আদ-দ্বীন হাসপাতাল
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন।
সদ্যজাত এসব শিশুর নামও রাখা হয়নি। ফলে, মৃত শিশুদের তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।
ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৪ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯ জুন বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে জবাব ও ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। ফলে দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
তবে অর্ডিন্যান্সের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) ছয় শিশুর মৃত্যু নিয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ জন্য তাকে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
গত শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৮ দিন আগে
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী তদন্ত প্রতিবেদনের সারমর্ম তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি বলেন, ‘আইনে যতটুকু হার্ড (কঠোর) হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব। এবার আর কাউকে মাফ করে দেওয়া যায় না।’
গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। সেদিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এরপর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চায়।
কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা ছিলেন।
কমিটি আজ দুপুর ৩টায় তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালটিতে দীর্ঘ সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সচল ছিল না। প্রয়োজনীয় এসির ব্যবস্থা না থাকায় ঘটনাস্থলে তীব্র অক্সিজেন স্বল্পতা তৈরি হয়। যার ফলে সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নবজাতকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ ছাড়াও হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ছোট ও বদ্ধ কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে বলে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের চরম অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটির যে পোস্ট অপারেটিভ রুমে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি আমরা ইতোমধ্যেই সিলগালা করে দিয়েছি। তবে পুরো হাসপাতালে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় হুট করে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা আগামী দুই দিন বন্ধের মধ্যে আইন খতিয়ে দেখব এবং আগামী রবিবারের মধ্যে হাসপাতালটির বিষয়ে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছাব, ইনশাআল্লাহ।’
হাসপাতালগুলোর এই লাগামহীন অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে সচিব, ডিজি এবং প্রতিমন্ত্রীসহ সবাই মিলে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম সাজাচ্ছি এবং যে ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস—ভবিষ্যতে আর কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এভাবে বদ্ধ ঘরে মানুষ বা শিশু রাখার দুঃসাহস দেখাবে না।’
তিনি আরও জানান, বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি, যা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
ছয় শিশুর মৃত্যুকে কেবল পেশাগত অবহেলা নাকি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ এবং এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে। আবেগের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনরা শিশুদের মরদেহ নিয়ে গেছেন, যা আসামিরা আইনি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এটি রাতের আঁধারে ঘটা কোনো গোপন ঘটনা নয়, এটি শতভাগ প্রমাণিত সত্য। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কোনো ছাড় দেবেন না।’
তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট অপারেটিভ কক্ষটি মোটেও হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী ছিল না। ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন না থাকায় কক্ষটিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
সবশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে আমরা একের পর এক জুম মিটিং করছি। আমাদের নির্দেশনা এবং ব্যবস্থাপনা দিন দিন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে, যা আপনারা শিগগিরই মাঠে দেখতে পাবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এসব কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে ঘিরে মন্ত্রণালয় কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করছে এবং কীভাবে কাজ এগোচ্ছে, তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। তার দেওয়া আইনগত পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটি আরও গতিশীল হওয়ার জন্য, আরও প্র্যাকটিক্যাল হওয়ার জন্য ওই বাচ্চাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে একটি তদন্ত কমিটি হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঈদের ছুটির কারণে এই তদন্ত কমিটি করা যায়নি। আজকেই তদন্ত কমিটি করা হবে, তিন দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। এক্ষেত্রে আইনত বিষয়গুলো জানার জন্য বা কীভাবে বিষয়টিকে আইনানুগভাবে করা যায় সেটির বিষয়ে জানতে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এখানে উপস্থিত ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা কী কী কার্যক্রম করছি, কীভাবে করছি, তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের আইনানুগ উপদেশ দিয়েছেন, উনার পরামর্শ অনুযায়ী আমরা বাকি কাজগুলো করে যাব। তিন দিনের মধ্যে আমরা প্রতিবেদন পাব, তারপর আপনাদের বিস্তারিত জানাব।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রকৃতপক্ষে কারও দায় থাকলে দায় নিরূপণ করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা নিয়ে সভায় কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন যে ৩ জুনের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কমিটিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী চিহ্নিত হলে সে যেন আইনি ফাঁকফোকরের মধ্য দিয়ে পার না পায়, সেজন্য আইনগত পরামর্শ দিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইনগত সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আইনগত দিকগুলো মন্ত্রী ও কমিটির সামনে উল্লেখ করেছি। বিশ্বাস করি, প্রকৃতপক্ষে দায়ী-দোষী ব্যক্তি বিচারের মুখোমুখি হবেন। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে সেটিই প্রত্যাশা। প্রকৃত অপরাধীরা যেন পার না পায়, সে কারণেই আজ মন্ত্রণালয়ে আসা।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে বেকারির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আদ-দ্বীন হাসপাতালে বেকারি করতে পরিবেশ (অধিদপ্তর) থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছেন। কীভাবে লাইসেন্স দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন তা আমরা খতিয়ে দেখছি।
১৮ দিন আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর যা বলল আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তদন্ত ও পরিদর্শনের মধ্যে ৩০ মে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার সকালে হাসপাতালটিতে এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর গতকাল (শনিবার) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনে শেষে হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় একটি বেকারি কারখানা পাওয়ার কথা জানান তিনি। বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালটিতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তারা।
পরে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা সেখানে যান। তাদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বের করে দেন। কয়েকজনকে মারধরও করেন। মারধরে টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরা পারসনসহ তিনজন আহত এবং বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে শনিবার (৩০ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অব্যাহত পরিদর্শন এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালের সেবাদানকারী কর্মীরা কয়েকদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীর হাসপাতাল ত্যাগের পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথনের একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে কর্মীরা অপমানিত বোধ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। সে সময় উপস্থিত হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কর্মীদের নিবৃত্ত করতে উদ্যোগও নেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, তারা সব সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে আসছে। তারপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতাল কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে গণমাধ্যমকর্মীদের মনে কোনো কষ্টের সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
১৯ দিন আগে
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। তাদের অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসির সঙ্গে অক্সিজেন সাপোর্টের একটি সংযোগ ছিল। সেখানে তারা এসি বন্ধ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেটি চালু করা হয়নি। এদিকে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ছয়টি শিশু মারা গেছে।’
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) সেখানে গেছেন। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
‘যতটুকু শাস্তির প্রয়োজন, আমরা তা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি এ ঘটনার মাধ্যমে অন্যদের জন্যও একটি বার্তা দেওয়া হবে,’ বলেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক ছাড়া নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হয়েছে।’
এ সময় হাম সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও তারা বেসরকারি উৎস থেকে হাম ও অন্যান্য টিকা কিনেছে।’
মন্ত্রী দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা হয়নি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
২৩ দিন আগে
৬ নবজাতকের মৃত্যুতে যা জানাল আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৭ মে) এক বিবৃতিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার কারণ উদঘাটনে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড–২-এ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) চালু ছিল। তবে একাধিক নবজাতকের মা এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে দায়িত্বরত নার্সরা এসি বন্ধ করে দেন।
পরে রাত ৩টার দিকে আবারও এসি চালু করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, রাত ৪টার দিকে একটি নবজাতক অস্বাভাবিকভাবে কান্না করতে শুরু করলে তাকে দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ নবজাতককেও এনআইসিইউতে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ (বুধবার) সকাল ৬টার দিকে প্রথম নবজাতকের মৃত্যু হয়। এরপর সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে আরও পাঁচ নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডে সদ্য প্রসূতি মায়েরা নবজাতকদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন এবং রাতে তিনজন নার্স দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণভাবে পৃথক তদন্ত পরিচালনা করছে।
তদন্তে কারও গাফিলতি বা ত্রুটি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২৩ দিন আগে
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী ৪০ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আজ ভোরে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একটি অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১১ জন মায়ের মধ্যে ছয়জনের নবজাতক সন্তান মারা যায়। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। বাকি পাঁচ নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তারা ওয়ার্ডে ‘সাফোকেটিভ’ বা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের উপস্থিতি পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি জটিলতা বা ভেন্টিলেশন সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এসি বন্ধ করলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের একজন উপপরিচালক এবং অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কমিটি নবজাতকদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, ওয়ার্ডের পরিবেশ উপযুক্ত ছিল কি না এবং এসি বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না—সেসব বিষয় তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সেবায় গাফিলতি, ব্যবস্থাপনায় অবহেলা বা অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন।
২৩ দিন আগে
রফিক-উল হকের প্রতি বিএনপির শেষ শ্রদ্ধা
বিশিষ্ট আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে শনিবার শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি।
২০৬৪ দিন আগে
ব্যারিস্টার রফিকের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীকে হারাল: রাষ্ট্রপতি
দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ও আদ-দ্বীন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে শনিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
২০৬৪ দিন আগে