নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফরের করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ আইনপ্রণেতার ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার ওপর এক বছরের জন্য চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস। পরে সংসদীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অতীতে অন্যান্য দেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তবে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম চীন এমন পদক্ষেপ নিল। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে চীন।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার মধ্যে দুজন এপিকে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দুইজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবে।
এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের এক মুখপাত্র জানান, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আইনপ্রণেতারা গত মে মাসে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই সফর করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কয়েক দশক ধরেই এ ধরনের সফর করে আসছেন।
চীনের দাবি, তাইপেইয়ের নিজস্বভাবে কোনো ধরনের বিদেশি সম্পর্ক পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া বিদেশি আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরকে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্র জানান, ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার ওই সফর ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন ১২টি দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত নয়।
এপি জানিয়েছে, ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিসে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তার মাধ্যমে তাইওয়ানে সফর করা চার আইনপ্রণেতাকে এক বছরের জন্য চীন, ম্যাকাও ও হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিস থেকে এই বার্তাটি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের একটি ইমেইলে পাঠানো হয়।
চীনা দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা যদি তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, অনেকদিন ধরেই সেসব দেশের আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিউজিল্যান্ডের এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা চীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানাবেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, সে সিদ্ধান্ততা তারা স্বাধীনভাবে নিয়ে থাকেন। এসব সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা লরা ম্যাকক্লুর জানান, চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই দাবি স্পষ্টতই অপমানজনক। তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
অন্যদিকে, মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ডানকান ওয়েব জানান, নিউজিল্যান্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে যদি আমাকে এক বছরের জন্য চীনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতেও আমি প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। চীন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডই প্রথম চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছিল।
অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বেইজিং এবং ক্যানবেরায় চীনা মিশনের সঙ্গে কথা বলবে অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সিনেট কমিটির এক বৈঠকে ওয়ং জানান, নিউজিল্যান্ড যে অবস্থান নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মতো নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারাও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের ওপর ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
১০ দিন আগে
অধ্যাপক ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট
হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক সব উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এ রিট আবেদন দায়ের করেন।
রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
সেদিন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামের টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় খাত থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ‘অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রেজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান শুভ্র, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়।
২৮ দিন আগে
ইরানের হয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের হয়ে যুক্তরাজ্য ও আন্তজাতিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থায়ন ও সহিংস তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। তাদের এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিভিন্ন দেশে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করছে। এসব বাহিনী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে ইরানের হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার মতো কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তাদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তাদের থামাতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সরকারকে সমর্থন দেওয়া এই অপরাধী চক্রগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ৫৫০ জন ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির অভিযোগ, ইরান ব্রিটিশ ভূখণ্ডে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য হামলার ষড়যন্ত্র করছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক কয়েকটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার মধ্যে ছুরিকাঘাত এবং উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে।
অপরদিকে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইরান-সমর্থিত ২০টির বেশি প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জিন্দাশতি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, তারা ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। এই গোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ব্যক্তি বিশেষকে হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা বা সরাসরি হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রও এই নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, একজন মাদক পাচারকারী এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইরানবিরোধী সমালোচকদের হত্যা ও অপহরণের কাজ করতেন।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যে জারিংহালাম পরিবারের ৫ সদস্যকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর জারিংহালাম পরিবারের তিন ভাই মানসুর, নাসের ও ফাজলোলাহ জারিংহালাম যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের প্রধান পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক ও সামরিক খাতের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ইরানে পাচার করেছেন।
এছাড়া আরও ৪ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাদের মধ্যে দুইজন ইরানি, একজন তুর্কি নাগরিক এবং একজন আজারবাইজানি নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা এবং হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ।
৩৩ দিন আগে
পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মার্চ থেকে এপ্রিল, এ দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ সময় এ দুই নদীতে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, জাটকা সংরক্ষণের জন্য জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে (চাঁদপুর সদর হয়ে) হাইমচর উপজেলার শেষপ্রান্ত চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদীকে অভয়াশ্রম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন।
তবে এই সময়ে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়া এসব জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাস মাথাপিছু ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল পাবেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে সদর উপজেলার যমুনা রোড, কোড়ালিয়া, আনন্দবাজার, দোকানঘর, বহরিয়া, রণাগোয়াল, আখনের হাট ও আশপাশের এলাকার মেঘনা পাড়ের বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়।
তাদের মধ্যে জেলে জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা সরকারি আইন মানি। নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা জাল ও নৌকা ডাঙায় উঠিয়ে রাখি। কিন্তু আমাদের যে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়, এটা খুবই অপ্রতুল। এতে আমাদের সংসার চলে না। এর সঙ্গে দুই মাসের জন্য দশ হাজার টাকা করে নিজ নিজ মোবাইল নম্বরে বিকাশে বা নগদে দিলে খুবই উপকার হতো।
একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি বলেন, মাছ আহরণ করে আমাদের জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। অবসর সময়ে বরাদ্দ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও জরুরি। শুধু চাল দিয়ে কি সংসার চলে? সন্তানদের পড়ালেখা ও ঋণের কিস্তি নিয়ে ফেরত দিতে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়।
একই কথা জানান জেলা শহরের শেষ প্রান্তের মেঘনা পাড়ের টিলাবাড়ি এলাকার সামাদ ঢালী (৫৫) ও মোতালেব পাইক (৫০); মেঘনা পাড়ের মাদরাসা রোডের হাছান রাঢ়ী (৫০) ও শাহজাহান বেপারী (৫৫)।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জেষ্ঠ্য মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আইন অমান্য করে জাটকা ধরা হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে নৌপুলিশ নদীতে সক্রিয় থাকবে। নৌ-সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করেন, তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার জানান, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যে প্রতি বছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরও তৎপর হতে হবে। জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
বিশিষ্ট ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, আজকের জাটকা আগামী দিনের ইলিশ। জাটকা সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জাটকা সংরক্ষণ হলে এর সুফল জেলেসহ আমরা সবাই পাব।
১০৬ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
১০৯ দিন আগে
ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা মানছেন না ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর জেলেরা
মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর অনেক জেলে পদ্মায় মাছ শিকার করছেন নিয়মিত। সময়মতো সরকারি সহায়তা না পাওয়া ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে নদীতে নামতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখে বোঝার উপায় নেই যে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। বরং তার উল্টোটাই মনে হবে। এই সময়েও দুই জেলার পদ্মায় অর্ধশতাধিক পয়েন্টে অসংখ্য জেলে ইলিশ শিকার করছেন।
জেলেদের দাবি, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই জেল-জরিমানা উপেক্ষা করে নদীতে নামছেন তারা। তাদের অনেকের মৎস্য কার্ড থাকার পরও সরকারের সহায়তা পাননি।
আরও পড়ুন: যশোরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শীতকালীন সবজি চারা, পোঁছে যাচ্ছে সারা দেশে
নাম প্রকাশে একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে পরিবার নিয়ে চলাটা কষ্টকর হয়ে যায়। নৌকা ও জাল মেরামতের জন্য বিভিন্ন আড়ৎ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন অনেকেই। এ সময় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় জেলেরা ঋণের চাপে পড়েছেন, তাই বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন তারা।
২৩৯ দিন আগে
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেন এত বিতর্কিত?
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে নিহত হয়েছেন দেশটির শীর্ষ দুই সামরিক কর্মকর্তা ও ৬ পরমাণু বিজ্ঞানী। শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে চালানো এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে রাইজিং লায়ন। নজিরবিহীন এই হামলার মূল কারণই ছিল পশ্চিমাদের ভাষায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি।
দীর্ঘদিন ধরে তেহরান দাবি করে আসছে তারা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান সেটি বরাবরই অস্বীকার করেছে। অন্যদিকেজাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আএইএ) অনেকদিন ধরেই ইরানকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের দায় দিয়ে আসছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) প্রায় দুই দশকে প্রথমবারের মতো আএইএ আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে এই শর্ত ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও আএইএ-এর মতে, ইরান ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটি গোপন ও সমন্বিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়েছিল। তবে ইরান বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পরমাণু চুক্তি-২০১৫ অনুযায়ী, ইরানকে ইউরেনিয়াম সর্বোচ্চ ৩.৬৭ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় দেশটি ৩০০ কেজি পর্যন্ত ইউরেনিয়াম মজুদ রাখতে পারত এবং শুধুমাত্র প্রাথমিক মানের আইআর-১ সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করতে পারত— যন্ত্রগুলো দ্রুতগতিতে ইউরেনিয়াম গ্যাস ঘুরিয়ে তা সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়: ট্রাম্প প্রশাসন
কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর থেকেই ইরান ধীরে ধীরে চুক্তি লঙ্ঘন করে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াতে থাকে। তারা ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে শুরু করে। —যা অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ থেকে একটু দূরের পর্যায়।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত ইরানকে বিভিন্ন নিষেধাধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে পুরোপুরি নিবৃত্ত করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের একজন প্রধান পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে ইসরায়েল। কিন্তু, এতেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম থেমে যায়নি দেশটির।
ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, ইউরেনিয়াম মজুদের ব্যাপারে তারা কোনো আলোচনা করবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আএইএ) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এমন তিনটি স্থানে গোপনে পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চলছে এবং যেখানে ব্যবহৃত উপকরণগুলোর তথ্য আএইএ-কে জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ইরানের পরমাণু স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের হামলা
গত মে মাসের শেষ দিকে আএইএ জানায়, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ বেড়ে ৪০৮ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এটিকে আরও সমৃদ্ধ করলে প্রায় নয়টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
৩৬৬ দিন আগে
সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পর্যটক প্রবেশ এবং মাছ ও কাঁকড়া ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। রবিবার (১ জুন) থেকে প্রায় এক মাস এই নিষেধাজ্ঞা সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশে বহাল থাকবে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান।
খুলনা রেঞ্জের আওতার এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যেই মাইকিং করে স্থানীয় বনজীবীদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সব ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু এবং পর্যটক প্রবেশ। নিরাপত্তা জোরদারে বাড়ানো হয়েছে বন বিভাগের টহল কার্যক্রম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবনের ডিএফও এজেডএম হাছানুর রহমান। বিগত দুই তিন ধরে খুলনা রেঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয় বনজীবীদের জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সুন্দরবনের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে সুন্দরবনের অন্তত ২৫১ প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে। এই সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে তিনজন ভারতীয়সহ পুশ ইন করা ৭৮ জন উদ্ধার
তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় তিনটি মাস তাদের কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হবে বলে জানিয়েছেন কয়রার অনেক বনজীবী।
শনিবার (৩১ মে) সকালে সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়ায় নদীর তীরে নৌকা বেঁধে রাখা ও মেরামতের দৃশ্য দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার নৌকা মেরামত করার জন্য বেড়িবাঁধের রাস্তার ওপর উঠিয়ে রেখেছেন।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে সব স্টেশনে পাশপারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের অধীনস্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।’
কয়রার বনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া, মধু আহরণ করে আমাদের সংসার চলে। তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ থাকবে। এলাকায় তেমন কোনো কাজ নাই, ভাবছি কীভাবে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাবো।’
সুন্দরবন সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী পাথরখালী গ্রামের জেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবার ১ জুন থেকে ৯২ দিনের জন্য সুন্দরবন বন্ধ। বন্ধের সময় সাগরে মাছ ধরা জেলেদের সরকারি সহায়তা করা হলেও সুন্দরবনের জেলেদের কিছুই দেওয়া হয় না। এর মধ্যে সবকিছুর দাম বেড়েই চলছে। বন্ধের সময় সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য না পেলে আমাদের সামনের দিনগুলো খুবই কষ্টের মধ্যে যাবে।’
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সাহিদ বলেন, ‘১ জুন থেকে সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা বন্ধের পাশাপাশি পর্যটক প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সুন্দরবনে প্রবেশের সব ধরনের পাস-পারমিট। এ সময় বন্য প্রাণী শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ আহরণ বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে বন বিভাগ।’
৩৭৯ দিন আগে
ভারতের আমদানি নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা
বাংলাদেশি কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের স্থলবন্দর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও কিছু খাদ্যপণ্য। ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দেবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ইউএনবিকে বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের পোশাক ভারতে পৌঁছাতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। এতে খরচও বাড়বে। অর্থাৎ, (ভারতে পোশাক) রপ্তানি কিছুটা কমে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন এমন পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের ক্ষতির পরিমাণ বাড়াবে।’
আরও পড়ুন: দুই সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত
বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ৫০ কোটি ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করে বলে জানান বিজিএমইএর সাবেক এই পরিচালক। বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের বড় ক্রেতা দেশ এবং সেখানে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার বড় হচ্ছিল। এখন এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল।’
ভারতের এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে ভুটান বা নেপালের ট্রানজিট পণ্য প্রভাবিত না হলেও সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর এটি একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুধু তৈরি পোশাক নয়; ফলমূল, কার্বনেটেড বেভারেজ, প্লাস্টিক ও পিভিসি পণ্য, কাঠের আসবাবপত্রসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপরও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় স্থলবন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সার্বিকভাবে ব্যবসা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকছেই।
শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানায়, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতীয় তুলা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং স্থলবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর ভারত এই সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ভারত সরকারের ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের বন্দর ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
ডিজিএফটির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে কোনো স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক আমদানি করা যাবে না। তবে ভারতের ব্যবসায়ীরা কেবল কলকাতা ও মুম্বাইয়ের নবসেবা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাসী, পুশ-ইন করি না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবিলম্বে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
পাশাপাশি ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফল এবং ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি রপ্তানি করা যাবে না।
তবে মাছ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ভোজ্যতেল ও ভাঙা পাথর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখেনি ভারত।
৩৯৩ দিন আগে
সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) মধ্যে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১২ মে) পরিবেশ-৩ শাখার জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ এর ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন
তবে, ইসিএ ঘোষণার আলোকে ওই অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশগত মান উন্নয়ন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে।
এছাড়া সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গঠিত ইসিএ এলাকায় পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
৩৯৮ দিন আগে