জামায়াত
নির্বাচনি জনসভা: আগামীকাল কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ উপলক্ষে নির্বাচনি সমাবেশ করতে আগামীকাল (সোমবার) কুষ্টিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত এ তথ্য জানায়।
জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর জানান, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ার শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে জামায়াতের নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশটি সকাল ৯টায় শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত আমির হেলিকপ্টারে চড়ে কুষ্টিয়ায় আসবেন। তিনি পুলিশ লাইনসের হেলিকপ্টার প্যাডে অবতরণ করে সেখান থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে যাবেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত হবেন। কর্মসূচি শেষে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
আব্দুল গফুর বলেন, সমাবেশ সফল করতে মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ ইতোমধ্যেই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আজকের মধ্যেই বাকি প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করা হবে। সমাবেশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশাল জনসমাগম ঘটবে। সমাবেশটি যেন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই দিনে ডা. শফিকুর রহমান কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা সফর করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দর, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
৫০ মিনিট আগে
কুষ্টিয়া জামায়াতের আমির হাশেমের জানাজা সম্পন্ন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা আমির অধ্যাপক আবুল হাশেমের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শহরের হাউজিং চাঁদাগাড়া ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় জমায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ছাড়াও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর উপজেলা ফুটবল মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে উপজেলার ওয়াপদা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) রাতে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগরে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার) শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় জেলা জামায়াত। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন আবুল হাশেম। একপযার্য়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তৎক্ষণাৎ তাকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল হাশেমের এমন মৃত্যুতে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও। আবুল হাশেম এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা ছিলেন।
৫ দিন আগে
নিরাপত্তা সংকটে আমির হামজার ওয়াজ মাহফিল স্থগিত
নিরাপত্তা সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সারা দেশে অনুষ্ঠিতব্য সকল ওয়াজ ও তাফসির মাহফিল স্থগিত ঘোষণা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আমির হামজা জানান, আজ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পূর্বনির্ধারিত তার সকল ওয়াজ ও তাফসির মাহফিলের সূচি স্থগিত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্তে আয়োজক কমিটির কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ সেইসঙ্গে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
সম্প্রতি মুফতি আমির হামজার পুরোনো একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তাকে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম নিয়ে বিকৃত মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি তার ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তার ব্যাখ্যা দেন। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় ঝাড়ু মিছিল হয়। এ ছাড়াও কুষ্টিয়া ও খুলনায় তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হয়েছে।
এদিকে, আমির হামজার দাবি, তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে গতকাল (সোমবার) আসরের নামাজের পর সদর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তৃতা চলাকালে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সারা দেশে অনুষ্ঠিতব্য সকল ওয়াজ ও তাফসির মাহফিল স্থগিত ঘোষণা করে আবারও নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়া মুফতি আমির হামজা।
৫ দিন আগে
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের মনোনয়নপত্র জমা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জামায়াত আমিরের পক্ষে তিন সদস্যের একটি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অবস্থিত ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলীর হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও এবার ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডা. শফিকুর রহমান।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
২৭ দিন আগে
জামায়াতের ৩ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিত
আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কৃষি ও কৃষি-প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আগামী ৩ জানুয়ারি দেশের ৯টি কৃষি ও কৃষি-প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত ৩ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হলো।’
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
২৭ দিন আগে
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দিল এনসিপি
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ৮ দলের ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার আবদুস সালাম হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এতদিন ধরে আটটি দল একসঙ্গে কাজ করে আসছিল। আজ আরও দুটি দল আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে, কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও এনসিপি।’
তিনি বলেন, একটু আগে আমাদের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক সমাপ্ত হয়েছে। তারা বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি। এনসিপির নাহিদ ইসলাম আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের অবহিত করেছেন। তারা আলাদা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত ও আমাদের ঐক্যের ভিত্তি আপনাদের জানিয়ে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের একটি মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা। সারা বাংলাদেশের ৩০০ আসনে আমরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে আসন বণ্টন নির্ধারণ করেছি। যেহেতু দুটি দল একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাই কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে।
তিনি জানান, আরও কয়েকটি দল এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে তাদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন। যেসব বিষয় সামান্য বাকি রয়েছে, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোও সুন্দরভাবে সমাধান করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
উল্লেখ্য, জামায়াতসহ আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় ছিল। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া জোটের অন্যান্য দলগুলো হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
২৭ দিন আগে
গণঅভ্যুত্থান নস্যাতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অবহিত করে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির নেতারা।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক (প্রতীকী)। এর মাধ্যমে তারা (ষড়যন্ত্রকারীরা) তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্যে, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।’
বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ওসমান হাদির ওপর ন্যক্কারজনক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে যাতে ফাটল না ধরে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও এনসিপি নেতারা। এ ব্যাপারে দলগুলো সুদৃঢ় অবস্থান নেবে বলে জানান তারা। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে কঠোরভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন তারা।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পরস্পরকে দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। সেই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
৪৩ দিন আগে
লালমনিরহাট জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত এসব নেতাকর্মী দলের দুঃসময়ে পাশে থাকলেও ৫ আগস্টের পর অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনে দলত্যাগ করেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ছাত্রশিবির কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার নামে ৪টি মামলা হয়। গত ৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তন হলে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী আর আমাকে চেনে না। দেখা হলেও কথা বলে না।
তিনি বলেন, আমার সকল মামলার জামিন করিয়েছেন লালমনিরহাট-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান। তাই আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি।
আরেক জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার ছেলের নামে ১৬টি মামলা হয়। কিন্তু সরকার পতনের পর ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করেনি জামায়াতের নেতারা। জামায়াতের রাজনীতি করে আমি এখন সর্বশান্ত, তবুও এই সুদিনে কোনো মূল্যায়ন পাইনি। তাই বিএনপিতে যোগদান করেছি।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, আমরা দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আদর্শে বিশ্বাসী। আজকে যারা জামায়াত থেকে বিএনপির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের দলে যোগদান করেছে, তাদের স্বাগত জানাই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব আফজাল হোসেন মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলাম ও সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ।
৫৬ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় ৪ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন থেকে একযোগে চার শতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বেলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন।
ফুলের মালা পরিয়ে নবাগতদের দলে বরণ করে নেন জামায়াত নেতারা। এ সময় বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সলকসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিনের হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদ, সহকারী সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাসুদ অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আমান উদ্দিন।
১০১ দিন আগে
দেশের আইনি কাঠামোয় পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের সুযোগ নেই: বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, দেশের আইনি কাঠামোয় পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একক অঞ্চলভিত্তিক নির্বাচন করবে। জামায়াত তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রচারের জন্য পিআর ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের মহেশপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কাজল বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব অংশীজন রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে জনগণের ভোটাধিকার ছিল না। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছিল। আর আওয়ামী লীগের তৈরি সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ব্যারিস্টার কাজল আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন, আমরা সকলে তার পক্ষেই কাজ করব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটি বাস্তবায়নে বিএনপি বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা হবে। তরুণ প্রজন্ম হবে বিএনপির আগামী সরকারের প্রধানতম শক্তি। তারুণ্যের শক্তিকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ।
১১৪ দিন আগে