জামায়াত
পাবনায় ৫ আসনের তিনটিতে জামায়াত, দুটিতে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনায় ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে। পাবনা-১, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত এবং পাবনা-২ ও পাবনা-৫ আসনে জিতেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনা জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা বেসরকারিভাবে ৫টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৪৫ ভোট। নাজিবুর রহমান মোমেন ২৫ হাজার ৭২৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
পাবনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব ২ লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ভোটে পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হেসাব উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ২৪২ ভোট। ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৪ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম রেজা হাবিব।
পাবনা-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ আলী আছগর। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। মুহাম্মাদ আলী আছগর ৩ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন ।
পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯২ ভোট। ৩ হাজার ৬৮৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আবু তালেব মন্ডল ।
পাবনা-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ১৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৬ ভোট। ১৭ হাজার ৯৮৩ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন শিমুল বিশ্বাস।
১ দিন আগে
ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপির ৩, জামায়াতের ১ প্রার্থী জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে তিনটিতে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।
চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীর বিজয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের কোনো প্রার্থী বিজয় অর্জন করলেন বলে জানান স্থানীয়রা। বরাবরই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলা হয়। তবে আইনানুগ কারণে দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
মো. কামরুল হাসান মোল্যার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে ফরিদপুর-১ আসনে।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী। এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শামা ওবায়েদ ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। । মোট ভোটের ৬৬ শতাংশ প্রয়োগ হয় এ আসনে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। নায়াব ইউসুফ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়ে এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৫৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ।
ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। এখানে ৮ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ।
ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্য্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তায় ৭১৬ জন সেনা সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
১ দিন আগে
ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির ৮টি, জামায়াতের ২টি এবং একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর
ময়মনিসংহের ১৩টি উপজেলায় ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। আর ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহের আসনগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বহিষ্কৃত) সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)
এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৪ ভোট।
ময়মনসিংহ -৩ (গৌরীপুর)
এই আসনে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইন ৭৪ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র বিএনপি বিদ্রোহী) ‘ঘোড়া’ প্রতীকে আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫১৩ ভোট।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষের’ প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে। আর ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কামরুল আহসান এমরুল।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। ১ লাখ ৮৭৬ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)
এখানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন বিজয়ী হওয়ার পথে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) আখতার সুলতানার ফুটবল প্রতীকে পড়েছে ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)
এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ৯৮ হাজার ৫৭৯ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের আসাদুজ্জামান সোহেল ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)
এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন এডিপির প্রার্থী (১১ দলীয় ঐক্য) অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (১১দলীয় ঐক্য) বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) এবি সিদ্দিকুর রহমানের ‘হাঁস’ পেয়েছে ৬৬ হাজার ৪২৪ ভোট।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই আসনে ভোটের দৌঁড়ে হেরে গেছে মোর্শেদ আলমের ‘হরিণ’। স্বতন্ত্র এ প্রার্থী পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।
১ দিন আগে
নড়াইল-১ আসনে বিএনপি, ২ আসনে জামায়াত বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ) এবং নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন। নড়াইলের দুটি আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২ টায় আসন দু'টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
ঘোষিত ফলাফলে নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১১২টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। এ আসনে ১১২টি কেন্দ্রে মোট ভোট দেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার।
নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের মো. মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। আসনটির ১৪৮টি কেন্দ্রে মোট ভোট দেন ২ লাখ ৫২হাজার ৭৮১ জন ভোটার।
১ দিন আগে
সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আসাদুজ্জামান
রাজনীতিতে যেখানে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মাঝে দেখা যায় দূরত্ব, বিরূপতা ও প্রতিহিংসার ছায়া, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র দেখলেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের ভোটাররা। জয়-পরাজয়ের বিভাজনরেখা সরিয়ে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুসারে, ঝিনাইদহ-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আসাদ।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোট গণনা শেষে রাতেই জানা যায় আসাদুজ্জামানের জয়ের খবর। এরপর আজ (শুক্রবার) সকাল হতেই ফুলের মালা হাতে তিনি ছোটেন মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।
কুশল বিনিময়ের পর আসাদুজ্জামান নিজের বিজয়মাল্য পরিয়ে দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায়। মুহূর্তটি উপস্থিত দুপক্ষের নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের কাছে প্রতীকী বলে মনে হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় সম্পর্কের অটুট বন্ধন।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বহুবার দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বিষয়টি শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তার সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাব।’
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতির চর্চাকে উৎসাহিত করবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের জন্যে তাৎপর্যপূর্ণ।
ভোটের ফলাফল সংখ্যায় মাপা যায়, কিন্তু আন্তরিকতার এই দৃশ্য মনে রাখবে ঝিনাইদহ-১ আসনের আপামর মানুষ। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের স্থান রয়েছে, নাদপাড়া গ্রামের একটি উঠানে তারই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল একটি ফুলের মালা।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামের ১৬ আসনের ১৪টিতে বিএনপি ও ২টিতে জামায়াতের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনেই (১-১৪ পর্যন্ত) বিএনপি এবং ২টি আসনে (১৫ ও ১৬) জিতেছে জামায়াতের প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ভোটগ্রহণের পর রাতে গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তাদের বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘোষিত ফলাফলে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির মো. আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে বিএনপির সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে না শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রাশাসন ও বিভাগীয় কমিশনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম ১৬ আসনের আলাদাভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে।
উৎসবমুখর ভোট দানের জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে দুটি আসনে জামাত ইসলামের প্রার্থী এবং ১৪টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, সকাল থেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সন্তোষজনক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাকে অভিভূত করেছে বলে জানান তিনি। অনেক ভোটার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যাদের কেন্দ্র করে আমাদের সব আয়োজন, সেই সম্মানিত ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি বলেন, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের বিজয় মিছিলে অসুস্থ হয়ে কর্মীর মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলের বিজয় মিছিলে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফজলুর রহমান চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নুরনগর কলোনীপাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের এলাকায় ফার্মপাড়া ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে অংশ নিয়ে হঠাৎ করে অসু্স্থ হয়ে পড়েন ফজলুর রহমান। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন আক্তার জেসি জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।
ফজলুর রহমানের ভাই নজির হোসেন বলেন, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। বিজয় মিছিলে গিয়ে গুরুতর আসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, তিনি জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নেতারা।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়ার চারটি আসনের তিনটিতে জামায়াত, একটিতে এগিয়ে বিএনপি
কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।
এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ১৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯১টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ২২ হাজার ৬০৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. বেলাল উদ্দিন ৬১ হাজার ২৮৮ ভোট পেয়েছেন।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ১৭০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর ৮৬ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৪৫ ভোট।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, আলোচিত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুফতি আমির হামজা এগিয়ে রয়েছেন। এ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬১টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আমির হামজা ৭৯ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন সরকার ৫৩ হাজার ৮৭১ ভোট পেয়েছেন।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মোট ১৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসেন ৩১ হাজার ৫৯২ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৩২ ভোট।
২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ভোটকেন্দ্রের সামনে টাকাসহ জামায়াত সভাপতি আটক
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের সভাপতি মো. শরীফকে ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে নগদ ৭৯ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে তাকে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শহরের হাসপাতাল রোডের রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক মো. শরীফ পৌর এলাকার গুলশান পাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন মো. শরীফ (৫০)। তিনি কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং নগদ টাকা দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তার কাছে থাকা নগদ ৭৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী পারভেজ খান বলেন, ‘জামায়াত নেতা শরীফ ভোটারদের নগদ টাকা বিতরণ করছিলেন। আমরা নিজের চোখে বিষয়টি দেখেছি।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি মো. শরীফ নামে একজনকে নগদ ৭৯ হাজার টাকাসহ কেন্দ্রের সামনে থেকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সকাল ১০টার দিকে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফকে আটক করেন। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। আটক হওয়া ব্যক্তি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা হাজতে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। তবে এটি আমার কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে।’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
২ দিন আগে
সিলেটে কেন্দ্রের ভেতরে জামায়াত-বিএনপির হাতাহাতি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর
সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জ উপজেলায় এক প্রার্থীর এজেন্টের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মহিশাষী কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাতের বেলা কারও কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘এক প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়ার জন্য ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক পরিচয়ে ঢোকার চেষ্টাকালে তিন তরুণকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী।
এছাড়া গভীর রাতে নগরীর চৌখিদিখি পেট্রোল পাম্প থেকে কিছু বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তবে এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, ‘দুয়েকটি কেন্দ্রে রাতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বড় কোনো ঘটনা নয়। দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনের আছে।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেটের সব আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনি কাজের সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ভোটে জিততে পারবে না জেনেই জামায়াত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সারা রাত এসব কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জামায়াতের দলীয় নেতা-কর্মীরা কোনো কেন্দ্রে যায়নি জানিয়ে সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ‘বরং সিলেট নগরের কয়েকটি স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। ভোট চলাকালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।’
২ দিন আগে