জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
বিমানবন্দরে কাপড়ের চালান থেকে ১,৬৫৫ মোবাইল ফোন জব্দ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোল হিসেবে আনা একটি চালান থেকে এক হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর জানায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে আমদানি করা চালানটি হংকং থেকে আসে। কাপড়ের রোলের ভেতরে ও সেগুলোর সঙ্গে লুকানো অবস্থায় মোবাইল ফোনগুলো পাওয়া যায়। জব্দ করা মোবাইল ফোনের মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি, ১৫০টি রেডমি ১৫সি এবং এক হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন।
ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে চালানে থাকা প্রকৃত পণ্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখতে পান কাস্টমস কর্মকর্তারা। কার্গো রেকর্ডে পণ্যের ধরন ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ থাকলেও অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল সিআরটি’ লেখা ছিল। পরে পরিদর্শনের সময় ঘোষিত কাপড়ের চালানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ ও হাউস এয়ারওয়ে বিল নম্বর জেজিএল৫৭২০৩। পণ্যগ্রহীতা হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম ও পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চালানটির ওজন ছিল ৮৯৫ কেজি এবং এতে ছিল ২০টি প্যাকেজ। গত ৩১ আগস্ট আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে করে চালানটি ঢাকায় আসে।
হাউস এয়ারওয়ে বিলে ঝেজিয়াং শাওজিং সিনহুয়া নিটিং কোম্পানিকে পণ্য প্রেরক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মাস্টার এয়ারওয়ে বিলে জ্যাংকো গ্লোবাল লজিস্টিক লিমিটেডের নাম উল্লেখ রয়েছে। পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল এফ এফ কার্গো সার্ভিস।
কাস্টমস কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, প্রযোজ্য শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা ও গোপন করার ঘটনা ঘটতে পারে।
জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর সঠিক মডেল ও আইএমইআই নম্বর নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত, তা যাচাই করবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণও নির্ধারণ করা হবে। বিস্তারিত তালিকা ও মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর এ জব্দের চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
৭ দিন আগে
বিমানের কর্মীর বেল্টে লুকানো ১৩.৯২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মীর কাছ থেকে ১২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকার কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১৩ দশমিক ৯২ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এদিন বেলা ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৮-এ স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য পায় কাস্টমস হাউস, ঢাকা। পরে কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ টিম বিমানে বিশেষ তল্লাশি চালায়।
বিমানটির মেকানিক্যাল ও ক্লিনিং দলের সদস্যরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষে বিমান থেকে নামার সময় তাদের তল্লাশি করা হচ্ছিল। এ সময় বিমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল হেলপার মো. সোয়েব গাজীর পরিহিত বেল্টের মধ্যে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়।
পরে বস্তুগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করা হলে সেখানে ১২০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৯২ কেজি। এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এনবিয়ার।
কাস্টমসের প্রাথমিক ধারণা, মো. সোয়েব গাজী কালো স্কচটেপে মোড়ানো স্বর্ণের বারগুলো শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে নিয়ে আসেন। পরে এগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।
ঢাকার কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর জানিয়েছে, অভিযানের সময় এভসেক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিয়ার জানিয়েছে, জব্দ করা স্বর্ণের বারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা করা হয়েছে। এছাড়া অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি-সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
১০ দিন আগে
শাহজালালে উড়োজাহাজের সিটের নিচে মিলল ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের আসনের নিচ থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালান।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে বিশেষ তল্লাশির জন্য উপস্থিত হন। এ সময় উড়োজাহাজটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি আসনের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কিছু বস্তু পাওয়া যায়। সেগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হলে ৮০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।
কাস্টমস জানায়, প্রতিটি স্বর্ণের বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে স্বর্ণের ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বর্ণের বারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। উড়োজাহাজটির আসনের নিচে কালো স্কচটেপে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে সরকারি ধার্যকৃত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সেগুলো দেশে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে যেকোনো পথে সেগুলো বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।
কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে চোরাচালানটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আটক স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় আজ (৩ সেপ্টেম্বর) একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ঢাকা কাস্টমস হাউস গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য চলতি করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু
করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আজ বুধবার (২২ জুলাই) হতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের সুবিধা চালু করেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে করদাতাদের মাঝে এই পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিগত ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে সফলভাবে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। করদাতাদের এই সাড়া প্রমাণ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের আগ্রহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। করদাতারা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে ও ঘরে বসেই তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক এক বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকগণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
৫৫ দিন আগে
দেশব্যাপী উৎসে কর কর্তন তদারকি ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার এনবিআরের
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলের বিশেষ টিম উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারায় কর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও কর্মপরিধি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (১৯ জুলাই) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত যেকোনো নথি পরীক্ষা ও তলব, কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে প্রবেশের ক্ষমতাও থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখা এবং প্রয়োজনীয় নথি, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের অনুলিপি সংগ্রহ করে তাতে সনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করতে পারবেন কর কর্মকর্তারা।
এনবিআর জানায়, রাজস্ব আহরণের এসব কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্মানিত করদাতাদের সঠিক আইনি ধারা ও আয়কর জমার নির্ধারিত অর্থনৈতিক কোড উল্লেখ করে ই-চালানের মাধ্যমে উৎসে কর্তিত কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ১৪৭ ধারা প্রয়োগ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা, জটিলতা, হয়রানি বা অভিযোগ থাকলে করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ১৪৭ ধারা-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিবের কাছে [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন।
৫৮ দিন আগে
কাস্টমস সার্ভার হ্যাক করে মদ-সিগারেট খালাসের চেষ্টা, চক্রের ১ সদস্য গ্রেপ্তার
কাস্টমসের নথিপত্র জালিয়াতি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন কাস্টমস সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশি মদ ও সিগারেট আমদানি করে বন্দরে খালাসের চেষ্টার অভিযোগে শেখ সেজান (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সিএমপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফয়সাল আহমেদ।
গত ১৫ জুলাই নেপাল পালানোর সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, চট্টগ্রামের বন্দর থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তে শেখ সেজানের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে একটি মামলায় চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে ফেব্রিকস আমদানির মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে একটি কনটেইনারে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আমদানির অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, অপর একটি ঘটনায় একটি কনটেইনারে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনার তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘবদ্ধ চক্রটি কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ সার্ভার ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পোর্টালে অবৈধভাবে প্রবেশ করে অন্যের ইউজার আইডি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনা করত। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সিএমপি জানায়, মামলাগুলো দায়েরের পর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ৭ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেখ সেজানের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ প্রবেশে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে লগইন করা হয়। পরে একই ইউজার আইডি ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালান-সংক্রান্ত মামলায় এলসি-জিআই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে, সেজানকে গ্রেপ্তারের জন্য নড়াইলের লোহাগড়া থানার অধীন তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তখন তিনি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় তার বাড়ি থেকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে অবৈধ প্রবেশ এবং এলসি-জিআই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি আরও জানায়, সেজান এর আগেও সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন এবং টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগে সিএমপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটিটিসির অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণা-সংক্রান্ত সাতটি মামলা রয়েছে।
মামলা দুটির তদন্তে এ পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর পরিচালক ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান এবং চক্রের অপর সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ ওরফে আরিফ এবং বড় রাজুকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৬০ দিন আগে
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল আরও এক মাস
ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো এই সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জারি করা আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানায় এনবিআর।
আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সকল করদাতা, যাদের অর্থবছর ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে, তাদের ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পুনরায় এক মাস বাড়িয়ে ১৫ মে নির্ধারণ করা হলো।
এর আগে এসব কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ১৫ এপ্রিল। তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ যোগ্য করদাতারা রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।
করদাতাদের রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং নির্ধারিত সময়ে অধিক সংখ্যক রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
১৫৫ দিন আগে
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর ব্যবস্থা চালু করল এনবিআর
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনের জন্য অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত করদাতারা এখন সহজেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এনবিআর।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রাজস্ব নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তিগত করদাতা ইতোমধ্যে তাদের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং চলতি করবর্ষে প্রায় ৪১ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
এনবিআর জানিয়েছে, ব্যক্তিগত করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে যেসব করদাতা এই সময়সীমার আগে লিখিত আবেদন করবেন, তারা সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন অতিরিক্ত সময় পেতে পারেন।
সময় বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতে এনবিআর তাদের ই-রিটার্ন সিস্টেমের ভেতরে একটি বিশেষ অনলাইন সুবিধা চালু করেছে। করদাতারা এখন সিস্টেমে লগ-ইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনুর মাধ্যমে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার অনলাইনে আবেদনটি পর্যালোচনা করে তা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করবেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদন অনুমোদিত হলে করদাতারা কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই বর্ধিত সময়ের মধ্যে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে এই অনলাইন সুবিধা পেতে করদাতাদের অবশ্যই ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হতে হবে এবং ৩১ মার্চের আগেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
যেসব করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়, তারা অনলাইনে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স সার্কেলে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সময় বৃদ্ধির অনুরোধ জানাতে পারবেন।
সকল ব্যক্তিগত করদাতাকে ৩১ মার্চের মধ্যে অথবা কর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।
১৮৩ দিন আগে
আয়কর আইনের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন আকারে প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গেল বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বাংলা ভাষায় প্রণীত আয়কর আইন, ২০২৩-এর স্বীকৃত ইংরেজি সংস্করণ (Authentic English Text) সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করে এনবিআর।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ বাতিল করে ২০২৩ সালে বাংলা আয়কর আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করার পর থেকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আয়কর আইনের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছিলেন।
‘আয়কর আইনের স্বীকৃত ইংরেজি সংস্করণ না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আইনের সঠিক ব্যাখ্যা ও অনুশীলনের বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে থাকতেন এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতেন।’
এবার আয়কর আইনের ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আয়কর আইন সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাবেন। এতে করে করদাতাদের আস্থা আরও বাড়বে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থবোধকতা দূর করে স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেটে প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এই দুটি আইনের ইংরেজি সংস্করণ সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
৩৩২ দিন আগে
বিদেশে পাচারকৃত অর্থে গড়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে এনবিআর
বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়া প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সিআইসি মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টার সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এ ছাড়াও নয়টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো টাকার বিনিময়ে অর্জন করেছে কিছু বাংলাদেশি।
দেশগুলো হচ্ছে— অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মালটা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।
এ সময় আহসান হাবিব বলেন, দেশে বসেই বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে সিআইসির গোয়েন্দারা দেশগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য তুলে নিয়ে আসেন।
আরও অনুসন্ধান চলমান আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ পাচার করে গড়ে তোলা ৩৪৬টি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এটি আমাদের অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র।’
তিনি বলেন, এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের অনুকূলে নিয়ে আসার জন্য এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সাজা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সিআইসি।
ছয়টিরও অধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।সিআইসি মহাপরিচালক বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি এটি ‘টিপ অব দ্য আইসবার্গ’। আমাদের কাছে এখনো প্রচুর তথ্য রয়েছে যা উন্মোচনে আরও সময় প্রয়োজন।
পড়ুন: সুশাসন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এমডির পদত্যাগ
এই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা শেখ হাসিনার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটবেজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোক বসিয়ে বহু তথ্য গায়েব করে দিয়েছে জানিয়ে আহসান হাবিব বলেন, আশার বিষয় হচ্ছে মুছে দেয়া তথ্য উদ্ধারে দক্ষতা অর্জন করেছে সিআইসি।
বিস্তারিত জানার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে দুদক, সিআইসি ও পুলিশের সিআইডিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, 'এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পত্তি তৈরি করতে না পারে।'
সিআইসিকে অনুসন্ধান কাজ চলমান রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যতদূর সম্ভব গভীরে যেতে হবে এবং সম্ভাব্য আরও দেশে অনুসন্ধান বিস্তৃত করতে হবে। যাতে দেশের সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
দেশের অর্থনৈতিক খাতের এই লুটপাটকে ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ বিনির্মাণ করতে হলে অবশ্যই এই লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।'তিনি বলেন, দেশের সম্পদকে কীভাবে লুটপাট করেছে কিছু মানুষ তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সেজন্য সবগুলো সংস্থাকে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
৩৯৪ দিন আগে