জামায়াত
জ্বালানির দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হবে: জামায়াত
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দেশের মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে এবং মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ব্যয়, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়বে।
জামায়াত নেতা বলেন, ‘ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।’
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা।
‘আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না,’ বলেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা, ব্যয় কমানো, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে বলেও সতর্ক করেন জামায়াত নেতা।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
৩ দিন আগে
সংসদে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কষ্টের কথা তুলে ধরেও সংকট সমাধানে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি, সরকার তখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার বলেও কিছু করতে না পেরে আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় নেহাত কম নয়। কিন্তু মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ সেই জায়গায় যেতে পারেনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিরা শোষণ ও ব্যবসা করলেও স্বাধীনতার পর তাদের মালিকানাধীন সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় চলে আসে। আদমজী জুট মিলকে একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প প্রতিষ্ঠান বলা হতো। কিন্তু এখন আদমজীর নাম-নিশানা মুছে গেছে। স্বাধীনতার পর অনেক কিছু লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শিল্পপার্ক করা হলেও আদমজীর আগের গৌরব ফিরে আসেনি।
‘আমি এজন্য পাকিস্তানি বেনিয়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিচ্ছি না। আমি আমাদের মানসিকতা এবং বাস্তবতার উদাহরণ দিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশে কিছু শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা যথেষ্ট নয়। শিল্পের মূল শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ। তেল, গ্যাস ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশ মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে খেলাপি হতে পারেন, শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। একই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।
‘আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি খাতের এই অবস্থা হলে বাকিগুলো এখান থেকেই বুঝা যায়,’ বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তারা সরকারের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি করবেন। আমরা দেশকে ভালোবাসি, এজন্য এই অফার দিয়েছি।’
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল কখনো সরকারি দলকে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়নি।
শফিকুর রহমানের দাবি, এর আগে তেলের সংকট দেখা দিলে তিনি পাম্পে পাম্পে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। বিদ্যুৎ সংকটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংসদের ভেতরে যখন আমরা দেখলাম কিছু করতে পারছি না, তখন এই দাবির সঙ্গে আরও পাঁচটি দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এখন লং মার্চ করছি।’
লং মার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, তেল সংকটের মধ্যে এত গাড়ি নিয়ে লং মার্চ করার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কিন্তু তারা লং মার্চ না করলেও এসব গাড়ি বসে থাকত না, চলাচল করত। বরং লং মার্চের মাধ্যমে তারা জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করছেন।
‘এভাবেই একদিন জনগণের দাবি পূরণ হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,’ বলেন তিনি।
‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে’
চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সেই সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জামায়াত। জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’র পক্ষে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেওয়া ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমাদের কারও নেই। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন। আমরা সেই দাবিগুলো নিয়েই আন্দোলন করছি।’
১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, সেই নির্বাচনের রায় অমান্য করার কারণেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সংসদ অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করাই বিরোধী দলের কাজ
বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ হলো জনগণের অধিকারের পাহারাদারি, চৌকিদারি করা, ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করা। বিরোধী দলের হাতে কখনো স্বৈরশাসন কায়েম হয় না।’
তিনি বলেন, তারা সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরশাসকের কবলে ছিলেন। এ সময়ে তাদের অনেক নেতাকে হারাতে হয়েছে। অনেকে গুম হয়ে এখনো ফিরে আসেননি। স্বজনরা জানেন না তাদের প্রিয়জনরা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।
সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবসময় আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা দু-একজন করেন। আমাদের বক্তব্য কাঁটছাঁট করে প্রচার করা হয়। তারপরেও আমরা মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। কখনো মিডিয়াকে আঘাত করে কথা বলি না।’
তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পাওয়ারফুল পিলার। এটা সততার উপরে থাকলে রাষ্ট্রের অবশিষ্ট তিনটি স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য।’
একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেখানেই অসংগতি দেখব সেখানেই কথা বলব। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে, এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমি চাই।’
মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে শফিকুর রহমান হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউজে রাতযাপন করেন তিনি। তারপর আজ শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং শহিদ আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। পরে স্থানীয় মাদরাসায় শহিদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আমিরের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মাদরাসা মাঠে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশ ভালো নেই। বিদ্যুৎ এবং সার সংকট চরমে। দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি, সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।’
এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: প্রতিমন্ত্রী নূর
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চাইতেও বড় ফ্যাসিস্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরাতন ভবনের কেবিনে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবির ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক নূর বলেন, জামায়াতে ইসলাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে। জামায়াতের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় হয়েছে। কুষ্টিয়ার এমপি জামায়াত নেতা আমির হামজা ও গাজী নজরুল তারই বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামের সরকারে যাওয়ার খায়েশ হয়েছে এবং এই সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই তারা সরকারকে নিয়ে বিরক্তিকর বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, উন্মাদ এমপি আমির হামজা বিভিন্ন সময় আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও ফারজানা পুতুলসহ অন্যান্য নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। এই উন্মাদ আমির হামজা আমাদের প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমানকে (কোকো) নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমির হামজার এসব নোংরা ভণ্ডামিপূর্ণ কথাবার্তা জামায়াত সাপোর্ট করছে। এছাড়াও সাতক্ষীরার এমপি নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের পরও জামায়াত যদি নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে দাবি করে, তাহলে সেটা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমি তাদের বলব, জামায়াতে ইসলামী থেকে ইসলামী নাম বাদ দিতে। কারণ তারা ইসলামী নামটি ব্যবহার করে ইসলামের লেবাস ধরে ইসলামেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।
৩৫ দিন আগে
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে খেলাফত মজলিস। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় দলের বা নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দিয়েছিল। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে দলটির নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির পর তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলের কয়েকটি কর্মসূচিতে তাদের সীমিত উপস্থিতি থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে তারা জোটের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে না। বর্তমানে আগের সমঝোতা কার্যকর নেই এবং সেটি আর অব্যাহত রাখারও ইচ্ছা নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে।
সম্প্রতি কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে খেলাফত আন্দোলন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এবার খেলাফত মজলিসও একই সিদ্ধান্ত নিল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনও জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে রয়েছে।
৬১ দিন আগে
জামায়াতের চিঠির ভিত্তিতে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি রহমানেল
জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে দলটির চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে সংসদ জানতে চাইলে শুনানির পর বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর থেকে তার সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি ইসিকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিরোধী দল।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্যকে কেবল তার নিজ দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। বিষয়টিতে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবে। এরপর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।’
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে–এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সেখানে নেই।
অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। আইন অনুযায়ী বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর কথা। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।
৬৩ দিন আগে
এমপি নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমানেরর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে তার নির্বাচনি এলাকা সাতক্ষীরা-৪, অর্থাৎ শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
৬৪ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিজেকে ফকির (কবিরাজ) পরিচয় দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাবিজ-কবচ দেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং নিয়মিত ফোনে কথা হতো। ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের মেয়ের পড়াশোনায় উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চেয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে মাহাবুবের উত্তর চৈতার বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে মাহাবুব কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে গৃহবধূ চলে যেতে চাইলে মাহাবুব তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গৃহবধূর হিজাব ও বোরকা খুলে ফেলা হয় এবং তাকে খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৬৮ দিন আগে
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি পদ থেকে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের নতুন সেক্রেটারি হয়েছেন শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষ সদস্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ (রুকন) সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ কারণে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব এনামুল হককে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ বিষয়ে অব্যাহতি পাওয়া সুজাউদ্দিন জোয়ার্দর জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা রোকন বা কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় কমিটি সারা দেশের রোকনদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতে তার মনে কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট নেই।
তিনি আরও জানান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি পদ লাভের আগেই তিনি বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তবে গঠনতন্ত্রের এই ধারাটি তখন শিথিল ছিল বিধায় সে সময় তার সেক্রেটারি পদ পেতে বাধা হয়নি। চাকরি ছাড়লে পুনরায় স্বপদে বহাল রাখা হবে।
সদ্য দায়িত্ব পাওয়া জেলার সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে, মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সারা দেশে এমন সাত জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হককে।
৭২ দিন আগে
জাতীয় বেইমান হবেন না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব: শফিকুর রহমান
সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বেইমান হবেন না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা—আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি; লাড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে (সরকারকে) বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।
তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো—একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা রক্ষা করেন নাই।
শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সেই ছবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা—তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না, তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৭৫ দিন আগে
‘সবকিছু দলের সঙ্গে একীভূত করেন কেন’, আদ্-দ্বীন প্রসঙ্গে জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীর সমালোচনার কড়া জবাব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয়টা শিশু যখন হাত-পা বাইরে বের করে বাঁচার জন্য কাঁদছিল, সেই হাইপারক্যাপনিয়ায় কর্তৃপক্ষ এসি বন্ধ করে দিয়েছে; ঘরে জানালা নেই, কোনো অক্সিজেন নেই। ১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদছেন, ছোটাছুটি করছেন; একজন চিকিৎসকও আসেননি। সেই বাচ্চাগুলো ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালে ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত; ওগুলো ছিল দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ সেখানে যাননি। আজকে সংসদে কথা বলেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু তিনি নিজে পরের দিনই সেখানে গিয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তার কাছে অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজকে অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করান। সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবশ্যই আমার দেশের দিকে দেখব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আমি অবশ্যই আমার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ভালো দেখব। বাচ্চাগুলো মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়, আমি ডাক্তারের কথা শুনেছি, আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।’
হাসপাতালের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ছয়তলার মধ্যে একটা বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা অভিভাবক বাঁচতে পারবেন না। মালিকের অবহেলার কারণে, তার একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকার বসে থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে দেখতে হবে।’
৮৮ দিন আগে