ট্রেন দুর্ঘটনা
নওগাঁয় ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ইলিয়াস হোসেন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইলিয়াস হোসেন সাহাগোলা ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে।
আজ সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে সান্তাহার থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ইলিয়াস হোসেন ইয়ারফোন লাগিয়ে রেল লাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরাও থানায় আসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই ট্রেন চলাচলের সময় মানুষের চলাচল করতে দেখা যায়। এর আগেও এ এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে রেললাইন ও স্টেশন এলাকায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওসি মো. দুলাল উদ্দিন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, ইলিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
২ দিন আগে
নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৮)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে শুক্রবার সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে নরসিংদী ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌছায়।
এ সময় ভিড়ের মধ্যেই ছাদে উঠা লোকজন স্টেশনে নামছিল। ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে আমীর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মরদেহ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে উঠার সময় ভিড়ের কারণে ভেতরে যেতে না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, আমীরের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
তেজগাঁওয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় মো. ইমরান (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহাখালীর পাগলার পোল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১১টার তাকে দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাজীরন সোম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাখালী পাগলার পোল এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় মো. ইমরান গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওই হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত ইমরান ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার কামারপুকুর গ্রামের পার্থ মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি মহাখালী এলাকায় থাকতেন বলে জানান তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা মরদেহটি রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রামে ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কা, দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রেল যোগাযোগ
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে বালুভর্তি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কোনো হতাহত না হলেও ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে রেল লাইনের ওপর আটকা পড়েছে। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) সকালে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মীরসরাইয়ের বড়তাকিয়া সোনাপাহাড় এলাকা অতিক্রমকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি বড়তাকিয়া এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের ওপর থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ইঞ্জিনের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনটি ঘটনাস্থলে আটকা পড়ে এবং সাময়িকভাবে রেল চলাচল ব্যাহত হয়।
সংঘর্ষে ট্রেনের ইঞ্জিনে সামান্য ক্ষতি হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দ্রুত ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, দুর্ঘটনার কারণে সকাল ৯ টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
৭৩ দিন আগে
যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালকের মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী একটি ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৩৪) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী (হেলপার) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটী গ্রামে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে যশোর-খুলনা রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হান (২৮) একই ইউনিয়নের হাজিপুর মুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত হেলপার রায়হান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা ট্রাক নিয়ে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে পৌঁছাই। রেললাইন পার হওয়ার সময় যশোরগামী ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে যায়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের ভেতর থেকে চালক ছিটকে রেললাইনে আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে ট্রাকের ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হেলপারকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেননি।
তারা আরও জানান, আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপো থেকে কয়লা লোড করতে হলে যশোর-খুলনা রেললাইন পার হতে হয়। কিন্তু সেই ক্রসিংয়ের স্থানটি অরক্ষিত, যে কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইয়াসির আরাফাত বলেন, দুর্ঘটনার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে কিছু সময় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১০০ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ১
ময়মনসিংহে রেললাইনে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, আনুমানিক ৪৭ বছরের ওই ব্যক্তি সকালে শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেললাইন দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা হাওর এক্সপ্রেস নামের যাত্রীবাহী ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকা পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই ব্যক্তি।
ওসি মো. আকতার হোসেন আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১০৮ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৪
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে একটি কমিউটার ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের সকলেই নারী।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ এপ্রিল) জাকার্তার বাইরে বেকাসি তিমুর স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ (মঙ্গলবার) উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত কমিউটার ট্রেনের একটি বগি থেকে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শেষ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি দূরপাল্লার ট্রেন স্টেশনে থেমে থাকা ওই কমিউটার ট্রেনটির পেছনের বগিতে ধাক্কা দেয়। এতে কমিউটার ট্রেনটির শেষ বগিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বগিটি শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। নারীদের হয়রানি প্রতিরোধে তাদের জন্য আলাদা এ বগির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রেলওয়ে কোম্পানি পিটি কেরেটা আপি ইন্দোনেশিয়ার সিইও ববি রাস্যিদিন জানান, এ দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় মোট ৮৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটির ভেতর থেকে সকল হতাহতদের উদ্ধার করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি বলেন, ঘটনাস্থলে আর কোনো হতাহত নেই।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় দূরপাল্লার ট্রেনের বাকি ২৪০ জন যাত্রী নিরাপদে আছেন।
ঘটনাস্থলে জাকার্তা পুলিশের প্রধান আসেপ এদি সুহেরি সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, প্রথমে বেকাসি তিমুর স্টেশনের কাছে একটি আটকে পড়া ট্যাক্সিকে কমিউটার ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এর ফলে রেলের কর্মীরা ওই কমিউটার ট্রেনকে স্টেশনে থামিয়ে দেন। এ সময় কমিউটার ট্রেনটিকে একই ট্র্যাকে ঢুকে আরেকটি দূরপাল্লার ট্রেন এসে ধাক্কা দেয়।
ববি রাস্যিদিন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে আমরা জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির তদন্তের ওপর নির্ভর করছি।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার পুরনো রেলপথ ব্যবস্থায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম জাভা প্রদেশে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছিল।
১১৩ দিন আগে
কমলাপুরে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে নারী নিহত
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে চলন্ত ট্রেনে উঠার সময় পড়ে গিয়ে আসমা ভূঁইয়া (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আসমার বাড়ি উত্তরা দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক এলাকায়। তার স্বামীর নাম মমিন ভূঁইয়া।
মোমিন ভূঁইয়া জানান, আজ (শনিবার) সকালে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে কমলাপুর রেলস্টেশন এসেছিলাম। সবাই লাইন ধরে ট্রেনে উঠছিল, এমন সময় ট্রেন ছেড়ে দেয়। তখন দ্রুত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে আসমা গুরুতর আহত হন। পায়ের কিছু অংশ কেটে যাওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। পরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১১৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে আইয়ুব আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদীঘি রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ আইয়ুব আলী ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, লোকমুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১৪৩ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ঝিনাইদহের পাঁচজনের পরিবারে শোকের মাতম
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে শোকাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই মেয়ে খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩), ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন।
নিহতরা ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ করে ঝিনাইদহ থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে নোয়াখালীতে আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পাঁচজনের মৃত্যুতে গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাই পিন্টু ছিলেন মামুন পরিবহনের ড্রাইভার। তার শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ওই গাড়িতেই তার ভাইয়ের পরিবার নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় পিন্টু বদলি ড্রাইভার হিসেবে নেমে পড়েন। গাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু ও দুই মেয়ে ছিল। দুর্ঘটনায় তারা সবাই প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, তাদের মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন। মরদেহগুলো বাড়িতে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।
দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। নিহতদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
১৫০ দিন আগে