ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসেও শোকের ছায়া, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৫
আজ ১৭ আগস্ট, ৮১তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ইন্দোনেশিয়া। তবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনটিতেও দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৫ জন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পৌঁছানো হয়েছে শত শত টন ত্রাণও। তবে দুর্গম এলাকা এবং যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে হাজারো মানুষ এখনও খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবারের ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাংগারাই অঞ্চল। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় প্রদেশটির গভর্নর গতকাল রবিবার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৬টার দিকে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পের পর দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৯৫টি পরাঘাত বা আফটার শক রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি পরাঘাত স্থানীয় বাসিন্দারা অনুভব করেছেন। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফ্লোরেসের হাজারো মানুষ ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপলের তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।
৫ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫১, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার একদিন পর আর রবিবার উদ্ধারকারীরা আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। পরে ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর অন্তত ২৩৫টি পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে।
রবিবার উদ্ধারকারীরা ফ্লোরেসের ছয়টি এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ধসে পড়া স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে অভিযান চালান। ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হয়ে পড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অঞ্চল—মাংগারাই, পূর্ব মাংগারাই ও নাগেকেওকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাউমেরে শহরভিত্তিক সিক্কা অঞ্চলের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অফিসের প্রধান ফাতুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোর সড়ক আবার খুলে দিয়েছি। তবে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা উদ্ধার তৎপরতায় এখনও বাধা সৃষ্টি করছে।’
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১০১ জন আহত হয়েছেন। ৯০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
৬ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ৩৮
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজ শনিবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় উপকূলীয় জনপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধারকারীরা অন্তত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইয়ের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে থাকা ১৬ জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
৭ দিন আগে
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার, শত শত দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পূর্ব জাভার জনপ্রিয় ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনিয়োর (প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা) কারণে হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্ব জাভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আগুন লেগেছে। প্রদেশটির প্রায় ৭৪৩ হেক্টর (১ হাজার ৮৩৬ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
দেশটির বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে শুকনো তৃণভূমি, গাছপালা ও সংরক্ষিত এডেলভেইস ফুলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট ব্রোমোর দর্শনীয় স্থান পেনানজাকান এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জাভা অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কের রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে অন্তত ৩টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হেলিকপ্টার দিয়ে আগুনের উৎসগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভাগে কর্মীরা আগুন নেভানো, ঠান্ডা করা, টহল ও আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরির কাজ করছেন।
রবিবার জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের সময় দেশটির বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, ‘বন ও ভূমিতে আগুনের পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় যেসব মানবসৃষ্ট কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেমন: সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না নিভিয়েই ফেলে দেওয়া ও জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানো। এমন বিধ্বংসী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
অস্বাভাবিক শুষ্ক এই মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গেছে।
দাবানলে সুমাত্রা দ্বীপের জাম্বি প্রদেশে ৫০ হেক্টরের (১২৪ একর) বেশি পিটভূমি (শুষ্ক স্যাওলাসমৃদ্ধ জলাভূমি) পুড়ে গেছে। এতে কিছু এলাকায় তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুয়ারো জাম্বি জেলার সুংগাই গেলাম গ্রামে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন কয়েক হেক্টর পাম বাগান পুড়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে সেখানে আগুন জ্বলছে।
দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটভূমির গভীরতা, পানির সীমিত সরবরাহ, দুর্গম এলাকা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। এসব কারণে তিনটি হেলিকপ্টার আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরে বাইরে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দাবানল সংঘটনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস হতে পারে। এ সময়ে শুকনো গাছপালা ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে প্রায়ই বনভূমিতে দাবানলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও জমি পরিষ্কার করতে বাগান মালিক ও স্থানীয় কৃষকেরা অনেক সময় অবৈধভাবে আগুন লাগিয়ে দেন। এসব কর্মকাণ্ডে আগুনের ধোঁয়া মাঝেমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপজ্জনক ধোঁয়াশা তৈরি করে।
১২ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
৬৮ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়ায় জড়িত ৩২১ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি অনলাইন জুয়া পরিচালনা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি দেশটির অবৈধ ডিজিটাল জুয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম বৃহত্তম অভিযান। গ্রেপ্তারকৃত ৩২১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে অধিকাংশই ভিয়েতনামের। জাকার্তার ‘চায়নাটাউন’এলাকার নিকটবর্তী একটি বাণিজ্যিক ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা এই ভবনটিকে ৭০টিরও বেশি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযানে সংগৃহীত বিপণন রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার বাইরের খেলোয়াড়দের টার্গেট করত।
ইন্দোনেশীয়া পুলিশের জেনারেল ক্রাইম ডিরেক্টর উইরা সত্য ত্রিপুত্র জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২৮ জন ভিয়েতনামি, ৫৭ জন চীনা এবং বাকিরা লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার নাগরিক। তিনি বলেন, এই নেটওয়ার্কের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপুত্র বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আমরা আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি।’
তিনি জানান, এই কার্যক্রম অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো, যেখানে কর্মীদের কাস্টমার সার্ভিস, টেলি-মার্কেটিং এবং আর্থিক প্রশাসনের মতো বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এই কেন্দ্রটি প্রায় দুই মাস ধরে চালু ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে অনেক জুয়া সিন্ডিকেট ঘনঘন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ওয়েবসাইট ও কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনার জন্য প্রায়ই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে।
ত্রিপুত্র জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর ভিসা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুয়া এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধের পাশাপাশি এখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উন্মোচিত হয়েছে।’
পুলিশ বিভিন্ন দেশের নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট এবং জুয়ার সাইট পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই গোষ্ঠীটি অন্তত ৭৫টি বেটিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত।
ত্রিপুত্র জানান, শনিবার পর্যন্ত আটককৃতদের মধ্যে ২৭৫ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিরা জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ইন্দোনেশিয়ার ফৌজদারি ও অভিবাসন আইনের অধীনে তাদের সর্বোচ্চ ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ বিলিয়ন রুপিয়াহ (১ লাখ ১৬ হাজার ০০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ইন্টারপোল ব্যুরোর সচিব উনতুং উইদিয়াতমোকো বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুরাবায়া, বালি এবং বাতামে একই ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এটি অনলাইন জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কঠোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ এমন কিছু লক্ষণ শনাক্ত করেছে যা থেকে বোঝা যায় যে, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ায় কড়াকড়ি শুরু হওয়ার পর সেখানে থাকা অনলাইন জুয়া অপারেটররা ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে।
উইদিয়াতমোকো বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় আইন প্রয়োগের পর আমরা ইন্দোনেশিয়ার দিকে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করি এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
গত বুধবার সিঙ্গাপুরের পাশের ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বাতামের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিবাসন নজরদারি অভিযানে ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারের ৪৭ জন নারীসহ ২১০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অনলাইন বিনিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি আন্তঃসীমান্ত টেলিফোন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জাপান ও চীনের ৪৪ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত।
এর আগে গত মার্চ মাসে পশ্চিম জাভার বোগোর শহর থেকে একই মামলায় ১৩ জন জাপানি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত মাসে পশ্চিম জাভার সুকাবুমী রিজেন্সি থেকে চীন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের ১৬ জন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও কেনিয়াসহ ২৬ জন কথিত অনলাইন প্রতারককে বালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়া অবৈধ। সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় সাইবার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটি বর্তমানে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হয়েছে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
১০৪ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বাস-তেলবাহী ট্যাঙ্কার সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১৬
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুরে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের নর্থ মুসি রাওয়াস জেলার ট্রান্স-সুমাত্রা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মুগোনো নামে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত ২০ আরোহী নিয়ে চলা আন্তঃনগর বাসটি দক্ষিণ সুমাত্রার লুবুকলিংগাউ শহর থেকে জাম্বি শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে বাসটি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছিল। এতে চালক বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসটিকে সড়কের ডান পাশে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্যাঙ্কারটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর সময় পাননি তিনি।
মুগোনো বলেন, ‘সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি যানবাহনই আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় অনেক যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।’
নিহতদের মধ্যে বাসচালক, ১৩ জন যাত্রী এবং ট্যাঙ্কারের চালক ও তার সহকারী রয়েছেন। তারা সবাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর বাসের চার যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং একজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। সড়কে বাস ও ট্যাঙ্কারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
উদ্ধারকর্মী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালান। কয়েকজন যাত্রী যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) নর্থ মুসি রাওয়াস ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ করিম জানান, লুবুকলিংগাউয়ের সিতি আইশাহ হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুমাত্রা পুলিশের ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন (ডিভিআই) দল এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে বাসচালক, বাসের দুই কর্মী, ট্যাঙ্কারচালক এবং একজন যাত্রী রয়েছেন। বাকি ১১ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
সব মরদেহই মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী পালেমবাংয়ের ভায়ানগকারা পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ আগের প্রাথমিক তথ্য থেকে সরে এসে বলেছে, বাসটি সড়কের একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল। এতে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
গত সপ্তাহেও রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি স্টেশনের কাছে বিকল হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা দেওয়ার পর দূরপাল্লার একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি কমিউটার ট্রেনের সংঘর্ষে হয়। ওই ঘটনায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে থাকা অন্তত ১৫ নারী যাত্রী নিহত হন।
১০৭ দিন আগে
বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তার ৪৪
ইন্দোনেশিয়ায় বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে ৪৪ জনকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা থেকে দেশের নাগরিকদের বিরত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন ও জলাভূমিতে আগুনের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া ও দক্ষিণ থাইল্যান্ডের কিছু অংশে আচ্ছন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বুধবার (২৪ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক বিবৃতিতে জানান, ‘শুধু খরা নয়, বনে আগুন লাগার জন্য মানুষও দায়ী। আশা করছি, এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ভবিষ্যতে আগুন লাগানো থেকে মানুষকে বিরত রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে অনেক ক্ষেত্রেই কৃষক বা জমির মালিকরা অবৈধভাবে বনে আগুন লাগিয়ে দেন।’
মানবসৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড বন্ধে সরকারি অভিযানে অংশগ্রহণ এবং জমি পরিষ্কারের সময় কেউ আগুন লাগালে কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পড়ুন: ‘ফিলিস্তিনপন্থি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
এর আগে, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইন্দোনেশিয়ার রিও প্রদেশের রাজধানী পিকানবারোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের হাতকড়া পরানো অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
গ্রেপ্তাররা ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ সুরক্ষা আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
সম্প্রতি, রিও প্রদেশের রোকান হিলির ও রোকান হুলু জেলা প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ায় দৃষ্টিসীমা এক কিলোমিটারেরও নিচে নেমে যায়। এই দুই জেলার অনেক এলাকা এখনও ঘন ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা রয়েছে।
সরকার এর মধ্যে সেখানে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টির জন্য ক্লাউড সিডিং শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালেও বনে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ।
প্রতি বছরই শুকনো মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এমন অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশেও ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ধোঁয়ার জন্য প্রায়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে।
৩৯৪ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বালির কাছে ফেরিডুবি, নিহত ৪, বহু নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালির কাছে একটি ফেরিডুবির ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ জুলাই) গভীর রাতে পূর্ব জাভার কেতাপাং বন্দর ছাড়ার প্রায় আধঘণ্টা পর ‘কেএমপি তুনু প্রতমা জয়া’ নামের ফেরিটি ডুবে যায়। ফেরিটি ৫০ কিলোমিটার দূরের বালির গিলিমানুক বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বলে জানিয়েছে জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থা।
সুরাবায়া সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে এবং ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের খোঁজে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে ফের উত্তাল সমুদ্রে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারীরা।
ফেরিটিতে ৫৩ জন যাত্রী, ১২ জন ক্রু এবং ২২টি যানবাহন ছিল বলে জানানো হয়েছে।
বানিউয়াঙ্গি পুলিশের প্রধান রামা সামতামা পুত্র বলেন, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর অনেককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে এখন পর্যন্ত দুটি টাগবোট ও দুটি ইনফ্ল্যাটেবল বোটসহ মোট ৯টি নৌযান অংশ নিয়েছে। প্রায় ২ মিটার (সাড়ে ৬ ফুট) উচ্চতার ঢেউয়ের মধ্যে রাতভর উদ্ধার কাজ চালিয়েছে দলটি।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে ফেরি যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও প্রায়ই সেখানে নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মানা হয় না। এর ফলে নৌ-দুর্ঘটনাও ঘটে হরহামেশা।
৪১৫ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ভূমিধসে নিহত ৫
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি গ্রামে ভূমিধসে অন্তত পাঁচ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালির প্রাদেশিক রাজধানী ডেনপাসারের উবুং কাজা গ্রামে তাদের আবাসনে সোমবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। আরও তিনজন শ্রমিক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন। তারা এখন নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বালির তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান নিয়োমান সিদাকারিয়া জানান, হতাহতদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীরা একটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য লাশ নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সিদাকারিয়া আরও বলেন, ভূমিধসের মূল কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে রবিবার এই অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। বর্ষাকালে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়া এই মৌসুমে প্রায়ই অতিবৃষ্টির কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
৫৭৮ দিন আগে