রাশিয়া
ছায়া বহর সন্দেহে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ব্রিটেন
আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেল থেকে রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ব্রিটেন। ট্যাংকারটি শ্যাডো ফ্লিট (ছায়া বহর) হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য জানান।
রবিবার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় রাশিয়ার ‘স্মির্টোস’ নামের জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে সেটিকে আটক করে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী ।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের জন্য জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে রাখা হয়েছে। সেখানে এটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শ্যাডো ফ্লিট হলো তেল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বহনকারী অনিবন্ধিত জাহাজের একটি গোপন নেটওয়ার্ক। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে গঠিত এসব নৌবহর ব্যবহার করে আসছে।
রবিবার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সও শ্যাডো ফ্লিট-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছিল।
এ বিষয়ে স্টারমার বলেন, ‘এই অভিযান পুতিনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় আঘাত হানবে। পাশাপাশি যারা ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে যুদ্ধের রশদ যোগান দিচ্ছে, তারা কেউই লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’
এদিকে, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান রাশিয়ার নৌসম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। মহাসাগরে চলাচলকারী এসব ছায়া বহর ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে আসছিল। নৌপথে মিত্র দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এমন অভিযান আব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে রাশিয়ার হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে।
৫ দিন আগে
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনে যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ভোরে মস্কো থেকে রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বাসে হামলাটি চালানো হয়।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে ক্রেমলিন-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান ডেনিস পুশিলিনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে পুশিলিন বলেন, ‘ইয়েনাকিয়েভোতে একটি ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) মস্কো থেকে সিমফেরোপলগামী একটি বাসে হামলা চালিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত ১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বেলগোরোদ, কুরস্কসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা, মস্কোর আশপাশ এবং আজভ সাগরের ওপর এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, শুধু ওই অঞ্চলেই অন্তত ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ বুধবার থেকে বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে রাশিয়াকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
রাতভর ড্রোন হামলার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়া।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইয়ারোস্লাভ শানকো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহত্তর এই হামলার অংশ হিসেবে রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করে যার মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল রাশিয়া ২০২২ সালে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানোর পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো।
দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাতভর রাশিয়া ৭০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলে ইউক্রেনের অন্তত ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের হামলার জবাব এবং অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, মে মাসের শেষ দিকে পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত এলাকায় একটি শিক্ষার্থী আবাসনে প্রাণঘাতী হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পর যে ‘পদ্ধতিগত হামলার’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিয়েভের দাবি, তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তার দাবি, হামলাগুলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত, বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের আটটি জেলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
এদিকে, হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি দোতলা আবাসিক ভবন এবং একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
সারা রাত এবং আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জনগণকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনের উপরের তলাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলার সতর্কতা বহাল থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সময় আজ ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় ২০ তলা ও ২৪ তলা দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
১৭ দিন আগে
মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৪
রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৪০ বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নিয়ে ইউক্রেনের নতুন উদ্বেগ
ইউক্রেন, রুশ-অধিকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়াজুড়ে গত এক দিনে চালানো পাল্টা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার চালানো আগ্রাসনগুলোর মধ্যে চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে হামলা সব থেকে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ এপ্রিল) এসব কথা জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বার্ষিকী উপলক্ষে সতর্ক করে বলেছেন, চেরনোবিলের আশপাশে রাশিয়ার হামলা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাশিয়া আবারও বিশ্বকে একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রুশ-ইরানি শাহেদ ড্রোনগুলো নিয়মিত ওই পারমাণবিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় এই যে, এগুলোর মধ্যে একটি গত বছর স্থাপনার সুরক্ষা অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই এই পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে সবার আগে রাশিয়াকে তাদের বেপরোয়া হামলা থামাতে বাধ্য করতে হবে।’
দেশটির আঞ্চলিক প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা গতকাল (রবিবার) জানান, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার মস্কো-সমর্থিত এক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল বন্দরনগরীতে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এই উপদ্বীপটি ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল।
রাশিয়ার এই দখলদারত্ব বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। দখলের পর থেকে এটি যুদ্ধের সময় রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর লিওনিদ পাসেচনিক জানান, রাশিয়ার একটি গ্রামে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোরে তিনি আরও ২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এ মাসের শুরুতে রাশিয়া দাবি করে, তারা পুরো লুহানস্ক অঞ্চল দখল করেছে। তবে এ বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। আবার রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলাগুলো সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও (এপি) স্বাধীনভাবে ঘটনাগুলো যাচাই করতে পারেনি।
এসব ঘটনার আগেও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রবিবার জানায়, তারা রাশিয়ার ভেতরে ইয়ারোস্লাভল এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এই স্থাপনাটি বছরে প্রায় দেড় কোটি টন তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও বিমানের জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
৫৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই, রাশিয়ার তেল কিনতে ছাড়পত্র দরকার হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই; যেসব চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশকে ছাড়পত্র (ওয়েভার) নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই। যেসব চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই চুক্তির কারণে আমাদের আমেরিকার কাছ থেকে পারমিশন (অনুমতি) নিতে হচ্ছে। এটা একেবারে মিথ্যা কথা। রাশিয়ার তেল কেনার ব্যাপারে সব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ওয়েভারের (ছাড়পত্র) প্রয়োজন হবে। এটার সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। যদিও আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে সহায়তা করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে এবং সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য বা যুক্তরাষ্ট্র সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে। এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল আমদানির অনুমতি নিতে হচ্ছে, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যার কারণে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় বা ওয়েভার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির সম্পর্ক নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ছিল দুজনের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। এতে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা নিয়েও কথা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে দুটি আলোকচিত্র এবং হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিরূপ উপহার দেন। একটি ছবিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে দেখা যায়, অন্যটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রকে দেখা যায়।
বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ ছিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
৭৫ দিন আগে
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।
৭৯ দিন আগে
মার্কিন বাহিনীকে হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়েছে রাশিয়া!
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত এমন দুইজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক ঘাটি ও মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝে রাশিয়া এ তথ্য দিয়ে ইরানকে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে বলছে কি না—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও পায়নি।
তবুও, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মস্কোর জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখা, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের কারণে ইরান বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ক্রীড়াবিদদের বেতন-সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তোলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিককে তিরস্কার করেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে তিনি বলেন, আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি, আপনি সব সময় আমার প্রতি খুব সদয় ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে এই প্রশ্নটি বোকামিপূর্ণ নয় কি? আমরা এখন অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব না দিলেও রাশিয়া যে এ অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে, তা অস্বীকার করেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই কোনো পার্থক্য আনছে না, কারণ আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে কি না, সে বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর ওপর নজর রাখছে এবং আমাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণ আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে, তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (প্রেসিডেন্ট) ভালো করেই জানেন, কে কার সঙ্গে কথা বলছে। জনসম্মুখে হোক বা গোপনে, অনুচিত যেকোনো কিছুকেই কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে লেভিট কিছু বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি।
শুক্রবার তিনি বলেন, আমরা ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি এবং অবশ্যই তা চলবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে, বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ায় ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছিল মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এই তথ্য প্রকাশ ট্রাম্পের বিশ্বাসকে টলিয়ে দিয়েছে কি না যে, পুতিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো শান্তি চুক্তি করতে সক্ষম, লিভিট বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রপতি বলবেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে শান্তি এখনও অর্জনযোগ্য একটি লক্ষ্য।
অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইছে। তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে যে ড্রোন দিচ্ছে, এখন সেগুলোই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, ইউক্রেন জানে কীভাবে শাহেদ ড্রোনের হামলা থেকে রক্ষা পেতে হয়। আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজনে আমরা সবসময় সাহায্য করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রায়ই ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড মস্কোকে ছেড়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে পেন্টাগন প্রশ্নের মুখে থাকায় ট্রাম্প এই সপ্তাহে অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উচ্চমানের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। ফলে তিনি মার্কিন অস্ত্রের মজুদ পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
১০৪ দিন আগে
২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া: সামরিক থিংকট্যাঙ্ক
অর্থনৈতিক চাপ ও জনবল সংকটের লক্ষণ দেখা দিলেও ২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাশিয়ার এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক সামরিক থিংকট্যাঙ্ক আইআইএসএস। একইসঙ্গে ইউরোপের জন্য রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। বরং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি ক্রমশ বাড়ছে। এমনকি ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক ও জনবলর চাপের মধ্যেও ফেলতে পারে রাশিয়া।
আইআইএসএসের মহাপরিচালক বাস্তিয়ান গিগেরিশ বলেছেন ‘যুদ্ধের পঞ্চম বছরে রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন ইঙ্গিত খুব কম পাওয়া যাচ্ছে।’
থিংকট্যাঙ্কটির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষায় রাশিয়ার ক্রেমলিন অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যা এর সাধরণ ব্যয়ের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। এটি দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দ্বিগণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
থিঙ্কট্যাঙ্কটির প্রতিরক্ষা অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ফেনেলা ম্যাকগার্টি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার অর্থনীতির গতি কমছে, ফলে ২০২৬ সালে প্রকৃত অর্থে সামরিক ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখতে হবে।’
ওই প্রতিবেদনে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘২০২১ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বাস্তবিক অর্থে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগে বেশি ব্যয় করতে পারছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর স্থল ও আকাশপথে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।’
চার বছর আগে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করেন। এই আগ্রাসনে রাশিয়ার প্রতিবেশী ছোট এই দেশটি ভেঙে না পড়লেও এতে ১২ লাখের বেশি লোক হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া।
গিগেরিশ বলেন ‘একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পর্কে পশ্চিমাদের আলোচনা চললেও রাশিয়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিতে হামলা আরও জোরদার করেছে।’
আইআইএসএসের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং বেলারুশে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাইজেল গুল্ড ডেভিস বলেন এমন অনেক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার মাসিক সৈন্য নিয়োগের হার যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রাণহানির তুলনায় কমে আসছে।’ তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনজুড়ে সম্মুখ সমরে আক্রমণের তীব্রতা কমিয়ে মস্কো তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির হার কমিয়ে আনার সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া তাদের সামরিক খাতে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মান কমছে, কারণ এখন মদ্যপ, মাদকাসক্ত ও অসুস্থ লোকদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, রাশিয়ার আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে ৩৫ হাজার ৩০ জন এবং এ বছরের জানুয়ারিতে ৩১ হাজার ৭১৩ জন হতাহত হয়েছে।
থিংকট্যাঙ্কটি জানিয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মস্কো নতুন রণকৌশল, ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরি করছে। এর মধ্যে আধুনিক শাহেদ-১৩৬ ড্রোনও রয়েছে যা ইউরোপজুড়ে ২ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
গিগেরিশ বলেন ‘রাশিয়ার এ ধরনের উদ্যোগ ন্যাটোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ২১টি রুশ ড্রোন ঢুকে পড়ে। যার ফলে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনটি অঞ্চলের মানুষ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার হুমকির জবাবে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য ও কানাডা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইআইএসএস তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দ্য মিলিটারি ব্যালান্স’-এ বলেছে এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে যা অনেক দেশের জন্য কঠিন হবে।
গিগেরিশ বলেন, ‘সামরিক গোয়েন্দা তথ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও মহাকাশ সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের দেশগুলোর ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।’ এর পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা উন্নত করাও ইউরোপীয় দেশগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
১১৪ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
১৩৪ দিন আগে