বালু উত্তোলন
মধুমতি নদী থেকে চুরি করে বালু উত্তোলন, গ্রেপ্তার ৩
মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি বালুবাহী বলগেট জব্দ করা হয়।
রবিবার (২৯ মার্চ) পৌনে ২টার দিকে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মো. খলিল ফকির (৬০), মো. ইয়াসিন শেখ (২৫) ও মো. ইয়াসিন হাওলাদার (৪৫)।
এ বিষয়ে ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ। গতকাল (রবিবার) রাতে বীরেন ঘাট এলাকা থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি বালুবাহী বলগেট জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের থানায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা বলগেটটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরে ক্ষয় বেড়েছে। পুলিশের এ অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযানের বিষয়ে ওসি আরও বলেন, ‘নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে মহম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৬ দিন আগে
অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ছোড়া ছররা গুলিতে চারজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আলিম মিয়া, নূরু মিয়া, সফর মিয়া ও নুরুল মিয়া।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নবীনগরের মেঘনা নদীতে সামিউল ট্রেডার্স ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা অবৈধভাবে নির্দিষ্ট সীমা ছেড়ে চরলাপাং গ্রামে এসে বালু উত্তোলন করে থাকে। এতে ওই গ্রামের কৃষি জমিসহ আশপাশের এলাকা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে।
আজ (রবিবার) সকালে চরলাপাং গ্রামে বালু উত্তোলন করার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর এলাকা থেকে স্পিডবোট ও নৌকায় করে আসা একদল ‘বালু সন্ত্রাসী’ এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া গ্রামবাসীর ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
৫২ দিন আগে
মেঘনার পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন: হুমকিতে বাঁধ, আতঙ্কে স্থানীয়রা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ সেচ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। ফলে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই বাঁধের মধ্যে মতলব দক্ষিণের একটি গ্রাম ও মতলব উত্তরের ১৪টি ইউনিয়ন অবস্থিত। সেখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।
গত কয়েকদিন উপজেলার মেঘনা নদী অববাহিকার দশানি, ষাটনল, নাছিরাকান্দি, বোরচর এলাকা ঘুরে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু সন্ত্রাসী কিবরিয়া মিয়াজি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। তাদের এই ধরনের কাজে জড়িত থাকায় দুপক্ষের বিরোধে গোলাগুলিতে একাধিক ব্যাক্তি মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও অনেকে। এসব ঘটনায় এখনো মামলা চলছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতকিছুর পরও কীভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে?
দশানি গ্রামের মাজেদুর রহমান বলেন, ‘কী বলমু ভাই, দিন-রাইত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলে। পাড় ধসে আমাদের ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধ যদি ভেঙে যায়, তাহলে পুরো মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ শেষ হয়ে যাবে, অথচ কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: পদ্মায় বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড, একজন মুচলেকায় মুক্ত
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনকে বারবার জানালেও কোনো ফল পাইনি। মনে হয় বালু সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনও জিম্মি। সরকার পরিবতর্ন হলেও কোনো কাম হচ্ছে না।’
২৩৭ দিন আগে
পদ্মায় বালু উত্তোলনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড, একজন মুচলেকায় মুক্ত
নাটোররে লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে চারজনকে একমাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ মে) সকাল ১০টা থেকে অভিযান শুরু করে তাদের আটক করে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ড্রেজার মেশিন, ২টি বালু ভর্তি ট্রলার জব্দ করা হয়।
একমাসের কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন— সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার খোকন ও শাহামুদ্দিন, পাবনার ভাঙ্গুরার রাকিবুল ও রবিউল এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বোরহান উদ্দিন।
আরও পড়ুন: পদ্মা নদীতে বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান, ড্রেজার-ট্রলার জব্দসহ আটক ৫
এর মধ্যে বোরহানের সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাকি চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লালপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি আজিজুল কবীর।
৩৪৭ দিন আগে
বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি: পরিবেশ উপদেষ্টা
বালু উত্তোলন ও বন দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘চুনতি অভয়ারণ্যের সীমানা নির্ধারণের কাজ এখন চলছে। বালু উত্তোলন ও বন দখলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় বালু উত্তোলন হয়, সেখানে এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কেউ ঢুকতে বা বেরোতে না পারে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে বন বিভাগের চট্টগ্রাম সার্কেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, অচিরেই একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা হবে। সীমানা নির্ধারণের পর বিদ্যমান বন রক্ষায় জোর দেওয়া হবে। অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। মানুষের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। বলেন, একসময় হাতির দাঁত ও হাড়ের জন্য হাতি মারা হতো। এই ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ রোধে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগানো হবে।
উপদেষ্টা বলেন, হাতি ও মানুষ দ্বন্দ্বের সমাধানে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হবে। বন রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে।
পরে চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলের স্থান ও কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিচারে কমিটি গঠন হচ্ছে: রিজওয়ানা
তিনি পার্কে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও দর্শনার্থীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী পাচার ও অবৈধ শিকার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন সার্কেলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. সানাউল্লাহ পাটোয়ারী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বিভাগীয় বন কর্তকর্তা, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের সংর্ঘষে নিহত ১
ময়মনসিংহ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা খানা এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মেহেদি হাসান রাকিব নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও একজন। গুলিবিদ্ধ যুবককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে পাগলা থানা এলাকার তললী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মেহেদি হাসান রাকিব (২৫) ওই গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় নিহত মন্টুর ১৮ মাসের শিশুর দায়িত্ব নিলেন জামায়াত আমির
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় ইয়াসিন ও ও নিহত মেহেদি হাসান রাকিবের সঙ্গে বালু তোলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষ বালু তোলা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় মেহেদি হাসান রাকিবকে ইয়াসিনের পক্ষের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম জানা যায়নি। তবে, তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানে হয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৩৯৩ দিন আগে
বালু উত্তোলন ও সাইট দখল নিয়ে জাফলংয়ে ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০
সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সাইট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইসিএভুক্ত এলাকার জিরো পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেনের সঙ্গে লাখের পার গ্রামের আব্দুল হেকিমের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গার তিতুদহে সংঘর্ষে সাবেক বিএনপি নেতা নিহত, আহত ২
কামাল হোসেন বলেন, ‘লাখের পার গ্রামের হেকিম মিয়া ও মোহাম্মদপুরের সুমন শিকদারসহ অর্ধশত লোকজন দিন-রাত জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ট্রাক ভর্তি করে বালু-পাথর নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে বারবার প্রতিবাদ করে আসছি। রাতে লোকজন নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হেকিম ও সুমন শিকদারের লোকেরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তারা গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ সুস্থ হয়ে থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুর সাইট দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংঘর্ষ চলাকালে পাথরের আঘাতে একজনের মাথা ফেটে গেছে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪০১ দিন আগে
অবৈধ ড্রেজিং চলছেই, ভাঙন ঝুঁকিতে পদ্মাপাড়ের ৭ গ্রাম
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে অন্তত ৭টি গ্রামের বাসিন্দারা।
নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে ঝুঁকিতে রয়েছে গ্রামগুলোর অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে; আর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে সম্প্রতি বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার ভাঙনে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে পদ্মা পাড়ের এসব গ্রামের মানুষের।
জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের টিলারচর, ইন্তাজ মোল্যার ডাঙ্গী, সবুল্যা শিকদারের ডাঙ্গী, হরিরামপুর ইউনিয়নের জাকেরের শুরাসহ অন্তত সাতটি গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সবুল্যা শিকদার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ হরিরামপুর ইউনিয়নের জাকেরের শুরা খালের মাথা থেকে গাজিরটেক ইউনিয়নের হাজিগঞ্জ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদরের সবুল্যা শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সুপারির বাগান এলাকা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকা-সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দিনের পর দিন অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা না হলে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা কোনোভাবেই রক্ষা পাবে না।
আব্দুর রশিদ নামের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বলেন, এইখানে নদী থেকে গত সরকারের সময় যেভাবে মেশিন দিয়ে দিন-রাত বালু কাটা হয়েছে, এখন লোক পরিবর্তন হয়ে সেই একইভাবে চলছে বালু কাটা। সরকার বদলালেও এই অবৈধ কাজ থেমে নেই। তাদের কাছে (অবৈধ বালু উত্তেলনকারী) আমরা নদী পাড়ের মানুষ অসহায়।
পাউবোর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চরভদ্রাসন উপজেলার জাকেরেরশুরা বাজারে প্রস্তাবিত নদীর পাড় রক্ষার প্রকল্পের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। পরে ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা।
ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রকল্পের গুরুত্বের বিষয়ে স্থানীয় জনমত ও নদীপাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। প্রকল্পটি হওয়া জরুরি, তবে তার আগে দরকার বালু লুটেরাদের তাড়ানো।’
ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘সোয়া তিন কিলোমিটার নদীতীর অরক্ষিত অবস্থায় আছে এবং এটাকে প্রোটেকশনের (নিরাপত্তা) মধ্যে নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে আমরা প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্দেশনা রয়েছে যে, প্রকল্পের সুবিধাভোগী এলাকাবাসীর মতামত নিতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী গণশুনানি করা হয়েছে এবং মতামত অনুযায়ী দ্রুত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির অনুমোদন হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ কর্মকর্তা।
ফরিদপুর পাউবো সূত্রে জানা যায়, প্রায় সোয়া ৩ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে প্রাক্কালিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪’শ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে চলতি বছরে কাজ শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা শেষ হবে। আর এতে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
৪১১ দিন আগে
ফেনী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ২৬ ড্রেজার মেশিন জব্দ
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। এ সময় ২৬টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন-৪ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অলিনগর ও চম্পকনগর বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ২২০০/৩-এস থেকে আনুমানিক ৪শ’ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সোনাপুরের ফেনী নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬টি মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। এগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৯ লাখ টাকা। উল্লিখিত মেশিনগুলো ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হেফাজতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদী থেকে ৮ ড্রেজার জব্দ, গ্রেপ্তার ১৬
এ সময় ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবল চাকমার নেতৃত্বে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন-৪ এর ২০ জন সদস্য, সেনাবাহিনীর ১০ সদস্য বিশিষ্ট টহল দল, ছাগলনাইয়া থানার ৭ জন পুলিশ সদস্যের একটি টহল দল অংশগ্রহণ করে।
বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান বন্ধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তবর্তী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে বিজিবির নানা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১, ৯ ও ২৮ ডিসেম্বর ৩টি অভিযানে মোট ৭৫টি মেশিন ও ১৯ লাখ ৬০ হাজার ফুট বালু জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে দুটি ড্রেজার জব্দ, গ্রেপ্তার ১৮
৪৬৯ দিন আগে
কৃষি জমির স্বার্থে বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
কৃষি জমি বাঁচাতে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
সোমবার সংসদ ভবনে চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংসদীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির ৩০তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
এতে ফসলি ও চরের জমিতে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে জমিতে নির্মিত সোলার প্যানেলের উচ্চতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিগত বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয় বৈঠকে।
আরও পড়ুন: বছরে চার ফসলের সম্ভাবনা জাগাচ্ছে ব্রি৯৮ আউশ ধান: কৃষিমন্ত্রী
আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে চরাঞ্চলে ভুট্টা, সূর্যমুখী ও সয়াবিনের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোসলেম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ কিরণ, আনোয়ারুল আবেদীন খান, উম্মে কুলসুম, হোসনে আরা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রবি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৮৯ কোটি টাকার প্রণোদনা দেবে সরকার
৯৪৬ দিন আগে