মূল্যস্ফীতি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে ঐতিহাসিক ‘বাসিয়া খাল’ খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করলেও তার অভিঘাত জনগণের ওপর পড়বে না, সরকার তার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এই সামান্য বৃদ্ধির ফলে পণ্যমূল্যে কেজি প্রতি মাত্র ৩০ পয়সার মতো প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সিলেটে সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি, যা এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও অনেকাংশে গ্যাস নির্ভর। দেশে বর্তমানে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও চাহিদা মেটাতে আরও ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। অর্থের সংস্থান থাকলেও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদামাফিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খনন কাজের উদ্বোধন করবেন জানিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত এই খনন কাজ চলবে। এর ফলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
সৌদি আরব থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ যাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগার নির্মাণ করবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।
৩ দিন আগে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহে শুরু হবে: গভর্নর
আর্থিকভাবে দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এই সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার (Economies Future Trajectory and Political Commitment)।
গভর্নর বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে থাকা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। কারণ এগুলো ‘সঞ্চিত সমস্যা’ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
এলসি খোলার ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলসি খোলার বিষয়টি বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বেড়েছে; গতবারের এই সময়ের চাইতে বেশি।
তার ভাষ্যে, আমাদের এক্সটারনাল সেক্টরটা (বহির্বাণিজ্য খাত) স্থিতিশীল হয়েছে, সেখানে কোনো ভালনারবিলিটি (দুর্বলতা) নেই। ব্যাংকিং খাতে ডলারের কোনো অভাব নেই; যেকোনো পরিমাণ ডলার আপনারা কিনতে পারবেন যদি আপনি বাংলাদেশের টাকা নিয়ে আসেন।
১৪৯ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি ৭-৮ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাকী সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ থেকে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি উপস্থাপন করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
আরও পড়ুন: মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
বিনিময় হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারসহ তিনটি মূল আর্থিক সূচক স্থিতিশীল করতে নজর দেওয়া হয়েছে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে।
এর লক্ষ্য বেসরকাররি খাতের ঋণ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য হ্রাস সত্ত্বেও কিছুটা আর্থিক সরবরাহ বাড়ানো। কারণ, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের জিডিপি এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে।
তবে নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত থাকায় ঋণের সুদের হার আর বাড়বে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর ডিসেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন: মুদ্রাস্ফীতি ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে কঠোর মুদ্রানীতি ঘোষণা
৪৪১ দিন আগে
বিশেষ বিবেচনায় রমজান, মূল্যস্ফীতি কমবে জুন-জুলাইতে: গভর্নর
২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, বাজার স্বাভাবিক করতে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসকে সামনে রেখে পণ্য আমদানিতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ সুবিধা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যয় বাড়াচ্ছে ক্রমাগত। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সুদহার সহনীয় পর্যায়ে রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের সুবিধা পেতে প্রায় ৩১ রকমের ডকুমেন্ট প্রদান করতে হয়। এ কারণে অনেক সময় ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন তারা। বিষয়টি সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
এর বাইরে দেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংক ঋণের শ্রেণিকরণের সময়সীমা ৩ মাস থেকে আরও ৬ মাস বাড়ানোর দাবি জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি।
জবাবে গভর্নর বলেন, ‘আসন্ন রমজান মাসে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কোনো ধরনের মার্জিন ছাড়াই এলসি (ঋণপত্র) খুলতে ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
‘মূল্যস্ফীতি কমে এলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সুদের হার বাজার পর্যালোচনার ভিত্তিতে আরও হ্রাস করা সম্ভব হবে। ব্যাংক ঋণের শ্রেণিকরণের সময়সীমা বর্তমানে ৩ মাস থেকে বাড়ানো যায় কিনা— সে ব্যাপারে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’
দেশের ডলারের বাজার প্রসঙ্গে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাজারে ডলারের তেমন কোনো সংকট নেই এবং ডলারের মূল্যও বেশ স্থিতিশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের মূল্য নির্ধারণ করবে না, এটা নির্ধারিত হবে ডলারের আমদানি ও চাহিদার ভিত্তিতে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ডলারের মূল্য স্থিতিশীল আছে। রেমিট্যান্স প্রবাহও বেশ ইতিবাচক। রপ্তানি আয় ঊর্ধ্বমুখী এবং রিজার্ভও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর সুফল শিগগিরই দেশের মানুষ ভোগ করতে পারবে।’
এছাড়া দেশের বাইরে ব্যবসায়িক অফিস খোলার বিদ্যমান শর্তাবলি আরও শিথিল করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বাস দেন তিনি।
৪৬৫ দিন আগে
নভেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি ১১.৩৮%
নভেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে। আগের মাস অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এই হার গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশে।
এদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে নভেম্বরে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হারও গত মাসে বেড়েছে।
নভেম্বরে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
আরও পড়ুন: মূল্যস্ফীতি কমাতে ৮ মাস লাগবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
একই সময় গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি নভেম্বর ও অক্টোবরে অপরিবর্তিত ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিল।
অন্যদিকে নভেম্বরে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, নভেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
নভেম্বরে মজুরি হার সূচক ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
আরও পড়ুন: মূল্যস্ফীতি রোধে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
৫০৭ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি কমাতে ৮ মাস লাগবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমানে গৃহীত অর্থনৈতিক পদক্ষেপের আওতায় মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় আনতে আরও আট মাস সময় লাগবে।
সোমবার (১১ নভেম্বর) ঢাকায় বণিক বার্তা আয়োজিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ পূর্বাভাস দেন।
গভর্নর আশ্বস্ত করে বলেন, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত তিন মাস ধরে অর্থ ছাপানো থেকে বিরত রয়েছে। এটিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর কৌশল সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন করছি এবং মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছি ‘
ড. মনসুর স্বীকার করেন, কিছু ব্যাংক এখনো গ্রাহকের নগদ চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মূল্যস্ফীতি রোধে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংককে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল হবে।’
বাকি ব্যাংকগুলোর সম্পদ হিসাব পর্যায়ক্রমে নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০টি ব্যাংকের সম্পদ হিসাবের নিরীক্ষা শুরু করেছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং অবস্থার একটি অনন্য দিক তুলে ধরে ড. মনসুর বলেন, শাখা কাছাকাছি বেশি থাকার ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যাংকিং ঘনত্ব রয়েছে।
গভর্নর ব্যাংকিং খাতের মধ্যে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, বৈষম্য হ্রাসে ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
ড. মনসুর আরও বলেন, সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপের জন্য রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বন্ধ করার জন্য নয়, বরং এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে, যার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনা (ডিপিপি) এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রোফর্মা (টিএপিপি) এ উল্লিখিত হিসাবে প্রকল্প ব্যয়কে রাজস্ব ও মূলধন বিভাগে বিভক্ত করার কথা উল্লেখ করেন গভর্নর।
এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প সহায়তার অংশ হিসেবে ডিরেক্ট প্রজেক্ট এইড (ডিপিএ) ও রিইমবার্সেবল প্রজেক্ট এইড (আরপিএ) এর আওতায় বরাদ্দ।
আরও পড়ুন: বেক্সিমকো গ্রুপে রিসিভার হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইডি
বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি নেই, প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
৫৩১ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ শতাংশ: সালেহউদ্দিন
দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আরও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যস্ফীতি এক শতাংশ কমেছে এবং সরকার বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে।
বুধবার সরকারি ক্রয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা পরিষদের কমিটির (এসিসিজিবি) বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দয়া করে অধৈর্য হবেন না... সরকার এটা নিয়ে কাজ করছে এবং আরও কিছুটা সময় লাগবে। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ, আলু ও চিনির আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। সুতরাং, আপনারা শিগগিরই ফলাফল দেখতে পাবেন।’
আরও পড়ুন: আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১.১৭ শতাংশ: বিবিএস
তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা মসুর ডাল, এলএনজি ও সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ চিনির আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। তাই কৃষিপণ্যের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে অনেক কারণ রয়েছে এবং এটি একদিনে ঘটেনি।
তিনি বলেন, ‘মার্কেট ফ্যাক্টর, প্রোডাকশন ফ্যাক্টর, ডিস্ট্রিবিউশন ফ্যাক্টর–এরকম অনেক ফ্যাক্টর আছে–পুরোনো মানুষ চলে গেছে এবং নতুন লোক বাজারে এসেছে। কিছু জিনিস হাত বদল হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি হবে ১০.১ শতাংশ: এডিবির পূর্বাভাস
৫৬৪ দিন আগে
আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১.১৭ শতাংশ: বিবিএস
গত জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে।
রবিবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
আরও পড়ুন: জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১.৭ শতাংশে পৌঁছেছে: বিবিএস
এছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ।
তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। জুলাইয়ে এই খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগস্টে কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক অতিক্রম করে। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে, যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
একইভাবে জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এরপর থেকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ অতিক্রম করেনি।
আরও পড়ুন: ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.১২ শতাংশ: বিবিএস
৫৬৬ দিন আগে
সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.৯২ শতাংশ
আগের মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সাধারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মুদ্রাস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এ সময় খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতি কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)।
আরও পড়ুন: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি হবে ১০.১ শতাংশ: এডিবির পূর্বাভাস
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার আরও কমে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে; যা একই বছরের আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলেই সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার গত মাসে কমেছে।
সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ; যা আগস্টে ছিল ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে শহরাঞ্চলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ১০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরে মজুরি হার সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। আগস্টে এর হার ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে সেখান থেকে বেড়ে ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আবারও মূল নীতি হার বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক
আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১.১৭ শতাংশ: বিবিএস
৫৭১ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আবারও মূল নীতি হার বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মূল নীতি হার (রেপো রেট) ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়। এটি ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: 'গ্লোবাল ইয়ুথ ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৪' পেল বাংলাদেশ ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সময়ে স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) যথাক্রমে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১১ শতাংশ এবং ৮ শতাংশ করেছে।
পলিসি রেট বাড়লে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। জনগণকে ব্যয় সংকোচন ও চাহিদা কমাতে বাধ্য করবে। এর ফলে পরবর্তীতে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে।
গত ২৫ অগস্ট পলিসি রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মাস তিনেক আগে গত ৮ মে শেষবার পলিসি রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ করেছিল বিগত সরকার।
সে সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যস্ফীতি কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় সুদের হার বাড়ানো হয়, যা গত বছরের মার্চ থেকে ৯ শতাংশের বেশি ছিল।
আরও পড়ুন: বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে শতভাগ নগদ মার্জিন নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
১২ মাস পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে। গত জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের পর সর্বোচ্চ। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ২০২৫ সালের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৬-৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
আরও পড়ুন: নগদ অর্থ উত্তোলনের সীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক
৫৭৯ দিন আগে