হরিণ শিকার
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকা পড়েছে বাঘ, এক দিনেও উদ্ধার হয়নি
বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের মধ্যে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকা পড়েছে। লোকালয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেহরহাট জেলার মোংলা উপজেলাধীন বনের শরকির খাল-সংলগ্ন বৈরাগী বাড়ির কাছে বাঘটি আটকা পড়ে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে এক জেলে প্রথম ফাঁদে আটকে থাকা বাঘটিকে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা থেকে বন বিভাগ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। আজ রবিবার দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বন বিভাগ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনও বাঘটি উদ্ধার করতে পারেনি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সুন্দরবন বাঘের শেষ আশ্রয়স্থল। বাঘ আমাদের জাতীয় পশু। সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত উদ্ধার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মচারীদের গতকাল সন্ধ্যায় সেখানে পাঠানো হয়। তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকে আছে। এর পর শরকির খালপাড় এলাকা কর্ডন করে (ঘিরে) রাখা হয়। শনিবার রাত থেকে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন বাঘটিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করতে।
ফাঁদে আটকে থাকলেও বাঘটি সুস্থ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘটিকে উদ্ধার করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাঘটি উদ্ধারের জন্য বন বিভাগের বিশেজ্ঞ টিম কাজ করছে। আজ সকালে বিশেজ্ঞ টিম সেখানে পৌঁছেছে। বাঘটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনে ট্যাংকুলাইজার গান ব্যাবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়লে লোহার খাঁচায় বন্দি করে খুলনা অথবা ঢাকায় বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হবে। আর সুস্থ থাকলে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাঘটি উদ্ধারের পর বিশেজ্ঞ টিমের পরমর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, সুন্দরবনে হরিণ শিকারীদের ফাঁদে বাঘ আটকা পড়ার খবরে বন-সংলগ্ন গ্রামের মানুষ সেখানে জড়ো হতে শুরু করে। তবে ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পৌষ মাসের প্রচণ্ড শীতে শনিবার থেকে বাঘটি ফাঁদে আটকে খুব কষ্ট পাচ্ছে। আরও আগেই বাঘটিকে উদ্ধার করা উচিত ছিল। কিন্তু সুন্দরবন বিভাগের নিজস্ব ভেটেনারি সার্জন না থাকায় এখনও বাঘটিকে উদ্ধার করা যায়নি।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বিভাগের জন্য নিজস্ব ভেটেনারি সার্জন থাকতে হবে। বন্যপ্রাণীদের যেকোনো আপৎকালীন সময়ের জন্য বন বিভাগের প্রস্তুতি নেই। বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়ে ছুটাছুটি করছে। এ কারণে সেটি আহত হতে পারে। তাই ফাঁদ থেকে মুক্ত করার পরপরই বাঘটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। বন বিভাগের সঙ্গে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম শনিবার রাত থেকে সেখানে পাহারা দিচ্ছে।
সুন্দরবনে হরিণ শিকার কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না—বন বিভাগের উদ্দেশে এ প্রশ্নও রাখেন ড. আনোয়ারুল ইসলাম।
বন বিভাগের তথ্য অনুসারে, বিগত কয়েক বছর ধরে ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের’ মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ গণনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। এর আগে ২০১৮ সালে একইভাবে গণনা করে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৫ সালে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে গণনার ফলাফল অনুসারে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি।
জানা গেছে, সুন্দরবনের মোট আয়াতন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ ৪ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে সুন্দরবনের মোট আয়াতনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বনে প্রতিটি বাঘ তাদের আবাসস্থলের জন্য ১৪ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার (হোমরেঞ্জ) চিহ্নিত করে সেখানে বাস করে। তবে তাদের বিচরণ গোটা সুন্দরবনজুড়েই।
চোরা শিকারীদের তৎপরতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনে বাঘ হুমকির মুখে রয়েছে। বন বিভাজ জানায়, গত ৮ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট হরিণ শিকারের বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ করেছে। এ সময়ে বেশ কয়েকজন হরিণ শিকারীকে আটকও করা হয়।
২ দিন আগে
সুন্দরবনে বেড়েছে হরিণ শিকার
সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন খুলনা রেঞ্জে প্রতিনিয়ত হরিণ শিকারির অপতৎপরতা বেড়েই চলেছে। সুন্দরবন রক্ষা করতে বন বিভাগের টহল টিমের সঙ্গে বিশেষ টহল টিম স্মার্ট প্যাট্রল প্রতিনিয়ত দায়িত্ব পালন করলেও অদৃশ্য কারণে হরিণ শিকার কমছে না।
সম্প্রতি কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর কয়রা গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুদিনের ব্যবধানে সাত কেজি হরিণের গোশতসহ এক শিকারিকে আটক করেছে কয়রা থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে চিত্রা হরিণ উদ্ধার, সুন্দরবনে অবমুক্ত
জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় দিকে পাচারকালে কয়রা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৪নং কয়রা গ্রামের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী রুহুল আমিন সানাকে চার কেজি হরিণের গোশতসহ আটক করা হয়। এর আগে ১৭ আগস্ট গভীর রাতে তিন কেজি হরিণের গোশত উদ্ধার করেন কয়রা থানা পুলিশ।
এছাড়া গত ৫ জুন সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে জবাই করা দুটি হরিণ, একটি নৌকা ও হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার করেন কয়রার হড্ডা বন টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান।
অভিযোগ আছে, বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা চোরা শিকারিদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাদের যোগসাজশে এই শিকারি চক্র হরিণের গোশত নিয়ে উপজেলার ৪ ও ৬ নম্বর কয়রা এলাকা দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে।
আরও পড়ুন: শরণখোলায় ২ হরিণের চামড়া উদ্ধার
পশ্চিম বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাসানুর রহমান বলেন, আমাদের টহল টিম নিয়মিত পাহারা দেয়। সুযোগ বুঝে তাদেরকে ফাঁকি দিয়ে এই চক্র হরিণ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগের সদস্য কম থাকায় তারা সুযোগটা বেশি পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবি এম এস দোহা বলেন, কিছু অসাধু কারবারি হরিণ শিকার করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে প্রতিনিয়ত কয়রা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি হরিণের গোশতসহ একজনকে আটক করে বন্য প্রাণী নিধন আইনে মামলা করা হয়েছে।
১২৩৫ দিন আগে
সুন্দরবনে ৬০ হরিণ ‘শিকারি’ আটক
সুন্দরবনে ‘হরিণ শিকারে’ যাওয়ার সময় হরিণ শিকারের ফাঁদ ও তিনটি ট্রলারসহ ৬০ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ।
২২৫৫ দিন আগে