জামায়াত
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে খেলাফত মজলিস। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় দলের বা নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দিয়েছিল। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে দলটির নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির পর তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলের কয়েকটি কর্মসূচিতে তাদের সীমিত উপস্থিতি থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে তারা জোটের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে না। বর্তমানে আগের সমঝোতা কার্যকর নেই এবং সেটি আর অব্যাহত রাখারও ইচ্ছা নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে।
সম্প্রতি কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে খেলাফত আন্দোলন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এবার খেলাফত মজলিসও একই সিদ্ধান্ত নিল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনও জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে রয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
জামায়াতের চিঠির ভিত্তিতে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি রহমানেল
জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে দলটির চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে সংসদ জানতে চাইলে শুনানির পর বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর থেকে তার সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি ইসিকে জানাবে বলে জানিয়েছে বিরোধী দল।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্যকে কেবল তার নিজ দল বহিষ্কার করলেই আইন অনুযায়ী সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। বিষয়টিতে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি পাঠান, তাহলে কমিশন উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করবে। এরপর সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।’
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে–এমন কোনো স্পষ্ট বিধান সেখানে নেই।
অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। আইন অনুযায়ী বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর কথা। এরপর নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।
২ দিন আগে
এমপি নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমানেরর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
এদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে তার নির্বাচনি এলাকা সাতক্ষীরা-৪, অর্থাৎ শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
৩ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিজেকে ফকির (কবিরাজ) পরিচয় দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাবিজ-কবচ দেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং নিয়মিত ফোনে কথা হতো। ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের মেয়ের পড়াশোনায় উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চেয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে মাহাবুবের উত্তর চৈতার বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে মাহাবুব কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে গৃহবধূ চলে যেতে চাইলে মাহাবুব তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গৃহবধূর হিজাব ও বোরকা খুলে ফেলা হয় এবং তাকে খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৭ দিন আগে
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি পদ থেকে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের নতুন সেক্রেটারি হয়েছেন শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষ সদস্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ (রুকন) সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ কারণে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব এনামুল হককে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ বিষয়ে অব্যাহতি পাওয়া সুজাউদ্দিন জোয়ার্দর জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা রোকন বা কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় কমিটি সারা দেশের রোকনদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতে তার মনে কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট নেই।
তিনি আরও জানান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি পদ লাভের আগেই তিনি বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তবে গঠনতন্ত্রের এই ধারাটি তখন শিথিল ছিল বিধায় সে সময় তার সেক্রেটারি পদ পেতে বাধা হয়নি। চাকরি ছাড়লে পুনরায় স্বপদে বহাল রাখা হবে।
সদ্য দায়িত্ব পাওয়া জেলার সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে, মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সারা দেশে এমন সাত জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হককে।
১১ দিন আগে
জাতীয় বেইমান হবেন না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব: শফিকুর রহমান
সরকারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় বেইমান হবেন না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, অন্যথায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা—আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি; লাড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে (সরকারকে) বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।
তিনি বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো—একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা রক্ষা করেন নাই।
শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদের অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবারই সেই ছবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা—তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না, তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
১৪ দিন আগে
‘সবকিছু দলের সঙ্গে একীভূত করেন কেন’, আদ্-দ্বীন প্রসঙ্গে জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীর সমালোচনার কড়া জবাব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয়টা শিশু যখন হাত-পা বাইরে বের করে বাঁচার জন্য কাঁদছিল, সেই হাইপারক্যাপনিয়ায় কর্তৃপক্ষ এসি বন্ধ করে দিয়েছে; ঘরে জানালা নেই, কোনো অক্সিজেন নেই। ১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদছেন, ছোটাছুটি করছেন; একজন চিকিৎসকও আসেননি। সেই বাচ্চাগুলো ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালে ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত; ওগুলো ছিল দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ সেখানে যাননি। আজকে সংসদে কথা বলেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু তিনি নিজে পরের দিনই সেখানে গিয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তার কাছে অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজকে অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করান। সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবশ্যই আমার দেশের দিকে দেখব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আমি অবশ্যই আমার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ভালো দেখব। বাচ্চাগুলো মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়, আমি ডাক্তারের কথা শুনেছি, আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।’
হাসপাতালের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ছয়তলার মধ্যে একটা বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা অভিভাবক বাঁচতে পারবেন না। মালিকের অবহেলার কারণে, তার একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকার বসে থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে দেখতে হবে।’
২৭ দিন আগে
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না হলে ১০৮টি আসন পেত জামায়াত: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, বিএনপি ও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর কারণে জামায়াত ভোটে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এ ধরনের প্রভাব না থাকলে দলটি ১০৮টি আসন পেত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের’ দাবিতে আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, ময়মনসিংহ বিভাগ।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়েছে। তা না হলে আমরা ১০৮টি আসন নিয়ে সংসদে যেতাম। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, রাজনৈতিক সংঘাত, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি।
তিনি বলেন, আজ গণভোটের রায় কার্যকর না করলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে। যদি বিএনপি সেই বিপদজনক পথে হাঁটে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে, তাহলে যে পথে শেখ হাসিনা গেছেন, সেই পথেই তারেক রহমান যাবেন।
এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমরা মানুষের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, কৃষক কার্ড আর ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে যে পথে শেখ হাসিনা গেছেন, সেই পথেই তারেক রহমান যাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা তার শান্তিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার যদি তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, আর যদি বিএনপি ও তারেক রহমান পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার মতো জনগণের ভোটাধিকার হরণের পথে হাঁটে, তাহলে তাদেরও ভিন্ন পরিণতি হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গণহত্যার বিষয়ে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি চীন ও মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশের জন্য কী নিয়ে এসেছেন, তা দেশের মানুষকে জানাতে পারছেন না।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
২৮ দিন আগে
মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মী আটক
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদকসহ আটক হওয়া এক আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মী।
শনিবার (৯ মে) রাতে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির করতে গেলে পুলিশ সদরপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা ও জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে ৮টি ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে গিয়ে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়।
মাদকসহ রবিউল গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী মিরপুর থানায় উপস্থিত হন। তারা হলেন— সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
থানা পুলিশ জানায়, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মাদক ব্যবসায়ীকে মুক্ত করার দাবিতে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদবির করতে আসা ওই ৫ জনকেই আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, তারা হয় এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, অথবা তারা মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহ প্রদান করেন। এ কারণেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ১০ টা পর্যন্ত আটককৃত ৫ নেতাকর্মী ও মাদক কারবারি রবিউল মিরপুর থানা পুলিশি হেফাজতে ছিল।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
৭৬ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনারসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ১১ দলীয় জোট। ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জোটের শীর্ষ নেতারা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ৫ কোটি মানুষ বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে দলীয়করণ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এবং একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিল। আমরা এখন বেদনার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান সরকার তা থেকে ইউটার্ন করে নানান অজুহাত তুলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করে গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটের যে গণরায়, তা বাস্তবায়নই আমাদের আন্দোলনের প্রধানতম লক্ষ্য। কিন্তু, বিদ্যমান যে জনদুর্ভোগ, জ্বালানি সংকট চললেও জ্বালানিমন্ত্রী হাস্যকরভাবে বলছেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তেল পাচ্ছেন না। এমনকি সংসদ সদস্যরা তেল না পেয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সার সংকট জ্বালানি থেকেই তৈরি হচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে ফসল কাটা, মাড়াইয়ের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। আসন্ন বোরো মৌসুমেও জ্বালানির প্রয়োজন।
দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারা দেশে দেড় লক্ষাধিক হামের রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্যখাত একেবারে ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও হাসপাতালের চেহারা বিপরীত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, খুনখারাবি ও দখলদারি আবারও চলছে। একটি দলের নেতৃত্বে বিভিন্ন দখলবাজি শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাত ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কোনো নজির আছে কি যে একটি দল ক্ষমতায় এসে দেড় মাসে ৪০-৪২ হাজার কোটি টাকা শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ করেছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংকগুলো খালি করে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখা কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক এখন রাজপথে নামছেন, কথা বলছেন। প্রশাসনে সচিবালয় থেকে শুরু করে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধস্তন পর্যন্ত দলীয়করণ, পদত্যাগে বাধ্য করা, ওএসডি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সব সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। দৃশ্যত, শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতির আলোকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে ১১ দলের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে গণমিছিল করবে ১১ দলীয় জোট। এরপর ২৫ এপ্রিল রাজধানী বাদে অন্যসব মহানগরীতে গণমিছিল করবে তারা। তারপর ২ মে সব জেলা শহরে গণমিছিল।
এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে লিফলেট বিতরণ এবং সকল মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়াও পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সকল বিভাগে জনসভা করা হবে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১০০ দিন আগে