বিআরটিএ
বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া সড়কে স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচল করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেগুলোই সড়কে চলতে পারবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানিতে বিআরটিএর পক্ষে আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আইনের ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করলে তা ৮৪ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা।
আইনের ২৮ ধারার উল্লেখ করে তিনি বলেন, রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
পরে সাংবাদিকদের আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, সেগুলোই রাস্তায় চলবে। স্লিপার বাস চালানোর কোনো অনুমতি নেই। হাইকোর্টও স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি দেয়নি।’
এর ফলে বিআরটিএর অনুমোদন ও রুট পারমিট ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের সুযোগ থাকছে না। এ ধরনের বাসকে সড়ক পরিবহন আইন ও নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য মেনেই চলাচল করতে হবে।
মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি রিটটি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। রিটে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।
১৫ দিন আগে
জানুয়ারিতে ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭
নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪০.২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততার হার ৩৭.২০ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭.১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন (১৩.৭৫ শতাংশ)।
এ সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। এছাড়া ৪১টি রেল দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানি
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ১৯৬ জন (৪০.২৪ শতাংশ), বাসযাত্রী ২১ জন (৪.৩১ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫.৭৪ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ৯ জন (১.৮৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন (১৫.৮১ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন (২.৬৬ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন (২.২৫ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার স্থান ও ধরন
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৫৬টি (২৭.৯০ শতাংশ) দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি (৩৭.০৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি (১৫.২০ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি (১৮.৪২ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৮টি (১.৪৩ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি (২৪.১৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি (৩৭.৩৮ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি (২৪.৫০ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৭২টি (১২.৮৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি (১.০৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সম্পৃক্ত যানবাহন ও সংখ্যা
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক-রোড রোলার ২৮.৫৮ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১২.২০ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৪.৬৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.৫১ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৮.৫৩ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩.৯৫ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.১৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৪২ শতাংশ।
মোট ৮৮৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, ট্রলি ১৮টি, লরি ৪টি, ড্রাম ট্রাক ১১টি, ট্যাংকার ৩টি, ময়লাবাহী ট্রাক ২টি, রোড রোলার ২টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, অ্যাম্বুলেন্স ৪টি, জীপ ৬টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত ৪৮টি।
সময় ও বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণ
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬.৬১ শতাংশ, সকালে ২৬.৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫.৫৬ শতাংশ, বিকালে ১৩.৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩.৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩.৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৫.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৪.৪৩ শতাংশ; চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা ২০.৩৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ২০.৭৩ শতাংশ; রাজশাহীতে দুর্ঘটনা ১৩.৭৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪.৯৮ শতাংশ; রংপুরে দুর্ঘটনা ১১.০৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৮৫ শতাংশ; ময়মনসিংহে দুর্ঘটনা ৮.৯৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.২১ শতাংশ; খুলনায় দুর্ঘটনা ৮.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৪৪ শতাংশ; বরিশালে দুর্ঘটনা ৭.৩৩ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.৬২ শতাংশ এবং সিলেটে দুর্ঘটনা ৪.২৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৩.৫৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়
নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক-বীমা খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ২৭ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
কারণ, সুপারিশ ও পর্যালোচনা
প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ, সার্ভিস রোড নির্মাণ, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন, রেল ও নৌপথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯.৬১ জন নিহত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ হার ১৫.৭০ জনে নেমেছে, যা ১৯.৯৩ শতাংশ কম। তবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করছে, এ হার টেকসই উন্নতির সূচক নয়; কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো কাঠামোগত উন্নতি হয়নি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখি প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২১৭ দিন আগে
বনানীতে বিআরটিএ’র সামনে সিএনজি চালকদের বিক্ষোভ
ঢাকা মহানগরীতে চলাচলের অনুমতি চেয়ে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে করেন সিএনজি চালিত অটোরিকশার একদল চালক।
রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে যানজট দেখা দিলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।
পুলিশ বলেছে, এই চালকরা মূলত রাজধানীর বাইরের এলাকা থেকে আসা, এবং তারা রাজধানীজুড়ে অটোরিকশা চালানোর অনুমতির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। বর্তমানে এই চালকদের রাজধানীর অভ্যন্তরে চলাচলের অনুমতি নেই।
পড়ুন: একসময় জঙ্গিবাদ নাটক ছিল: ডিআইজি রেজাউল করিম
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল সারোয়ার ইউএনবিকে জানান, ঢাকার বাইরে থেকে আসা একদল সিএনজিচালক দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিআরটিএ অফিসের সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর থেকে উত্তরা থেকে মোহাখালী ও মোহাখালী থেকে উত্তরা উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গুলশান ট্রাফিক বিভাগের একটি সূত্র জানায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢুকতে চাওয়া যানবাহনগুলোকে কাকলি–গুলশান-২–গুলশান-১–আমতলী বা গুলশান-১ থেকে পুলিশ প্লাজা হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাহিরমুখী যানবাহনও একইভাবে বিকল্প পথে চালিত হচ্ছে, এবং উড়াল সড়ক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, উত্তরা থেকে তেজগাঁও ও হাতিরঝিলগামী যানবাহনও উড়াল সড়ক হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের সংগঠন ঢাকা-থ সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্যজোট বলছে, তাদের গাড়ি ঢাকা জেলায় নিবন্ধিত হলেও মহানগরীতে চলাচলের সুযোগ পায় না। জেলার অন্য স্থানের মতো নগরে চলাচলের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসা হলেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
৪৩৮ দিন আগে
বিআরটিএ টহল টিমের তৎপরতায় স্বস্তির ঈদযাত্রা
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) টহল টিমের তৎপরতার কারণে এবারের ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনা কম ঘটেছে। রবিবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সাধারণ ঈদ এলেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ শোনা যায়। বিভিন্নভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রা ছিল কিছুটা স্বস্তির।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় গাজীপুরে যাত্রীদের ঢল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ঈদযাত্রার শেষ দিনে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ঘরমুখো মানুষের চাপ ছিল না। টার্মিনালে এসেই লোকজন নিজেদের গন্তব্যের বাস পেয়ে যাচ্ছেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় কথা হয় নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী বাসের যাত্রী সামিহা মৌয়ের (৩৩) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বগুড়ার ভাড়া সাড়ে ৫০০ হলেও আমাকে নওগাঁর ভাড়া ৬৮০ দিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই নাকি নিয়ম করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুপুর দেড়টায় আমার বাস ছাড়বে। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় জানি না। আগে যেহেতু টিকিট কাটিনি, ভোগান্তি হলে আর কি করবো!’
ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে সারিবদ্ধ হয়ে রানিং টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে ওবায়দুর রহমান (৪৫) নামের একজন বলেন, ‘এখন ভাড়া ঠিক নিচ্ছে। এসি ৪০০, নন-এসি ৩১০। শুনেছি, বাড়তি ভাড়া আদায়ের জন্য জরিমানা করা হয়েছে। এখন সমস্যা হচ্ছে না।’
গেল ২৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঈদযাত্রায় রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে, বাস টার্মিনালগুলোতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিভিন্ন অভিযান চালিয়েছে।
বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জরিমানা করেছে। বরাবরের মতো সংস্থাটির টহল টিম ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনালে উপস্থিত ছিল। যে কারণে বেশিরভাগ বাস নির্ধারিত সময়েই যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
যাত্রীদের মুখ থেকেও সেই বিবরণ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদ পাকন নামের টহল টিমের এক সদস্য বলেন, ‘সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ইউনাইটেড বাসে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করেন এক যাত্রী। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ৫ হাজার টাকা জরিমানা করি। কেউ অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমাদের টিম প্রস্তুত।’
ঢাকা-সিরাজগঞ্জগামী এসআই পরিবহনের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের নির্ধারিত ভাড়া ৩৭০ টাকা। বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। আমরা যেটা ভাড়া, সেটাই নিচ্ছি।’
মহাখালী ট্রাফিফ পুলিশের সদস্য রনজিৎ রায় বলেন, ‘আজ কমসংখ্যক মানুষ বাড়ি যাচ্ছেন। কিছু কর্মজীবী যারা একদিন আগে ছুটি পেয়েছেন, তারা যাচ্ছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দুটি কন্ট্রোল রুম দায়িত্ব পালন করছে।’
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় ঢাকার গণপরিবহনে ৮৩২ কোটির অধিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
৫৪৩ দিন আগে
পাসপোর্ট ও বিআরটিএ অফিসে দুদকের অভিযান, দালাল আটক
গ্রাহক হয়রানিসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং মিরপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ এ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ অভিযান চালানো হয়।
এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট সেবা প্রদানে গ্রাহক হয়রানি ও দালালদের মাধ্যমে ঘুষ দাবির অভিযোগ পায় দুদক। অভিযোগ পেয়ে দুদকের একটি দল আজ (রবিবার) সেখানে অভিযান চালায়।
তিনি জানান, দলটি প্রথমে ছদ্মবেশে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে সার্বিক সেবাদান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরবর্তীতে পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আগত সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
আরও পড়ুন: বেনজীর ও মতিউরের বিরুদ্ধে দুদকের ৬ মামলা
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় দুই দালালকে হাতেনাতে ধরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে উদ্যোগ নিতে বলা হয়।
অপরদিকে, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর বিআরটিএতেও অভিযান চালায় দুদক।
অভিযানে দুদকের সদস্যরা সাধারণ গ্রাহক সেজে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে সেবা ও ডিজিটাল কার্ড পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে বিআরটিএ'র ঢাকা জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালকের (ইঞ্জি.) কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়টি সমাধান করার জন্য কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দুটি অভিযানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
আরও পড়ুন: সাবেক ৫ সংসদ সদস্য ও পরিবারের বিদেশযাত্রায় দুদকের নতুন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা
৬৪৮ দিন আগে
নতুন চেয়ারম্যান পেল বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ইয়াসীন।
গ্রেড-১ পদমর্যাদার এ কর্মকর্তাকে বদলি করে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: বিএফআইইউর সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
এদিকে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা গৌতম চন্দ্র পালকে ওএসডি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ পেয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিক।
তাকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দিয়ে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব আশরাফ উদ্দিন আহাম্মদ খান।
তার চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: শহীদ আবু সাঈদকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান
ই-রিটার্ন ব্যবস্থার প্রচারের নির্দেশ এনবিআর চেয়ারম্যানের
৭২৪ দিন আগে
বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ ৬ অতিরিক্ত সচিবকে ওএসডি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) গৌতম চন্দ্র পালসহ ৬ অতিরিক্ত সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১ সিনিয়র সচিবসহ ২ সচিব ওএসডি, ২ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
ওএসডি হওয়া বাকি কর্মকর্তারা হলেন- বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত তিন অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন, এ কে এম শামীম আক্তার ও মো. মাহবুবের রহমান।
আরও পড়ুন: ওএসডি হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৩ ডিজিকে ওএসডি
৭২৪ দিন আগে
নীলফামারীতে বিআরটিএ’র অভিযানে ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা
নীলফামারীতে বিআরটিএ’র অভিযানে ১২টি যানবাবহন চালককে ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৈয়দপুর উপজেলা শহরের রাবেয়া মোড় এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন: অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
অভিযানকালে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস না থাকা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ ও অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো, মোটরসাইকেল আরোহীর হেলমেট না থাকা, সিটবেল্ট না বাঁধায় এসব যানবাহনের চালকের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।
নীলফামারী বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই এমন অভিযান চালানো হবে। এ সময় চলাচলরত যানবাহন চালক ও যাত্রীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নীলফামারী বিএরটিএর সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন যানবাহন পরিদর্শক হিমাদ্রী ঘটক, দিনাজপুরের দশমাইল হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ডিমের বাজারে অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কুমিল্লায় নকল চিপস কারখানায় অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা
৮২৫ দিন আগে
মিরপুরে বিআরটিএ কার্যালয়ে দুদকের অভিযান, ২ জনের কারাদণ্ড
রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে দুইজনকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ মিরপুর ও ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ অফিসে দালালদের দ্বারা গ্রাহক হয়রানি ও দালালদের দৌরাত্ম্যের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) দুদক এ অভিযান পরিচালনা করে।
সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকারের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আল-আমিন, মো. জাকিউল আলম ও মো. মেহেদী মুসা জেবিনের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন অভিযানের সময় দলটি সাধারণ গ্রাহক সেজে বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের উপস্থিতি উদঘাটন করে। এরই ধারাবাহিকতায় দুদক দল একজন দালাল, দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য এবং বিআরটিএ-র সঙ্গে যুক্ত একজন সিএনএস কর্মীকে আটক করে।
আরও পড়ুন: চসিক কার্যালয়ে দুদকের অভিযান
অধিকতর যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত বিভিন্ন সেবা গ্রহীতার সঙ্গে অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
আটকদের পরিচালক (প্রকৌশল) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র কাছে হাজির করা হলে দালাল ও সিএনএস কর্মীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে দুই মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জড়িত দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
বিআরটিএ অফিসে অধিকতর গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেট প্রধান মিঠুর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে দুদক
৯৬৮ দিন আগে
গণপরিবহনের ১৪০ চালককে প্রশিক্ষণ দিল আহছানিয়া মিশন
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির(বিআরটিএ) উদ্যোগে গণপরিবহনের ১৪০ জন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন (সংশোধিত-২০১৩) বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর জোয়ার সাহারা বিআরটিসি বাস ডিপোতে আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
‘পেশাজীবী গাড়ি চালকদের পেশাগত দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ’ শিরোনামে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্যের ক্ষতিবিষয়ক তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার অদুত রহমান ইমন।
আরও পড়ুন: বিআরটিএ স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স যেভাবে করবেন
এসময় ধুমপানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কুফল, স্বাস্থ্যঝুঁকি, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে গণপরিবহন চালকদের (বাস, সিএনজি, লেগুনা, টেম্পু) জানানো হয়। চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের ফলে গণপরিবহনে পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হন যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।
এ ছাড়া জনবহুল জায়গা- যেমন বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, নৌবন্দর, সরকারি বিভিন্ন অফিসসহ উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যেসব স্থানে ধূমপানকারীদের কারণে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন অনেক শিশু-নারীসহ সব অধূমপায়ীরা।
গণপরিবহন শতভাগ তামাকমুক্ত রাখা ও আইনের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও বিআরটিএ’র যৌথ উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বিআরটিএ কার্যালয় থেকে ৩০ দালাল আটক
১০৫৮ দিন আগে