জাতীয় সংসদ নির্বাচন
কুড়িগ্রামের চার আসনে নীরব ভোটারদের দিকে তাকিয়ে প্রার্থীরা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একেবারে শেষ সময়ে এসে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশে মাঠ মুখর থাকলেও ভোটের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কে জয়ী হবেন, এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সরজমিনে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনীতি বিশ্লেষক এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরা সক্রিয় থাকলেও প্রকাশ্যে মত দিচ্ছেন মাত্র ৩০ শতাংশ ভোটার। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার নীরব, মুখ খুলছেন না তারা। ফলে শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী ও সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যে প্রার্থী এই ভোটব্যাংক নিজের দিকে টানতে পারবেন, জয়ের পথে তিনিই এগিয়ে থাকবেন।
কুড়িগ্রাম-১
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা, ১১ দলীয় জোটের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী হারিসুল বারী রনি এবং গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা।
এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৪২৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে ধানের শীষ, ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের মধ্যে। তবে কে বিজয়ী হবেন তা এখনও অনিশ্চিত।
কুড়িগ্রাম-২
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের ড. আতিক মুজাহিদ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের অধ্যক্ষ নুর বখত (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মেজর (অব.) মুহাম্মদ আবদুল সালাম (কেটলি), সিপিবির নূর মোহাম্মদ (কাস্তে), এবি পার্টির নজরুল ইসলাম খান (ঈগল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস)।
এখানে মোট ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯০, নারী ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৪১ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজারহাট উপজেলায় হিন্দু ভোটারদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা পলাতক থাকলেও তাদের সমর্থক-ভোটাররা ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
কুড়িগ্রাম-৩
এ আসনের প্রধান প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাসভীর-উল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রার্থী ড. মাহবুবুল আলম সালেহী, জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সোবহান সরকার, ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’র প্রার্থী ডা. আক্কাছ আলী সরকার, গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, স্বতন্ত্র ‘হাঁস’ প্রতীকের প্রার্থী সাফিউর রহমান।
এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এর মাঝে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ জন এবং নারী ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৬ জন।
এখানেও আওয়ামী লীগপন্থী ও হিন্দু ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এই ভোটব্যাংক নিজের দিকে টানতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম-৪
এই আসনের প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির আজিজুর রহমান (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির কে এম ফজলুল হক মণ্ডল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের হাফিজুর রহমান (হাতপাখা), বাসদ (মার্ক্সবাদী) রাজু আহমেদ (মই), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান (বালতি)।
এ আসনে রয়েছে ভিন্ন মাত্রার লড়াই। আসনটিতে ধানের শীষ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন আপন দুই ভাই।
ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন করেছে কুড়িগ্রামের এ এলাকাগুলোকে। পাশাপাশি ভাটিয়া ও উজানী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও রয়েছে সামাজিক বিভাজন। ফলে ভোটের মাঠে বিরাজ করছে নানা জটিল সমীকরণ।
কুড়িগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, বিগত নির্বাচনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় মানুষ ভোটের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার এখনও ভোটে অনাগ্রহী। তবে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে শেষ মুহূর্তে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, কুড়িগ্রামের চার আসনেই নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ থাকলেও জয়-পরাজয়ের হিসাব এখনও অঙ্কের বাইরে, শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নীরব ভোটারা—এমন অভিমত স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষক, ভোটার ও সচেতন মহলের।
৬ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনে তিন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইয়াবস।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের বিশেষ গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।’
ইভারস ইয়াবস জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা, অংশগ্রহণমূলক প্রকৃতি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে ইয়াবস বলেন, আপনার সুন্দর দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক থেকেই সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আমরা এখানে এসেছি। এই লক্ষ্যে আমাদের এই নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমরা এই নির্বাচনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মিশনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, যেখানে আমাদের কাজ হলো কেবল পর্যবেক্ষণ করা, তবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নয়। এই কারণে, যেহেতু নির্বাচন খুব নিকটে, আমি কোনো দলের নিয়ম লঙ্ঘন বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করব না।’
ইভারস ইয়াবস বলেন, আমরা নির্বাচনের পরপরই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রদান করব এবং দু মাস পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করব।
ইইউ এর এই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, এই মিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে একমাস আগে শুরু হয়েছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল (এলটিও) ইতোমধ্যে ঢাকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
ইয়াবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার মধ্যে প্রধান অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন এনজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী বাম্বি এবং ক্রিশ্চিয়ান এখানে এক মাস ধরে কাজ করছেন এবং আগামীকাল (আজ) ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন, যারা নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রচার এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। এটি কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন নয়; সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও কানাডার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশও এতে অংশগ্রহণ করছে।
এ সময় তাদের পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা, শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকবেন বলে জানান ইয়াবস।
ইইউয়ের এই পার্লামেন্ট সদস্য আরও বলেন, ঢাকায় আমাদের মূল দলে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা, যেমন: আইনি বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশ্লেষক এবং মিডিয়া বিশ্লেষক রয়েছেন। তারা প্রথাগত ও সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তারা কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন না বা কাউকে কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন আয়োজন করা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজ এবং এখানে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
ইয়াবস বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজে পাওয়া।
বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করতে এবং সবুজ শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমাদের কাছে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার দুই আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনের নির্বাচনি মাঠ দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে সরগরম গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা—কোনো দিক থেকেই প্রচারণায় ঘাটতি রাখতে চান না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
প্রচারণায় প্রার্থীরা অঙ্গীকার করছেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেও জেলার দুই আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে দলটির কর্মী-সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটাররা।
চুয়াডাঙ্গা-১: বিএনপির ঘাঁটিতে দ্বিমুখী লড়াই
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে এখানে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় এবং ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে বিতর্কের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় পান।
এবার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী।
গণসংযোগে বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই করে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে এসেছি। এবারের নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। আমরা শুধু নিজেদের পক্ষে ভোট চাইছি না, সব দলের, এমনকি নির্দলীয় ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোট কাকে দেবেন সেটাই মুখ্য নয়, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়লে সেটিই বড় সাফল্য হবে।’
তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অবহেলিত চুয়াডাঙ্গাকে উন্নয়নের শিখরে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাকে একটি রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজী বলেন, ‘বড় দলগুলোর রাজনীতির বাইরে গিয়ে আমরা পরিষ্কার ভাবমূর্তির নেতৃত্ব দিতে চাই। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি।’
তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিএনপির শক্ত অবস্থানের কারণে জামায়াতের জয় কঠিন হলেও তারা সম্মানজনক ভোট ও নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৪ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
চুয়াডাঙ্গা-২: জামায়াত অধ্যুষিত আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা
দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনটি জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই জয় পেয়েছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএর সভাপতি, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি নির্বাচিত হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে তার ব্যক্তিগত ইমেজ এই আসনে আলোচিত বিষয়।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, খাদ্য হিমাগার স্থাপন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য, আয়কর আইনজীবী রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগের সকল বাধা উপেক্ষা করে ২০১০ সাল থেকে তিনি এ আসনে কাজ করছেন। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা মাথায় নিয়ে এলাকায় অবস্থান করে দলকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় তাকে হারানো সহজ হবে না।
রুহুল আমিন বলেন, ‘এই জনপদের মেঠো পথেই আমার বেড়ে ওঠা। মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমি জানি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়ন, চুয়াডাঙ্গা–কালীগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজীব বলেন, ‘সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই এবার বড় ফয়সালা দেবেন। আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করব। আমার বিশ্বাস মানুষ হাতপাখার প্রতি বিশ্বাস রাখবেন।’
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
নেতৃত্বহীন ও নিরপেক্ষ ভোটারই বড় নিয়ামক
এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের বাইরে থাকা ভোটাররা। বিশেষ করে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাররা। দলীয় প্রার্থী না থাকায় এই ভোটারদের একটি অংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
চুয়াডাঙ্গা শহরের এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দল নেই, তাই ভাবছি কাকে ভোট দিলে এলাকার জন্য ভালো হবে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’
একই ধরনের কথা শোনা গেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী গ্রামেও। সেখানকার এক ভোটার বলেন, ‘তিন প্রার্থীর মধ্যে কাউকে না কাউকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু কাকে দেব, এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় আছি।’
একই কথা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও মুখেও। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও তাদের সমর্থক ভোটাররা এখনও বড় ফ্যাক্টর।
চুয়াডাঙ্গা শিক্ষাবিদ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, ‘এটা আসলে নিজস্ব ভোটব্যাংকের নির্বাচন নয়, এটা মন জয়ের নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, সেটাই ফল নির্ধারণ করবে।’
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে এবারের জয়পরাজয়ে নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে নেতৃত্বহীন ও নিরপেক্ষ ভোটার। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনসম্পৃক্ততাও বড় প্রভাব ফেলবে। শুধুমাত্র দলীয় ভোট ব্যাংক দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যায়, সেটাও হতে পারে জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিএনপি হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া, জামায়াতে ইসলামী নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে, আর বিকল্প রাজনীতির বার্তা নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
৬ দিন আগে
ভোটের আগে বদলি-বাতিল ও পদোন্নতি: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক থামছে না
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অপরিপক্কতার অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ঠিক এমন সময়ে মাঠ প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলি করে আবার তা বাতিল এবং একই সঙ্গে ১১৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি—সব মিলিয়ে সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক আমলাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনি পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে হিসাবে সরকারের হাতে সময় আছে ১৫ দিনেরও কম। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি মাসে ৮ উপজেলার ইউএনও বদলি করে দুদিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিলের ঘটনা ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। ভোটের একেবারে কাছাকাছি সময়ে মাঠ প্রশাসনে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন।
ইউএনও বদলি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
গত ২০ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ফরিদপুরের নগরকান্দা, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, বগুড়ার ধুনট, হবিগঞ্জের বাহুবল, নেত্রকোনার কমলাকান্দা ও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ইউএনওদের বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সম্মতির ভিত্তিতে এ রদবদল করা হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ২২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি, যোগদান না করলে ওই দিন বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল।
তবে ২২ জানুয়ারি আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, ২০ জানুয়ারির বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
জানা যায়, একটি রাজনৈতিক দলের আপত্তির পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রথমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ভোট সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আরেকটি রাজনৈতিক দলও এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সরকার শেষ পর্যন্ত আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ইউএনও বদলি করে আবার তা বাতিলের ঘটনায় প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলা মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া ইউএনবিকে বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল। বদলি করে আবার বাতিল করা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত নয়। এতে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়—কেন বদলি করা হলো, আবার কেনই-বা বাতিল করা হলো।’
তিনি বলেন, এর প্রভাব কিছুটা হলেও নির্বাচনি পরিবেশে পড়তে পারে। ‘এক পক্ষ বলবে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি হয়েছিল, পরে আপস করে বাতিল করা হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে জন্ম নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’
একই মত সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদারের। তিনি বলেন, ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন ভালো হলেও এ সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার তা বাতিল হওয়া উচিত ছিল না। এতে প্রশাসনে একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি এও বলেন, বদলির আদেশ বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকার হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে, যা ইতিবাচক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
বিতর্কের মধ্যেই ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি
ইউএনও বদলি–বাতিলের বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার ১১৮ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও সাবেক আমলাদের একটি অংশ এটিকে ভালো চোখে দেখছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক সচিব বলেন, ‘ভোট যখন একেবারে সামনে, তখন সরকারের এ ধরনের বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এ পদোন্নতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলে সরকার অস্বস্তিতে পড়তে পারে।’
এ বিষয়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, নিরপেক্ষভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি হলে সেটি দোষের কিছু নয়। তবে কোনো উদ্দেশ্য বা চাপের কারণে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সব সময়ই প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর।
শুরু থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আগের সরকারের আস্থাভাজন অনেক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়। কাউকে চাকরি থেকে বিদায়, কাউকে ওএসডি, আবার কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ফেরানো হয়। এসব সিদ্ধান্ত ঘিরেও তখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
সাবেক আমলারা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ত্রুটি ও বিলম্বের কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন, আবার বিতর্কিত কর্মকর্তারা ভালো পদায়ন পেয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। এর জেরে সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়েছে। ডিসি পদে বড় আকারের রদবদল যতবারই করা হয়েছে, ততবারই বিতর্ক তৈরি হয়েছে; যদিও পরে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধনের চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রশাসন পুরো সময়জুড়েই দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের পেছনে খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলেই তারা মনে করেন। রাজনৈতিক চাপ, কর্মকর্তাদের অনৈতিক আন্দোলন এবং বাস্তবতা সামাল দেওয়ার অক্ষমতার কারণে সরকারকে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার সরে আসতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।
সরকারের ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, চাপের মুখে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বদলির পর আদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাসে কিছু ইউএনও বদলি করার পর আবার সেই আদেশ বাতিলের ঘটনায় তিনি ‘খারাপ কিছু’ দেখছেন না।
১১ দিন আগে
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুজনই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের প্রার্থী।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চরবোরহান এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের ব্যাপারে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের নির্বাচনি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে, হাসান মামুনের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। তার সমর্থকদের দাবি, গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরাই প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং তাদের নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান।
এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি নিজের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত।’ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
১৩ দিন আগে
ভোটের মাঠে অনড় সিলেট বিভাগীয় বিএনপির ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল (মঙ্গলবার)। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির ৫ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে অনড় রয়েছেন তারা।
ওই পাঁচ প্রার্থী হলেন— সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে মত স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মানুষের।
সিলেট জেলার মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তিনি সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মামুনকে দল থেকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়ত ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এখানে প্রার্থী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
১৯ দিন আগে
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদভাবে অনুষ্ঠানে কাজে লাগবে।’
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিগগিরই রাকসু ও চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
‘আজকের সভায় ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে, তাই এ নির্বাচনগুলো দেখে আমাদের কিছু অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সে অভিজ্ঞতা জাতীয় নির্বাচনে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটা শেয়ারের জন্য আজকের এ সভা হয়েছে।’
‘তাছাড়া যেহেতু ইতোমধ্যে দুইটা ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে দুইটা নির্বাচনের ছোটখাটো ভুলগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়— সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আজকের সভায় নির্বাচন বিষয়ে যেসব ভালো পরামর্শ এসেছে, তা আমরা ভবিষ্যতে কাজে লাগাব। নির্বাচনের বিষয়ে যেসব পরামর্শ এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ, ভোট গণনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ, কালি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, ইত্যাদি। তাছাড়া নির্বাচনের ফলাফল দ্রুত ঘোষণার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ছবি যুক্ত আইডিকার্ড, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রাকসু ও চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রতিষ্ঠানদুটির কোনো উদ্বেগ নেই। দুটি নির্বাচনই সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার উপস্থিত ছিলেন।
১৪৩ দিন আগে
নির্বাচন সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন ডিসিদের নিয়োগ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব শিগগিরই দেশের সব জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন ডিসিদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। এরই মধ্যে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইতিমধ্যে সিলেট জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার ডিসি নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বা বিতর্কিত কর্মকর্তাকে স্থান দেওয়া হবে না। কেউ ছলচাতুরী বা তথ্য গোপন করে ডিসি পদে নিয়োগ পেলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে গত ১৮ আগস্ট সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের আলোচিত সেই ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিটলিস্ট প্রস্তুত প্রক্রিয়া
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ছয় ধাপে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এর মধ্য থেকে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে ফিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
জনপ্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১২ জন কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে রয়েছেন। তবে ২৪তম ব্যাচের ২১ জন কর্মকর্তা গত ২০ মার্চ যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেও এখনও মাঠ প্রশাসন থেকে তাদের প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি।
পূর্বের বিতর্ক ও বর্তমান সতর্কতা
এর আগে ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ১০৮ জন কর্মকর্তার একটি ফিটলিস্ট থেকে ৬১ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছিল।
তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধা পাওয়া একাধিক কর্মকর্তা গত বছরের ৫ আগস্টের পরও ডিসি পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব নিয়ে সমালোচনার পর এবার সরকার অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।
প্রশাসনে অস্থিরতা ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ
কেবল ডিসি নিয়োগই নয়, বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব নেই এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে চলছে। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল।
তাদের মতে, এক দশক বা দেড় দশক আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা বর্তমানের ডিজিটাল প্রশাসন ব্যবস্থায় খাপ খাওয়াতে পারছেন না। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সাহস পান না। এর ফলে প্রশাসনে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
জনপ্রশাসনের অবস্থান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) মো. এরফানুল হক ইউএনবিকে বলেন,
‘ডিসি নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কবে নাগাদ নিয়োগ হবে তা জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা আশা করছি দ্রুতই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমান ইউএনবিকে বলেন,‘ডিসি ফিটলিস্ট থেকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’
বিশেষজ্ঞ মতামত
সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন,‘১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের দুর্বলতা দ্রুত সমাধান করতে হবে। একটি সৎ, দক্ষ ও পেশাজীবী আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। এখনো সময় আছে—সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য লোক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ আমলাতন্ত্রের ওপর ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সত্যিই অসাধ্য। তাই এখনো সময় আছে প্রশাসনের প্রাণ ফিরে আনতে হবে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও ডিসি সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যোগ্য ও দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে।’
নিয়োগে কমিটি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই ডিসি নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।
১৭২ দিন আগে
আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথ থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে ঢাকা-৩ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (৩ নং) ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন যাতে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও তাদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। এছাড়া ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বুথ তো থাকছেই।
আরও পড়ুন: দ্রুতই সাংবাদিক তুহিন হত্যার চার্জশিট: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বডি-অর্ন ক্যামেরা থাকবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে কিনা তা জেলা ও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। বর্তমানে পুলিশ, বিজিবি ও কারারক্ষীদের কাছে কিছু বডি-অর্ন ক্যামেরা রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন করে আরও ৪০ হাজার বডি-অর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একটি বিশেষ দল বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পুস্ট্যান্ড দখল করে রাখছে—সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে অনেক চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কোনো চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—সে যে দলেরই হোক না কেন।
এর আগে উপদেষ্টা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর সদর দপ্তর ও কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন। কারাগার পরিদর্শনকালে তিনি বন্দিদের খাবার, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পরিদর্শন করেন।
১৮২ দিন আগে
জাতীয় নির্বাচনে ৪৭ হাজার কেন্দ্রে থাকছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে দেশের ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রে একটি করে বডি-ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সারা দেশের আনুমানিক আট লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ বাহিনীর মধ্যে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সব বাহিনীকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রিজাইডিং অফিসাররা যেন কারো বাসায় না থেকে নির্বাচনী কেন্দ্রে থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। তাদের সঙ্গে আনসার এবং পুলিশ সবাই থাকবে।
কারা বডি-ওর্ন ক্যামেরা পাবেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৪৭ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রতি কেন্দ্রেই একটি করে বডি-ওর্ন ক্যামেরা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পুলিশের মধ্যে যিনি সিনিয়র পদধারী থাকবেন, তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে৷’
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে এসপি-ওসিদের বদলি হবে লটারির মাধ্যমে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত সব বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন পোলিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিবে।’
তিনি বলেন, ‘বাহিনীগুলোর প্রশিক্ষণের পর তাদের মহড়া দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভালোভাবে হতে পারে— সে অনুশীলন করা হবে।’
পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৭৬ কর্মকর্তাকে সংযুক্তিতে বদলি করার বিষয় উপদেষ্টা বলেন, এটা রুটিন বিষয়৷ এটা সবসময় চলমান থাকবে।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৮৬ দিন আগে