হজ
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি: ভ্রমণ বিপর্যয়ে দিশেহারা হজযাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং ঘরে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। আবার অনেককে তাদের পরিকল্পিত সফর পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে।
ওমরাহ সম্পন্নকারী অনেকের মনেই ইসলামের পবিত্র স্থান দর্শনের অভিজ্ঞতার ওপর বিষাদের ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাকের মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ইন্দোনেশীয় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল এবং ফ্লাইটের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের ওমরাহ যাত্রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইচসান মার্শা একে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর্থিক ও মানসিক ধকল
সৌদি আরবে আটকা পড়া জানিরাহ ফারিস নামের এক ওমরাহযাত্রী ইন্দোনেশিয়ার আইনিউজ টিভিকে জানান, তার ফেরার ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তার নতুন ফ্লাইট আগামী ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রী, বিশেষ করে যাদের এই বিলম্বের কারণে বাড়তি খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জানিরাহ বলেন, সবার পক্ষে হোটেলে অতিরিক্ত থাকার খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক যন্ত্রণা। আমি খুব হতাশ, কারণ আমার সন্তানরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি বছর, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান।
জেদ্দায় মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১ হাজার ৬০০ ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভালো আছেন। তার কার্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খুলেছে।
রবিবার পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা থেকে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ফেরত পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস।
এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটকা পড়া নাগরিক ও ওমরাহযাত্রীদের সরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মিশন, আঞ্চলিক সরকার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যাত্রীদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে যা বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পরিবারের পুনর্মিলন
৪৪ বছর বয়সী মিসরের নাগরিক মাগেদ খোলাইফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়) সৌদি আরব থেকে কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার ফ্লাইট বাতিল হয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ওমরাহর আধ্যাত্মিক ও আনন্দময় পরিবেশ থেকে এটি ছিল এক আকস্মিক ও নেতিবাচক পরিবর্তন।
স্ত্রী ও শাশুড়িসহ আটকা পড়া খোলাইফ কুয়েতে থাকা সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কুয়েত থেকে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, সেখানে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। খোলাইফ বলেন, ‘সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’
পরে তিনি সড়কপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার কুয়েতে পৌঁছালে পরিবারের সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে তার। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চোখের সামনে দেখা এবং বুকে জড়িয়ে ধরার পর যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, আর কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’
কঠিন সিদ্ধান্ত ও সফর বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী জাভেদ খিজের জানান, তিনি তার পরিবারের ওমরাহ সফর বাতিল করেছেন। তুরস্ক ও কাতার হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, আমরা খবর দেখে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি (সফর বাতিল) কঠিন ছিল। কে জানে আগামী রমজানে আমি বেঁচে থাকব কি না? কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে ওমরাহ করতে আসা ৫২ বছর বয়সী মজিদ মুঘল বলেন, আমরা পবিত্র ভূমিতে (সৌদি আরব) আসাকে আল্লাহর ডাক হিসেবে গণ্য করি। রমজান মাসে আসাটা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে যুদ্ধ শুরু হবে জানলে আসতেন না বলে জানান তিনি।
মুঘল জানান, সৌদি আরবে আসার পথে তারা হামলার খবর পান। অন্য রুটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়লেও তাদের ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো সমস্যা নেই। রমজানের কারণে প্রচুর ভিড়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিক দেখছি এবং আমরা অনিরাপদ বোধ করছি না।
এই পরিবারটি যুদ্ধের কথা ভুলে এখন রোজা, নামাজ এবং ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খবর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের বারবার আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে, তারা ভালো আছেন।
সবশেষে তাদের মনে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। মুঘল বলেন, ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের খুঁটিনাটি যাচাই করছি। আমার সন্তানদের স্কুলে ফিরতে হবে; আমাকেও কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
১০ দিন আগে
এবারও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না: ধর্ম উপদেষ্টা
চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত বছরের মতো এ বছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা- কর্মচারীদেরকেও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি ও উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সেদেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবাটি আমাদের দেশের সকল হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি, ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারব।
জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এ বছর বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুইবছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।
উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমান ভাড়া হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, আমরা গতবছর সরকারি মাধ্যমের হাজীদেরকে হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং দল সদস্য সংখ্যাও ২০২৪-এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হয়নি। এ বছরও কাউকে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল ২টি। এ বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ৩টি। এ বছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ যাতে হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এ বছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ কর্মদিবসে ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, এ বছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ, সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, যা হারাম শরিফের বহিরাঙ্গন থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরিফ যেতে হলে হাজীদেরকে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩-এর হাজীদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরিফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরিফে আদায় করতে পারবেন।
৩৫ দিন আগে
হজযাত্রীদের ভিসা আবেদনের সময় নির্ধারণ
চলতি বছরের হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন শুরু হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ভিসার আবেদন করা যাবে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত ।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের নিবন্ধনকারী সকল হজযাত্রীর সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাজকীয় সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে সৌদি নুসুক মাসার প্রক্রিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের হজে নিবন্ধিত প্রবাসী-বাংলাদেশিসহ সকল হজযাত্রীকে বাংলাদেশের যে কোনো সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ করে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তিতে।
এ বছর ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন না বলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
৪৫ দিন আগে
রোডম্যাপ অনুসারে হজ কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনে নিরলস কাজ করছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, আসন্ন হজে এদেশের হজযাত্রীদের জন্য বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সকল এজেন্সিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মদিনা ও মক্কা উভয় স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রীর বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। বাকি হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে হজ এজেন্সিসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার জন্য রোডম্যাপ অনুসারে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক হজ কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ধর্ম উপদেষ্টা এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আগামীতে আরও মজবুত ও সুসংহত করাসহ দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে
৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন হজযাত্রীরা
হজযাত্রীদের টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সারা দেশে মোট ৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন চলতি বছরের হজযাত্রীরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজযাত্রীরা মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা গ্রহণ করবেন। এ লক্ষ্যে হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের (৮০টি) তালিকা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, টিকা দেওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে হজযাত্রীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া টিকা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও হজ পোর্টাল (www.hajj.gov.bd) থেকে ই-হেলথ প্রোফাইল প্রিন্ট করে সঙ্গে নিতে হবে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
টিকাকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জন অফিস। বাকি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিক।
ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোর মধ্যে আছে গাজীপুর টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও দিনাজপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল।
হজ বিষয়ক যেকোনো তথ্যের জন্য হজ কল সেন্টারের ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
৫৮ দিন আগে
৭ জানুয়ারির মধ্যে হজ ফ্লাইটের সূচি প্রকাশের অনুরোধ
আগামী ৫ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে এবং হজ পোর্টালে হজ ফ্লাইটের সূচি প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) এই অনুরোধ জানিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে হজের সৌদি রোডম্যাপ অনুযায়ী হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট সূচি আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সময় নির্ধারণ আছে। হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় হোটেল বা বাড়ি ভাড়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মদিনার বাড়ি ভাড়া স্লটভিত্তিক হওয়ায় সুষ্ঠুভাবে বাড়ি ভাড়ার পরিকল্পনার জন্য এয়ারলাইন্সগুলোর জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অনুমোদিত ফ্লাইট সূচি ৫ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও হজ পোর্টালে আপলোড করা জরুরি।
এ অবস্থায়, জিএসিএ ও বেবিচক অনুমোদিত ফ্লাইট সিডিউল এয়ারলাইন্সগুলোর ৫ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও হজ পোর্টালে আপলোড করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
৭৮ দিন আগে
হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে
হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে ২০২৬ সালের হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধনকারীদের এ অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে জারিকৃত পত্রে বলা হয়েছে-, হজ-২০২৬-এর সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জমার মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬ অনুযায়ী প্রত্যেক হজযাত্রীকে প্যাকেজ মূল্যের সমুদয় অর্থ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবশ্যিকভাবে জমা প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। তাই যেসব হজযাত্রী নির্বাচিত প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ এখনও জমা দেননি, তাদের উক্ত সময়ের মধ্যে জমা দিতে অনুরোধ করা হলো।
এ সময়ের মধ্যে কোনো নিবন্ধিত হজযাত্রী প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা জমা না দিলে তার হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৮৫ দিন আগে
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ২০ শতাংশকে মদিনা দিয়ে যেতে হবে
সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া হজ চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছর হজে মদিনা দিয়ে ২০ শতাংশ বাংলাদেশি হজযাত্রী গমন এবং ৩০ শতাংশ হজযাত্রীকে ফিরতে হবে।
এমন নিয়মের কথা জানিয়ে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রথম সারির হজ এজেন্সিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, হজ চুক্তি ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি) মোতাবেক সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের মোট হজযাত্রীর ২০ শতাংশ মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরব গমন এবং ৩০ শতাংশ প্রত্যাগমন (ফেরা) করবেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী প্রথম সারির এজেন্সিগুলোর এভাবে হজযাত্রীদের মদিনা আল মোনাওয়ারা দিয়ে সৌদি আরবে গমন এবং প্রত্যাগমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় আগামী হজ মৌসুমে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরব গমন ও প্রত্যাগমনের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।
গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের হজ চুক্তি হয়। এ বছর বাংলাদেশের মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
৯৬ দিন আগে
হজ প্যাকেজ ঘোষণা রবিবার: এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি প্যাকেজ, কমছে খরচ
আগামী বছরের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিমান ভাড়া কিছুটা কমায় চলতি বছরের তুলনায় খরচও কমবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নির্বাহী কমিটির সভা শেষে প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে চলতি বছর ২টি হজ প্যাকেজ ছিল। অন্যদিকে চলতি বছরের মতো আগামী বছরও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। হজ এজেন্সিগুলো এর নিচে কোন প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না।
রবিবার বিকালে সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এ সভায় হজ প্যাকেজ অনুমোদিত হলে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চলতি বছরের হজে বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। বহু দেন-দরবারের পরও হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমোদিত পেলো ৩৩ ব্যাংক
জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরেই হজের বিমান ভাড়া নির্ধারণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছিল। দুই উপদেষ্টা একসঙ্গে সভায় ছিলেন। কিন্তু, ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে ঐক্যমত হয়নি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান ভাড়া এক হাজার ডলার (এক লাখ ২২ হাজার টাকা-শুল্ক ছাড়া) নির্ধারণের বিষয়ে অনড় অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে, বিমান মন্ত্রণালয় গত হজের বিমান ভাড়া (এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা) ধরে প্যাকেজ ঘোষণার অনুরোধ জানায়। পরবর্তী সময়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে ভাড়া কমানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে তা জানানো হবে।
গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিমান ও উপর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের দপ্তরে বৈঠকে বসেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। বৈঠকে দুই উপদেষ্টা ছাড়াও ধর্ম সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামানিক, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শেষ পর্যন্ত আগামী হজের বিমান ভাড়া এক হাজার ১০০ ডলার নির্ধারণের (এক লাখ ৩৪ হাজার ২০০ টাকা-শুল্ক ছাড়া) বিষয়ে অনড় থাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
কিন্তু বিমান মন্ত্রণালয় ভাড়া এক হাজার ২০০ ডলার ধরে হজ প্যাকেজ ঘোষণার অনুরোধ জানায়। তারা আরও কিছুটা সময় নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে ভাড়া আরও কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তখন যাতে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া সমন্বয় করে নেওয়া হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী হজের বিমান ভাড়া এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে চলতি বছরের থেকে ভাড়া ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা কমতে পারে।
এ বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ইউএনবিকে বলেন, ‘বিমান ভাড়া নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে। বিমান ভাড়ার ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক ও সিভিল এভিয়েশনের ফি কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। রবিবার প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমরা হজের বিমান ভাড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছি। একটা নির্ধারিত হয়েছে তবে সেটা আমরা এই মুহূর্তে বলতে চাচ্ছি না।
আগামী হজ কার্যক্রম আগেভাগে শেষ করতে হবে: কোটাসহ সময়সীমা দিল সৌদি সরকার
ধর্ম মন্ত্রণালয় এক হাজার ১০০ ডলার প্রস্তাব করেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেখেন, আমার প্রচেষ্টার কোনো অন্ত নেই। আমরা চেষ্টা করছি যতটা কমানো যায়। কিন্তু আমরা যদি এখন এমন একটা সংখ্যা বলি, যেটা যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি, সেটা তো ভালো হবে না। প্রাথমিকভাবে একটা চূড়ান্ত হিসাব আমরা তাদেরকে দিয়ে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি সেখান থেকে যদি আরও ভালো কিছু করা যায়।’
চলতি বছর হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। আর প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হয় ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। আর বেসরকারিভাবে হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। এর ভিত্তিতে প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে হজ এজেন্সিগুলো।
আগামী বছর হারাম শরীফের একেবারে কাছাকাছি ৫০০ থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে হোটেলের সুবিধা দিয়ে একটি প্যাকেজ হবে। গত বছরের প্যাকেজ-২ এ আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে এই প্যাকেজটি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে খরচও পড়বে সবচেয়ে বেশি।
আরেকটি প্যাকেজ হবে হারাম শরীফের ২ কিলোমিটারের মধ্যে। যেটি এবার প্যাকেজ-১ ছিল। এবার এ প্যাকেজের খরচ গতবারের থেকে কিছুটা কমবে।
আরেকটি প্যাকেজ হবে হারাম শরীফ থেকে দূরবর্তী আজিজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা সম্বলিত। এটি হবে সাশ্রয়ী প্যাকেজ। এই প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনে সাড়ে চার লাখ টাকার মতো খরচ হতে পারে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে এজেন্সিগুলোর জন্য যে প্যাকেজ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে, সেক্ষেত্রে চলতি বছরের তুলনায় খরচ কিছুটা কমবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী বছর খাবার খরচ ও কোরবানি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নাকি বাইরে থাকবে সেই বিষয়ে শনিবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে হজ অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
আগামী হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেল ১৫৫ এজেন্সি
সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী বছরের (২০২৬) হজের কার্যক্রম বেশ আগেভাগেই সম্পন্ন করতে হবে। গত কয়েক বছরের মতো আগামী বছরও বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। যদিও গত দুই হজে বাংলাদেশের কোটা পূরণ হয়নি।
আগামী বছর হজে যেতে চার লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর বাকি টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত হজযাত্রী নিবন্ধন চললেও রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্যাকেজের পুরো টাকা নিয়ে হজের নিবন্ধন শেষ করতে হবে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯৫৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক হাজার ১৩৫ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। হজ প্যাকেজ ঘোষণা না হওয়ায় অর্থাৎ কত খরচ হবে সেটি নির্ধারিত না হওয়ায় হজযাত্রীরা নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছর হজ হয়েছিল ৫ জুন। গত বছরের ৩০ অক্টোবর হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল সরকার।
হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার ইউএনবিকে বলেন, বর্তমানে হজ নিবন্ধনের গতি কম। আমরা চাই হজ প্যাকেজ দ্রুত ঘোষণা করা হোক। প্যাকেজ ঘোষণা দেরি হওয়ার কারণে নিবন্ধনে গতি অনেক কম। প্যাকেজ ঘোষণা হলে আশা করি নিবন্ধনে গতি বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি হজযাত্রীদের স্বার্থে হজের বিমান ভাড়া যৌক্তিকভাবেই নির্ধারণ করা হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
১৭১ দিন আগে
সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩৪ হাজার ৭৭৬ হজযাত্রী
এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৭৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন। তবে, এক হাজার ৭৯৭ হজযাত্রীর ভিসা এখনো হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসের প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, ৮৬টি ফ্লাইটে সৌদি আরবে গেছেন মোট ৩৪ হাজার ৭৭৬ জন হজযাত্রী। আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত এসব হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এখনো যাওয়ার বাকি ৫২ হাজার ৩২৪ জন।
আরও পড়ুন: পারমিট ছাড়া হজ পালন না করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ
এছাড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৮৫ হাজার ৩০৩ জনের ভিসা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৭৯৭ জন হজযাত্রীর ভিসা হয়নি।
৩১৩ দিন আগে