিমাপ করেন।
হালজেন বিরল এক ধরনের নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণা করেছেন। দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্ত করার বিষয়ে তার গবেষণা বিংশ শতাব্দীর আশির দশক থেকে শুরু হয়।
এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ ডলার), যা কোনো একক ব্যক্তি, কয়েকজন বিজয়ীর ছোট দল বা কোনো প্রতিষ্ঠান—যে কারও জন্য একই।
গত বছর কোয়ান্টাম টানেলিং গবেষণার জন্য তিন বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার শুরু হয় সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক আলোকনির্ভর একটি প্রযুক্তি তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
বুধবার রসায়নে, বৃহস্পতিবার সাহিত্যে, শুক্রবার শান্তিতে ও সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
১২ দিন আগে
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ৩ বিজ্ঞানী
মস্তিষ্ক কীভাবে পৃথক স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে পুরস্কারটি ঘোষণা করা হয়।
কার্ল ডেইসেরোথ (৫৪), পিটার হেগেমান (৭১) ও জর্জ নাগেল (৭৩) আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে গবেষণা করে এ পুরস্কার পেয়েছেন।
নোবেল অ্যাসেম্বলি এই তিন বিজ্ঞানীর কাজের প্রশংসা করে এক্সে লিখেছে, এই পদ্ধতি ‘মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে এখন বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারে ব্যবহার করা হচ্ছে’।
অ্যাসেম্বলি জানিয়েছে, ডেইসেরোথ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, হেগেমান জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ও নাগেল জার্মানিরই ভুরৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
অপটোজেনেটিকসের মাধ্যমে নিউরোসায়েন্সে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে নোবেল অ্যাসেম্বলি জানিয়েছে।
তারা আরও বলেছে, মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ও সার্কিটের কার্যক্রম আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার এই পদ্ধতি মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তা আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আচরণ ও রোগের দিকে নিয়ে যাওয়া বিভিন্ন স্নায়ুপথের রহস্য উন্মোচনের পথও খুলেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নোবেল সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার)।
গত বছর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন ও বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। এরপর শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পর আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
১৩ দিন আগে
পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টায় শান্তিতে নোবেল পেল জাপানের নিহন হিদানকিও
চলতি বছরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া জাপানিদের সংগঠন নিহন হিদানকিও।
পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছে তারা।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) অসলোতে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে নিহন হিদানকিওর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
এই দলটি ‘অসাধারণ প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, নিহন হিদানকিওর প্রচারণা ‘পারমাণবিক ট্যাবু’ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক অবদান রেখেছে।
আরও পড়ুন: মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ২ মার্কিন বিজ্ঞানী
নিহন হিদানকিও সংগঠনটি হিবাকুশা নামেও পরিচিত। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব অর্জনের প্রচেষ্টায় ‘পারমাণবিক অস্ত্র আর কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়’- এই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে সংগঠনটি পাচ্ছে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর অর্থমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়াও একটি মেডেল, সনদপত্রও দেওয়া হবে।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন ইরানে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কারাবন্দি মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদী।
চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২৮৬ প্রার্থীর নাম নিবন্ধিত হয়েছিল যার মধ্যে ১৯৭ জন ব্যক্তি ও ৮৯টি সংস্থা।
ডিসেম্বরের ১০ তারিখ আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুদিবসে বিজয়ীদের হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টন ও জন হপফিল্ড
৭৩৭ দিন আগে
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টন ও জন হপফিল্ড
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানব জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সীমানাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন ড. জিওফ্রে হিন্টন ও ড. জন হপফিল্ড।
মেশিন লার্নিংয়ের বিকাশে তাদের অবদানের জন্য এই সম্মাননা।
পদার্থবিজ্ঞান এবং কম্পিউটেশনাল স্নায়ুবিজ্ঞানের সুপরিচিত নাম এআইয়ের গডফাদারখ্যাত ড. হিন্টন এবং ড. হপফিল্ড মানব মস্তিষ্ক দ্বারা অনুপ্রাণিত জটিল গণনামূলক সিস্টেম কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করেন।
এই পুরস্কারপ্রাপ্তি পদার্থবিজ্ঞানে এআইয়ের প্রভাবকে তুলে ধরে।
কানাডা ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক ড. জিওফ্রে হিন্টন বর্তমানে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।
তিনি ডিপ লার্নিং ও ব্যাকপ্রোপাগেশনের ক্ষেত্রে নিজের উদ্ভাবনী কাজের জন্য বিখ্যাত। এটি কম্পিউটারের একটি লার্নিং মেকানিজম যা কম্পিউটারগুলোকে নিজস্ব উন্নয়নে সাহায্য করে।
১৯৮০ এর দশকে তার যুগান্তকারী গবেষণা কেবল এআইয়ের গতিপথই পরিবর্তন করেনি বরং বিশ্বজুড়ে অগণিত গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবেও কাজ করেছিল।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হপফিল্ড মানব মনের সবচেয়ে জটিল ধাঁধা উন্মোচন করতে পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছেন।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে ড. হিন্টন ও ড. হপফিল্ডের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরস্কার অর্থাৎ এক কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (৯ লাখ পাউন্ড) পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
৭৩৯ দিন আগে
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন ক্লডিয়া গোল্ডিন
শ্রমবাজারে লিঙ্গ ব্যবধানসংক্রান্ত গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লডিয়া গোল্ডিন (৭৭)।
সোমবার (৯ অক্টোবর) স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের সেক্রেটারি জেনারেল হ্যান্স এলেগ্রেন এই পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ক্লডিয়া গোল্ডিনের নাম ঘোষণা করেন।
গোল্ডিন এই পুরস্কার জয়ী তৃতীয় নারী।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জ্যাকব সভেনসন বলেছেন, ‘শ্রমবাজারে নারীর ভূমিকা বোঝা সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ক্লডিয়া গোল্ডিনের যুগান্তকারী গবেষণার জন্য ধন্যবাদ, আমরা এখন অন্তর্নিহিত কারণগুলো এবং ভবিষ্যতে কোন বাধাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন হতে পারে সে সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানি।’
পুরস্কার কমিটির সদস্য রান্ডি হজালমারসন বলেছেন, গোল্ডিন সমাধানের প্রস্তাব দেয়নি, তবে তার গবেষণা শ্রমবাজারে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য সম্পর্কে বুঝতে নীতি নির্ধারকদের সাহায্য করবে।’
হজালমারসন বলেন, ‘তিনি বৈষম্যের উৎস, সময়ের সঙ্গে এটি কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং কীভাবে এটি বিভিন্ন পর্যায়ে বিকশিত ও পরিবর্তিত হয় তা ব্যাখ্যা করেন।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং এটি একটি জটিল নীতিগত প্রশ্ন, কারণ আপনারা যদি অন্তর্নিহিত কারণটি না জানেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট নীতি (সমাধান) কাজে আসবে না।’
আরও পড়ুন: শান্তিতে নোবেল পেলেন ইরানের সমাজকর্মী নার্গেস মোহাম্মদি
হজালমারসন আরও বলেন, ‘ফলে সমস্যাটি বোঝার ও সঠিকভাবে ব্যাখা করার মাধ্যমে আমরা আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।’
তিনি বলেন, গোল্ডিনের আবিষ্কারগুলোর ‘বিশাল সামাজিক প্রভাব রয়েছে।’
এলেগ্রেন জানান, পুরস্কারপ্রাপ্তির পর গোল্ডিন ‘বিস্মিত ও খুব, খুব আনন্দিত’।
গত সপ্তাহে চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রবর্তন করে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অব সুইডেন পুরস্কার হিসেবে পরিচিত।
আগামী ডিসেম্বরে অসলো ও স্টকহোমে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক নোবেল বিজয়ী ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার) নগদ পুরস্কার, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণপদক ও সার্টিফিকেট পাবেন।
আরও পড়ুন: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন নরওয়ের লেখক জন ফসে
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতলেন ৩ বিজ্ঞানী
১১০৫ দিন আগে
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন নরওয়ের লেখক জন ফসে
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন নরওয়ের লেখক জন ফসে। বৃহস্পতিবার স্টকহোমে পুরস্কার ঘোষণা করেন সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ম্যাটস মালম।
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন ফরাসি লেখক অ্যানি এরনো। উত্তর-পশ্চিম ফ্রান্সের নরম্যান্ডির ছোট-শহরের পটভূমিতে লেখা ‘দি কারেজ অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অ্যাকুইটি’ বইয়ের জন্য সুইডিশ একাডেমি তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছিল।
১১৯ জন নোবেল সাহিত্য বিজয়ীর মধ্যে এরনো ছিলেন মাত্র ১৭তম নারী। সাহিত্য পুরস্কারটি দীর্ঘকাল ধরে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে যে এটি ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকার লেখকদের পাশাপাশি খুব বেশি পুরুষ-আধিপত্যের দিকেও মনোযোগী।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনের নোবেল বিজয়ী মারিয়া রেসা কর ফাঁকির মামলায় খালাস
২০১৮ সালে সুইডিশ একাডেমিতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পুরস্কারটি স্থগিত করা হয়। একাডেমিটি নিজেকে পুনর্গঠন করেছিল তবে ২০১৯ সালে সার্বিয়ান যুদ্ধাপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থী অস্ট্রিয়ার পিটার হ্যান্ডকেকে পুরষ্কার দেওয়ার জন্য আরও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল।
বুধবার রসায়নে পুরস্কার পেয়েছেন এমআইটির মাউঙ্গি বাওয়েন্দি, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লুই ব্রুস এবং ন্যানোক্রিস্টালস টেকনোলজি ইনকর্পোরেটেডের অ্যালেক্সি ইকিমোভ। কোয়ান্টাম ডটস নামক ক্ষুদ্র কণা নিয়ে কাজের জন্য তাদের সম্মানিত করা হয়। এটি ক্ষুদ্র কণা, যার মধ্যে দিয়ে খুব উজ্জ্বল রঙিন আলো প্রকাশ করতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনে যার অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স এবং মেডিকেল ইমেজিং।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান কাতালিন কারিকো এবং আমেরিকান ড্র ওয়াইজম্যান কোভিড-১৯ প্রতিরোধী এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরির জন্য সোমবার মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: চিকিৎসায় নোবেল জিতেছেন ২ বিজ্ঞানী
স্পিনিং ইলেকট্রনের অতি দ্রুত গতির দুনিয়ায় প্রথম বিভক্ত-দ্বিতীয় ঝলক তৈরি করার জন্য মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি-সুইডিশ পদার্থবিদ অ্যান এল 'হুইলিয়ার, ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়েরে অ্যাগোস্টিনি এবং হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফেরেঙ্ক ক্রাউজ।
শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় এবং সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল মেমোরিয়াল পুরস্কার ঘোষণার কার্যক্রম এ বছরের জন্য শেষ হয়।
নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া একটি উইল থেকে নোবেল পুরস্কার হিসেবে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার) নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে। বিজয়ীরা ডিসেম্বরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে একটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণপদক এবং সনদপ্রাপ্তও হবেন।
আরও পড়ুন: পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জিতলেন ৩ বিজ্ঞানী
১১০৯ দিন আগে
‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত’
রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।
ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের উদ্যোক্তা অর্থনীতি প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘রোহিঙ্গাস: ভিকটিমস অব জেনোসাইড অ্যান্ড লুকিং ফর অ্যানসার্স’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরালো ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান বক্তারা।
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাবেক প্রধান মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট কাটিয়ে উঠতে মিয়ানমারের ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। বিশ্ব শান্তির কথা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পুনর্বাসিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন: বিনিময়ের জন্য জনগণের কাজ করে না আ.লীগ: প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে শেখ হাসিনার দেয়া পাঁচ দফা প্রস্তাবের গুরুত্বও তুলে ধরেন ফয়েজ।
ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও উদ্যোক্তা অর্থনীতি কর্মসূচির সমন্বয়কারী মুহাম্মদ মাহবুব আলী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স-এ মাস্টার্স অব এন্টারপ্রেনারশিপ ইকোনমিক্স বা স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ইন অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ইকোনমিক্সে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: প্রতিটি বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল দরকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশকে ঋণ দিতে আইএমএফ’র কোনো শর্ত নেই: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
১৩৬৯ দিন আগে