তথ্য উপদেষ্টা
দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: উপদেষ্টা জাহেদ
দিল্লী বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারত এ ঘটনায় সতর্ক হবে, তবে ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
গত রবিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। তিনি ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আইওআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। শুরুতে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটনার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, পত্র-পত্রিকায় যা যা দেখছেন, নানান সূত্র থেকে বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার মিডিয়াতে যা যা এসেছে, আসলে ঘটনাগুলো ঠিক এই রকমই ঘটেছে। আমি ওখানে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, আমি এই সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি, এই রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সেই কারণেই আমি আসলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, 'যদিও আপনারা মিডিয়াতে দেখেছেন, একপর্যায়ে তারা খুবই চেষ্টা করেছেন আমি যেন ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার নিয়মিত যে কর্মকাণ্ড, সেটায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সেটা আর করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি তা না, আমি মনে করেছি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে, তখন আমার মনে হয়েছে এই রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।
‘আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ এবং এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে সব জায়গায়, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। একই সঙ্গে অন্যদেরও সেই জিনিসটা আমলে নিতে হয়। সেই কারণেই আসলে এই কাজটা করা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত না শুধু, অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো এনগেজমেন্টে (সম্পৃক্ততায়) আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না, কোনো দেশের সঙ্গে খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, কোনো শত্রুতা তো দূরেই থাকুক।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে, আমাদের স্লোগানের মধ্যে আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মানে আমরা বাংলাদেশকে রাখব, তার মাধ্যমে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনগেজমেন্ট হবে। এবং সেটা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে বা আমার ক্ষতি করে কাউকে কোনো সুবিধা দেওয়া, এই নীতিতে এই সরকার কোনো দেশের সঙ্গে, আমি আবারও বলছি এটা শুধু ইন্ডিয়া না, কোনো দেশের সঙ্গে এই সরকার যাবে না।’
এ ঘটনা দু-দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কি না, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত না। আমি ইতোমধ্যে বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি, আমাদের জায়গা থেকে এর পরবর্তীতে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কী করব না করব, সেই ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না। কারণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার যা যা করণীয় তা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন হাইকমিশনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন। এটা তারা আসলে বলবেন, এই সরকার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু আমি আশা করব, এই ঘটনায় দুই দেশের ভবিষ্যতের এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে যাতে প্রভাব না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, দুই ঘণ্টার মাথায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘ইটস টু মাচ’ আমি আসলে আর থাকব না। এই সময়টাও যে আমি এই রাষ্ট্রের একটা পদে আছি, সেই পদের প্রতি যে সৌজন্য সেটার অভাব রয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে, সে কারণেই আমি এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এরপর আমার পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম। আর যখন আমি পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম, তখন তাদের দিক থেকে খুবই আন্তরিকতাপূর্ণভাবে আমাকে অনুরোধ করেছেন।
বলা হচ্ছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সবকিছুর মূল কারণ না। আমি যদি কোনোদিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট নাও নিই, আমার কি বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে? আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে কিন্তু বাধ্যও নই। এটি এমন একটি সুবিধা যা আমি গ্রহণ করতে পারি। আমি আমার জায়গা থেকে এটা আমি নিতে পারি চাইলে। কিন্তু, এটা আমাকে নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে পাসপোর্ট কারণ ছিল। আসলে পাসপোর্ট কারণ ছিল না। অন্য কারণ ছিল যেগুলো ইন্ডিয়ান মিডিয়াতেও আসলে কম বেশি এসেছে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চাইনি ইমিগ্রেশনের সিলটা নিতে, যে আমি ওখানে প্রবেশ করিনি, এটার একটা সই থাকা দরকার। এ কারণে আমার কিন্তু ফেরাটা জটিল হয়েছে, নাহলে এটা সহজ হতে পারত। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি এই সিলটা এবার নেব না।’
তিনি বলেন, 'গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কথা আছে, আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। অভিন্ন আরও ৫৩টা নদী আছে। ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি, সেটা আমি লুফে নেব।
‘আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি, এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবে।’
এ ঘটনার জন্য ভারতের বাংলাদেশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত কি না— এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে এই জবাব নেই। আমাদের রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কী পদক্ষেপ নেব, কীভাবে নেব, এটা এখন আমাদের পররাষ্ট্রকে জিজ্ঞাসা করুন, যেহেতু প্রতিনিধি ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারা আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলে কী করবেন তা ঠিক করবেন।
৩ দিন আগে
সীমান্তে পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশকে চাপে রাখতে নয়: তথ্য উপদেষ্টা
সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এটি তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে, আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লক্ষ করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা চাপ তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল এটা।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে, সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসছে তার সঙ্গে ভারতের সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছে, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। সেটটা দুই দেশই চায়। সেজন্য আমি মনে করি যে সংকটটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই তারা ইনটেনশনালি (ইচ্ছাকৃতভাবে) বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন এরকম আমি মনে করি না।’
১০ দিন আগে
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু: তথ্য উপদেষ্টা
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরে শেষ হবে কি না— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘না। বলা হয়েছে যে নির্বাচনটা ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শুরু হওয়ার পর। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে, কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সেটাও ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জায়গা হয়েছে, সরকার কি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করতে চায়? এ বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই সরকার নেয়নি। কার্যালয় দেওয়াতে উপজেলাকে খর্ব করা হচ্ছে, ব্যাপারটা আমার কাছে এরকম মনে হয় না। বরং আইনগতভাবেই যদি খেয়াল করেন, উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ২৫—এটা নিয়ে আমরা একসময় প্রচুর বলেছি, লিখেছি—সেখানে তো একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবেই বৈধ আছেন।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, যদি তিনি বৈধভাবে থাকেন, এখন কেউ বলতে পারেন যে এটা থাকা উচিত কি না, উপদেষ্টা থাকা—সেটা একটা ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু কার্যালয় রাখার মাধ্যমে আসলে সেটাকে যে নতুন করে অনেক বেশি খারাপ করে ফেলা হলো, মোটেও ব্যাপারটা সেরকম না। কারণ আমরা যদি এভাবে তর্কটা বা যুক্তিটা দেই যে, একজন এমপি যেহেতু উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা, তার তো উপজেলা পরিষদে একটা কার্যালয় থাকা উচিতই। আবারও বলছি, এই আলাপ সমাজে আছে, কেউ করতে পারেন যে তার (সংসদ সদস্য) আদৌ উপদেষ্টা থাকা উচিত কি না। উপজেলাকে নিয়ে এই ধরনের কোনো—অর্থাৎ এটাকে খাটো করা বা আরও বেশি অক্ষম করে তোলার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
৪৫ দিন আগে
জঙ্গিবাদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার জঙ্গিবাদকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেছেন, দেশে আসলে জঙ্গি নেই। জঙ্গি আছে কিনা, এই সরকার কী মনে করে এবং নাশকতার যদি হয় এটা আসলে সরকারের গোয়েন্দাদের কাছে কী ধরনের তথ্য আছে— এ বিষয়ে সংবাদিকরা উপদেষ্টার কাছে জানতে চান।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে তা বলা যাবে না। এটা একটা সংবেদনশীল তথ্য। এই তথ্যটা গোপন থাকবে। কিন্তু যেটুকু তথ্য সরকার জানিয়েছে, এটা ফ্যাক্ট— বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।
তিনি বলেন, এখানে দুটো এক্সট্রিম বা চরম অবস্থানই আছে, আমি দুটো এক্সট্রিমের কথা বলি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গি সমস্যাকে যেই স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ (আখ্যান) হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন যে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে। সুতরাং আমি নির্বাচন করলাম কি না দেখার দরকার নেই, আমাকে ক্ষমতায় রাখো—এটি একটা ন্যারেটিভ ছিল। এটা অতিরঞ্জিত হয়েছিল ওই সরকারের সময়ে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটাও আরেকটা চরম অবস্থান; এটাও ভুল কথা। বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিট্যান্সি, জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা আসলে প্রতিরোধ করতে চাই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার এই সতর্কতার মানে হচ্ছে, এটা খানিকটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা খেয়াল করেছি, এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়া বা জনসম্মুখে আসা বা মুক্তভাবে আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সেটারই খানিকটা প্রভাব আমরা বলতে পারি। এই সরকার এগুলো প্রতিরোধ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে এটুকু বলতে চাই, এই ঝুঁকি এমন না যে এটার জন্য ভয় পেতে হবে। কিন্তু সেই পুরোনো কথা হলো, আমরা যদি কোনো একটা সংকট বা রোগকে স্বীকার না করি, ওটার চিকিৎসা হবে না। তাই, আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অনেক জঙ্গি জেল থেকে বেরিয়ে গেছেন—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বেরিয়েছিলেন। এখন সরকারের নিয়মিত কার্য হলো, এটা একদম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের বা কাজের অংশ যে সরকার এগুলো প্রতিরোধ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জঙ্গিবাদ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা আমাদের লক্ষ্য। সেটা কতটা পেরে উঠব আমরা জানি না, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব শূন্যের কাছে নিয়ে আসার জন্য। কারণ আমরা এই সমস্যাটা স্বীকার করি এবং এটা আমরা অনেক বেশি বাড়াতে চাই না।
জাহেদ উর রহমান জানান, জঙ্গিরা দেশের ভেতরে আছে এবং তাদের সহায়তা করার মতো মানুষ বাইরেও থাকতে পারে। আমি এটাও একজন বিশ্লেষক হিসেবে বলছি।
জামিনে থাকা জঙ্গিদের নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন, এটার যদি মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে জামিন বাতিল হবে এবং সরকার সেই জামিন বাতিলের জন্য শক্ত আপিল করবে। জামিন থাকবে কি থাকবে না তা আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, এটা আদালতের সিদ্ধান্ত। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করবে কঠোরভাবে যাতে তাদের জামিন বাতিল হয় এবং সরকার এটা অবশ্যই করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ‘জঙ্গি’ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে চাই। কাউকে আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়াও ঠিক নয়। এ ধরনের সাধারণীকরণ অতীতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে উগ্রবাদী প্রবণতা যে রয়েছে, তা আমরা স্বীকার করি এবং তা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
উপদেষ্টা দাবি করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অতীতের মতো কোনো ধরনের শিথিলতা নেই। যে কোনো অপরাধের তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা—এসবই জঙ্গিবাদ মোকাবিলার অংশ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজের একটি ছোট অংশ উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিল। কখনো কখনো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেছে। তবে দেশ শেষ পর্যন্ত উদার গণতান্ত্রিক পথেই এগিয়েছে। সরকার এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, কোনো সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে গণতান্ত্রিক উপায়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনই চূড়ান্ত পথ।
৫২ দিন আগে
অপতথ্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
গণমাধ্যমের ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থানে যাবে, অপতথ্য দিয়ে বানানো কোনো ফটোকার্ড মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা ছোট ঘটনা আছে, এটা গত সপ্তাহেও ব্রিফিং করেছিলাম। আমি আবারও একটু বলি, প্লিজ আপনাদের কাছে অনুরোধ। আমরা এগুলো নিয়ে আসলে আস্তে আস্তে আইনি ব্যবস্থার দিকেও যাব।
‘আমি গত যে ব্রিফিং ছিল, সেখানে পুনরায় পড়ে বলেছিলাম, কর্মসূচিভুক্ত খালের সংখ্যা ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার, খননকৃত খালের প্রাপ্ত দৈর্ঘ্য ৫৬১ কিলোমিটার, শতকরা অগ্রগতির হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এটা যে আমাদের কর্মসূচির খালের প্রায় অর্ধেক। এ বিষয়ে একটা ফটোকার্ড তৈরি হলো, আমি নাকি বলেছি যে সারা দেশের অর্ধেক খাল খনন করা হয়ে গেছে। এটা নামগোত্রহীন কেউ না, পরিচিত জাতীয় দৈনিকের ফটোকার্ড।’
তিনি বলেন, ফ্যাক্ট চেকাররা এটাকে শনাক্ত করেছেন। এটা যে অপতথ্য সেটার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তারা। একটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। ভুল ও অপতথ্য এ সরকার সহ্য করবে না; কারও দিক থেকেই করবে না। এটা একজন ব্যক্তির করা আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে গুরুতর পার্থক্য আছে।
‘একটু ব্যক্তিগত কথা বলেই ফেলি’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি খুব খারাপ মানুষ নই। আমার প্রচুর পরিচিত মানুষজনের কাছ থেকেই কার্ড পাঠিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, এমনকি এমন সব কথাবার্তা আসছে যেগুলো ফেক ব্যক্তি করছেন; ফটোকার্ড বানিয়ে বলছেন, আমি নাকি বলেছি, জনগণের কল্যাণের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমি এগুলো এভাবে বলিনি, কিন্তু এই যে কথাটাকে বিকৃত করা হলো, আমাকে অনেকে পাঠিয়ে পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করছেন আমি এসব বলেছি কিনা।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা সাংবাদিকতাই যেন হয়, প্লিজ!
উপদেষ্টা বলেন, আমি আগেও একদিন বলেছি, সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এ দেশ এত বড়, এত জটিলতা। একটু পেছনের কথা বলতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এ দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন যে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আপনি দেখবেন সমালোচনার জায়গা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আপনি পাচ্ছেন, পাবেন। প্রকৃত জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনা করেন, আমি সেটাকে স্বাগত জানাই।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাব। আমরা অপতথ্য দিয়ে করা ফটোকার্ড গ্রহণ করব না। আমার মনে হয়, মিডিয়ার মানুষ হিসেবে এটা আপনাদেরও চাওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমি যথেষ্ট পরিমাণ যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, এর বেশি কিছু না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা আমাদের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত মিডিয়াকে ভয় পেতে চাই। আমি চাই মিডিয়ায় আরও বেশি সরকারের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। আমি জানি না কবে কোন সরকার থেকে কেউ এ ধরনের কথা বলেছে কিনা। কিন্তু প্লিজ, ভুল ও অপতথ্য ছড়াবেন না!
৫২ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আসলে বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে, পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। সাম্প্রতিক অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বাধা বা অবরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় ধরে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য আসলে কঠিন।
তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না। ইতোমধ্যে বলেছি, যদি এটা চলতে থাকে তাহলে দামের কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে মানে এটা হবেই—এরকম কথা না। আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। আবার ওই যে বলছি যে, ট্রাম্পের বিষয়ে তো আগাম কিছু বলা যায় না। যদি উনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বন্ধ, তেল নাই; এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিষয়ে যদি আমাদের জানাতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কি না, কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। রিফাইনারিতে যে সংকট আছে, তা নিয়ে আপনারাই পত্রিকায় সংবাদ করেছেন—আর এতদিনের মতো মজুদ আছে, এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে, সরকার পেট্রোল পরিশোধন এবং আমদানি যথেষ্টই করেছে। এ কারণে একদম কোনো সমস্যা যে হবে না তা না। সরবরাহ সংকট তো খানিকটা আছে আসলে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারা দিনে যত তেল বিক্রি হতো, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।
৬৫ দিন আগে
মার্কিন অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে কৌশল ঠিক করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে আজকে উপদেষ্টা পরিষদে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো কারণ দিয়েছে। সেই কারণগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এটা গতকালই মাত্র এসেছে। কাজেই আমরা নিশ্চয়ই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আমাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা যারা আছেন, তারা এটা নিয়ে একটা কর্মকৌশল বের করবেন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এঙ্গেজ করবেন।
কয়েকদিন আগে ছিল ভিসা বন্ডিং ইস্যু। সপ্তাহ পেরোতে আবার অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে জটিলতা। ৭৫টা দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। আমাদের কি কোথাও গ্যাপ থেকে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা কি বাংলাদেশকে টার্গেট করে করেছে? আসলে যে সমস্ত দেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) বেশি যায় বা যে সমস্ত দেশ থেকে মানুষ গিয়ে পরে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) চায়, যে সমস্ত দেশ থেকে মানুষ গিয়ে ওদের সোশ্যাল সার্ভিসের (সামাজিক পরিষেবা) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই তাদের সরকার ঠিক করেছে যে সেই সমস্ত দেশের ব্যাপারে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো, এই শর্তগুলো তারা আরোপ করবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা (অভিবাসী ভিসা স্থগিত) তাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমার কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, কী করণীয়—এখন আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলব।’
১৫৫ দিন আগে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন: রিজওয়ানা হাসান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং বন ও নদী রক্ষায় কাজের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার আইনের সংশোধন ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন সংস্কার গ্রহণ করেছে। সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্প ও গৃহস্থালি দূষণ, লবণাক্ততা ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হ্রাস মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, ২০০২ সাল থেকে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এটি কার্যকর করা যায়নি। কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার হলেও সুপারশপে তা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা করা হয়েছে। এতে পুলিশকে জরিমানা ও শাস্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকার পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ ও ধলেশ্বরী এবং দেশের আট বিভাগের আটটি গুরুত্বপূর্ণ নদী নিয়ে পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব নদী থেকে বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কাজগুলো শুরু করে দিয়ে যেতে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)-এর আয়োজনে ৯ ও ১০ জানুয়ারি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফিরোজ আহমদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।
১৬১ দিন আগে
আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা
আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের পর আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সচিবালয় বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টা হচ্ছে যে, খেলাটা যদি খেলার জায়গায় আমরা রাখতে পারতাম, খুবই ভালো হতো। কিন্তু আনফরচুনেটলি, খেলাটার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় আমরা কী বলি? দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও, যেকোনো দুটো দেশ, আমি বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-নেপাল এরকম বলছি না, ভারত-নেপাল, ভারত-মালদ্বীপ এটাও বলছি না, বলছি দুইটা দেশের মধ্যে যদি রাজনৈতিক টেনশন থাকেও, বলে যে সংস্কৃতির বিনিময়, খেলাধুলা—এগুলোর মাধ্যমে এটা কমিয়ে আনা যায়। এখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো কাজটা করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত করার পরে, তাকে রাজনৈতিক যুক্তিতে...যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি, বলা হচ্ছে যে ওকে নেওয়া হবে না। তো এরকম সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের জনগণেরও তো মনে একটা আঘাত লাগে। তাদের মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া হয়।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘সেরকম জায়গায় আমাদেরও একটা অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করছি এবং করার পরে আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
১৬৬ দিন আগে
হাদির মৃত্যু দেশের অপূরণীয় ক্ষতি: রিজওয়ানা হাসান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অকুতোভয় যোদ্ধা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অকালপ্রয়াণ দেশ ও জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর ও সাহসী সংগঠক। অন্যায়, অবিচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণার উৎস ছিল।
তিনি যে দৃঢ়তা, স্পষ্টতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আন্দোলনের ভাষা জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন, তা এ সময়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তরুণদের জাগ্রত করা, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে জনমত গড়ে তোলায় তার অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন এই উপদেষ্টা।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, তার সংগ্রামী জীবন, আদর্শ ও সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।
হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ীদের ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এই উপদেষ্টা।
গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের তথ্য মতে, তার মরদেহ আজ (শুক্রবার) সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে আনা হবে। আজ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ০৫ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছাবে।
হাদির নামাজে জানাজা শনিবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে।
১৮২ দিন আগে