সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আগমনে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো এখন উৎসবমুখর পরিবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে।
ছুটির সময় ভ্রমণপিপাসু মানুষের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও কক্সবাজারে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। ঈদের সাত দিনের ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে লাখো মানুষ এখানে বেড়াতে এসেছেন।
প্রতিদিন সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি ইনানী সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির এলাকাতেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবদুল মাবুদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। তাই ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। আরও কয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা আছে।
পর্যটকদের আগমনে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও চাঙাভাব ফিরেছে। বিশেষ করে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্মিজ মার্কেটের এক শুঁটকি বিক্রেতা জানান, রমজানে ব্যবসা কিছুটা স্থবির থাকলেও গত কয়েক দিনে পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে।
১২ দিন আগে
থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
যে কোনো মৌসুমেই শীত ও উষ্ণতার আরামপ্রদ মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সমুদ্র সৈকত। রৌদ্রস্নান বা রোদের আলোয় চকচকে পানিতে নৌকা নিয়ে উন্মত্ত জলরাশির বুকে ভেসে যাওয়া এক অনন্য জীবনের স্বাদ দেয়। এই দুঃসাহসিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাগর পাড়ের জনপদগুলোর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। বিশ্বজুড়ে এমন শত শত গন্তব্য থাকলেও সৌন্দর্য্য ও প্রাণবন্ততায় সেগুলোর সঙ্গে একদমই মেলানো যাবে না থাইল্যান্ডের ফুকেটকে। আন্দামান সাগরের বুকে টুকরো ভূ-খণ্ডগুলো যেন একেকটা চোখ ধাঁধানো বৈচিত্র্যের উপাখ্যান। চলুন, সৈকত পরিব্রাজকদের প্রিয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই পর্যটনকেন্দ্রটির ভ্রমণ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্যাবলি জেনে নেওয়া যাক।
ফুকেটের অবস্থান
আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ডের মূল ভূখণ্ডের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি প্রদেশ ফুকেট। প্রদেশের অন্তর্গত ৩২টি ছোট ছোট দ্বীপের মধ্যে প্রধান ও বৃহত্তম দ্বীপটির নাম ফুকেট। এর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ফুকেট শহরটি গোটা প্রদেশের রাজধানী।
ফুকেটের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো
পুরো দ্বীপাঞ্চলটিকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে এর ছোট-বড় সৈকতগুলো। শহরে অত্যাধুনিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে এলেও পর্যটকরা সৈকতে একবার ঢুঁ মেরে যেতে একদমই ভোলেন না। তাছাড়া এই বালিয়াড়ির স্বর্গরাজ্যগুলোর আশেপাশেই রয়েছে মনোমুগ্ধকর কিছু জায়গা। চলুন, সেগুলোর মধ্য থেকে সর্বাধিক আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ব্যাপারে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
ফি ফি আইল্যান্ড
মনোরম পরিবেশের এই দ্বীপটির দুটি ভাগে বিভক্ত: একটি ফিফি ডন ও আরেকটি ফিফি লে। নীলচে সবুজ পানির ওপর দিয়ে প্রতিদিনই এই দ্বীপে যাতায়াত করে ফুকেটের ক্রুজ। ক্রুজে চড়ার পাশাপাশি এখানে সুযোগ রয়েছে স্কুবা ডাইভিং, স্নোরকেলিং, সার্ফিং ও এনেমনে রীফসহ নানা ধরনের রোমাঞ্চকর রাইডের।
আরো পড়ুন: ভিয়েতনাম ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ফাং এনগা বে
৪২টি দ্বীপের এই অগভীর উপসাগরটি ফুকেটের সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর বনাঞ্চলের জলাভূমিতে রয়েছে নানা প্রজাতির ম্যানগ্রোভ, সমুদ্র ঘাসের বিছানা ও প্রবাল প্রাচীর। এগুলোর সঙ্গে চারপাশের গুহাগুলো যেন কতক রহস্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছে।
জেমস বন্ড আইল্যান্ড
ফাং এনগা বের প্রধান আকর্ষণ এই দ্বীপটি। আসল নাম খাও ফিং কান। ১৯৭৪ সালের বিখ্যাত জেমস বন্ড মুভি ‘দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান’-এর কিছু দৃশ্যের শুটিং এখানে হয়েছিল। সেই থেকে দ্বীপটি জেমস বন্ডের নামেই অধিক পরিচিতি লাভ করে। এখানে পর্যটকদের জন্য সাঁতার কাটা, সেইলিং ও কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফুকেট সৈকত
দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে বৃহত্তম দ্বীপ হওয়ায় ফুকেটের সৈকতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে অনেক বেশি। এখানে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ থাকে সান বাথ, সাঁতার, স্নোরকেলিং, জেট স্কাইং, প্যারাসেইলিং, বানানা বোট ও হবি ক্যাট সেইলিংয়ের দিকে।
বিগ বুদ্ধা
দ্বীপের দক্ষিণে গেলে চোখে পড়বে নক্কার্ড পাহাড়ের চূড়ায় সাদা মার্বেলে গড়া বিশাল বুদ্ধের মূর্তি। এর উচ্চতা ৪৫ মিটার ও প্রস্থ ২৫ দশমিক ৪৫ মিটার। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার পর উত্তরে দেখা যাবে ফাং এনগা থেকে পুরো চালং উপসাগর। দক্ষিণে দৃষ্টিপটে বিস্ময়ের খোরাক যোগাবে কাতা সমুদ্র সৈকত। নিচে যাওয়ার পথে প্যানোরামিক বারগুলো থেকে চোখে পড়বে বার ক্যারন সৈকতে পাখিদের ঝাঁক।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ফুকেট অ্যাকোয়ারিয়াম
সাঁতার জানা নেই অথচ পানির নিচের জগৎ দেখার অগাধ স্পৃহা। এমন পর্যটকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে এই ফুকেট অ্যাকোয়ারিয়াম। এখানে দর্শনার্থীরা বড় এক সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে একটু সামনে এগোতেই সম্মুখীন হন সামুদ্রিক প্রাণীদের।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ভিসার আবেদন পদ্ধতি ও খরচ
ফুকেট ভ্রমণে যেতে হলে প্রথমে থাই ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে হবে। এর জন্য একক এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করা যেতে পারে, যার মেয়াদ থাকবে ৩ মাস পর্যন্ত। ভ্রমণের জন্য সম্ভাব্য তারিখের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি। একক এন্ট্রি ক্যাটাগরির জন্য ভিসা আবেদন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ভিসা হাতে পেতে সময় লাগতে পারে সাধারণত ৭ কার্যদিবস।
আবেদন করার ফর্ম পাওয়া যাবে https://thaivisabd.com/forms/NewVisaApplicationForm.pdf-এই লিংকে।
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৫২২ দিন আগে
সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক ভ্রমণ খরচ
বঙ্গোপসাগরের ফেনিল প্রান্তরে ‘ব’ আকৃতির দ্বীপের প্রাণকেন্দ্রে এক টুকরো বাংলাদেশের নাম সুন্দরবন। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি সারা বিশ্বের কাছে এর প্রাকৃতিক নৈসর্গ ও অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য ব্যাপকভাবে সমাদৃত। যতই গভীরে যাওয়া যায়, বনটি তার রহস্য ঘেরা নান্দনিকতা ততই যেন মেলে ধরে। তেমনি এক অত্যাশ্চর্য এলাকা কটকা, যার আদিম প্রকৃতি ও রোমাঞ্চের অভূতপূর্ব সন্নিবেশ বিমোহিত করে পর্যটকদের। চলুন, সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত এলাকাটিতে ভ্রমণ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
সুন্দরবনের কটকা সৈকতের ভৌগলিক অবস্থান
বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা ইউনিয়নের একটি উপকূলবর্তী এলাকা কটকা। সুন্দরবনের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতটি সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি। মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগর ঘেষা কটকা অভয়ারণ্য সুন্দরবন ইকো-ট্যুরিজমের প্রাণকেন্দ্র।
কটকার ইতিহাস
বিগত দশকে সুন্দরবনের ভূতাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে একটি গবেষণা করে জার্মানির ব্রেম্যান বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণায় এই কটকা অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যায় বহু যুগ আগের লবণ তৈরির কয়েকটি চুল্লি ও পাত্র। এগুলোর মধ্যে একটির বয়স এক হাজার বছর, তিনটির ২৫০ থেকে ৩০০ বছর, এবং দুটির ৬০০ বছর।
আরও পড়ুন: ট্রেকিং, হাইকিং, ক্যাম্পিং ও ভ্রমণের সময় সাপের কামড় থেকে নিরাপদে থাকার উপায়
কটকায় আরও পাওয়া যায় টাইগার হিল নামের একটা ঢিবি। যেখানে ছিল পানি পরিশোধনের ছাঁকনি এবং বর্জিত পানি নিষ্কাশনের নালা। গবেষকদের মতে, এটি মূলত লবণ তৈরির উন্নত প্রযুক্তির নিদর্শন। ২৫০ থেকে এক হাজার বছর আগে এখান থেকে উৎপাদিত লবণ রপ্তানি করা হতো ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায়।
কটকার সমুদ্র সৈকত কটকাবাসীদের কাছে জামতলা সমুদ্র সৈকত নামেই অধিক পরিচিত।
ঢাকা থেকে সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত যাওয়ার উপায়
সুন্দরবনের গহীনে অবস্থিত হওয়ায় কটকা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য নৌপথ ব্যবহার করতে হয়। ঢাকা থেকে প্রথমে চলে যেতে হবে খুলনা বা বাগেরহাট জেলায়। খুলনা থেকে রুপসা অথবা বাগেরহাটের মোংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা থেকে সুন্দরবনগামী নৌযানগুলো কটকা নিয়ে যায়।
ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে খুলনা বা সরাসরি বাগেরহাটগামী বাস পাওয়া যায়। এগুলো সাড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বাসের কোম্পানি ও মানভেদে ভাড়া নিতে পারে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এসি কোচের টিকেটের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া সেমি চেয়ার কোচ ননএসি বাসগুলো ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে সরাসরি মোংলায় পৌঁছে দেয়। পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা থেকে বাসে করে খুলনা বা মোংলায় যেতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা।
আরও পড়ুন: বর্ষাকালে সুউচ্চ ঝর্ণা-পাহাড়ে হাইকিং ও ট্রেকিং: ঝুঁকির কারণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা
যারা ট্রেনে যেতে চান, তাদেরকে কমলাপুর থেকে খুলনাগামী ট্রেনে উঠতে হবে। সিটের ধরণভেদে ভাড়া পড়তে পারে ৫০৫ থেকে ২ হাজার ১৬৮ টাকা।
দ্রুত যাতায়াতের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট হচ্ছে আকাশপথ। এর জন্য প্রথমে বিমানে ঢাকা থেকে যশোর যেতে হবে। এখানে মানভেদে বিমান ভাড়া বাবদ খরচ হতে পারে ৪ হাজার ২১৮ থেকে ৪ হাজার ৯০৮ টাকা। অতঃপর এয়ারলাইন্সের বাসে যশোর থেকে খুলনা যাওয়া যাবে। তবে বিকল্প হিসেবে গাড়ি রিজার্ভ করে সরাসরি মোংলা পর্যন্ত যাওয়া যায়। আর ইন্টারসিটি বাসে গেলে যশোর থেকে প্রথমে খুলনা, তারপর বাস বদল করে আরেক বাসে খুলনা থেকে মোংলা যেতে হবে।
মোংলা বন্দর থেকে নেওয়া নৌযান কটকা খালের পশ্চিম পাড়ের জেটিতে নামিয়ে দেবে। জেটি থেকে উপরে উঠলেই দেখা যাবে বন কার্যালয়। সেখান থেকে খানিকটা পশ্চিম দিকে হেঁটে গেলেই পড়বে ইট বাঁধানো রাস্তা, যেটি সোজা গিয়ে শেষ হয়েছে সমুদ্রে।
আরও পড়ুন: মহেশখালী ভ্রমণ গাইড: বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপে যাওয়ার উপায়, আনুষঙ্গিক খরচ
সুন্দরবনের কটকা ভ্রমণে কি কি দেখবেন
পর্যটকদের জন্য কটকার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কটকা অভয়ারণ্য। কেননা এখান থেকে নিরাপদেই দর্শন পাওয়া যায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। এমনকি সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় পাখি হিসেবে পরিচিত মদনটাক দেখার জন্য উপযুক্ত স্থান হচ্ছে এই কটকা। এ ছাড়াও চোখে পড়বে চিত্রা হরিণের দল, বানর, বনবিড়াল, উদবিড়াল, বন মোরগ, এবং বন্য শুকর। শীতকালে অতিথি পাখির পাশাপাশি ভীড় করে নানান প্রজাতির পাখি। সেই সঙ্গে দেখা যাবে লোনা পানিতে কুমিরের রোমাঞ্চকর দৃশ্য।
এখানে বন বিভাগের অধীনে পরিচালিত একটি রেস্ট হাউস আছে। খুব কাছেই একটি কাঠের জেটি থাকায় লঞ্চ থেকে নেমে কিছু দূর হাঁটলেই রেষ্ট হাউসে প্রবেশ করা যায়। রেস্ট হাউসের আশেপাশে এঁকেবেকে ছড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি ছোট বড় খাল। এগুলোতে নৌকা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ভেসে বেড়ানো যায়। এ সময় মাঝে মধ্যে শোনা যায় বাঘের গর্জন।
বন বিভাগ কার্যালয়ের পেছনে সোজা পশ্চিমমুখী কাঠের তৈরি একটি ট্রেইল রয়েছে। এর উত্তর পাশের খালে ভাটার সময় দেখা যায় সুন্দরী গাছের ঘন শ্বাসমূল। ট্রেইলটির উত্তরে কেওড়া বনের ভেতরে ঢোকার সময় সন্তর্পণে হাঁটতে হবে। কেননা খুব কাছেই দেখা পাওয়া যাবে অনিন্দ্য সুন্দর চিত্রা হরিণের।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ট্রেইলের পূর্ব দিকটায় রয়েছে ঘন বন আর মিঠা পানির পুকুর। এই পুকুরই এখানকার স্থানীয়দের পানির একমাত্র উৎস। ঘন বনের দক্ষিণে হেঁটে গেলে পরপর তিনটি টাইগার টিলা পড়বে। এই টিলাগুলো দেখে নিমেষেই শরীরে শিহরণ বয়ে যেতে পারে, কেননা এগুলোতে প্রায়ই বাঘের পায়ের ছাপ থাকে।
কটকার আরও একটি জনপ্রিয় স্থান হচ্ছে এর ৪০ ফুট উঁচু চারতলা বিশিষ্ট ওয়াচ টাওয়ারটি। স্থানীয়দের কাছে এটি জামতলা ওয়াচ টাওয়ার নামে পরিচিত। এখান থেকে জীববৈচিত্র্যসহ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়।
এই টাওয়ারের পরে উত্তরে পথটি সোজা গিয়ে মিশেছে জামতলা সমুদ্র সৈকতে। সৈকতটি বেশ পরিচ্ছন্ন এবং নিরিবিলি। বেলাভূমি জুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধুই কাঁকড়াদের আঁকিবুকি। পূর্ব দিকে সৈকতের শেষ প্রান্তরেখা যুক্ত হয়েছে কচিখালি এলাকায়।
আরও পড়ুন: ঈশা খাঁ'র জঙ্গলবাড়ি দুর্গ ভ্রমণ গাইড, আনুষঙ্গিক খরচ
৫৭৬ দিন আগে
ঘূর্ণিঝড় মোখা: এখনো শান্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মোখায় রূপ নিয়েছে। এটি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এর প্রভাবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সহ কক্সবাজারের এলাকাগুলোকে ঘূর্ণিঝড় মোখার কোনো প্রভাব পড়েনি।
সমুদ্র শান্ত আছে এখনও। পাড়ে আছড়ে পড়ছেনা বড় বড় ঢেউ, কিংবা এখনও পানির উচ্চতাও বাড়েনি। সকালে থেকেই কক্সবাজারে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সমুদ্রে নেমে গোসল করতে দেখা গেছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কাজ করা সি সেইফ লাইফ কর্মী মোহাম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বর্তমানে গোসলের জন্য নিরাপদ। জেলা প্রশাসন বা সি সেইফ থেকে কোনো নির্দেশনা আসলে সে অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় ৪০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের ৫৭৬ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখ হয়েছে যেখানে ৫ লাখ ৫ হাজার ৯৯০ জন মানুষের ধারণক্ষমতা রয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য জেলার রিজার্ভে ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৪৯০ মেট্রিক টন চাল, ১৯৪ বান্ডিল ঢেউটিন মজুদ রয়েছে।
সেইসঙ্গে নতুন করে কক্সবাজার জেলার জন্যে ১০ লাখ নগদ টাকা, ৫০ মেট্রিক টন চাল, ৭ মেট্রিক টন শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান বলেন, ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক নির্ধারণ, খুব ঝুঁকিপূর্ণ-ঝুঁকিপূর্ণ-কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুদ রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা, গবাদী পশু সংরক্ষণ ইত্যাদি দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ইস্যু।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সকল কর্মকর্তা/ কর্মচারী যাতে দুর্যোগ মুহুর্তে সরকারি ছুটির দিনে কর্মস্থল ত্যাগ না করেন, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় মোখা: বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক, ৪৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
ঘূর্ণিঝড় মোখা: সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত
১০৬১ দিন আগে
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শতাধিক মৃত জেলিফিশ
কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকালে শতাধিক মৃত জেলিফিশ ভেসে এসেছে।
লাবণী, সুগন্ধা, সায়মনবিচ ও দরিয়া নগর পয়েন্টসহ হিমছড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটারের একাধিক পয়েন্টে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক মৃত জেলিফিশ জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে বালুতে আটকে আছে। তবে এগুলো কি কারণে মারা যাচ্ছে এর সঠিক কারণ কেউ বলতে পারছেন না।
এবিষয়ে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবু সাইয়েদ মো.শরীফ বলেন, ‘জেলিফিশ সাধারণত শীতকালে মারা যায় এবং মৃত অবস্থায় সাগর উপকূলে ভেসে আসে। বেশ কিছুদিন ধরে আমরা সাগরে ভেসে আসা জেলিফিশ গুলো পরীক্ষা করে দেখেছি, ভেসে আসা এসব জেলিফিশ জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। যেহেতু, এতদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এখন মাছ ধরা শুরু হওয়ায় জেলেদের জালে আটকা পড়ছে এসব জেলিফিশ। এছাড়াও জেলিফিশ যেহেতু কম সাঁতার কাটতে জানে, সেহেতু জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে সাগর পাড়ে বালুচরে আটকে মারা যাচ্ছে। সাগরে পরিবেশ বিপর্যয়ের মত কিছুই হয়নি।’
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান জেলেদের বলেন, এই সময়ে মাছগুলো মরার কোন সিজন নয়। হয়তোবা জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি এসে জেলেদের জালে আটকা পড়েছে। পরে জেলেরা মাছগুলো ফেলে দেয়ায় মরা মাছ সৈকতের বেলাভূমিতে আসতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, মৃত জেলিফিশের দুর্গন্ধের কারণে আশেপাশে হাঁটা-চলা করতে পারছেন না পর্যটকেরা। এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে গোটা সৈকতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় জেলেদের কাছে জেলিফিশ সাগরের ‘লোনা’ হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: আবারও কক্সবাজারের সৈকতে বিশাল মৃত তিমি
কুয়াকাটা সৈকতে ফের ভেসে এলো মৃত ডলফিন
১৩৪১ দিন আগে
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে নিখোঁজ ২ শিশুর লাশ উদ্ধার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মঙ্গলবার ভোররাতে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতরা হলো-কক্সবাজারের কুতুবদিয়াপাড়ার মুফিজ আলমের ছেলে মো. জায়েদ (৫) ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে রিয়াদ (৬)।
সমুদ্র সৈকতের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুব আলম জানান, সৈকত কর্মীরা সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক ও নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে।
কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, সোমবার বিকাল ৩টার দিকে জোয়ারের পানি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয় এ দুই শিশু।
আরও পড়ুন: উলিপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
সিরাজগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
১৩৭১ দিন আগে
কক্সবাজারের উন্নয়নে প্রকৃতি ও পরিবেশকে একীভূত করুন: প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উন্নয়নকে প্রকৃতি, বৃক্ষ ও পরিবেশের সঙ্গে একীভূত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমরা শুধু ইট-কাঠ দিয়েই নয়, প্রকৃতির সঙ্গে একীভূত করে সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেব। আমাদের সেখানে গাছ এবং ছায়া রাখতে হবে।’
বুধবার সমুদ্র তীরবর্তী রিসোর্ট শহরে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত বহুতল ভবন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: আ’লীগ ক্ষমতায় না থাকলে নিত্যপণ্যের জন্য রাজপথে মারামারি হতো: প্রধানমন্ত্রী
১৪১৯ দিন আগে
দুই বছর পর পর্যটকে মুখর কক্সবাজার
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বিপুল পর্যটক আগমনে সন্তুষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।
করোনা মহামারির কারণে দুই বছর পর সৈকত এলাকা পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় সৈকত এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের উপস্থিতিতে খুশি কক্সবাজারের হোটেল ও মোটেল মালিকরা।
এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ, আনসার সদস্য ও লাইফগার্ড কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
কক্সবাজারের লাবনী পয়েন্ট ও সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান এবং যান্ত্রিক জীবন থেকে নিজেকে সতেজ করতে পর্যটকরা ওই এলাকায় ভিড় করেছেন। অনেককে আবার মোটরসাইকেলে করে সৈকত এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে।
হোটেল কক্স টুডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু তালেব শাহ জানান, দুই বছরের দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে সন্তুষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটির পরও হোটেল, মোটেল ৯০ ভাগ রুম আগামী ১১ মে পর্যন্ত বুকিং রয়েছে।
পড়ুন: ঈদের ছুটিতে জাফলংয়ে পর্যটকের স্রোত
হোটেল ব্যবসায়ী সেলিম নেওয়াজ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০ মে পর্যন্ত আরও বেশি পর্যটক আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতে পর্যটন শিল্প আরও উন্নয়ন হবে।
হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেস জানান, এবার ঈদের ছুটির পরের এক সপ্তাহেও ৭০ ভাগ রুম বুকিং রয়েছে। নিজের গ্রামে বা শহরে যারা ঈদ উদযাপন করেছেন তাদের অনেকে ঈদের ছুটির পর কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন। তবে আবহাওয়া ঠিক থাকলে আরও অনেকদিন পর্যটকে ভরপুর থাকবে কক্সবাজার।
হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, ঈদের ছুটির পরেও এক সপ্তাহেও ৭০ ভাগ রুম বুকিং রয়েছে। নিজের গ্রামে বা শহরে যারা ঈদ উদযাপন করেছেন তাদের অনেকে ঈদের ছুটির পর কক্সবাজার ভ্রমণে আসছেন।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারে সেই লক্ষ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও পর্যটকদের চিকিৎসা সেবা ও খাবার পানির ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতায় এ পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ উদ্দীন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিকে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফ গার্ড, বিচ কর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এখানে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজে দুই লাখেরও বেশি পর্যটকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।
পড়ুন: ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কিশোরগঞ্জের হাওরের ধানচাষিরা
১৪২৮ দিন আগে
সৈকতে নারীদের জন্য আলাদা জোন থাকছে না
উদ্বোধনের মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে নারীদের জন্য বিশেষ জোন করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসল প্রশাসন।
এর আগে বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ‘সংরক্ষিত এলাকা’ উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ। তার ১০ ঘণ্টার মধ্যে রাত ১০ টায় এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন জেলা প্রশাসন।
সমুদ্র সৈকতে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ‘সংরক্ষিত এলাকা’ উদ্বোধন করার নিউজটি প্রচারের পর সারাদেশে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে যাদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে সেই নারী পর্যটকরা তা মানতে নারাজ।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটকদের নারী ও শিশু পর্যটকদের সুবিধার জন্য এমন বিশেষ জোন করা হয়েছে। কিন্তু পর্যটকরা এমন জোন পছন্দ করছেন না। পর্যটকরা যেমন চাইবেন তেমন পর্যটন হবে কক্সবাজার। কারণ পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা। তাই তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যেহেতু তারা এমন জোন চাচ্ছেন না তাই নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ জোন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নারী পর্যটকের জন্য কক্সবাজার সৈকতে বিশেষ জোন
১৫৫৮ দিন আগে
কক্সবাজারে ‘থার্টি ফাস্ট নাইট’: নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ৮০ ভাগ রুম বুকিং
২০২২ সালকে স্বাগত জানাতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেই। করোনা মহামারির কারণে ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আয়োজন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন কক্সবাজারে ২০২১ সালের শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় ও রাতে বিভিন্ন হোটেলের ইনডোরে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এবং বিশাল সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়িয়ে ইংরেজি নতুন বছর ২০২২ সালকে বরণ করতে কক্সবাজারে ছুটে আসবেন।
নতুন বছর বরণকে কেন্দ্র করে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। একইভাবে জেলা প্রশাসন বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করেছেন। শৃঙ্খলা রক্ষায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লোনা জলে গা ভাসানো আর বালুকা বেলায় দাঁড়িয়ে নতুন বছরের নতুন সূর্যের রোদে আলোকিত হয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে এমন আশা কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদারের।
আরও পড়ুন: চাঁদার ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে কক্সবাজারে পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
তিনি জানান, এবারে থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে এ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়েছে। সৈকতে উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন আয়োজন হচ্ছে না। তাই এবার কক্সবাজারে পর্যটক আগমন আশানুরূপ হবে না।
আবুল কাশেম জানান, নতুন বছর ভালোভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ এবার একটি বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। তা হচ্ছে রুমে দুজনের জায়গায় তিন জন, তিন জনের জায়গায় চার জন এভাবে প্রতিটি রুমে অতিরিক্ত পর্যটক থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য অতিরিক্ত কোন টাকা নেয়া হবে না। নিয়ন্ত্রিত মূল্যে সব রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে।
১৫৫৯ দিন আগে