এইচএসসি পরীক্ষা
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের জিরো পয়েন্ট মজমপুর এলাকায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে কুষ্টিয়ার ব্যস্ততম এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কুষ্টিয়া-বটতৈল ও কুষ্টিয়া-ত্রিমোহনী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন। এ সময় ‘তুমি কে, আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানও দিতে দেখা যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী তাসনিম রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টি আর বন্যার মধ্যে আমরা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেব? অনেক সহপাঠী কেন্দ্রে পৌঁছাতেই পারেনি। অথচ আমাদের দুর্ভোগের সমাধান না করে উল্টো দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা ফার্মের মুরগি নই যে খাঁচায় বন্দি থেকে সব মেনে নেব। আমাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
আরেক পরীক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ১৩ জুলাইয়ের বৈরী আবহাওয়ায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা শুধু একটা পরীক্ষা নতুন করে নিয়ে পুষিয়ে দেওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক যে ধকল গেছে, তা শিক্ষামন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল। আমরা পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস ও আমাদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন চাই।
এদিকে, আন্দোলন শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি গত সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং অনেকে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ এসেছে। যদিও আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এ পরীক্ষাটি নিয়ে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি, আমাদের পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা যখন নিতে যাব—পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা, সে সময় আমরা এ পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পরও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়ার মজমপুর মোড়ে তাদের অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে সরকারের ৫ উদ্যোগ তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের নেওয়া পাঁচটি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব উদ্যোগের কথা জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারা দেশে ২,৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে শিক্ষার্থীবান্ধব ৫টি উদ্যোগ’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
প্রথম উদ্যোগ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুলসংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারা দেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় উদ্যোগে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
চতুর্থ উদ্যোগ হিসেবে তিনি জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
পঞ্চম উদ্যোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।’
১ দিন আগে
দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাবে: শিক্ষামন্ত্রী
বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো।
বিবৃতিতে মন্ত্রী আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আবারও আশ্বস্ত করছি, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।’
১ দিন আগে
এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির ঘটনায় প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন স্বাক্ষরিত নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া চার শিক্ষক হলেন—শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
নোটিশে বলা হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ‘মারাত্মক ত্রুটি/অসঙ্গতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশ্নপত্রে এ ধরনের ত্রুটির কারণে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপে পড়েন।
এতে আরও বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও প্রশ্নপত্র পরিশোধক হিসেবে এ ধরনের ত্রুটি থেকে যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার সামিল। পাশাপাশি এ ঘটনায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
নোটিশে প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতির জন্য কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
২ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা ইস্যু: সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান ছাত্রদলের
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং সড়ক অবরোধ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আলাপ-আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ছাত্রদল মনে করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে; সেজন্য আমরা প্রেস রিলিজ দিয়েছি। সুতরাং বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবে সড়ক অবরোধ করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে সেজন্য সরকার চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর বাইরে উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছে। এটি আমরা সকলেই অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষা স্থগিতকরণের দাবির সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও একই দাবি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার কোনো দাবি করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটির পক্ষে থাকত। কিন্তু ছাত্রদল সরকারের বিপক্ষে গিয়ে বলেছে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এবং আমরা শুনেছি সরকার সিদ্ধান্ত বিবেচনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছে।’
২ দিন আগে
সারা দেশে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেও চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত না করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা এক বা দুদিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল—জানতে চান তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে। তারপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আবারও পর্যালোচনা করছি। যদি কোথাও আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর যদি পরীক্ষা না দিতে পেরে থাকে, এই জরিপটা আমাদের কাছে আসার পরে সেভাবে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা চিটাগাং বোর্ডে এই ব্যবস্থাটি করেছি এবং সেই অবস্থান আমাদের রয়েছে। সেজন্য আবারও অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ধরনের ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনারায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের আমরা কোনো অবস্থায় বঞ্চিত করতে পারি না, করব না। সেটাই আমি মহান সংসদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাচ্ছি।
২ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গতকাল সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন একদল পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।
অবরোধের ফলে সড়কের দুধারে অসংখ্য যানবাহন আটকে চরম যাত্রী দুর্ভোগ হয়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর দেড়টার দিকেও অবরোধ চলছিল।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একজন হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, বৈরি পরিবেশের মধ্যেও গতকাল (সোমবার) পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানেই পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয় নি। সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।
এছাড়াও তারা এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলছেন। আশাকরি, খুব শিগগিরই অবরোধ উঠে যাবে।
৩ দিন আগে
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের
আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা কামনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সারা দেশে চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত প্রতিকূলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।
এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষাকেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।
তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে
প্রশ্ন কঠিন, ‘শিক্ষকদের সহযোগিতা না পেয়ে’ ভোলায় এইচএসসির কেন্দ্র ভাঙচুর
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষকসহ ৫ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১টার পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বনের সুযোগ না দেওয়ায় একদল পরীক্ষার্থী এ হামলা চালায়। তবে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং কক্ষ পরিদর্শকদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার প্রতিবাদেই তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চরফ্যাশন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বাচ্চু সাংবাদিকদের জানান, আইসিটি পরীক্ষায় ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রায় ২০০ পরীক্ষার্থী প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে এবং কলেজ প্রাঙ্গণে ডিম নিক্ষেপ করে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে তারা উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে কলেজে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের পেছন দিক থেকে অফিসের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
৫ দিন আগে
বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে যা জানাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
টানা ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকার উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম একযোগে পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নির্দেশনায় কেন্দ্র থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দেশের বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব জেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্ধার, ত্রাণ ও জননিরাপত্তা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রবিবার প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইউএনও, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে যুক্ত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থাও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আহ্বানে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুই কোটির বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণসামগ্রী ও চাল পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং বিশেষ করে সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ মেরামতের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশু পালনকারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও চালু করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে, তবুও স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে কাজ করছেন।
তিনি জানান, সরকারের কার্যক্রম শুধু উদ্ধার বা ত্রাণে সীমাবদ্ধ নয়; একই সঙ্গে রেসকিউ, রিলিফ ও রিহ্যাবিলিটেশন, অর্থাৎ উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি ধাপকে সমন্বয় করেই কাজ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং তার জানা তথ্য অনুযায়ী, ‘১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে’।
তবে তিনি বলেন, তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও জেলাগুলোর জন্য ১৬ জুলাইয়ের পর নতুন সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে তিনি জেনেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের সময়ে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচিত সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও মানবিকতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে। ত্রাণ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, পুনর্বাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্গত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
৫ দিন আগে