বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক
জাপানের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি: হুমায়ুন কবির
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশ বা বঙ্গোপসাগর নিয়ে কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, যৌথ বিবৃতিতে তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই। এখানে বঙ্গোপসাগরেরও কোনো উল্লেখ নেই। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করে বিগ-বি ধারণাকে আঞ্চলিক শিল্প সরবরাহব্যবস্থায় সম্প্রসারণ করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম।
আঞ্চলিক উদ্যোগে অন্য দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে। একইভাবে আমাদেরও তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন, জাপান থেকে এলএনজি আমদানি করার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্মিনালটি পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশও এ ধরনের একটি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ কারণে টার্মিনালটির নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনাপদ্ধতি সরেজমিনে দেখতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের এলএনজি টার্মিনাল একটি পরীক্ষিত উদাহরণ। তাই সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল, টার্মিনালটি দেখতে কেমন, তারা কীভাবে এটি তৈরি করেছে এবং এটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখা। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের জন্য একটি ধারণা পেতে চেয়েছি।
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত জাপানি অর্থনৈতিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ বৈঠকের পর শিগগিরই মিশন পাঠানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা যেখানেই যাই না কেন, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয়—এটি আমাদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও বিনিয়োগনির্ভর একটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তে থাকা ঝুঁকি, প্রযুক্তির দ্রুত উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জাপান বিগ-বি ধারণাকে ‘সমৃদ্ধির অংশীদারত্বের জন্য বিগ-বি’ (বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি) নামে নতুন রূপ দিতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অংশীদারত্বের আওতায় এটিকে ‘কৌশলগত সহযোগিতা’ উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ সরকারের নেই।
গত ২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা ‘জাপান-বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
সানায়ে তাকাইচি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় জাপান হালনাগাদ ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ (ফ্রিপ অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক—এফওআইপি) রূপকল্পের আওতায় বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও সংকট মোকাবিলার দৃঢ়তাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। পাশাপাশি ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে জাপান আগ্রহী। এছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন সানায়ে তাকাইচি।
৫ দিন আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান
বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন সে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আকাজাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত সহযোগিতার বিভিন্ন খাত এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান আগ্রহকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
৭ দিন আগে
সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-জাপান, টোকিওতে বৈঠকে বসছেন দুই প্রধানমন্ত্রী
‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
চার দিনের আসন্ন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অন্যদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে সমন্বয়ও বাড়বে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতির মিল রয়েছে।
এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে অথবা নতুন কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানাতে পারে।
সূত্রটি আরও বলে, চ্যালেঞ্জিং সময়েও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং এ বাজার থেকে সরে যায়নি।
কয়েকটি কোম্পানি সফরকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, সফরের সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে।
সফরের সময় এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম এবং চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাপান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি।
গত এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি-সংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা তা সমাধান করা সম্ভব নয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনলাইনে ওই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবার এ সফরের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও সিয়াম আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বাড়বে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই নেতা বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সিয়াম।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
সিয়াম বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলছে।
এ সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব।
বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার জন্য আসন্ন সফরকে সময়োপযোগী সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের চিবা প্রিফেকচারের কাৎসুরা শহরে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লো সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
১৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত, জাপান সফর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে: শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময় এবং দুই দেশের আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে তার ওপর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের একটি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমরাও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো একটা সুইটেবল (উপযুক্ত) সময়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জাপান সফর করবেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এটা আমাদের দুই দেশেরই একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারা জানেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারতসহ অন্যান্য সফরের কোনোকিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো অবশ্যই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান ও ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।’
তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামনে সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে কাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের মধ্যেই সময় মিললে ভারত, জাপানসহ প্রধানমন্ত্রীর সব সফরই হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশ সফরের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আছি। কিন্তু এটা নির্ভর করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, সেটার ওপর।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ আছে
এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’
ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) হতে হবে।’
তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ‘সেটাই আমরা আশা করি। ভারতও যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি।’
সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর আলোচনা
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর করেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির বিষয়ে এবং আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরদার। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে, তা তারা দেখেছেন।
৮৩ দিন আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার বাজারে প্রবেশের সুযোগ: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাপান এখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপান প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে (সার্কভুক্ত দেশসমূহের বাজার) প্রবেশাধিকার অর্জন করতে পারে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) অগ্রগতি এবং জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এসব উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, জাপানের মেইজি পুনর্গঠন (মেইজি রেস্টোরেশন) শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির রূপান্তরের অনুকরণীয় উদাহরণ। বাংলাদেশও জাপানের এই উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি ছিল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭ কোটিরও বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার অতিক্রম করায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের যৌথ লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরে এ বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প উপাদান, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, এপিআই ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রোবোটিকস, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। আর্কটেকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে অংশীদারত্বের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমঘাটতি ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে জাপান সরকার, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে এ সেমিনার আয়োজন ও বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে তাদের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাইকাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাপান কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান এখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির অভিযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই শুধু একটি দেশের বাজারে প্রবেশ নয়, বরং ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বিশাল আঞ্চলিক বাজারে (সার্কভুক্ত দেশসমূহের বাজার) প্রবেশের কৌশলগত সুযোগ।
সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকি, সাইফার-কোর কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোটোইউকি ওদাচি ও জাপানের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯২ দিন আগে
জাইকা বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী, সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।
১২২ দিন আগে
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়াবে বাংলাদেশ-জাইকা
বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা’র প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, মেট্রোরেল প্রকল্প, সড়ক ও সেতু অবকাঠামো, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে জাইকার সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে জাইকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরাপদ, আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে গণপরিবহন, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাইকা ভবিষ্যতেও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। চলমান প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় খাতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মেট্রোরেল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন, মাতারবাড়ী অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে একমত হন।
এ সময় বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
১২৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা
জাপানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন বলে তিনি জানান। শিপলু বলেন, বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ (আইসিটি) বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্যরা প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেছেন যে বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও তা সহজতর করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শিপলু আরও বলেন, প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য সরকার বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের সেবাগুলোকে একটি ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি জাপানের অন্যতম বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক পর্যায়ে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি এবং খাদ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খাইরুজ্জামান মজুমদার।
অন্যদিকে, মিতসুই প্রতিনিধিদলে ছিলেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাকোতো সাতো, এশিয়া-প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি কর্মকর্তা তাকানোবু মুরাইয়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারম্যান কেনিচিরো কাওয়ামোতো এবং প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান।
১৫৪ দিন আগে
জ্বালানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শ্রমবাজার এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে’র একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল বৈঠকের পর জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেইয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এ আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন সহজতর করতে জাপানের আরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
১৯৭ দিন আগে
আগামী তিন বছরে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে
‘জাপান টাইমস’-এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ‘দক্ষতার জন্য কর্মসংস্থান’ (ইএসডি) এবং ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিদেশের শ্রম বাজার সম্প্রসারণের হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথল্য দেখানো যাবে না।
তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার ও উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাপান প্রধানত চারটি ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মী গ্রহণ করে থাকে। ‘জাপান টাইমস’-এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ‘দক্ষতার জন্য কর্মসংস্থান’ (ইএসডি) এবং ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি মোতাবেক, দেশের অভ্যন্তরের শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পর বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি অতিরিক্ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে যার একটি বিরাট অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি বাংলাদেশি কর্মীর প্রবাসে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বলা হয়, জাপানি ভাষা শিক্ষক/প্রশিক্ষক নিয়োগ ও চাহিদা অনুসারে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুতকরণ, জাপানে ‘ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট’ ভিসায় শিক্ষার্থী প্রেরণের হার বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশে এসএসডব্লিউ-এর ১৬টি ক্ষেত্রের মধ্যে ৬টির পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
অপর ১০টি ক্ষেত্রের দক্ষতার পরীক্ষা শুরুকরণ, ঢাকায় জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, এসএসডব্লিউ ও ইএসডি পদ্ধতির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ পূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট হতে কর্মীর চাহিদা সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের ভাষা প্রশিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ, শ্রমবাজার সার্চ করে জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবেদন প্রেরণ করবে এবং জাপানিজ ভাষা পরীক্ষার আসন সংখ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্র বৃদ্ধি করার বিষয়ে সভায় বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এ ছাড়াও পর্যায়ক্রমে সকল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রতে (টিটিসি) জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশি জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ করা। সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মে জাপানিজ প্রশিক্ষক নিয়োগ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দপ্তর/সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৪৪ দিন আগে