মার্কিন সেনা
কুয়েতের বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ মার্কিন সেনা
কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরের ভেতরে অপারেশন সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) এ ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ ও এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটি প্রধান সেনাঘাঁটি থেকে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত।
গতকাল (মঙ্গলবার) আইওয়া-ভিত্তিক সরবরাহ ও লজিস্টিকস ইউনিটে কাজ করা নিহত এক সেনার স্বামী জানান, কেন্দ্রটি ছিল শিপিং কনটেইনারের মতো একটি ভবন এবং সেখানে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।
সিএনএন ও সিবিএস নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান এর জবাবে কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, আরও মার্কিনি হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার বলেন, একটি কৌশলগত অপারেশনস সেন্টারে আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় সেনা নিহত হন। পরদিন পেন্টাগন নিশ্চিত করে, পোর্ট শুয়াইবায় এটি ছিল ড্রোন হামলা এবং নিহত চার সেনার নাম প্রকাশ করে।
সোমবার তোলা এবং এপি পর্যালোচিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। এটি কুয়েত সিটির দক্ষিণে অবস্থিত সচল সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চল পোর্ট শুয়াইবার কেন্দ্রে অবস্থিত।
তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ছবিটি রবিবারের হামলার স্থানই দেখাচ্ছে।
প্রধান সেনাঘাঁটি ক্যাম্প আরিফজান সেখান থেকে ১০ মাইলের বেশি দক্ষিণে। অপারেশন সেন্টারটি বাণিজ্যিক জাহাজের কনটেইনার খালাসের ঘাট থেকে প্রায় এক মাইল দূরে এবং চারপাশে তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, শোধনাগার ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল।
ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট নিকোল আমরের স্বামী জোয়ি আমর বলেন, ইরানি হামলার এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রীকে ঘাঁটির বাইরে শিপিং কনটেইনারের মতো একটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মিনেসোটার ৩৯ বছর বয়সী নিকোল ওই হামলায় নিহত হন।
তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ তারা আশঙ্কা করছিল যে যে ঘাঁটিতে তারা ছিল সেটি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তারা মনে করেছিল, ছোট ছোট দলে আলাদা স্থানে থাকাই নিরাপদ।
অপারেশন সেন্টার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, নিরাপদ স্থাপনাটি ছয় ফুট উঁচু দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে; প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তবে ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কী ভূমিকা রাখতে পারত বা বন্দরের কমান্ড সেন্টারের আশপাশে কী ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল—এ বিষয়ে পারনেলের দপ্তর কোনো জবাব দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত হবে।
১০৪ দিন আগে
'আর গণহত্যায় জড়িত থাকব না' বলে নিজের গায়ে আগুন দিলেন মার্কিন সেনা
ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে ‘আমি আর গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকব না’ বলে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্য।
তাৎক্ষণিকভাবে নাম প্রকাশ না করা ওই ব্যক্তি রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার কিছু আগে দূতাবাসে যান এবং গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টুইচে লাইভ স্ট্রিমিং করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই ব্যক্তি নিজের ফোনে লাইভস্ট্রিম শুরু করে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন।
পরে ভিডিওটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়, তবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা একটি অনুলিপি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেছেন।
ওই ব্যক্তিকে চলমান তদন্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে এপির সঙ্গে কথা বলেছেন।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ৩ যুবককে গুলি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় সামরিক অভিযানের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইছেন, তখন এ ঘটনা ঘটল। তবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার দাবিসহ সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ইসরায়েল বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করে আসছে ইসরায়েল।
আটলান্টার দমকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে আটলান্টায় ইসরায়েলি কনস্যুলেটের বাইরে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন এবং আত্মহত্যার সময় পেট্রোল ব্যবহার করেন। ঘটনাস্থলে একটি ফিলিস্তিনি পতাকা পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটিকে 'চরম রাজনৈতিক প্রতিবাদ' বলে মনে করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কর্মকর্তারা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং একটি সন্দেহজনক গাড়ি পরীক্ষা করতে তাদের বোমা স্কোয়াডকেও ডাকা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে কোনও বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় ফের নিহত ২
৮৪১ দিন আগে
আমার আফগান স্টুডেন্টরা ও ১৯৭১ : ব্যক্তিগত অনুভূতি
আমি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির একটি শাখায় ‘গবেষণা পদ্ধতি’র ওপর ক্লাস নিই। এতে বিভিন্ন দেশের স্টুডেন্ট আছে। তার মধ্যে আছে আফগানীরা। এক মাস ধরে মার্কিনিদের চলে যাওয়া নিয়ে চারদিকে অনিশ্চিয়তা বিরাজ করছিল। আমার স্টুডেন্টরা মিড্ টার্ম পরীক্ষা দিয়েছে সবাই, রেজাল্ট ভালো। কিন্তু আমার মনে ছিল বড় রকম দুশ্চিন্তা। ওদের কি হবে ? যুদ্ধ ঘরে আসলে ওরা কি করবে?
যা ঘটলো তালিবানদের হাতে
তালিবানরা দ্রুতভাবে এগুতে লাগলো দেখে সবাই অবাক। মার্কিনিরা নাকি ভেবেছিল ছয় মাস লাগবে ওদের কাবুল পৌঁছাতে। কিন্তু ওরা লাগালো মাত্র ১৫ দিন। মার্কিনিরা যে কত বাস্তব জ্ঞানহীন এটা তারই পরিচয়। যেখানেই যায় এটা ঘটে। ভিয়েতনাম ছেড়েছে এই ভাবে, আফগানিস্তানও ছাড়লো একই ভাবে নিজেদের মানুষদের পুরা বিপদের মধ্যে ফেলে।
একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই খেলা শেষ। প্রেসিডেন্ট গনি প্লেনে চড়ে পালিয়ে গেলো আর তালেবান কাবুল দখল করে ফেললো।
তোমাদের খবর কি ?
যে আমার ক্লাস সহায়ক এবং স্টুডেন্টদের সাথে যোগাযোগ রাখে তাকে বলেছি। সে আফগান স্টুডেন্টদের কয়েকটা মেসেজ পাঠানোর পর উত্তর আসলো। ‘আমরা ভালো আছি। কি হচ্ছে, কি হবে জানি না। চারদিকে অনিশ্চয়তা। তালিবানরা একের পর এক শহর দখল করছে। কাবুলের অনেক কাছে তারা। সবাইকে শুভেচ্ছা।’
এই কথায় নিশ্চিত হওয়ার মতো কিছু ছিল না। মেয়েটা আমাকেই আস্বস্ত করতে চাইছে মনে হলো। আমার ক্লাস সহায়ক একটা পোস্ট দিলো ফেসবুকে। লিখেছে, ‘কত দূরের যুদ্ধ, কত সহজে কাছে এসে যায়। আমার সহপাঠীদের জন্য খুব উদ্বিগ্ন। এখন সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়া দেখি, কোনো খবর আছে কিনা।’
যেদিন তালিবানরা কাবুল দখল করলো সেদিন আর একজনের মেসেজে এলো। লিখছে , ‘কি হবে জানি না। অনেকে পালাতে শুরু করেছে। পাশের দেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে অনেকে। আমার পরিবার নিয়ে আমি বেশি চিন্তিত। কারণ আমরা সংখ্যালঘু। আমাদের কি হবে কে জানে! চারদিকে কি ঘটছে জানি না, বুঝি না।’
যুদ্ধের না বলা খবরগুলো হারিয়ে যায়
সেই দোমড়ানো মনটা নিয়ে আছি। কারণ আমি জানিনা ওদের কি অবস্থা। ওরা কষ্ট করে এই দেশে পড়তে এসেছিল, তারপর করোনার কারণে ফেরত যেতে হয়। আর এখন জীবনটাই বন্ধ। আমার মতো মানুষের জন্য আরও বেশি কষ্টের কারণ ওরা আমার শিক্ষার্থী, শিক্ষকের কাছে আপন সন্তানের মতো। আমি বুকের ভেতরে কষ্টটা টের পাই সারাক্ষণ। অথচ এতো অসহায় লাগে নিজেকে। কিছুই করতে পারবো না, পারছি না।
১৯৭১ সালের একটা ঘটনা। ১৪ ডিসেম্বর আল- বদর এসে স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে ছেলেটাকে কোলে নিয়ে আদর করে তাদের ছেড়ে তিনি চলে যান। কেন নিচ্ছে কেউ বোঝেনি, এখনো জানে না। ১৬ তারিখে সবাই আনন্দ করে। তখন পরিবারের লোকজন জানে না তার কি হাল। ভেবেছে যুদ্ধে জিতেছে, নিশ্চয় ফিরে আসবে। লাশ আর কোনোদিন পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধের বিজয় আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কেউ বলে না।
লেখক: এডিটর এট লার্জ, ইউএনবি
১৭৬৫ দিন আগে
মার্কিন সেনাদের অভিযানে আইএস নেতা বাগদাদি নিহত: ট্রাম্প
ওয়াশিংটন, ২৭ অক্টোবর (এপি/ইউএনবি)- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেছেন, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপকে লক্ষ্য করে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হয়েছেন।
২৪২৪ দিন আগে