প্রতিবেদন
টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংনির্ভর, তারা তদন্ত করে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘পত্রিকার কাটিংনির্ভর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না; তাই প্রকৃত তথ্য জানতে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ-পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত।
সম্প্রতি আলোচিত তিনটি মামলার তদন্তে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে রবিবার (৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, সরকারের ১০০ দিন পূর্তির পর পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি না এবং টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে ৬ শতাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করেন কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে সেই রিপোর্টটা সামনে নাই। আমরা মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করি। ডাকাতি, খুন, হত্যা, ধর্ষণ—এসব অপরাধ জাতীয়ভাবে প্রতি মাসে এবং বছরওয়ারী কতটা ঘটছে, তার হিসাব আমাদের কাছে থাকে। এরপর আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে তা তুলনা করি।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ এক বছর হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে একটি পরিসংখ্যান দেখেছি, সেখানে ২০২৫ সালের তুলনায় আমাদের সময়ে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই অপরাধ কমেছে। ২০২৫ সাল বা ২০২৪ সালের সঙ্গে যদি মাসিক হিসাব করি, তাহলে তো তুলনাই চলে না। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আপনি যেটা বললেন, সেটা আমার সামনে নাই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জনগণই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিচার করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। তাদেরকে মানসিকভাবে উৎসাহিত করা দরকার, যাতে তারা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এবং আইনের শাসন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারে।’
সরকারের নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ (পুরস্কার ও শাস্তি) নীতিতে বিশ্বাস করি। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি। শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন—এটাই আমাদের নীতি। আমরা বাস্তবে সেটা ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, সামনের দিনে দেখা যাবে যে আমরা কতটুক সফল হয়েছি।’
টিআইবির মূল্যায়ন সরকার গ্রহণ করছে নাকি প্রত্যাখ্যান করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি তো সরকারি সংস্থা নয়। আপনারা পরিসংখ্যান নেবেন পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। তারপর আপনারাই বিচার করবেন, জনগণ বিচার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিংয়ের ভিত্তিতে। টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে তারপর কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের সামনে যেটা আছে, সেটা হলো পুলিশের অপরাধ চিত্র; সেটি আমরা জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করি, সেটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক এবং সেটাই প্রকৃত তথ্য।
তিনি বলেন, পত্রিকান্তরে অনেক খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলো আমরা অবশ্যই নজরে আনি এবং খোঁজখবর নেই। প্রত্যেকটা ঘটনা যে সঠিক, সেরকম বলা যাবে না। তবে যেহেতু পত্রিকার লেখার স্বাধীনতা আছে, আমরা সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পাঠাই।
তার কথায়, ‘আমি সমস্ত পত্রিকার কাটিংগুলো সকালে না দেখতে পারলেও দেখি; সারা দিনের মধ্যেই দেখি। দেখে আমি কনসার্নড ডিপার্টমেন্টের (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ) কাছে পাঠাই যে এ বিষয়ে আপনারা এক্সামিন করে (খতিয়ে দেখে) আমাকে মতামত দেন, প্রকৃত ঘটনা কী। তো টিআইবির রিপোর্টটা তো শুধু পেপার কাটিংয়ের ওপরে হয়ে থাকে। তাই সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ সদস্যদের ভাতা ও আর্থিক বরাদ্দ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সরকার সে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কিংবা পুলিশ টহলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেন পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য আমরা চেষ্টা করব।
১১ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার হাতে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে গঠিত স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশন। জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দিয়েছেন।
সোমবার (৫ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ড. ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় ‘ভুল সংবাদ’ প্রচারে প্রেস উইংয়ের নিন্দা
এর আগে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর জাতীয় অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খানকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
কমিশনে রয়েছেন খ্যাতনামা চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
৪১০ দিন আগে
৬ সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ
রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ছয় সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্থার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের (প্রথম খণ্ড) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
এসব কমিশনের সুপারিশ করা আশু করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়ে। সেদিন কমিশনগুলোর প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়।
গত বছরের ৩ অক্টোবর সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন ছাড়া বাকি পাঁচটি কমিশন গঠন করা হয়। এরপর ৬ অক্টোবর গঠিত হয় সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন। সবগুলো কমিশনকে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। তবে পরে সেই সময় কয়েক দফা বাড়ানো হয়।
৪৯৬ দিন আগে
ছয় কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ ৮ ফেব্রুয়ারি: আসিফ নজরুল
অন্তবর্তী সরকার গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এমন তথ্য জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছয় সংস্কার কমিশন প্রধানদের সঙ্গে আজ প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঐকমত্য কমিশনের প্রধান হিসেবে এ বৈঠক করেন। তিনি সংস্কার প্রতিবেদন বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন।
‘আজকের বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংস্কার কমিশনগুলোর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করছি,’ বলেন আসিফ নজরুল।
তিনি আরও বলেন, একইদিন ছয় কমিশনের প্রধানরা আশু করণীয় সম্পর্কে এবং সংস্কার বিষয়ে মধ্যমেয়াদে বা দীর্ঘমেয়াদে কী করা যেতে পারে; সে বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সুপারিশনামা পেশ করবেন।
উপদেষ্টা বলেন, এই সুপারিশনামা এবং সংস্কার রিপোর্ট আমরা রাজনৈতিক দল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর কাছে পৌঁছে দেব। তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সমঝোতার ভিত্তিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে কাজ করছে সরকার: আসিফ নজরুল
‘আমরা আশা করছি, এ বৈঠক ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেই তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওই সভার সভাপতিত্ব করবেন ঐকমত্য কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,’ বলেন তিনি।
সংবিধান পুনর্লিখন হবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান বাতিল বা সংশোধনীর ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি। সংবিধানের ব্যাপারে কোন পদ্ধতিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো হবে সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত হবে।
‘সবাই মিলে জাতীয় নির্বাচন এবং গণপরিষদ নির্বাচন যদি একসঙ্গে হয়, গণপরিষদের মাধ্যমে সে প্রস্তাবগুলো অনুমোদন পেতে পারে। এগুলো হচ্ছে আমার কথা। এছাড়াও আরও বিভিন্ন পদ্ধতিতে করা যেতে পারে কি পদ্ধতিতে করা হবে সেগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করা হবে,’ বলেন তিনি।
৫০০ দিন আগে
১১৫ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ২ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে ১১৫ বার পেছালো এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।
এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন ওই সাংবাদিক দম্পতি। এ সময় তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ বাসায় ছিল। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙা আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুর ৬ দিনের রিমান্ডে
এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। মামলার আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ সাগর-রুনির বাড়ির ২ নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের 'বন্ধু' তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছে। বাকিরা কারাগারে আছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২৩ অক্টোবর আলোচিত এ মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আহ্বায়ক করা হয় পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পিবিআইয়ের প্রধান মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরীকে।
৫০৮ দিন আগে
এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি ৬ সংস্কার কমিশন
সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ নির্বাচন, বিচার বিভাগ, দুদক, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন- এই ছয় সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কমিশন প্রতিবেদন জমা দেননি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, কমিশনগুলো সময় বাড়িয়ে নিয়েছে।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে তারা। এর মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের আহ্বান বদিউল আলমের
নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘৩ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
দুদক সংস্কার কমিশন প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘৩ অক্টোবর সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও তারা কাজ শুরু করেছে ৭ অক্টোবর। তাই ৭ জানুয়ারির মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন।’
সংবিধান সংস্কার কমিশন থেকে জানা গেছে, আগামী ৭ জানুয়ারি ৬ সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন প্রধান উপদেষ্টার কাছে।
আরও পড়ুন: প্রবীণ সাংবাদিক বদিউল আলম আর নেই
৫৩৫ দিন আগে
লাশের সুরতহাল-ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য রয়েছে: মুনিয়া হত্যামামলার আইনজীবী
মোশাররাত জাহান মুনিয়া হত্যা মামলায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন উপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী ও স্বজনরা। একই সঙ্গে আসামি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাল্টে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি মামলার প্রধান আসামি সায়েম সোবহান আনভীরসহ অন্যদের বাাঁচাতে আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতেই মুনিয়া হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা সাজিয়ে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে আদালতে।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, এ দুটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলেই মুনিয়াকে হত্যার ঘটনার ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে। মুনিয়ার স্বজনরাও একই দাবি করেন।
২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল গুলশানের ভাড়া বাসা থেকে ২১ বছর বয়সি মোশাররাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনভীরকে প্রধান আসামি করে গুলশান থানায় মামলা করেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।
আরও পড়ুন: মুনিয়া হত্যা: হুইপপুত্র শারুনের সাবেক স্ত্রী সাইফা কারাগারে
ওই বছরের ১৯ জুলাই সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে তিনি আনভীরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।
এদিকে সেই প্রতিবেদনে নারাজি দিয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এবং আদালত সেই আপিল গ্রহণ করেন।
মামলার রিটকারী আইনজীবী সরোয়ার হোসেন জানান, মোশাররাত জাহান মুনিয়াকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বনানীর একটি বাসায় রেখেছিলেন আসামি আনভীর। এরপর ১ মার্চ থেকে খুন হওয়ার আগ পর্যন্ত গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে রাখেন। বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশানের বাসায় আনভীর ছাড়া অন্য কেউ ঢুকতে পারতেন না।
সরোয়ার বলেন, ‘মুনিয়া মারা যাওয়ার পর তার লাশ ঝুলন্ত থাকলেও পা খাটের সঙ্গে লাগানো ছিল। কেউ আত্মহত্যা করলে পা খাটের সঙ্গে লাগানো থাকবে না। তার মানে তাকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। অপরাধী এটা খেয়াল করেনি। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার আগে তাদের মধ্যে জোর-জবরদস্তি করা হয়েছে। যার জন্য তার ইনার গার্মেন্টস ছেড়া ছিল। গুলশান থানায় বাদীর বক্তব্য গ্রহণ না করে, ভুল করে পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যা প্ররোচনা হিসেবে রেকর্ড করে। কিন্তু প্রথমেই এই মামলা ৩০২ ধারার হওয়ার কথা ছিল।’
এ আইনজীবী বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনিয়ার শরীরে পুরুষের বীর্য পাওয়া গেছে। তার মানে তাকে মৃত্যুর আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেই বীর্য আনভীরের, কারণ সিসিটিভি ফুটেজ ও দারোয়ানের কথা অনুযায়ী সেই বাসায় আনভীর ছাড়া কেউ যেতে পারতেন না। আরও ভয়ংকর তথ্য হলো, মেয়েটা তিন সপ্তাহের অন্তঃসত্তা ছিল। তার মানে এটা দুইজনকে হত্যা করা। একদিনের ভ্রুণও যদি হত্যা করা হয়, সেটাও একটা হত্যাকাণ্ড।’
সরোয়ার বলেন, ‘এসব তথ্য গুলশান থানা ও পিবিআই দুটোর তদন্তেই এসেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যই বলে এই মামলা সাজানো হয়েছে। এত কিছুর পরও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামিদের অব্যাহিতির আবেদন মানে আসামিরা প্রভাব খাটিয়েছে।’
মামলা সম্পর্কে সরোয়ার বলেন, ‘প্রথম মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেয় ৩০৬ ধারায়। সেখানে আসামিকে অব্যাহতির আবদেন করা হয়। তার বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দিই এবং ফ্রেশ পিটিশন নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে যাই। সেখান থেকে এই মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ (১) ধারা এবং ৩০২ ধারায় রেকর্ড করার জন্য দ্বিতীয়বার গুলশান থানাকে বলা হয়। পাশাপাশি পিবিআইকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও আমরা আপিল করেছি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২৮ ধারায়। আপিল গ্রহণের পর আমরা হাইকোর্টে শুনানির জন্য দিয়েছি।’
মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বলেন, ‘আপনারা এখনও আমার বোনের হত্যা মামলা নিয়ে কাজ করছেন, এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তখন বিচার হয়নি। আমরা শুনানির জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা আসামির ফাঁসি চাই।’
নুসরাতের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার শ্যালিকা মুনিয়া হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত, সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এদিকে মুনিয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় যেসব পুলিশ সদস্য কাজ করেছেন তাদের কেউ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্বে নেই। এরপরও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনবির এ প্রতিবেদক। তবে তারা কেউই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানজিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে। তিনি একদিন সময় নেন তথ্য দেওয়ার জন্য। তবে পরদিন যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগে যারা ছিলেন তারা মুনিয়ায় ব্যাপারে কথা বলতে চান না।
আরও পড়ুন: মুনিয়া হত্যা মামলা: ষষ্ঠবারের মতো পেছালো তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের তারিখ
৫৭৭ দিন আগে
কোনো প্রতিবেদনের বিষয়ে কাউকে ফোন করেনি সরকার: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের আঘাত সহ্য করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের এক মুখপাত্র এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘কোনো সংবাদপত্রের ওপর হামলা আমরা বরদাশত করব না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা কোনো সরকারি সংস্থা কোনো রিপোর্টের বিষয়ে কাউকে একটি ফোনও করেনি। 'এমন একটা উদাহরণও নেই'
আলম বলেন, ‘আমরা বিনয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা করার জন্য জানিয়েছিলাম। যখন আমরা কোনো প্রতিবেদনে ভুল লক্ষ্য করেছিলাম।’
গত ১৫ বছরে দেশটি যেসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে এবং কীভাবে এটি একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে তা স্মরণ করেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল বা কোনো অনলাইন মিডিয়া বন্ধ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস উপসচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর ও আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদক পরিষদ সম্প্রতি বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও সমাজের কোনো কোনো মহলের কাছ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনও আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়া অফিসগুলো হামলা ও অবরোধের হুমকির সম্মুখীন।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংস্কার কমিশন প্রধানদের সাক্ষাৎ
এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস উপসচিব আজাদ বলেন, সরকার সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি দেখেছে এবং তা পর্যালোচনা করেছে।
তিনি বলেন, সরকার বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং যদি কেউ কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয় তবে প্রয়োজনীয় যা কিছু করা দরকার তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রেস সচিব আলম বলেন, সরকার 'মুজিববর্ষের' নামে কী পরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে তা বের করতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থ ব্যয়ের একটি ডকুমেন্টেশন তৈরি করবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের ফলাফলের ওপর ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের অভিনন্দন
৫৮৯ দিন আগে
দারিদ্র্যসীমার নিচে ৪ কোটি বাংলাদেশি: ইউএনডিপির প্রতিবেদন
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ চরম ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ যৌথভাবে 'গ্লোবাল মাল্টিডাইমেনশনাল পোভার্টি ইনডেক্স ২০২৪: পোভার্টি অ্যামিড কনফ্লিক্ট' শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু ইউএনডিপির
এতে বলা হয়, এটি বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ও দরিদ্র জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে অবদান রাখছে। যা দারিদ্র্য সূচকের ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের কারণগুলোও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যা যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ১১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যার প্রায় অর্ধেক বাস করছে সংঘাত কবলিত অঞ্চলে। চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীদের ৮৩ শতাংশই আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাস করছে, যা আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও তুলে ধরেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় আশঙ্কাজনক ২৭ কোটি ২০ লাখ মানুষ এমন পরিবারে বাস করে যেখানে অন্তত একজন সদস্য অপুষ্টিতে ভুগছে। এই অঞ্চলে দারিদ্র্যকে আরও জটিল করে তোলে এমন গুরুতর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির সমস্যাগুলোর উপর জোর দেয়।
ইউএনডিপির সর্বশেষ এই প্রতিবেদনে দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে এবং বাংলাদেশ ও এর বাইরে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে ইউএনডিপি ও নরওয়ে
৬০৯ দিন আগে
প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাংবাদিককে ‘গুলি’
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশজুড়ে সহিংসতার মাঝে নরসিংদীর সহিংসতার খবর প্রকাশ করায় জেলার রায়পুরায় মনিরুজ্জামান মনির (৪০) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
রায়পুরার বিভিন্ন স্থানে মানুষের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: শাহবাগে কোটা আন্দোলনের খবর সংগ্রহের সময় হামলার শিকার সাংবাদিক
মনিরুজ্জামান মনির উপজেলার মেথিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রায়পুরা উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক দেশ রুপান্তরের রায়পুরা প্রতিনিধি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন দুপুর ১২টার দিকে রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুর বাজারে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন মনিরুজ্জামান। এসময় অন্তত ১০ জন দুর্বৃত্তের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। হাতুড়ি দিয়ে তারা মনিরুজ্জামানের মাথায় আঘাত এবং হাতে-পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রায়পুরা থানা পুলিশের কোনো তৎপরতা না থাকায় হামলার পর ওই সাংবাদিককে উদ্ধার ও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন বাংলাদেশ সোনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনার পর রায়পুরায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) রঞ্জন কুমার বর্মন বলেন, ‘মনিরের হাতে ও পায়ে গুলি লেগেছে। মাথায় হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর জখম রয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বিধায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
জাবিতে পুলিশের হাতে সাংবাদিক ‘লাঞ্ছিত’
৬৭৫ দিন আগে