তথ্য উপদেষ্টা
তথ্য কমিশন পরিদর্শনে উপদেষ্টা জাহেদ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তথ্য কমিশন বাংলাদেশ পরিদর্শন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ৩টায় তিনি কমিশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এ সময় তথ্য কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, বর্তমান অবস্থা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক এ উপদেষ্টা।
পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর কার্যকর বাস্তবায়ন ও কমিশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, তথ্য কমিশনার মাহফুজুর রহমান ও তথ্য কমিশনার খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন কমিশনের বর্তমান অবস্থা, কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
মতবিনিময়কালে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের চর্চা জোরদার, জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা এবং তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
তথ্য কমিশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা।
এ লক্ষ্যে কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. জাহেদ।
২ দিন আগে
শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার অপচেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পুনর্নির্ধারণ করা হতো। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না।
অতীতের মজুরি পুনর্নির্ধারণের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
ডা. জাহেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পোশাকশ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। সরকার এ বাস্তবতা অস্বীকার করছে না। শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই নির্ধারিত সময়ের আগে মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও যেভাবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু মানুষের মধ্যে যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না বলে তিনি মনে করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও দলটির কাছে থাকা বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে এসব অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরকেন্দ্রিক নয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে সরকার মনে করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা ডিসেম্বর না। এটা পুরো সময়, যতদিন উনি বেঁচে আছেন, উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করব।’
এ প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম দিনে শেখ হাসিনার দেওয়া একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ওই সময় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। সেই মানসিকতার প্রতিফলন এখনও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত, কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে।
পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ কখনোই হাসিনার আমলের পুলিশের মতো হবে না। নাগরিক হিসেবে তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বল প্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে। তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে এবং আনুপাতিক হতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা দেখা গেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় নয়, নাগরিক হিসেবেও তিনি বিষয়টি বলছেন। সরকার চায়, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় ও ক্ষয়ক্ষতি যেন যতটা সম্ভব কম হয়।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে কারা যুক্ত হচ্ছেন এবং কীভাবে এসব ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে সরকার এমনভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়, যাতে জনগণের ওপর এর প্রভাব কম পড়ে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে ডা. জাহেদ বলেন, শুরুতে শ্রমিকদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে এলে তাদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও পক্ষে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কঠিন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
শেখ হাসিনা ফিরলে মব নয়, ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন: ডা. জাহেদ
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতি নয়, বরং ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার বাধা দেবে না। তবে দেশে ফেরার পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি যদি নিজেই আসেন, তাহলে তো ভালো। তাকে আর ধরে-বেঁধে আনতে হবে না। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি আসলে বিচারের মুখোমুখি হবেন।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে আলোচনা না করাই ভালো।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের কথা বলছেন। পরে হয়তো জুনের কথা বলবেন। এভাবে ছয় মাস পরপর একই আলোচনা চলতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা বা বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অর্থহীন।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিচার হবে। তার বিরুদ্ধে কোনো মব বা বেআইনি আচরণ করা হবে না। তিনি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন।
সরকার ন্যায়বিচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অন্যায়ের জবাব দিতে চায় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
১১ দিন আগে
ড. ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার ঘটনায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াই তার বিরুদ্ধে হেনস্তার চেষ্টার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে। তিনি নিজেও বাংলাদেশে বসে সেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।
ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন অভিনেত্রীও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের যে মর্যাদা পাওয়ার কথা, সে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে তার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা-ও সরকার খতিয়ে দেখবে।
শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং ডিসেম্বরে তার দেশে আসার আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে আসুক, সরকার সেটিই চায়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার হয়েছে এবং সাজা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতকে হস্তান্তরের অনুরোধও জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তাতেও সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার দেশের বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের ধরন প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনার ধরন সরকারের নজরে রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে কোনো সংবাদ আইনি সীমার মধ্যে থেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয় বলে জানান তিনি।
২৫ দিন আগে
দায় স্বীকার করে এগিয়ে এলে আ. লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন সম্ভব: তথ্য উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন অসম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এ প্রক্রিয়া শুরু করতে দলটিকে দায় স্বীকার করে নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, দেশের অনেক মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়। বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে পুনর্মিলনের আগে এর মৌলিক ভিত্তি কী হবে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’
পুনর্মিলনের উদ্যোগ সফল করতে আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটিকে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আলোচনার মাধ্যমে রিকনসিলিয়েশন শুরু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত ও পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সেই জায়গায় এগিয়ে এলে পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব।
৩২ দিন আগে
এলপিজির সংকট নেই, মজুত করলে ব্যবস্থা: ডা. জাহেদ
দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এলপিজি মজুত করে জনঅসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরে এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন।
এ সময় দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দেশের বাজারে এলপিজির কোনো সংকট নেই বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা। সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজারদর পর্যালোচনায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ নিশ্চয়তা দেন।
পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুত করে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে পণ্যের বাজারে এক ধরনের জল্পনামূলক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবেও দাম বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
৩৯ দিন আগে
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত: তথ্য উপদেষ্টা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ আরও যাদের প্রচুর পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদির প্রথমে বিএনপির লোকজন চাঁদা চেয়েছে বলে অভিযোগ করলেও পরে বলেছেন, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, এভাবে কোনো ব্যক্তি অপতথ্য ছড়ালে তা বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে সরকার সহানুভূতি রেখে কথা বলছে, কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই অবস্থায় তিনি যেভাবে বিষয়টি বলেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই ওই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো রকম ভায়োলেন্সের সাফাই সরকার গাইছে না। এটি হওয়া উচিত হয়নি, এটি আটকাতে পারা উচিত ছিল। এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। আপনারা দেখছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখার পর তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারকে দায়ী করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে তো ওই স্ট্যাটাসটি এখনও রয়ে গেছে। শুধু তিনিই নন, এনসিপির অনেক সিগনেচার (বিশিষ্ট) নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে না, বিএনপি ও এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কিন্তু সেগুলো সরায়নি।’
অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যেও এখন অপতথ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরদের মতো মানুষ, যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভাইরাল ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।’
ভবিষ্যতে অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা বলছি, জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি পরিমণ্ডলের মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার সুযোগ (রয়েছে), আপনারা জানেন একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। সেই আইনটা আসলে আমরা আশা করি সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।’
৩৯ দিন আগে
পুলিশের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
পুলিশের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যক্রমে কোনো ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব আছে কি না জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব নেই। অতীতে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটাকে যদি আমরা সঠিক ‘পুলিশিং’ মনে করি, তবে তা ভুল হবে।
তিনি পুলিশের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে আরও বলেন, আমরা অতীতে পুলিশের এক ধরনের ‘মিলিটারাইজেশন’ (সামরিকীকরণ) দেখেছি। পুলিশের হাতে যুদ্ধের অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। কথায় কথায় গালি দেওয়া, পিটানো কিংবা গুলি করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পুলিশিং কখনোই ওরকম হওয়া উচিত নয়।
জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পুলিশ সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে। একজন নাগরিক অপরাধ করলেও সে এই দেশেরই লোক, কোনো শত্রু রাষ্ট্রের সৈন্য নয়। শত্রু দেশের দিকে বন্দুক তাক করে আর্মি, কিন্তু পুলিশের অস্ত্র ব্যবহৃত হয় নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায়। ফলে আমরা অতীতে পুলিশের যে রূপ দেখেছি, পুলিশ আর কখনোই যেন সেই চেহারায় ফিরে না যায়।
মনোবলের বিষয়ে একমত পোষণ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের মনোবলের অভাব রয়েছে, এটি সত্যি। অতীতের ঘটনাগুলো কাটিয়ে উঠে তাদের স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসতে হবে। দেশের জনগণ যেন পুলিশের পাশে দাঁড়ায়, যাতে তারা দ্রুত স্বরূপে ফিরতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময় তিনি সরকারে না থেকে পূর্বের মতো অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে কী ভূমিকা নিতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হলে নিশ্চিতভাবেই এর প্রতিবাদ করতাম। তবে বিগত সরকারের আমলে শুধু প্রতিবাদ নয়, পদত্যাগও চাইতাম। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা বা অন্য কোনো সংকট তৈরি হলে আমরা পদত্যাগ চাইতাম, কারণ সেই সরকারকে আমরা ‘ওন’ করতাম না—ওটা কোনো বৈধ সরকার ছিল না। তাই তাদের কোনো যুক্তি শুনতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।
বর্তমান সরকারের বিষয় উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, এই সরকার আমি প্রায় আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকার। আমাদের অনেকেই হয়তো এই সরকার, মানে এই মার্কায় ভোট দেই নাই, কিন্তু আমরা এই প্রক্রিয়ায়, ইলেকশনে পার্ট ছিলাম, আমরা পার্টিসিপেট করেছি, পরাজিত হয়েছি। একইভাবে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে আমরা পরাজিত যদি হই, সেই সরকারকেও আমরা ওন করব।’
তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে—দাম আরেকটু কম রাখা যেত কি না বা আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত কি না, তবে একে অস্থিতিশীল করা উচিত হবে না।
৪৬ দিন আগে
অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে: জাহেদ উর রহমান
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং হবে। তবে সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও সামনে আবার দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুই-তিন দিনে কিছু টাকা সামান্য দুই-তিন পার্সেন্ট কমেছে। এখনও ১০০ ডলারের বেশি ক্রুড অয়েলের দাম আছে। কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটা আসলে সাসটেইন করার সম্ভাবনা নেই।’
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি, সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বাধা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল স্থাপনায় হামলার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে জানান তিনি।
জনগণের কষ্ট হবে
জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের কষ্টের কথা স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না?’
তিনি বলেন, সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘একটা সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সরকার মনে করে ওয়েলফেয়ার (উন্নয়ন) খাতে ব্যয়, সেটা সোশ্যাল সেফটির (সামাজিক নিরাপত্তা) কথা আমরা বললাম। একই সঙ্গে আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় করতে চাই। তো সব যদি একসঙ্গে করার চেষ্টা করা হয় আসলে কঠিন হয়ে যায়। তো সরকারকে কিছু ব্যালেন্স করতে হয়েছে।’
গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই গতিতে ভর্তুকি গ্যাস-বিদ্যুতে দেন, তাহলে বছর শেষে এটা সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা দাঁড়াবে।’
পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয়ের চেষ্টা
ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বাড়বে স্বীকার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যৌক্তিক পরিমাণে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সরকার।
একই সঙ্গে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, ওএমএস এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে কনডেনসেট থেকে এসব জ্বালানি উৎপাদন হলেও তা দেশের মোট চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে আমদানি করা ক্রুড অয়েল থেকেও পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরাট একটা অংশ পেট্রোল এবং অকটেন আমদানিকৃত ক্রুডের ওপর ডিপেন্ড (নির্ভর) করে, সুতরাং ওখানে তো দাম বাড়ছেই।’
তার ভাষ্য, পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি দাম রাখার নীতিগত কারণও রয়েছে। কারণ এসব জ্বালানি তুলনামূলকভাবে সামর্থ্যবান মানুষ বেশি ব্যবহার করেন।
আইএমএফের শর্ত নিয়ে ব্যাখ্যা
জ্বালানির দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো নির্দিষ্ট শর্ত আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো শর্ত নেই।
তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো শর্ত আসলে নেই। আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক।’
তবে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা সরকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ব্যাখ্যা
জ্বালানিতে ভর্তুকির চাপের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বেতন স্কেল সংশোধন হয়নি।
তিনি বলেন, ‘একটা বেতন স্কেল ২০১৫, আমি যদি ভুল না করি সর্বশেষ হয়েছিল। তারপর ১০-১১ বছর পার হয়ে গেছে এবং আমাদের গ্রসলি প্রায় ১০ শতাংশের মতো করে একটা ইনফ্লেশন হয় কম-বেশি। তাহলে আপনি চিন্তা করুন এটা এর মধ্যে রিভাইসড হয়নি।’
তিনি জানান, বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সম্পদের বণ্টন করতে গিয়ে এভাবে ভারসাম্য করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ
প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ হিসেবে ব্যয় সাশ্রয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এত দীর্ঘ সফরের চেয়ে কম সময়ের সফর ব্যয় সাশ্রয়ী। আপনারা খেয়াল করবেন খুব ছোট একটা দল নিয়ে তিনি গেছেন। একই সঙ্গে দেশ একটা নানান রকম ভাবে কিছু সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশে থাকা তার জন্য নিশ্চয়ই আরও বেটার প্রাইয়োরিটি এই মুহূর্তে।’
তিনি আরও জানান, সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো কথা তারা এখনও জানেন না।
৪৬ দিন আগে
আলোচনার পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ আছে: ডা. জাহেদ
ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করলেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যই সরকারের কাছে থাকা তথ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে ওই তারিখেই নির্বাচন হবেই, আবার হবেই না, ইউ ক্যান নট সে দ্যাট। সরকারের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সরকারের বিভিন্ন বিবেচনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সময়সূচি এগোনো বা পেছানো হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপদেষ্টা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি আগে কখনও বলেননি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একক বা একচ্ছত্র এখতিয়ার।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইন ভঙ্গ করেছে—এভাবেও বলতে চাই না। আমার মনে হয়, সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটু ক্ল্যারিফাই করুন।’
ইসি ও সরকারের সংঘাত নেই
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা গ্যাপ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন করবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে।
ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টিকে সংঘাতের মতো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এরকম কিছু তিনি মনে করেন না।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। ব্যক্তিরাই প্রার্থী হবেন।
ডা. জাহেদ জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিল। সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছে। এবার সে ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘আগামী যে লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশন আছে, তাতে কোনো দল নির্বাচন করছে না। ওখানে নির্বাচন করছে ব্যক্তিরা।’
তবে বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করছে। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, একই দল থেকে একাধিক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় প্রতীকের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন করে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার সরাসরি পরিচালনা করবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাও করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কখনও এমন আইন করি যে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার পরিচালনা করবে নিজে সরাসরি, নির্বাচন কমিশনকে আমরা এই দায়িত্ব দেব না, ধরুন, এরকম যদি সিদ্ধান্ত হয়, উই ক্যান ডু দ্যাট।’
৫৩ দিন আগে