হজ
হজ কার্যক্রম তদারকিতে ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণ দল গঠন
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম তদারকির জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে চার সদস্যের পর্যবেক্ষণ দল মনিটরিং টিম গঠন করেছে সরকার।
বুধবার (২৫ মার্চ) এ দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।
দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। অন্য সদস্যরা হলেন— সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং অতিরিক্ত সচিব (হজ অনুবিভাগ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দলটির তিন সদস্য বিমানের ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ১৯ মে বা কাছাকাছি সময়ে সৌদি আরব যাবেন। সেখানে দায়িত্ব পালন শেষে ১৬ জুন বা কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন। অন্যদিকে, আয়াতুল ইসলাম অগ্রবর্তী প্রতিনিধি হিসেবে ১৬ এপ্রিল বা কাছাকাছি সময়ে সৌদি আরব যাবেন এবং ৩০ মে বা কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন।
এ সফরে সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের সঙ্গে তাদের স্ত্রী যথাক্রমে রাজিয়া মোরশেদা ও রোমেনা পারভীন সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
সরকারি শর্ত অনুযায়ী, এ সফর সরকারি ভ্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সদস্যরা নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন। মন্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট খাত থেকে এবং অন্যান্য সদস্যদের ব্যয় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে বহন করা হবে।
এছাড়া বিমান টিকিট, ভিসা, বীমা, আবাসন, যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয় সদস্যদের প্রাপ্য ভাতার মধ্য থেকে সমন্বয় করতে হবে। সফরসঙ্গীদের জন্য জনপ্রতি চার লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয় হলে তা পরবর্তী সময়ে পরিশোধযোগ্য হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন।
১১ দিন আগে
হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়ক দল গঠন
চলতি বছর হজ উপলক্ষে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’ (সংশোধিত)-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী এ দল গঠন করে তাদের সৌদি আরব গমনাগমনে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
হজযাত্রীদের সেবায় গঠিত এ দলে গাড়িচালক, অফিস সহায়ক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, গানম্যান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর ও ফটোকপি অপারেটরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলে মোট ৯ জন গাড়িচালক রয়েছেন। তারা হলেন—মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আলমগীর ও আক্তারুজ্জামান সরকার, সচিবের দপ্তরের মো. সাইদুল ইসলাম ও মো. টিটু মিয়া বেপারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (প্রেষণে হজ অনুবিভাগ) মো. মাসুদুর রহমান ও গোলাম মাওলা, হজ অফিসের মো. সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের মো. হাসান আলী এবং প্রশাসন শাখার মো. আবদুস সবুর বিশ্বাস।
এছাড়া দলে ২৫ জন অফিস সহায়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন শাখার সম্রাট, সচিবের দপ্তরের মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সোহাগ, হজ-২ শাখার মো. রাশেদুল ইসলাম, সমন্বয় শাখার ইলিয়াছ আহমেদ ও মোছা. হাফিজা আক্তার, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের মো. কামরুল হোসেন, প্রশাসন অনুবিভাগের তানিয়া আক্তার ও সাইয়্যিদা মারজিয়া রুবিনা, অনুদান শাখার পারুলী আক্তারী ও মনিরুল ইসলাম, উন্নয়ন অধিশাখার মো. নুরুল হুদা, হজ-১ শাখার মো. আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টার দপ্তরের মো. অলিউল্লাহ, মো. আরমান হোসেন ও মাসুম বিল্লাল, হজ অনুবিভাগের কাজী জুয়েল মিয়া, পরিকল্পনা-১ শাখার সাদ্দাম বিশ্বাস, প্রশাসন-১ শাখার মনির হোসেন, আইসিটি শাখার মুহাম্মদ রাশেদ মিয়াজি, হজ অধিশাখার সারোয়ার মাহমুদ, বাজেট শাখার শারমিন সুলতানা, হজ-৩ শাখার মো. আলমগীর হোসেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংযুক্ত মো. টিপু সুলতান ও হজ অফিস ঢাকার হাবিবুর রহমান রয়েছেন।
দলে দুইজন গানম্যান (বন্দুকধারী) রয়েছেন। তারা হলেন— সচিবের দপ্তরের মো. আব্দুল হাকিম এবং মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আবুল কাশেম।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর হজযাত্রীদের সেবায় প্রশাসনিক দল, প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল ও কারিগরি দল গঠন করে সরকারি ব্যয়ে সদস্যদের সৌদি আরবে পাঠিয়ে থাকে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে।
তবে প্রতি বছরই বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের দল পাঠানো হলেও অনেক সময় সদস্যদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে বা ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন।
প্রায় প্রতিবছরই হজের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহায়তাকারী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
১৮ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি: ভ্রমণ বিপর্যয়ে দিশেহারা হজযাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং ঘরে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। আবার অনেককে তাদের পরিকল্পিত সফর পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে।
ওমরাহ সম্পন্নকারী অনেকের মনেই ইসলামের পবিত্র স্থান দর্শনের অভিজ্ঞতার ওপর বিষাদের ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাকের মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ইন্দোনেশীয় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল এবং ফ্লাইটের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের ওমরাহ যাত্রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইচসান মার্শা একে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর্থিক ও মানসিক ধকল
সৌদি আরবে আটকা পড়া জানিরাহ ফারিস নামের এক ওমরাহযাত্রী ইন্দোনেশিয়ার আইনিউজ টিভিকে জানান, তার ফেরার ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তার নতুন ফ্লাইট আগামী ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রী, বিশেষ করে যাদের এই বিলম্বের কারণে বাড়তি খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জানিরাহ বলেন, সবার পক্ষে হোটেলে অতিরিক্ত থাকার খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক যন্ত্রণা। আমি খুব হতাশ, কারণ আমার সন্তানরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি বছর, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান।
জেদ্দায় মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১ হাজার ৬০০ ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভালো আছেন। তার কার্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খুলেছে।
রবিবার পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা থেকে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ফেরত পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস।
এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটকা পড়া নাগরিক ও ওমরাহযাত্রীদের সরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মিশন, আঞ্চলিক সরকার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যাত্রীদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে যা বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পরিবারের পুনর্মিলন
৪৪ বছর বয়সী মিসরের নাগরিক মাগেদ খোলাইফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়) সৌদি আরব থেকে কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার ফ্লাইট বাতিল হয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ওমরাহর আধ্যাত্মিক ও আনন্দময় পরিবেশ থেকে এটি ছিল এক আকস্মিক ও নেতিবাচক পরিবর্তন।
স্ত্রী ও শাশুড়িসহ আটকা পড়া খোলাইফ কুয়েতে থাকা সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কুয়েত থেকে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, সেখানে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। খোলাইফ বলেন, ‘সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’
পরে তিনি সড়কপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার কুয়েতে পৌঁছালে পরিবারের সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে তার। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চোখের সামনে দেখা এবং বুকে জড়িয়ে ধরার পর যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, আর কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’
কঠিন সিদ্ধান্ত ও সফর বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী জাভেদ খিজের জানান, তিনি তার পরিবারের ওমরাহ সফর বাতিল করেছেন। তুরস্ক ও কাতার হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, আমরা খবর দেখে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি (সফর বাতিল) কঠিন ছিল। কে জানে আগামী রমজানে আমি বেঁচে থাকব কি না? কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে ওমরাহ করতে আসা ৫২ বছর বয়সী মজিদ মুঘল বলেন, আমরা পবিত্র ভূমিতে (সৌদি আরব) আসাকে আল্লাহর ডাক হিসেবে গণ্য করি। রমজান মাসে আসাটা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে যুদ্ধ শুরু হবে জানলে আসতেন না বলে জানান তিনি।
মুঘল জানান, সৌদি আরবে আসার পথে তারা হামলার খবর পান। অন্য রুটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়লেও তাদের ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো সমস্যা নেই। রমজানের কারণে প্রচুর ভিড়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিক দেখছি এবং আমরা অনিরাপদ বোধ করছি না।
এই পরিবারটি যুদ্ধের কথা ভুলে এখন রোজা, নামাজ এবং ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খবর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের বারবার আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে, তারা ভালো আছেন।
সবশেষে তাদের মনে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। মুঘল বলেন, ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের খুঁটিনাটি যাচাই করছি। আমার সন্তানদের স্কুলে ফিরতে হবে; আমাকেও কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
৩০ দিন আগে
এবারও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না: ধর্ম উপদেষ্টা
চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত বছরের মতো এ বছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা- কর্মচারীদেরকেও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি ও উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সেদেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবাটি আমাদের দেশের সকল হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি, ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারব।
জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এ বছর বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুইবছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।
উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমান ভাড়া হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, আমরা গতবছর সরকারি মাধ্যমের হাজীদেরকে হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং দল সদস্য সংখ্যাও ২০২৪-এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হয়নি। এ বছরও কাউকে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল ২টি। এ বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ৩টি। এ বছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ যাতে হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এ বছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ কর্মদিবসে ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, এ বছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ, সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, যা হারাম শরিফের বহিরাঙ্গন থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরিফ যেতে হলে হাজীদেরকে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩-এর হাজীদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরিফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরিফে আদায় করতে পারবেন।
৫৫ দিন আগে
হজযাত্রীদের ভিসা আবেদনের সময় নির্ধারণ
চলতি বছরের হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন শুরু হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ভিসার আবেদন করা যাবে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত ।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের নিবন্ধনকারী সকল হজযাত্রীর সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাজকীয় সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে সৌদি নুসুক মাসার প্রক্রিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের হজে নিবন্ধিত প্রবাসী-বাংলাদেশিসহ সকল হজযাত্রীকে বাংলাদেশের যে কোনো সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ করে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তিতে।
এ বছর ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন না বলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
৬৫ দিন আগে
রোডম্যাপ অনুসারে হজ কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনে নিরলস কাজ করছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, আসন্ন হজে এদেশের হজযাত্রীদের জন্য বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সকল এজেন্সিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মদিনা ও মক্কা উভয় স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রীর বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। বাকি হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে হজ এজেন্সিসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার জন্য রোডম্যাপ অনুসারে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক হজ কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ধর্ম উপদেষ্টা এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আগামীতে আরও মজবুত ও সুসংহত করাসহ দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
৬৮ দিন আগে
৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন হজযাত্রীরা
হজযাত্রীদের টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সারা দেশে মোট ৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন চলতি বছরের হজযাত্রীরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজযাত্রীরা মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের (৮০টি) তালিকা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, টিকা দেওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে হজযাত্রীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া টিকা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও হজ পোর্টাল (www.hajj.gov.bd) থেকে ই-হেলথ প্রোফাইল প্রিন্ট করে সঙ্গে নিতে হবে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
টিকাকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জন অফিস। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিক।
ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোর মধ্যে আছে গাজীপুর টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও দিনাজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল।
হজ বিষয়ক যেকোনো তথ্যের জন্য হজ কল সেন্টারের ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
৭৮ দিন আগে
৭ জানুয়ারির মধ্যে হজ ফ্লাইটের সূচি প্রকাশের অনুরোধ
আগামী ৫ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এবং হজ পোর্টালে হজ ফ্লাইটের সূচি প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) এই অনুরোধ জানিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে হজের সৌদি রোডম্যাপ অনুযায়ী হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সূচি আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সময় নির্ধারণ আছে। হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় হোটেল বা বাড়ি ভাড়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মদিনার বাড়ি ভাড়া স্লটভিত্তিক হওয়ায় সুষ্ঠুভাবে বাড়ি ভাড়ার পরিকল্পনার জন্য এয়ারলাইন্সগুলোর জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অনুমোদিত ফ্লাইট সূচি ৫ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও হজ পোর্টালে আপলোড করা জরুরি।
এ অবস্থায়, জিএসিএ ও বেবিচক অনুমোদিত ফ্লাইট সিডিউল এয়ারলাইন্সগুলোর ৫ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও হজ পোর্টালে আপলোড করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
৯৮ দিন আগে
হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে
হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে ২০২৬ সালের হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধনকারীদের এ অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে জারিকৃত পত্রে বলা হয়েছে-, হজ-২০২৬-এর সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জমার মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬ অনুযায়ী প্রত্যেক হজযাত্রীকে প্যাকেজ মূল্যের সমুদয় অর্থ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবশ্যিকভাবে জমা প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। তাই যেসব হজযাত্রী নির্বাচিত প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ এখনও জমা দেননি, তাদের উক্ত সময়ের মধ্যে জমা দিতে অনুরোধ করা হলো।
এ সময়ের মধ্যে কোনো নিবন্ধিত হজযাত্রী প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা জমা না দিলে তার হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০৫ দিন আগে
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ২০ শতাংশকে মদিনা দিয়ে যেতে হবে
সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া হজ চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছর হজে মদিনা দিয়ে ২০ শতাংশ বাংলাদেশি হজযাত্রী গমন এবং ৩০ শতাংশ হজযাত্রীকে ফিরতে হবে।
এমন নিয়মের কথা জানিয়ে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রথম সারির হজ এজেন্সিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, হজ চুক্তি ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি) মোতাবেক সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের মোট হজযাত্রীর ২০ শতাংশ মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরব গমন এবং ৩০ শতাংশ প্রত্যাগমন (ফেরা) করবেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী প্রথম সারির এজেন্সিগুলোর এভাবে হজযাত্রীদের মদিনা আল মোনাওয়ারা দিয়ে সৌদি আরবে গমন এবং প্রত্যাগমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় আগামী হজ মৌসুমে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরব গমন ও প্রত্যাগমনের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের হজ চুক্তি হয়। এ বছর বাংলাদেশের মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
১১৬ দিন আগে