রাশিয়া
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু করেছে। রুশ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চালু হওয়া সেতুটি তুমেন নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল)।
সেতুটিতে দুটি লেন রয়েছে এবং নতুন নির্মিত সীমান্ত চৌকি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রুশ সরকার।
ভিডিও লিংকের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে সীমান্তের কাছে পরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ রাশিয়ান ফেডারেশন ও ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার আরও বিকাশে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিময় কর্মসূচি জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে গোলাবারুদ ও সেনাসদস্য সরবরাহ করছে।
এছাড়া মহামারির বিধি-নিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার মধ্যে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর কোরিয়ায় রুশ পর্যটকরাও যাতায়াত করছেন।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি রেলসেতু ও বিমান যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ তুমেন নদীর ওপর যানবাহন চলাচলের জন্য একটি সেতু নির্মাণে সম্মত হয়। নদীটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সীমান্তের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর।
২৩ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিহত, নিখোঁজ একজন
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে একজন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আজ শুক্রবার পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ জন কর্মী মারা যান।
নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা বাংলাদেশি কর্মী জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন। এ ছয়জনসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোতে নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
দূতাবাস ইতোমধ্যে একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
১১ দিন আগে
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৮, আহত অন্তত ৬০
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের প্রভাব রুশ নাগরিকদের অনুভব করানোই এই হামলার উদ্দেশ্য।
রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়। এর একটি তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক শহরে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। অন্যটি মস্কোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত।
হামলার পর দুটি গুদামেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম শনিবার সকালে জানান, কতোভস্কের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ইলেকট্রোস্তালের স্থাপনায় ব্যাপক আগুন এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেলের ডিপোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানেও আগুন ধরে যায়। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আশপাশের একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগ্রাসী দেশ (রাশিয়া) এসব স্থাপনা ব্যবহার করে ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উপাদান সরবরাহ করত।’ এছাড়া একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কাজ করা সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর ভোরোবিয়ভ জানান, সেখানে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
ইলেকট্রোস্তাল শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনেও আঘাত হানে বলে জানান ভোরোবিয়ভ। এতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এছাড়া মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভ্লাদিমির শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে বলে জানান ওই অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার আভদেয়েভ। এ ঘটনায় অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী আজভ সাগর ও রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৯টি অঞ্চল, অবৈধভাবে সংযুক্ত ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে।
৫২ দিন আগে
ছায়া বহর সন্দেহে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ব্রিটেন
আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেল থেকে রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ব্রিটেন। ট্যাংকারটি শ্যাডো ফ্লিট (ছায়া বহর) হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য জানান।
রবিবার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় রাশিয়ার ‘স্মির্টোস’ নামের জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে সেটিকে আটক করে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী ।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের জন্য জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে রাখা হয়েছে। সেখানে এটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শ্যাডো ফ্লিট হলো তেল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বহনকারী অনিবন্ধিত জাহাজের একটি গোপন নেটওয়ার্ক। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে গঠিত এসব নৌবহর ব্যবহার করে আসছে।
রবিবার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সও শ্যাডো ফ্লিট-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছিল।
এ বিষয়ে স্টারমার বলেন, ‘এই অভিযান পুতিনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় আঘাত হানবে। পাশাপাশি যারা ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে যুদ্ধের রশদ যোগান দিচ্ছে, তারা কেউই লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’
এদিকে, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান রাশিয়ার নৌসম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। মহাসাগরে চলাচলকারী এসব ছায়া বহর ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে আসছিল। নৌপথে মিত্র দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এমন অভিযান আব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে রাশিয়ার হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে।
৮৬ দিন আগে
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনে যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ভোরে মস্কো থেকে রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বাসে হামলাটি চালানো হয়।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে ক্রেমলিন-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান ডেনিস পুশিলিনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে পুশিলিন বলেন, ‘ইয়েনাকিয়েভোতে একটি ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) মস্কো থেকে সিমফেরোপলগামী একটি বাসে হামলা চালিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত ১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বেলগোরোদ, কুরস্কসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা, মস্কোর আশপাশ এবং আজভ সাগরের ওপর এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, শুধু ওই অঞ্চলেই অন্তত ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ বুধবার থেকে বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে রাশিয়াকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
রাতভর ড্রোন হামলার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়া।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইয়ারোস্লাভ শানকো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহত্তর এই হামলার অংশ হিসেবে রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করে যার মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল রাশিয়া ২০২২ সালে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানোর পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো।
দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাতভর রাশিয়া ৭০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলে ইউক্রেনের অন্তত ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের হামলার জবাব এবং অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, মে মাসের শেষ দিকে পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত এলাকায় একটি শিক্ষার্থী আবাসনে প্রাণঘাতী হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পর যে ‘পদ্ধতিগত হামলার’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিয়েভের দাবি, তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তার দাবি, হামলাগুলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
৯৭ দিন আগে
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত, বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের আটটি জেলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
এদিকে, হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি দোতলা আবাসিক ভবন এবং একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
সারা রাত এবং আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জনগণকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনের উপরের তলাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলার সতর্কতা বহাল থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সময় আজ ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় ২০ তলা ও ২৪ তলা দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
৯৮ দিন আগে
মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৪
রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১১৪ দিন আগে
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৪০ বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের নতুন উদ্বেগ
ইউক্রেন, রুশ-অধিকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়াজুড়ে গত এক দিনে চালানো পাল্টা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনগুলোর মধ্যে চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে হামলা সব থেকে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ এপ্রিল) এসব কথা জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বার্ষিকী উপলক্ষে সতর্ক করে বলেছেন, চেরনোবিলের আশপাশে রাশিয়ার হামলা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাশিয়া আবারও বিশ্বকে একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোনগুলো নিয়মিত ওই পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় এই যে, এগুলোর মধ্যে একটি গত বছর স্থাপনার সুরক্ষা অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই এই পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সবার আগে রাশিয়াকে তাদের বেপরোয়া হামলা থামাতে বাধ্য করতে হবে।’
দেশটির আঞ্চলিক প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা গতকাল (রবিবার) জানান, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার মস্কো-সমর্থিত এক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল বন্দরনগরীতে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এই উপদ্বীপটি ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল।
রাশিয়ার এই দখলদারত্ব বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। দখলের পর থেকে এটি যুদ্ধের সময় রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর লিওনিদ পাসেচনিক জানান, রাশিয়ার একটি গ্রামে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে তিনি আরও ২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এ মাসের শুরুতে রাশিয়া দাবি করে, তারা পুরো লুহানস্ক অঞ্চল দখল করেছে। তবে এ বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। আবার রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলাগুলো সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি) স্বাধীনভাবে ঘটনাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
এসব ঘটনার আগেও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রবিবার জানায়, তারা রাশিয়ার ভেতরে ইয়ারোস্লাভল এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এই স্থাপনাটি বছরে প্রায় দেড় কোটি টন তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও বিমানের জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
১৩৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই, রাশিয়ার তেল কিনতে ছাড়পত্র দরকার হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই; যেসব চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশকে ছাড়পত্র (ওয়েভার) নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই। যেসব চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই চুক্তির কারণে আমাদের আমেরিকার কাছ থেকে পারমিশন (অনুমতি) নিতে হচ্ছে। এটা একেবারে মিথ্যা কথা। রাশিয়ার তেল কেনার ব্যাপারে সব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ওয়েভারের (ছাড়পত্র) প্রয়োজন হবে। এটার সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। যদিও আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে সহায়তা করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য বা যুক্তরাষ্ট্র সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে। এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল আমদানির অনুমতি নিতে হচ্ছে, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যার কারণে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় বা ওয়েভার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির সম্পর্ক নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ছিল দুজনের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। এতে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা নিয়েও কথা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে দুটি আলোকচিত্র এবং হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিরূপ উপহার দেন। একটি ছবিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে দেখা যায়, অন্যটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রকে দেখা যায়।
বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ ছিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
১৫৬ দিন আগে
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।
১৬০ দিন আগে