তথ্য উপদেষ্টা
‘ভারতে বসে উস্কানি দেওয়া আ.লীগ নেতাদের ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে সরকার’
ভারতে অবস্থান করে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, এসব নেতার অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই শুধু উস্কানিমূলক বক্তব্য নয়, তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সরকার কথা বলবে কি না—সাংবাদিকরা জানতে চান।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আপনার এই কথাটার সঙ্গে আমি একমত। ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এটা নিয়ে আগেও কথা বলা হয়েছে, সামনেও এটা নিয়ে বলা হবে। কারণ এদের অনেকেই মামলার আসামি আছেন, অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারও কারও নামে সাজা হয়ে গেছে। তারা কথা বলা দূরে থাক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কথা বলা হচ্ছে।
সম্প্রতি তুরাগ নদী ঘিরে দুপক্ষের অপপ্রচার হচ্ছে। সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না—এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে যা খুবই অপ্রত্যাশিত। আমরা প্রায়ই বলি, এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন, ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না, তা সরকার তদন্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন যে তুরাগ নদীর অপ্রত্যাশিত বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আছে এবং দেশীয় ও দেশের বাইরের সংস্থারও প্রতিবেদন আছে, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে তারা আসলে পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যারা এখনও আওয়ামী লীগ করেন, এখনও যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি সত্যিই খুব দুঃখ পাই। কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান, তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই, রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন এবং আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’
২ দিন আগে
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা নিয়ে নাহিদের বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’: উপদেষ্টা জাহেদ
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা হামলা নিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রশাসনের সহযোগিতায় সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকালের ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এটার প্রতিবাদ জানাই। সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে যারা এটার সঙ্গে জড়িত সেই তদন্ত করা, তাদের ধরা।’
তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে আমি এটুকু বলব যে রাজনৈতিক বক্তব্য বলে এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে, সেই রাজনৈতিক বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। সেটা তার অধিকারও আছে, তিনি সেটা বলতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তবে আমরা একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুখ থেকে, যিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের গণঅভ্যুত্থানে তার থেকে আরেকটু দায়িত্বশীল মন্তব্য আশা করি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এ বিষয়ে জানকে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার তদন্ত করবে। ঘটনার তো এখন ২৪ ঘণ্টাও যায়নি। সবসময় যে খুব দ্রুত কাজটা করে ফেলা যাবে তা না। সরকার অবশ্যই গ্রেপ্তার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তারের একটা প্রক্রিয়া আছে, তদন্ত আছে, নানান রকমভাবে সেই চেষ্টা হবে। সরকার করছে না কি না সেটা দেখার ব্যাপার আছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, একটা রাষ্ট্র বা সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও কখনও কোনো অঘটন ঘটতে পারে। সেই সরকারটা সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে কি না, ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না সেটা জরুরি ব্যাপার। এ সরকার নিচ্ছে, আমি আপনাকে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি।
২ দিন আগে
অন্য কোনো নামে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপিও তো নাই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। এক সময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করত না। এখন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই অংশগ্রহণ করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যত দিন নিষিদ্ধ আছে, তত দিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ—যাই বলি না কেন, কোনো নামেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত। আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার।
৯ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না—এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছে না।’
তিনি বলেন, যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাব যে তারা যেন এই কাজটা না করে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এসব প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এমন আহ্বান তো এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, কিন্তু সেটি তো মানছে না—এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঠিক আছে, আমরা আবার আহ্বান করব এবং কোনো একটা সময় হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো, তিনি (শেখ হাসিনা) যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে সেটা জেনে যায়। কারণ এখন কানেক্টিভিটির যুগ। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না, তা ভাবনার বিষয়। কারণ এই যে আপনি একটা বিদেশি মিডিয়ার রেফারেন্স দিচ্ছেন, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি আদালত এই নিষেধাজ্ঞা না সরায়, তাহলে এসব বিষয় প্রচার করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
৯ দিন আগে
কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি খুব বিস্তারিত বলছি না, তবে এটা সরকার কগনিজেন্সে (আমলে নেওয়া) নিয়েছে, সরকার এটা দেখেছে। এটার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং এটা কেন হচ্ছে সেটা সরকার খতিয়ে দেখছে। কারণ এটা নিয়ে গ্লোবালি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।
তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি। পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবেও এটার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা আশা করি, এটা আর এভাবে চলমান থাকবে না।
এগুলো কারা করছে— জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বুঝতেই পারছেন, এটা কারা করছে, কেন করছে। কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছে, কিন্তু তারাই তো আসলে হয়তো সবসময় মূল ব্যক্তি না। তাই, এটা একটু খতিয়ে দেখার প্রশ্ন আছে। এটা যেহেতু এত ওয়াইডস্প্রেড (বিস্তৃত) হয়েছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ এটা বের করতে পারব।
৯ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমেছে। দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনকে সরকার কতটুকু যুক্তিযুক্ত মনে করছে? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো আমি মনে করি তারা একটা সিম্বলিক কারণে আছে। কারণ হচ্ছে, একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক না, আমরা টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, এই জিনিসটা একটু স্পষ্ট করে রাখা দরকার, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে ‘সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯’-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা (আওয়ামী লীগ) বলছেন, তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। কিছু করতে হলে অন্তত একটা নৈতিক সাহস লাগে।
তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বলি না, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি (স্মৃতিশক্তি) শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে পারবে বলে আমার মনে হয় না। তাই, তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরের দিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।
১৬ দিন আগে
দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: উপদেষ্টা জাহেদ
দিল্লী বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারত এ ঘটনায় সতর্ক হবে, তবে ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
গত রবিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। তিনি ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আইওআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। শুরুতে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটনার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, পত্র-পত্রিকায় যা যা দেখছেন, নানান সূত্র থেকে বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার মিডিয়াতে যা যা এসেছে, আসলে ঘটনাগুলো ঠিক এই রকমই ঘটেছে। আমি ওখানে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, আমি এই সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি, এই রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে ওখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সেই কারণেই আমি আসলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, 'যদিও আপনারা মিডিয়াতে দেখেছেন, একপর্যায়ে তারা খুবই চেষ্টা করেছেন আমি যেন ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার নিয়মিত যে কর্মকাণ্ড, সেটায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সেটা আর করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি তা না, আমি মনে করেছি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে, তখন আমার মনে হয়েছে এই রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।
‘আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ এবং এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারকে দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে সব জায়গায়, সেটা মাথায় রেখেই চলতে হয়। একই সঙ্গে অন্যদেরও সেই জিনিসটা আমলে নিতে হয়। সেই কারণেই আসলে এই কাজটা করা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত না শুধু, অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো এনগেজমেন্টে (সম্পৃক্ততায়) আমাদের একটা সুস্পষ্ট নীতি আছে। কোনোভাবেই আমরা চাই না, কোনো দেশের সঙ্গে খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতি হোক, কোনো শত্রুতা তো দূরেই থাকুক।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে, আমাদের স্লোগানের মধ্যে আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মানে আমরা বাংলাদেশকে রাখব, তার মাধ্যমে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনগেজমেন্ট হবে। এবং সেটা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে বা আমার ক্ষতি করে কাউকে কোনো সুবিধা দেওয়া, এই নীতিতে এই সরকার কোনো দেশের সঙ্গে, আমি আবারও বলছি এটা শুধু ইন্ডিয়া না, কোনো দেশের সঙ্গে এই সরকার যাবে না।’
এ ঘটনা দু-দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কি না, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত না। আমি ইতোমধ্যে বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি, আমাদের জায়গা থেকে এর পরবর্তীতে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কী করব না করব, সেই ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না। কারণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার যা যা করণীয় তা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন হাইকমিশনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন। এটা তারা আসলে বলবেন, এই সরকার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু আমি আশা করব, এই ঘটনায় দুই দেশের ভবিষ্যতের এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে যাতে প্রভাব না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, দুই ঘণ্টার মাথায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘ইটস টু মাচ’ আমি আসলে আর থাকব না। এই সময়টাও যে আমি এই রাষ্ট্রের একটা পদে আছি, সেই পদের প্রতি যে সৌজন্য সেটার অভাব রয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে, সে কারণেই আমি এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এরপর আমার পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম। আর যখন আমি পাসপোর্ট ফেরত চাইলাম, তখন তাদের দিক থেকে খুবই আন্তরিকতাপূর্ণভাবে আমাকে অনুরোধ করেছেন।
বলা হচ্ছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সবকিছুর মূল কারণ না। আমি যদি কোনোদিনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট নাও নিই, আমার কি বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে? আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে কিন্তু বাধ্যও নই। এটি এমন একটি সুবিধা যা আমি গ্রহণ করতে পারি। আমি আমার জায়গা থেকে এটা আমি নিতে পারি চাইলে। কিন্তু, এটা আমাকে নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে পাসপোর্ট কারণ ছিল। আসলে পাসপোর্ট কারণ ছিল না। অন্য কারণ ছিল যেগুলো ইন্ডিয়ান মিডিয়াতেও আসলে কম বেশি এসেছে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চাইনি ইমিগ্রেশনের সিলটা নিতে, যে আমি ওখানে প্রবেশ করিনি, এটার একটা সই থাকা দরকার। এ কারণে আমার কিন্তু ফেরাটা জটিল হয়েছে, নাহলে এটা সহজ হতে পারত। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি এই সিলটা এবার নেব না।’
তিনি বলেন, 'গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের ডিসেম্বরে। আমাদের সেই পানি চুক্তি মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে কথা আছে, আমাদের তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা আছে। অভিন্ন আরও ৫৩টা নদী আছে। ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। সেখানে যদি কোনোভাবে রোল প্লে করতে পারি আমি, সেটা আমি লুফে নেব।
‘আমি এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, সেই আচরণের জন্য আমি যা করেছি, এটা ওই আচরণের একটা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, ভারত তার এই মানসিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসবে।’
এ ঘটনার জন্য ভারতের বাংলাদেশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত কি না— এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে এই জবাব নেই। আমাদের রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কী পদক্ষেপ নেব, কীভাবে নেব, এটা এখন আমাদের পররাষ্ট্রকে জিজ্ঞাসা করুন, যেহেতু প্রতিনিধি ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারা আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলে কী করবেন তা ঠিক করবেন।
২৩ দিন আগে
সীমান্তে পুশ-ইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাংলাদেশকে চাপে রাখতে নয়: তথ্য উপদেষ্টা
সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এটি তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে, আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন লক্ষ করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা চাপ তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল এটা।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে, সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার আসছে তার সঙ্গে ভারতের সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছে, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। সেটটা দুই দেশই চায়। সেজন্য আমি মনে করি যে সংকটটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই তারা ইনটেনশনালি (ইচ্ছাকৃতভাবে) বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন এরকম আমি মনে করি না।’
৩০ দিন আগে
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু: তথ্য উপদেষ্টা
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরে শেষ হবে কি না— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘না। বলা হয়েছে যে নির্বাচনটা ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শুরু হওয়ার পর। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে, কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সেটাও ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জায়গা হয়েছে, সরকার কি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করতে চায়? এ বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই সরকার নেয়নি। কার্যালয় দেওয়াতে উপজেলাকে খর্ব করা হচ্ছে, ব্যাপারটা আমার কাছে এরকম মনে হয় না। বরং আইনগতভাবেই যদি খেয়াল করেন, উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ২৫—এটা নিয়ে আমরা একসময় প্রচুর বলেছি, লিখেছি—সেখানে তো একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবেই বৈধ আছেন।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, যদি তিনি বৈধভাবে থাকেন, এখন কেউ বলতে পারেন যে এটা থাকা উচিত কি না, উপদেষ্টা থাকা—সেটা একটা ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু কার্যালয় রাখার মাধ্যমে আসলে সেটাকে যে নতুন করে অনেক বেশি খারাপ করে ফেলা হলো, মোটেও ব্যাপারটা সেরকম না। কারণ আমরা যদি এভাবে তর্কটা বা যুক্তিটা দেই যে, একজন এমপি যেহেতু উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা, তার তো উপজেলা পরিষদে একটা কার্যালয় থাকা উচিতই। আবারও বলছি, এই আলাপ সমাজে আছে, কেউ করতে পারেন যে তার (সংসদ সদস্য) আদৌ উপদেষ্টা থাকা উচিত কি না। উপজেলাকে নিয়ে এই ধরনের কোনো—অর্থাৎ এটাকে খাটো করা বা আরও বেশি অক্ষম করে তোলার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
৬৫ দিন আগে
জঙ্গিবাদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার জঙ্গিবাদকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেছেন, দেশে আসলে জঙ্গি নেই। জঙ্গি আছে কিনা, এই সরকার কী মনে করে এবং নাশকতার যদি হয় এটা আসলে সরকারের গোয়েন্দাদের কাছে কী ধরনের তথ্য আছে— এ বিষয়ে সংবাদিকরা উপদেষ্টার কাছে জানতে চান।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে তা বলা যাবে না। এটা একটা সংবেদনশীল তথ্য। এই তথ্যটা গোপন থাকবে। কিন্তু যেটুকু তথ্য সরকার জানিয়েছে, এটা ফ্যাক্ট— বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।
তিনি বলেন, এখানে দুটো এক্সট্রিম বা চরম অবস্থানই আছে, আমি দুটো এক্সট্রিমের কথা বলি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গি সমস্যাকে যেই স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ (আখ্যান) হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন যে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে। সুতরাং আমি নির্বাচন করলাম কি না দেখার দরকার নেই, আমাকে ক্ষমতায় রাখো—এটি একটা ন্যারেটিভ ছিল। এটা অতিরঞ্জিত হয়েছিল ওই সরকারের সময়ে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটাও আরেকটা চরম অবস্থান; এটাও ভুল কথা। বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিট্যান্সি, জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা আসলে প্রতিরোধ করতে চাই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার এই সতর্কতার মানে হচ্ছে, এটা খানিকটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা খেয়াল করেছি, এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়া বা জনসম্মুখে আসা বা মুক্তভাবে আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সেটারই খানিকটা প্রভাব আমরা বলতে পারি। এই সরকার এগুলো প্রতিরোধ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে এটুকু বলতে চাই, এই ঝুঁকি এমন না যে এটার জন্য ভয় পেতে হবে। কিন্তু সেই পুরোনো কথা হলো, আমরা যদি কোনো একটা সংকট বা রোগকে স্বীকার না করি, ওটার চিকিৎসা হবে না। তাই, আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অনেক জঙ্গি জেল থেকে বেরিয়ে গেছেন—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বেরিয়েছিলেন। এখন সরকারের নিয়মিত কার্য হলো, এটা একদম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের বা কাজের অংশ যে সরকার এগুলো প্রতিরোধ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জঙ্গিবাদ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা আমাদের লক্ষ্য। সেটা কতটা পেরে উঠব আমরা জানি না, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব শূন্যের কাছে নিয়ে আসার জন্য। কারণ আমরা এই সমস্যাটা স্বীকার করি এবং এটা আমরা অনেক বেশি বাড়াতে চাই না।
জাহেদ উর রহমান জানান, জঙ্গিরা দেশের ভেতরে আছে এবং তাদের সহায়তা করার মতো মানুষ বাইরেও থাকতে পারে। আমি এটাও একজন বিশ্লেষক হিসেবে বলছি।
জামিনে থাকা জঙ্গিদের নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন, এটার যদি মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে জামিন বাতিল হবে এবং সরকার সেই জামিন বাতিলের জন্য শক্ত আপিল করবে। জামিন থাকবে কি থাকবে না তা আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, এটা আদালতের সিদ্ধান্ত। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করবে কঠোরভাবে যাতে তাদের জামিন বাতিল হয় এবং সরকার এটা অবশ্যই করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ‘জঙ্গি’ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে চাই। কাউকে আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়াও ঠিক নয়। এ ধরনের সাধারণীকরণ অতীতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে উগ্রবাদী প্রবণতা যে রয়েছে, তা আমরা স্বীকার করি এবং তা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
উপদেষ্টা দাবি করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অতীতের মতো কোনো ধরনের শিথিলতা নেই। যে কোনো অপরাধের তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা—এসবই জঙ্গিবাদ মোকাবিলার অংশ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজের একটি ছোট অংশ উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিল। কখনো কখনো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেছে। তবে দেশ শেষ পর্যন্ত উদার গণতান্ত্রিক পথেই এগিয়েছে। সরকার এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, কোনো সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে গণতান্ত্রিক উপায়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনই চূড়ান্ত পথ।
৭২ দিন আগে