রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
জুনে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৩৮টি প্রাণ
দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু।
নিহতদের মধ্যে ১৩৪ জন মোটরসাইকেলের আরোহী বা চালক, যা মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন এবং ২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া ৯১ জন পথচারী (২০.৭৭ শতাংশ) এবং ৫৭ জন চালক ও সহকারী (১৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, থ্রি-হুইলারের যাত্রী ১১২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৬টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
মোট ৭১৩টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৫৭টি মোটরসাইকেল, ১৪১টি থ্রি-হুইলার, ১১৬টি বাস, ১০৭টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ২৮টি পিকআপ, ১৬টি মাইক্রোবাস, ১৩টি প্রাইভেটকার, ৪টি অ্যাম্বুলেন্স, ৪২টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন, ৭টি রিকশা, ৪টি বাইসাইকেল এবং ৩০টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। এছাড়া ভোরে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং রাতে ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে রয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য, চারজন শিক্ষক, দুইজন সাংবাদিক, একজন চিকিৎসক, তিনজন প্রকৌশলী, চারজন আইনজীবী, একজন চীনা নাগরিক, ১৩ জন ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৭ জন এনজিও কর্মী, ২১ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৪ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, চারজন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, ছয়জন পোশাক শ্রমিক, পাঁচজন নির্মাণ শ্রমিক, দুইজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
এসব দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশন, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন সমন্বয়ে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করেছে।
৪ দিন আগে
ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ঝরেছে ২২ প্রাণ
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি এ সময়ে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় ২৪টি কোরবানির গরু মারা গেছে। অন্যদিকে, ২২টি রেল দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে। মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ৩৩ দশমিক ২১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে শহরের সড়কে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া ৭৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩৮টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া এবং ৪২টি থেমে থাকা বা চলন্ত যানবাহনের পেছনে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানির হিসাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের পরেই সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে থ্রি-হুইলার যাত্রীদের। এ শ্রেণির যানবাহনে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির যাত্রী ৩২ জন, বাসযাত্রী ২১ জন এবং প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ জনের। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ফরিদপুরে। জেলাটিতে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
ঈদযাত্রা নিয়ে পর্যালোচনায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, এবার রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাত্রা করেছেন এবং সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ট্রেন ছাড়া সড়ক ও নৌপথে তুলনামূলক কম ভোগান্তি হলেও উত্তরবঙ্গগামী সড়কে যানজট ছিল। বিভিন্ন পরিবহনমাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন। সে সময় প্রতিদিন গড়ে প্রাণহানি ছিল ২৬ জন। সে তুলনায় এবার প্রাণহানি ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে। তবে পরিবহন খাতে ব্যবস্থাপনাগত কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় এই হ্রাসকে ইতিবাচক অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক ও ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ, রেল ও নৌ-পরিবহন সম্প্রসারণ, বিআরটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধি, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
৩৫ দিন আগে
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, সর্বোচ্চ প্রাণহানি মোটরসাইকেলে
গত মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। মোট প্রাণহানির মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি যেখানে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ৭৯ জন পথচারী (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ) এবং ৬৬ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২২৪ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনার যানবাহনভিত্তিক চিত্র
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৪ জন (৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন (৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৪৫ জন (৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫ দশমিক ২৬ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (৪ দশমিক ৩২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (২ দশমিক ৪৪ শতাংশ)।
সড়কের ধরন
দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৬টি (২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৩১টি (৪০ দশমিক ১০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি (১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দিয়ে, ৮২টি (১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১১টি (১ দশমিক ৯০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, থ্রি-হুইলার ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি এবং অন্যান্য যানবাহনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ
দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) ও দুপুরে (২২ দশমিক ৯২শতাংশ)। এছাড়া রাতে ২১ শতাংশ, বিকেলে ১৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভোরে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার তুলনামূলক বেশি, আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
পেশাভিত্তিক নিহত
নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ১৭ জন, এনজিও কর্মী ১২ জন, ব্যবসায়ী ২৭ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৩ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর্যালোচনা ও কারণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিকতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছে।
৮৯ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০ জন
এবারের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু রয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১১৬ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৩৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ৪৭ জন পথচারী (১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ), বাস যাত্রী ৪১ জন (১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ) ট্রাক-পিকআপ আরোহী ১৩ জন (৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২০ জন (৬ দশমিক ৭১ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৫০ জন (১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৯ জন (৩ দশমিক ০২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেলআরোহী ২ জন (.৬৭ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
এ সময় ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত ও ২ জন নিখোঁজ এবং ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত ও ২০৯ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩০ দশমিক ৮৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৩ দশমিক ১৬ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ শহরের সড়কে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ সংঘর্ষে এবং ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ অঞ্চলে ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ১২ জন নিহত হয়েছেন। জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ বাড়ি ফিরেছেন এবং সারাদেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে— সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে দুইজন নিহত, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সেতু উল্টে চার শিশু নিহত, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহত। এসব ঘটনাকে প্রতিবেদনে ‘কাঠামোগত ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের একই সময়ে ১১ দিনে ২৫৭টি দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এ বছর দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে এই হ্রাসকে প্রকৃত উন্নতির সূচক নয় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালনাকে দায়ী করা হয়েছে।
সংস্থাটি নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন, গণপরিবহন বাড়ানো, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের সুপারিশ করেছে।
৯৮ দিন আগে
জানুয়ারিতে ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৭
নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪০.২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের সম্পৃক্ততার হার ৩৭.২০ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭.১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন (১৩.৭৫ শতাংশ)।
এ সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। এছাড়া ৪১টি রেল দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানি
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ১৯৬ জন (৪০.২৪ শতাংশ), বাসযাত্রী ২১ জন (৪.৩১ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫.৭৪ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ৯ জন (১.৮৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন (১৫.৮১ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন (২.৬৬ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন (২.২৫ শতাংশ)।
দুর্ঘটনার স্থান ও ধরন
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৫৬টি (২৭.৯০ শতাংশ) দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি (৩৭.০৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি (১৫.২০ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি (১৮.৪২ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৮টি (১.৪৩ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি (২৪.১৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি (৩৭.৩৮ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি (২৪.৫০ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৭২টি (১২.৮৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি (১.০৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সম্পৃক্ত যানবাহন ও সংখ্যা
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক-রোড রোলার ২৮.৫৮ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১২.২০ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৪.৬৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.৫১ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৮.৫৩ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩.৯৫ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.১৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৪২ শতাংশ।
মোট ৮৮৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, ট্রলি ১৮টি, লরি ৪টি, ড্রাম ট্রাক ১১টি, ট্যাংকার ৩টি, ময়লাবাহী ট্রাক ২টি, রোড রোলার ২টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, অ্যাম্বুলেন্স ৪টি, জীপ ৬টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত ৪৮টি।
সময় ও বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণ
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬.৬১ শতাংশ, সকালে ২৬.৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫.৫৬ শতাংশ, বিকালে ১৩.৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩.৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩.৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৫.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৪.৪৩ শতাংশ; চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা ২০.৩৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ২০.৭৩ শতাংশ; রাজশাহীতে দুর্ঘটনা ১৩.৭৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪.৯৮ শতাংশ; রংপুরে দুর্ঘটনা ১১.০৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৮৫ শতাংশ; ময়মনসিংহে দুর্ঘটনা ৮.৯৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.২১ শতাংশ; খুলনায় দুর্ঘটনা ৮.৫৮ শতাংশ ও প্রাণহানি ৯.৪৪ শতাংশ; বরিশালে দুর্ঘটনা ৭.৩৩ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.৬২ শতাংশ এবং সিলেটে দুর্ঘটনা ৪.২৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ৩.৫৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়
নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক-বীমা খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ২৭ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
কারণ, সুপারিশ ও পর্যালোচনা
প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ, সার্ভিস রোড নির্মাণ, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন, রেল ও নৌপথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯.৬১ জন নিহত হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ হার ১৫.৭০ জনে নেমেছে, যা ১৯.৯৩ শতাংশ কম। তবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করছে, এ হার টেকসই উন্নতির সূচক নয়; কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো কাঠামোগত উন্নতি হয়নি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখি প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
১৪০ দিন আগে
ডিসেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৫০৩ প্রাণ, মোটরসাইকেলেই ৪০.৫৫ শতাংশ
ডিসেম্বর মাসে দেশে ৫৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৭৮ জন। মোট নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২০৪ জনের, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত ২৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩১ জন পথচারী নিহত হন, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৩ জন, যা শতকরা ১২ দশমিক ৫২।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৩৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ১৪ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৪২ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১৭ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২২ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।
সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার মধ্যে ১৯৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৬টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৮১টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রাম ট্রাক, ডাম্পার, পুলিশভ্যান, তেলবাহী ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। মোটরসাইকেলের অংশগ্রহণ ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং থ্রি-হুইলারের অংশগ্রহণ ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ডিসেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় মোট ৯৮৭টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ২৬৩টি মোটরসাইকেল, ১৬৬টি থ্রি-হুইলার, ১২৩টি বাস এবং ১৩৭টি ট্রাক ছিল।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোরে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সকালে ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, বিকালে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৫ শতাংশ এবং রাতে ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকায় ২৯টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের তথ্যে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ৮২ জন, বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় প্রতিনিধি ২৯ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২৬ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ১৯ জন, এনজিও কর্মী ১৬ জনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক চাপ, নির্ধারিত বেতন-কর্মঘন্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেও দায়ী করা হয়েছে।
১৮৬ দিন আগে
নভেম্বরে সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.২২ শতাংশ, প্রতিদিন গড়ে ১৬.১ মৃত্যু
গত নভেম্বর মাসে দেশে মোট ৫৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩১৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৪ জন, যা মোট নিহতের ১৩.২৫ শতাংশ এবং ৭১টি শিশু রয়েছে, যা ১৪.৬৯ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বর মাসে ২২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৪০.১৬ শতাংশ। এ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৪২.৫০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ১০৬ জন, যা মোট নিহতের ২১.৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন, যা ১১.৮০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি ৪৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ১৯৪ জন (৪০.১৬ শতাংশ), বাসের যাত্রী ২৪ জন (৪.৯৬ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-মিকচার মেশিন গাড়ির আরোহী ২২ জন (৪.৫৫ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের আরোহী ১৪ জন (২.৮৯ শতাংশ), থ্রি-হুইলারের যাত্রী ৮৩ জন (১৭.১৮ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ৩১ জন (৬.৪১ শতাংশ) এবং রিকশা-বাইসাইকেলের আরোহী ৯ জন (১.৮৬ শতাংশ)।
দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ১৩১টি দুর্ঘটনা (২৪.৫৩ শতাংশ), আঞ্চলিক সড়কে ২৪৫টি (৪৫.৮৮ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ৮২টি (১৫.৩৫ শতাংশ), শহরের সড়কে ৭১টি (১৩.২৯ শতাংশ) এবং ৫টি দুর্ঘটনা অন্যান্য স্থানে (০.৯৩ শতাংশ) ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, ১২২টি (২২.৮৪ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৩৭টি (৪৪.৩৮ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৯টি (২০.৪১ শতাংশ) পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার মাধ্যমে, ৫৯টি (১১.০৪ শতাংশ) পেছন থেকে আঘাতের কারণে এবং ৭টি (১.৩১ শতাংশ) অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-ড্রাম ট্রাক-মিকচার মেশিন গাড়ি ২৫.৯১ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১২.৮৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৪.৫৮ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৭.৬৩ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৭.৫৪ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪.৮১ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.৯৮ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩.৬৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় মোট ৮৭২টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ১১২টি, ট্রাক ১২৭টি, কাভার্ডভ্যান ২৩টি, পিকআপ ২৯টি, ট্রাক্টর ৯টি, ট্রলি ১৭টি, ড্রাম ট্রাক ২০টি, মিকচার মেশিন গাড়ি ১টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেটকার ২১টি, অ্যাম্বুলেন্স ২টি, জীপ ৩টি, মোটরসাইকেল ২৪১টি, থ্রি-হুইলার ১৫৩টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪২টি, বাইসাইকেল-রিকশা ২৬টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩২টি।
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোরে ৪.৮৬ শতাংশ, সকালে ২০.৯৭ শতাংশ, দুপুরে ১৯.১০ শতাংশ, বিকালে ১৭.৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৯.৮৫ শতাংশ এবং রাতে ১৭.৪১ শতাংশ।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৬.৪০ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৪.৬৩ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৬.১০ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪.০৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২০.৯৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ২২.৯৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১২.১৭ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৪.৪৯ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৩৬ শতাংশ ও প্রাণহানি ৬.২১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৬১ শতাংশ ও প্রাণহানি ৪.৯৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৭.১১ শতাংশ ও প্রাণহানি ৭.২৪ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.২৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৫.৩৮ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪১টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪১টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম শেরপুর ও পঞ্চগড় জেলায়, জেলাদুটিতে ৯টি করে দুর্ঘটনায় ২ জন করে নিহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয় অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ৫৭ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ২৩ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৭ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ১৪ জন, শিক্ষক ১৩ জন, বিভিন্ন ব্যাংক–বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৯ জন, এনজিও কর্মী ৭ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন, চিকিৎসক ৫ জন, পুলিশ সদস্য ৪ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৪ জন, সাংবাদিক ৩ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন, আইনজীবী ২ জন, র্যাব সদস্য ১ জন, সেনা সদস্য ১ জন এবং স্বর্ণকার ১ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা ও অদক্ষতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেই দায়ী করা হয়েছে।
সুপারিশে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে সার্ভিস রোড নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে রোড ডিভাইডার স্থাপন, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪.২২ জন নিহত হলেও নভেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৬.১ জন। এই হিসেবে নভেম্বর মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.২২ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে। গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। পাশাপাশি যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এজন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ চালকের নিয়োগপত্র, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকায় তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালাচ্ছেন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
২০৩ দিন আগে
জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝড়েছে ৬৯৬ প্রাণ
গেল জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আর এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৭ জন।
বুধবার (২ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাস জুড়ে দেশে ৬৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০৯টি শিশু ও ১০৪ জন নারী রয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময়ে ২৫৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২২৮ জন, যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২০ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ চালক ও পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ট্রেনের ধাক্কায় দম্পতির মৃত্যু
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে ১৮টি নৌ দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১৩ জন।
এছাড়া, ৫৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৪৪ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে ২২৮ জনই মোটরসাইকেল আরোহী, যা মোট মৃত্যুর ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৩ জন। এ ছাড়া ট্রাক, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, ডাম্পট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ির দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৫৪ জন।এ ছাড়া, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২২ জন।
তিন চাকার যানবাহন—ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫১ জন।
দেশে তৈরি যানবাহন— নছিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্রা ও টমটম দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪ জন। ১৪ জন সাইকেল আরোহী ও রিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ২৯৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২৪৩টি বা ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া, গ্রামীণ সড়কে ৫৯টি, শহর এলাকায় ৮৭টি এবং অন্যান্য স্থানে ৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
৩৭২ দিন আগে
মার্চে সড়কে নিহত ৬০৪, আহত সহস্রাধিক
গত মার্চ মাসে দেশে সড়কে দুর্ঘটনায় ৬০৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ৮৯ জন ও শিশু ৯৭টি। শনিবার (১২ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদেন এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, মার্চে দেশে ৫৮৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক হাজার ২৩১ জন।
৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
আরও পড়ুন: গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
এতে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৩৩ জন, যা মোট প্রাণহানির ৪১.২২ শতাংশ। পথচারী নিহত হয়েছেন ১০৯ জন (১৮.০৪ শতাংশ) এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী ৯৮ জন (১৬.২২ শতাংশ)।
এই সময়ে ৬টি নৌদুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৪ জন আহত হয়েছেন। ১৬টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়—মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২৩৩ জন (৩৮.৫৭ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৩২ জন (৫.২৯শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-ড্রাম ট্রাক-কার্গো ট্রাক আরোহী ৫৬ জন (৯.২৭শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ১৭ জন (২.৮১শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ১১৯ জন (১৯.৭০শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-পাখিভ্যান-মাহিন্দ্র-টমটম) ২৭ জন (৪.৪৭শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-রিকশা আরোহী ১১ জন (১.৮২শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২৮টি (৩৮.৮৪ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২৫৬টি (৪৩.৬১শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৭২টি (১২.২৬ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩১টি (৫.২৮শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়াও ১৫৩টি (২৬.০৬ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৫৮টি (৪৩.৯৫ শতাংশ) গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১১৩টি (১৯.২৫ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়ায়, ৪৭টি (৮ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ১৬টি (২.৭২ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
আরও পড়ুন: নভেম্বরে সারাদেশে সড়কে ৪৬৭ জনের প্রাণহানি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
এদিকে প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি প্রধান কারণ উল্লেখ করে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও শারীরিক সমস্যা, ট্রাফিক আইনের অজ্ঞতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং চাঁদাবাজি।
এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে— দক্ষ চালক তৈরি, চালকের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং রেল ও নৌপথ সংস্কার।
৪৫৩ দিন আগে
ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭৮
এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মোট ৫৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৭৮ জন এবং কমপক্ষে ১ হাজার ৩২৭ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ৭৩ জন ও শিশু ৮৭টি।
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেছে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২২৭ জন যা মোট নিহতের ৩৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এছাড়া মাসজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন যা মোট নিহতের ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮২ জন (১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ)। একই সময়ে দুটি নৌ দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৪টি রেল দুর্ঘটনায় ১৩ প্রাণহানি ও ৬ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ২২৭ জন, বাসযাত্রী ৩৩ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৫৬ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২২ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৯২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম-এস্কেভেটর) ২০ জন ও বাইসাইকেল-রিকশার আরোহী নিহত হয়েছেন ১৪ জন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৮টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৪৬টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। এ সময় দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল মোট ৯৩৮টি।
৪৮৮ দিন আগে