ভোট
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
২ দিন আগে
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট হতে পারে ৯ এপ্রিল
শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হতে পারে আগামী ৯ এপ্রিল।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের এক জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিকেলে দুটি আসনে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ দুই আসনের প্রবাসী এবং দেশের ভেতরে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরা পোস্টাল ব্যালটে যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হবে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করে ইসি।
এখন নতুন তফসিলের মাধ্যমে এ আসনে ভোট করতে হবে। অন্যদিকে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়ী হলেও সংসদে একইসঙ্গে একাধিক আসনে সদস্য থাকা যায় না বলে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। শূন্য এ আসনে এখন উপনির্বাচন করবে ইসি।
১০ দিন আগে
৫৪ বছর পর ভোট দিলেন ফরিদগঞ্জের নারীরা
পীর সাহেবের নিষেধ ভেঙে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এবার ফরিদগঞ্জের রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা ভোট দেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় দক্ষিণ চর মান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা ভোট দিতে আসেন।
বয়স্ক নারী ভোটার মহিফুলের নেছা (৯০) ইউএনবিকে জানান, ‘বাবারে, জীবনে এবারই প্রথম ভোট দিলাম।’
আরও কয়েকজন নারী ভোটার লাইনে দাড়ঁনো অবস্থায় বলেন, আমরাও এবারই প্রথম ভোট দিতে আইলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোট দিতে তাদের সময় বেশি লাগছে। কারণ কেউই গত ৫৪ বছর ভোট দেননি। ভোট দেওয়ার পদ্বতিটাও জানা নেই তাদের। এবারে দুটি ব্যালট পেপার। কীভাবে কী করবেন, কোথায় সিল মারবেন, কীভাবে ভাঁজ করবেন—অনেক কিছুই তাদের অজানা ।
৫৪ বছর ভোট না দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে কয়েকজন নারী বলেন, পীর সাহেবের মানা (নিষেধ) ছিল, বেপর্দা হবেন না, বাইরে যাবেন না, নারীরা ভোটও দিতে বাইরে যাবেন না, ভোটও দেবেন না। এভাবে চলতে চলতে, চলে গেল দীর্ঘ ৫৪টি বছর। ফলে সবাই ছিল ভোটবিমুখ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
ইউনিয়নের চর মান্দারি গ্রামের শফিউল্যাহ (৮০) বলেন, ‘১৯৬৯ সালে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কলেরা মহামারি দেখা দেয়। সেই সময়ে ভারতের ঐতিহাসিক জৈনপুরী দরবারের পীর এই এলাকায় সফরে ছিলেন। তখন লোকজন তার কাছে গেলে, আর্জি করলে নারীদের পর্দায় থাকার নসিহত করেন তিনি। তখন থেকেই নারীরা পর্দার খেলাপ হওয়ার ভয়ে ভোটে অংশগ্রহণ থেকে দীর্ঘ বছর বিরত থাকছেন। এবার কিছুটা বরফ গলছে।’
২১ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে ভোট দিয়ে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে আব্দুর রাজ্জাক রেজু মিয়া (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের মনতাজ চেয়ারম্যানের এলাকায় একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রেজু মিয়া ওই এলাকার মৃত আলাউদ্দিন ওরফে চান মিয়ার ছেলে ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে তার বাড়ির পাশের এলাকার কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বাড়ি ফেরার পথে একটি দোকানে বসেন তিনি। এ সময় নির্বাচনি টলহরত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর ফলে হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। কিন্তু তাতেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই বৃদ্ধের ছেলে মর্তুজ মিয়া বলেন, সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখে ভয়ে আমার বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর ফলে অসুস্থ হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক বলেছেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য জানায়, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এটা আমার ভোটকেন্দ্রের বাইরে। তবে এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
২২ দিন আগে
ভোট দিতে গেলেন মা, পানিতে পড়ে সন্তানের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় মা ভোট দিতে যাওয়ার পর পুকুরের পানিতে ডুবে হাসান (৩) নামে এক শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খোরদ গ্রামে নিহতের নানাবাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসান উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের ইসরাইল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী তার জমজ দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা ভোট দিতে কেন্দ্রে যান। এ সময় দুই জমজ শিশু হাসান-হুসাইনকে বাড়িতেই রেখে যান তিনি।
তারা বলেন, ভোট দিয়ে ফিরে এসে হুসাইনকে ঘরে পেলেও শিশুর মা হাসানকে ঘরে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে শিশুটির নিথর দেহ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, হাসান ছিল খুবই প্রাণবন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের। মায়ের ভোট দিতে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা ঘটায় পরিবারে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
২২ দিন আগে
দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ: ইসি
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নয় ঘণ্টাব্যাপী ভোটগ্রহণের প্রথমার্ধে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোটার উপস্থিতি ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা যে খবর পেয়েছি, সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ।’
সব কেন্দ্রে ভোট চালু আছে জানিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেগুলো এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নেই।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
আখতার আহমেদ জানান, ময়মনসিংহে বৃহস্পতিবার ভোরে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অসুস্থ হয়ে মারা যান। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফলে ওই ভোটকেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।’
২২ দিন আগে
ভোট নয়, টিকে থাকার দুশ্চিন্তায় কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়লেও কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এখানে ভোট নয়, মানুষের প্রধান ভাবনা—আগামী বছর বসতভিটা থাকবে তো? অসুস্থ হলে শহরে কি পৌঁছানো যাবে? সংসার চলবে কীভাবে আর সন্তানরা আদৌ শিক্ষার আলো পাবে কি?
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা, গোয়াইলপুরী, পূর্ব ঝুনকা, অষ্টআশির চর, চিড়া খাওয়া, খেয়ারচরসহ প্রায় ২০টি চরে বসবাসরত প্রায় ৫ হাজার ২০০ ভোটারের মধ্যে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। অনেকেই জানেন না ‘হ্যাঁ’ ভোট বা ‘না’ ভোট কী; এমনকি ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।
চরাঞ্চলের মানুষের জীবন নদীনির্ভর ও অনিশ্চিত। ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনের ফলে এসব চর সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও যোগাযোগব্যবস্থা।
কালির আলগা চরের বাসিন্দা জামাল বলেন, ‘ভোট দিয়ে কী হবে? নদী আইলে আইলে ভাঙে। আজ ঘর আছে, কাল নাই—এই চিন্তায় ভোট মনে আসে না।’
গোয়াইলপুরী চরের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোটের সময় কেউ আসে না। আর এলেও ভোট শেষ হলে আর খোঁজ থাকে না। তাই ভোট নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই।
চরাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষক নিয়মিত না যাওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পূর্ব ঝুনকা চরের এক অভিভাবক বলেন, ‘স্কুল আছে, কিন্তু মাসে কয়দিন শিক্ষক আসেন, কেউ জানে না।’ বাচ্চারা পড়ালেখা থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলে শঙ্কিত তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার অবস্থাও নাজুক। স্থায়ী কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। চিড়া খাওয়া চরের গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, অসুখ হলে নৌকা পাওয়াই মুশকিল। শহরে যেতে যেতে অনেক সময় চলে যায়। এই অবস্থায় ভোটের কথা ভাববে কে?
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘শুধু যাত্রাপুর ইউনিয়ন নয়, কুড়িগ্রাম জেলায় ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত চর ও দ্বীপচর মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৪৬৯টি চর রয়েছে। এর মধ্যে ২৬৯টি চরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করছে। এসব চরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ বলতে কার্যত কিছুই নেই।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে রাজনৈতিক নেতারা যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে চরবাসী। ফলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ খুবই কম।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘দারিদ্র্যের দিক থেকে ৬৪ জেলার মধ্যে কুড়িগ্রাম প্রায় তলানিতে অবস্থান করছে। ২৩ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ মানুষ দরিদ্র। চরাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার আরও বেশি।’
তিনি বলেন, ‘গত পতিত সরকার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় শুধু চরাঞ্চল নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোটের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। আমার হিসেবে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার নীরব অবস্থানে রয়েছেন। ফলে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত জটিল। কোন প্রার্থী জয়ী হবে, তা অনুমান করা কঠিন।’
চরবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের তেমন আনাগোনা নেই। প্রচারণা শহর ও মূল ভূখণ্ডেই কেন্দ্রীভূত থাকে। চরগুলো এসব কার্যক্রম থেকে কার্যত উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
খেয়ারচরের যুবক আল আমিন বলেন, ‘ভোটের জন্য কেউ আসে না, বোঝায় না। উন্নয়ন না হলে ভোটে আগ্রহ আসবে কীভাবে?’
চরবাসীরা বলছেন, তারা ভোটের বিরোধী নন। তবে ভোটের আগে নয়, ভোটের পর বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চান। নদীভাঙন রোধ, স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হলেই ভোটের গুরুত্ব তাদের কাছে নতুনভাবে ধরা দেবে। তাদের একটাই দাবি, ভোটের আগে চাই বাঁচার নিশ্চয়তা; উন্নয়ন এলে ভোট আপনাতেই গুরুত্ব পাবে।
২৬ দিন আগে
ভোটের মাঠে অনড় সিলেট বিভাগীয় বিএনপির ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল (মঙ্গলবার)। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির ৫ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে অনড় রয়েছেন তারা।
ওই পাঁচ প্রার্থী হলেন— সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে মত স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মানুষের।
সিলেট জেলার মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তিনি সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মামুনকে দল থেকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়ত ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এখানে প্রার্থী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
৪৪ দিন আগে
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন, নজরদারিতে থাকবে ৪১৮ ড্রোন
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (বেশি ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ভোটের সময় নজরদারি জোরদারে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক মোতায়েন হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনের জন্য। পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয় থাকবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির পাশাপাশি ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সমন্বয় সেলে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ প্রশিক্ষণ ২০ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। নজরদারিতে ব্যবহৃত ৪১৮টি ড্রোন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও আনসার বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও নির্বাচনকালে ব্যবহৃত হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’। এনটিএমসি প্রস্তুত করা এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দুর্গম ও চরাঞ্চলে ব্যালট ও নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগে চার দিন সারা দেশে নিবিড় টহল চালানো হবে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২ এর অগ্রগতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অভিযানে ১৯ হাজার ৮৫৪ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনে।
নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৪৬ দিন আগে
৩৫ বছরের অচলায়তন ভেঙে আজ চাকসুর ভোট
দীর্ঘ ৩৫ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ।
তফসিল অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সপ্তম চাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটগ্রহণ শেষে হবে গণনা। কেন্দ্রীয় সংসদের ফলাফল ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে এবং হল সংসদের ফলাফল নিজ নিজ কেন্দ্র থেকে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এবার চাকসুর মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬ পদের বিপরীতে ৪১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
ভোটকেন্দ্র
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ছাত্রদের ও ৫টি ছাত্রীদের। এছাড়া রয়েছে শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের দুটি ভবন মিলিয়ে মোট পাঁচটি ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রে হল সংসদ ও একটি কেন্দ্রে হোস্টেল সংসদ নির্বাচন হবে।
আরও পড়ুন: ৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ অক্টোবর
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে একটি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য ৬০ কক্ষে ৭০০টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স এবং পাঁচ জন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
চাকসুতে মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ এবং ছাত্রী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন।
পদ ও প্রার্থীর সংখ্যা
এবারের চাকসুতে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সংসদে মোট পদসংখ্যা ২৬টি। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৪১৫ জন।
এর মধ্যে, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২১ জন, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৫ জন, দপ্তর সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে ১৪ জন, ছাত্রীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩ জন, সহ-ছাত্রীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১০ জন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ১১ জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২ জন, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ১৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ১৬ জন, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৪ জন, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ৯ জন, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে লড়ছেন ৮৫ জন।
আরও পড়ুন: চাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নে ৫ সদস্যের রিভিউ কমিটি
অন্যদিকে, হল ও হোস্টেল সংসদে পদ সংখ্যা ১৪টি করে যার বিপরীতে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন।
ভোটদান
প্রত্যেক ভোটার ৫টি ব্যালটে চাকসু ও হল সংসদে ৪০ জন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। ভোট দিতে একেকজন ভোটার ১০ মিনিট সময় পাবেন। অর্থাৎ, একজন ভোটারকে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট দিতে হবে।
এ নির্বাচনের ভোট হবে ব্যালট পেপারে। গণনা হবে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের বৃত্ত পূরণ করে ভোট দিতে হবে।
ভোটের সরঞ্জাম এর মধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে চাকসু নির্বাচন কমিশন।
ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১১ বার করে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা–যাওয়া করবে শাটল ট্রেন। এ ছাড়া চলাচল করবে ৩০টি বাস।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। চলছে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের টহল।
নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজারখানেক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দলও ক্যাম্পাসে টহল দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাত পেরোলে ডাকসু নির্বাচন, নতুন ভোরের অপেক্ষায় ক্যাম্পাস
ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
গত ২৮ আগস্ট চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই শেষে ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ওই মাসের ১৪ তারিখ থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হয়ে চলে ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেটি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. মুনির উদ্দিন বলেন, ৫টি ফ্যাকাল্টিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এসব ফ্যাকাল্টির ৬০ কক্ষে ৭০০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসা যাওয়ার জন্য বাড়তি শাটল ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো ভোটকেন্দ্র থাকবে সিসিটিভির আওতায়।
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। এরপর থেকে প্রতি শিক্ষাবর্ষে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়েছে মোটে ছয়বার।
সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। ওই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র শিবিরকে পরাজিত করে চাকসু ও হল সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য।
ষষ্ঠ চাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় ছাত্রলীগের নাজিম উদ্দিন ভিপি নির্বাচিত হন। আর জিএস নির্বাচিত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমদ।
১৪২ দিন আগে