ডেঙ্গু
সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, দুই দিনে শনাক্ত ৩ রোগী
সিলেটে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। চলতি বছরে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে গত দুই দিনে নতুন করে তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শুক্রবার (১২ জুন) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা তিনজন হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও সেসব তথ্য সরকারি হিসাবে আসছে না বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গত ৯ জুন থেকে ডেঙ্গু নিধনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিসিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নাগরিক অসচেতনতা এবং মশা নিধনে গাফিলতির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, এখনই যদি সচেতনতা সৃষ্টি করা না যায়, তাহলে ডেঙ্গু শীতকালেও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা—এসব অভ্যাসে এখনই মনোযোগ না দিলে সামনে শঙ্কা আরও বাড়বে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রশিদ মুনির জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। এতে ডেঙ্গু রোগীর জন্য ২০টি শয্যা রয়েছে।
৭ দিন আগে
ডেঙ্গুর টিকাদান কর্মসূচি নিলে স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রবিবার (৭ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ড. মিলন হলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক একটি জাতীয় ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কার্যক্রমের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন। তিনি বলেন, যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেটের প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেঙ্গুর বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। গ্যারেজে গাড়ি ধোয়ার পর জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত ক্যান, ছোট গর্ত কিংবা বড় ড্রেন ও খালে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি সবখানেই লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
১২ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এ অভিযানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
তারা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। জমে থাকা এই স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আজ (শনিবার) থেকেই দেশজুড়ে মাইকিংসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করছে। আমরা সবার কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।
জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি অবহেলা দেখা যায়, তবে আমরা কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগামীকাল (রবিবার) থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী দুই মাস আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমণ্ডি সোসাইটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন।
১৩ দিন আগে
বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। রোগীকে শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কতটি শয্যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কী পরিমাণ স্যালাইন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তরলজাতীয় চিকিৎসা উপকরণ মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কত সংগ্রহ করা হবে, তার বিস্তারিত তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহার হলেও এটি এখনো সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত নয়। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে না। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সিটি করপোরেশনগুলোকে পরিত্যক্ত শৌচাগার, গ্যারেজ ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিজেদের থেকে করবে না তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। করোনার সময়ের মতো সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল মালিক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু রোগীর সেবা কার্যক্রম তদারকিতে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে হাসপাতালগুলো ঘোষিত সুবিধা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা সিটি উত্তর, ঢাকা সিটি দক্ষিণ এবং সকল বিভাগীয় শহর, সকল জেলা শহরে একযোগে আমরা ব্যানার নিয়ে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি করব। টিভি ও পত্রিকায়ও আমরা বিজ্ঞপ্তি দিতে যাচ্ছি। মাইকিং করব পুরো শহরে।
তিনি আরও বলেন, গানের সৃষ্টি করা হচ্ছে ঢাকার দুটা সিটি করপোরেশনে। গানের তালে তালে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ডেঙ্গু সচেতনতা সৃষ্টি করব। কমিউনিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে, উঠান বৈঠক করে আমাদের সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জনসচেতনতা সৃষ্টি করবেন। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই, সামাজিক আন্দোলনও করতে হবে।
আগামী শনিবার থেকে তিন মাস ব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
১৭ দিন আগে
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু দুয়েকজন করে ডেঙ্গুর রোগী পাওয়া যাচ্ছে এবং এই সময়ে ডেঙ্গু হয়, সেজন্য আমরা কালক্ষেপণ করতে চাই না। আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও ফিল্ড হাসপাতাল করা হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা পরিকল্পনাসহ বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দিবে সোসাইটি অব মেডিসিন। এতে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থাও সহায়তা করছে। কাল থেকেই প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হচ্ছে। সারা দেশে ঢাকার বাইরে ৭টি বিভাগে এবং জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রিএজেন্ট, টেস্টিং কীটস এবং ফ্লুইড স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ কিছু সংগ্রহে আছে। চাহিদা অনুযায়ী আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব উপকরণ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ডেঙ্গুর মূল উৎপত্তি নিয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দুমাস আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। আগামীকাল আবার সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসব।
আজকের সভায় ডেঙ্গুবিষয়ক একটি অ্যাপ চালু করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয় এবং ডেঙ্গুবিষয়ক গবেষণা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হালিমুর রশীদ, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এএইচএম মইনুল আহসান ও সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট সক্ষম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে প্রাপ্ত যক্ষ্মা পরীক্ষার কীট এবং শিশুদের জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ৬ লাখ ‘জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ’ এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মার (টিবি) ওষুধ হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লখ করে বলেন, নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এর ফলে কিছু কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ভ্যাকসিনসহ মানবসম্পদে কোনো কিছুরই সংকট নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। কাজেই শিগগিরই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন জোরদারে কাজ করছে।
তিনি ভবিষ্যতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে কিছু পদক্ষেপের কথা জানান। সেগুলো হচ্ছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ডিজিটাল এক্স-রে প্রবর্তন, নতুন প্রজন্মের জিন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার ও শিশুবান্ধব ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আশ্বাস দেন, বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৫০ দিন আগে
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকি অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (রবিবার) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলিগলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৬৮ দিন আগে
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ জনগণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগে থেকেই সকল প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আহ্বান দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) দেশবাসীর উদ্দেশে এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ জনগণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমরা সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এডিস মশার কামড় থেকে মানুষ ডেঙ্গু কিংবা চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। সুতরাং, ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগে থেকেই সকল প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই সময়টিতে সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকলেও জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। যেকোনো সময়ই মানুষের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায়। তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশা জন্মাতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পঁচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সুতরাং, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যাক্ত টায়ার, ডোবা, বাড়ি বা বাসার ছাদে পানি জমতে দেবেন না। পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা জরুরি। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বাড়ি বা বাসার ভেতর-বাহির পরিষ্কার রাখুন।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্ষা মৌসুমের আগে থেকেই সরকার আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে পরচ্ছিন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আমার আহ্বান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শনিবার আপনারা যার যার এলাকার নিজ নিজ বসতবাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করুন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললে, আসন্ন দিনে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো প্রাণঘাতী জ্বর থেকে জনগণ নিজেদের রক্ষা করতে সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূলনীতি হচ্ছে—প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর, অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। অতএব, কোথাও ময়লা পানি জমে থাকতে দেবেন না। নিজের বাসাবাড়ি এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন।
এডিস কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করুন; নিজেদের রক্ষা করুন, অপরকেও রক্ষা করুন।
১০০ দিন আগে
সিলেটে মশার উপদ্রব, নগরবাসীকে ‘পরিচ্ছন্ন’ থাকতে বলছে কর্তৃপক্ষ
সিলেটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। ঘরের ভেতরেও মিলছে না স্বস্তি। মশা কমাতে নগর কর্তৃপক্ষ বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রভাব নেই। ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছড়ানো ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে নগরবাসীর দাবি, মশার কামড়ে নগরজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু-আতঙ্ক। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলার্জি-জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। অপরদিকে, আর্থিক সঙ্কটের কারণে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিতে পারছে না বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ‘নগরবাসী সচেতন হলে ও নগরকে আবর্জনামুক্ত রাখতে পারলে বছরে এক-দুইবার অভিযানই যথেষ্ট।’
চলতি অর্থবছরে মশা নিধনে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। গত অর্থবছরেও সমপরিমাণ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। এত ব্যয়ের পরও সেই একই অবস্থা। মশার কামড় সহ্য করা নগরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
মশার উপদ্রব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নগরজুড়ে ডেঙ্গুর আতঙ্কও বাড়ছে। সিলেটে প্রতি দিনই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। থেমে নেই মৃত্যুও; চলতি বছরে সিলেটে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য সিসিকের দাবি, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে নগরীর বাসিন্দাদের সংখ্যা কম। বেশিরভাগ রোগীই বিভিন্ন উপজেলার।
জানা গেছে, মশক নিধনে সিসিকের স্থায়ী কোনো কর্মী নেই। প্রতি বছর দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কিছু সংখ্যক কর্মীকে দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করানো হয়।
সিসিক জানায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মশা দমনে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ৪ হাজার লিটার লার্ভিসাইড (টেমেপস ৫০ ইসি) এবং ২৫ হাজার লিটার এডাল্টিসাইড (ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি) কেনা হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সমপরিমাণ ওষুধ কিনেছিল কর্তৃপক্ষ।
বছরে কোটি কোটি টাকার ওষুধ ক্রয় করলেও সে তুলনায় সেবা মিলছে না। যদিও সিসিকের দাবি, ৩০-৪০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন, কিন্তু বাস্তবে এসব কর্মীদের নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে দেখা যায় বছরে মাত্র এক-দুইবার।
নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে বসা কলেজছাত্র সুমন শাওন জানান, বিকেল বেলাও বন্ধুদের সঙ্গে বসে গল্প করা যায় না। মশা এমনভাবে কামড়ায় যে দাঁড়িয়ে থাকাও দায় হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘আধা ঘণ্টাও হয়নি বন্ধুদের সঙ্গে শহিদ মিনারে এসেছি, কিন্তু মশার তাণ্ডবে না পারছি দাঁড়িয়ে থাকতে, না পারছি বসে গল্প করতে।’ কিছুক্ষণ পর একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই বন্ধুদের নিয়ে ওই স্থান ত্যাগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যে হারে মশার উপদ্রব বাড়ছে, খুব দ্রুত ড্রেন, নালায় সিসিকের কীটনাশক ব্যবহার করা জরুরি।’
নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অপু বলেন, ‘এমনিতেই চারদিকে জ্বর-সর্দি ছড়িয়ে পড়ছে। কোনটা ডেঙ্গু আর কোনটা সাধারণ জ্বর, তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে মশার কারণে সাধারণ জ্বর হলেও অনেকে ডেঙ্গুর আশঙ্কায় আতঙ্কিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মশার কামড়ে শরীরের হাত-পায়ের বিভিন্ন স্থানে এলার্জি-জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে ড্রেন, খোলা জায়গা ও বাসার আঙিনায় ধোঁয়া স্প্রে করে যান। এতে সাময়িকভাবে মশার আক্রমণ থেকে কিছুটা রেহাই মিলেলেও স্থায়ী কোনো সুফল মিলছে না।’
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীতে মশা নিধনের জন্য প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৪৫ জন মশক নিধনকর্মী ও ৭ জন সুপারভাইজার দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন, যা যথেষ্ট নয়। ওয়ার্ডভিত্তিক কমপক্ষে ৪-৫ জন কর্মী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দিতে হবে। এ হিসেবে সিলেট নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে দুইশতাধিক কর্মী প্রয়োজন। এসব কর্মীদের বেতন-ভাতা সিসিকের পক্ষে একা বহন করা সম্ভব নয়। তাই আর্থিক সংকটের কারণে স্থায়ীভাবে কোনো কর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ২০২১ সাল থেকে কর্মী নিয়োগের পরামর্শ দিয়ে আসছি, কিন্তু নানা জটিলতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। মশা নিধনের জন্য নগরীতে বছরে ২-৩ বার বিভিন্ন স্থানে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। নিয়ম হচ্ছে প্রতি মাসে কীটনাশক ব্যবহার করা। তাই বাস্তবিকভাবে স্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব হয় না। সীমিত সামর্থ্য থেকে সিসিক যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত নগরবাসী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন না করবে এবং সচেতন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নগরবাসী সচেতন হলে ও নগরকে আবর্জনামুক্ত রাখতে পারলে বছরে এক-দুইবার অভিযানই যথেষ্ট। অতিরিক্ত ওষুধ কিনে পরিকল্পনামতো কাজ করতে না পারলে এটি অপচয় হবে। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।’
১৯৮ দিন আগে
ডেঙ্গুতে মৌসুমের সর্বোচ্চ ১২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৪০
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৪০ জন রোগী।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড করা হয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগ ৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২ জন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ নারী ও ৬ পুরুষ রয়েছেন। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃত ৪ জনের বয়স ২৬–৩০ বছর, ৩ জনের ৩১–৩৫, ২ জনের ৩৬–৪০ বছরের মধ্যে।
ঢামেকের তৃতীয় তলার ছাদের পলেস্তারা খুলে রোগী আহত
এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪০ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১৫ জন, খুলনা বিভাগে ৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট বিভোগে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন।
সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫৬ জনসহ সারাদেশে মোট ২ হাজার ২১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪২০ জন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ ও ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
এতে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৪১ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ ও ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।
২৭১ দিন আগে