তথ্য উপদেষ্টা
বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে: ডা. জাহেদ
জ্বালানি সংকট নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের জীবন সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অহেতুক সরকারকে দায় চাপানো ঠিক হবে না। জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনগণের ভোগান্তি তৈরি করছে।’
বিরোধী দলকে রাজপথে কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ না বাড়িয়ে সংসদে গিয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি ও পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশি কার্যকর।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নজরুলকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি স্কুলে শিশুদের বয়স উপযোগী করে তাঁর সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে চর্চা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটা কম্পিটিশন বাচ্চাদের মধ্যে আসলে এটা আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য না। যারা স্কুলের প্রধান বা শিক্ষা কর্মকর্তা বা প্রশাসনে আছেন, তারা এই বার্তাটা পৌঁছে দেবেন, যাতে প্রতিটা স্কুলে যেন নজরুলকে নিয়ে তার বয়স উপযোগী কিছু চর্চা হয়।’
এ সময় নজরুলের চিন্তা ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নজরুল কেন এই আলাপটা খুবই জরুরি, যে দলটা এখন ক্ষমতায় আছে সে দলের রাজনীতি হচ্ছে মধ্যপন্থী, উদার গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘একেক জনের একেক রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। আমাদের দেশেই যারা এখন কাজ করছে, তাদের নানান রকম মতাদর্শ আছে। এখন বিএনপি মতাদর্শটা ধারণ করে, কারণ বিএনপি মনে করে এই মতাদর্শই একটা রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য কল্যাণকর।’
নজরুলের উদার, মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক চিন্তার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নজরুলের মতো একজন উদার মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক মানুষ শাসনের হয় না এবং তাত্ত্বিকভাবে না। উনি সব করে করে দেখেছেন, উনি কী করেন, উনি সব কিছু করেছেন।’
নজরুলের সৃষ্টির বৈচিত্র্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উনি যদি গানের দিকে তাকাই, গানের রেঞ্জ যদি আমরা দেখি, যিনি হামদ-নাত থেকে শুরু করে কীর্তন পর্যন্ত লিখেছেন, এই রকম একটা মানুষকে আমরা শিশুদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘একটা কবিতা শিখলে আমাদের প্রবণতা আছে, সে একটা প্রাইজ পাবে, বাবা-মাও আগ্রহী, একটা আবৃত্তি বা গান শিখিয়ে দিলাম। আমি মনে করি নজরুল বর্ষের মূল স্পিরিট এই আনুষ্ঠানিকতাগুলো না, মূল স্পিরিট হচ্ছে, নজরুলকে সামনে নিয়ে আসা।’
‘নজরুল কী করেছে, নজরুল কেমন ছিলেন, নজরুলের বিভিন্ন দিক, তার চিন্তা, তার দর্শন—এগুলো বয়স উপযোগী করে কথাবার্তা বা আলোচনা যেন চলে,’ বলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো কম্পিটিশন হলেই সেটা নিয়ে আমরা কেয়ারফুল হবো, সেটা যেন না হয়। প্রতিটা স্কুল, প্রতিটা সমাজের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেন এই চর্চাগুলো সবসময় হয়। রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য সেটাই ভালো হবে।’
বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান প্রমুখ।
২১ ঘণ্টা আগে
সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে বলে কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তির পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মন্ত্রিসভার রদবদল ১৮০ দিনের পর হবে, সরকারের দিক থেকে এ ধরনের কোনো কিছু বলা বা ইঙ্গিত করা হয়নি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে। কারও কাছে অনেক বেশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকলে সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ইভালুয়েশন (মূল্যায়ন) চলতে থাকবে। এটা ১৮০ দিন নয়; দ্বিতীয় বছর, তৃতীয় বছর বা যেকোনো সময় হতে পারে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাইবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন।’
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন বলেও এ সময় জানান ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, ‘১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিকে অ্যাড্রেস করবেন—এমন একটি সম্ভাবনা আছে এবং সেটার বেশিই আছে, সম্ভাবনা হচ্ছে সেটা করতে যাচ্ছেন। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি সবকিছু।’
এদিকে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্রিফ করেছেন। ওই ব্রিফিং থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত শক্তভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে রিয়েল অ্যালাইনমেন্টের (সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস) কথা বলছি, সেটার অনুকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে।’
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি ধারণা ও সন্দেহ রয়েছে যে, তার সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা পেয়েছে।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘যাকে আমরা দেশে এনে বিচার করতে চাই, তিনি সেখানে বসে সংবাদ সম্মেলন করছেন। তাকে প্রত্যর্পণের কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই। এই বিষয়গুলো ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, দুই দেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত।
৭ দিন আগে
সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তবে মানুষ হিসেবে ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া’: তথ্য উপদেষ্টা
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ‘নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সাকিব দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে চাইলে সরকার তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাকিব আল হাসান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে ওঠা মামলা মোকাবিলা করতে চান। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাকিব দেশে এলে তার নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, উনি একজন নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ। যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইনড (সংযুক্ত) হয় এবং এখনও অ্যালাইনড থাকেন, ৫ তারিখের পরও তার বক্তব্য এসেছে।’
সাকিবের নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টিকে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি কত নামী, কত সুনাম তার আছে, এসব ফালতু কথা উনি বলেন আসলে সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘উনি বাংলাদেশে আসবেন মামলা ফেস করার জন্য, আইন ফেস করার জন্য, বিচার ফেস করার জন্য। উনি এয়ারপোর্টে নামলে কি লোকজন মব করে তার কিছু করে ফেলবে? উনি কি সেটা মনে করেন? আমরা কেউ মনে করি? নো ওয়ে (কোনোভাবেই না)!’
সাকিব দেশে এলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি আসবেন এবং নিরাপত্তার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ আছে তা মোকাবিলা করবেন। আইনগত যে ব্যাপার আছে, সব যদি তিনি মেনে নিয়ে আসেন, তাতে কোনো সমস্যা আমি দেখি না।
সাকিবের বক্তব্যকে সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই প্রত্যেকটা কথা আসলে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।’
একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলেও তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৮ দিন আগে
সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরসহ দেশের বিভিন্ন জাদুঘর শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরের একটি দিন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে নেওয়া হয়েছে। স্কুলের ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সরকারি উদ্যোগে এই জাদুঘরে নিয়ে এসে এটি দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জাদুঘর পরিদর্শনে টিকিট লাগবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, টিকিট ফ্রি, ইটস ফ্রি অব কস্ট (এটি একদম বিনামূল্যে)।’
জাহেদ উর রহমান জানান, শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু এই জাদুঘর না, আমাদের জাতীয় জাদুঘর যেটা আছে, সেখানেও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এনে সেটা দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে অন্যান্য জাদুঘরেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাদুঘরের পাশাপাশি অন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জাদুঘরগুলোতেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে সেগুলো দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে মানুষের প্রচণ্ড আগ্রহের কারণে একদিন সামান্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা হয়েছিল। পরে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে সবাই জাদুঘর পরিদর্শন করছেন।
শিক্ষার্থীদের জাদুঘর পরিদর্শনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি জাদুঘরমুখী করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা নিউজ প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনও আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে—এমন দাবির জবাবে ডা. প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনও রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।
১৪ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষা কেবল তার দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য: তথ্য উপদেষ্টা
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আইনি সুরক্ষা কেবল তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত কার্যকর থাকে। দায়িত্ব শেষ হলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি কার্যক্রম শুরু করা যায় না। তবে এই সুরক্ষা কেবল তার দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর, দায়িত্ব গ্রহণের আগে বা পরে সংঘটিত কোনো অভিযোগ বা আইনগত বিষয়ে প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বর্তমান বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করছেন না, বরং এটি একটি সাধারণ সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। এ বিষয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আদালত সরকার নয়, আদালত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ সব আদালতেই জনগণ ন্যায়বিচারের জন্য যেতে পারেন।
তিনি বলেন, কোনো কোনো মামলায় সরকার একটি পক্ষ হতে পারে, তবে আদালত স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই সরকার কোনো মামলার পক্ষও থাকে না।
২১ দিন আগে
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সরকার জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা জানান, সরকার জনস্বাস্থ্যের এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু টুথপেস্টেই নয়, বরং একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা ব্যাধির মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। টুথপেস্ট ব্যবহার না করলেও পরিবেশের বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যে আমাদের নিত্যদিনের খাবার ও পানিতে মিশে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু টুথপেস্ট বা নির্দিষ্ট কোনো একক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এটি ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে, তাই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিশ্চয়ই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, আমরা লক্ষ করছি যে জনগণের মধ্যে এখন স্বাস্থ্য সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সবসময়ই জনস্বার্থ রক্ষা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। তাদের গবেষণায় ২৬টি নমুনায়, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত কয়েকটি টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
২১ দিন আগে
অপতথ্য ও সাইবার বুলিং মোকাবিলায় হয়েছে আইনজীবী প্যানেল, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন: তথ্য উপদেষ্টা
অপতথ্য ও সাইবার বুলিং রোধে আইনগত বিষয়টি দেখভালের জন্য আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো অপতথ্য ও ভুল তথ্য মোকাবিলা করা। বিশেষ করে পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো অপতথ্য নিয়ে সরকার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে যে হয়রানি চালানো হয়, সেটিও সরকারের গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, একজন মানুষ শুধু নারী হওয়ার কারণেই ভয়াবহ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে পারেন, বিশেষ করে তিনি যদি প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে কোনো মত প্রকাশ করেন।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যের দ্বারা যারা ডিজইনফরমেশনের শিকার হয়, মারাত্মক মিথ্যা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়, ফেক ছবি বা ফেক ভিডিওর শিকার হয় সেইরকম মানুষদের জন্য সুখবর হচ্ছে—আইনজীবী প্যানেল গঠন সম্পূর্ণ হয়েছে। এই প্যানেলের কতগুলো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল, বিজ্ঞাপন দিতে হয়েছে, ইন্টারভিউ হয়েছে, নানা রকম ভেরিফিকেশন ছিল; সব শেষে এটি তৈরির কাজ শেষ, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনটা বাকি আছে যা দুই-একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।
যারা অপতথ্য ছড়ানো ও সাইবার বুলিংয়ে জড়িত, তাদের সতর্ক করে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার এ ধরনের অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাই যারা এসব কাজে জড়িত, আপনারা সতর্ক হয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষকে ডিজিটাল সাক্ষরতা বা মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে সচেতন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আমরা সেই কাজ করছি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের আগে সম্পাদনা ও যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া থাকে, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। তাই সবাইকে যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশ ও শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
অপতথ্য ও সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলো রাষ্ট্র বা সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলেও এ সময় সতর্ক করেন তিনি।
আইনজীবী প্যানেলের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যেমন এই প্যানেল ব্যবস্থা নেবে, তেমনি প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও পদক্ষেপ নিতে পারবে। শুধু সরকারকে লক্ষ্য করে ছড়ানো অপতথ্য নয়, যেকোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপতথ্য, সাইবার বুলিং বা ডিজিটাল হয়রানির ক্ষেত্রেও তারা কাজ করবে। তাই নাগরিকদেরও এ ধরনের ঘটনার তথ্য জানাতে হবে। আমরা আশা করছি, এই প্যানেল কাজ শুরু করলে অপতথ্য ও সাইবার বুলিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
২৮ দিন আগে
রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অর্থের অপচয়ের ফল: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকায় সাম্প্রতিক পানি জমে থাকার ঘটনাকে বন্যা নয়, বরং জলাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অকার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থের অপচয়ের ফল। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধান তথ্য অফিসের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকায় যা হয়েছে তা বন্যা নয়, জলাবদ্ধতা। রাজধানীতে অল্প সময়ের জন্যও পানি জমে থাকলে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, ‘অনেক প্রকল্পই অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ব্যয় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশ কার্যকরভাবে কাজে লেগেছে। বর্তমান সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’
এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেবে। তবে তিনি জানান, যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, সেখানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য এলাকাগুলোতে সমস্যা তুলনামূলক সীমিত ছিল।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ঘটনার ব্যাপক প্রচারের কারণে সংকটটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় বলে মনে হতে পারে। তবে সরকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা, ভুল তথ্য এবং অতিরিক্ত ভোগান্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনিও এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে এনআইডিতে ভুল তথ্য এলে তা সংশোধনের জন্য কেন নাগরিককে ফি দিতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি ভুলটি সত্যিই সরকারের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুল সংশোধনের জন্য নাগরিকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া যৌক্তিক নয়। বরং সরকারকেই দায় স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, জরিমানা বা ফি সাধারণত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়। কিন্তু যেখানে ভুল সরকারি প্রতিষ্ঠানের, সেখানে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
এ সময় একজন সাংবাদিক নিজের পরিচিত এক ব্যক্তির এনআইডিতে জন্মস্থান ভুল থাকার উদাহরণ তুলে ধরলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের তথ্যই প্রকৃত সাংবাদিকতার অংশ। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং এনআইডি-সংক্রান্ত সেবায় গতি আনতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
৩৫ দিন আগে
ঢাকার বর্জ্য থেকে দিনে পাওয়া যাবে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকা শহরের প্রতিদিনের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প থেকে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। গত রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কেন্দ্র থেকে টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। আজ (মঙ্গলবার) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন, যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই এলাকায় বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩৫ দিন আগে