ফৌজদারি মামলা
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার, অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা
সংগঠনের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সংগঠনটির সুনাম ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেকের বিরুদ্ধে থানায় ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টোরির সাঙ্গু ব্যাঙ্কুয়েট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।
তিনি বলেন, আলোচিত কিছু ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আবার অধিকতর তদন্তের পর কয়েকজনের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক শাস্তি প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
যুবদল সভাপতি বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গঠন, মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এসব আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার ক্ষত অনেকেই এখনও বহন করছেন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সফল করেছেন। আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন। শত শত নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল সবসময় সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাবে না। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় বিগত সময়ে যুবদলের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ৭৮ পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান, আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের জন্য এফডিআর ও নগদ সহায়তা, নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সেতু নির্মাণ, কৃষকদের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, অসহায় ও রোগাক্রান্ত নেতাকর্মীদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা এবং গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক সহায়তায়ও ভূমিকা রেখে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার
গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর যুবদল দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে আবদুল মোনায়েম মুন্না।
তিনি বলেন, ‘এ সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক জরুরি সভা, ঢাকা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়।’
যুবদল সভাপতি বলেন, ‘সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অপপ্রচার ও পেশীশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে “সাংগঠনিক সপ্তাহ” ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন অংশ নেন।
‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ১০ বিভাগে ৩১টি টিম গঠন করা হয়। পরে বিভাগীয় টিমগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ৮ জুন নয়াপল্টনের হোটেল ভিক্টোরিতে টানা ১২ ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ জুন ঢাকা বিভাগের জেলা ও মহানগর যুবদলের সঙ্গে জরুরি সভা এবং ১২ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ জুন নবনির্বাচিত নেতারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মোনাজাত করেন।
অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সপ্তাহ ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ১৭ জুন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের উদ্যোগে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের উদ্যোগে মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে নাবিস্কো হয়ে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত আরেকটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পাওয়া গেলে যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে রক্তদান কর্মসূচি, অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল।
১ দিন আগে
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির বিধান বাতিল
সরকারি কোনো কর্মচারীকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করতে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির বিধান অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, সংবিধান হলো দেশের মূল আইন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতির বিধান করে একটি সুনির্দিষ্ট গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। এটা বৈষম্যমূলক। সংবিধানের ২৬. ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদেও পরিপন্থী (ভায়োলেশন)।
২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইনের গেজেট জারি হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এক গেজেটে বলা হয়- ১ অক্টোবর থেকে এ আইন কার্যকর হবে। আইনের ৪১(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে, তাহাকে গ্রেপ্তার করিতে হইলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।’
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন ৪১(১) ধারায় বিশেষ সুবিধা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর জনস্বার্থে এ রিট করা হয়। আদালতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী সরোয়ার আহাদ চৌধুরী, একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ও মাহবুবুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত কেন অবৈধ নয়, জানতে চান হাইকোর্ট
২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪১(১) ধারা কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ২৬(১) (২), ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। এই রুলের ওপর বুধবার চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। সে অনুযায়ী আজ রায় দেয়া হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, একই ধরনের সুযোগ দিয়ে ২০১৩ সালে দুদক আইনের ৩২(ক) ধারা প্রণয়ন করলে জনস্বার্থে রিট করলে আদালত আইনটিকে বৈষম্যমূলক বলে বাতিল ঘোষণা করেন। একই সুযোগ সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দেয়ার জন্য ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারি চাকরি আইনের ৪১(১) ধারা আদালতের ওই রায়ের এবং সংবিধানের পরিপন্থী।
আরও পড়ুন: একদিন পরেই এনামুল বাছিরের জামিন প্রত্যাহার করলেন হাইকোর্ট
ইসি নিয়োগে নাম প্রস্তাবকারীদের তথ্য না দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
১৪১৫ দিন আগে
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পূর্ব অনুমতি নেয়ার বিধান কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সাথে ফৌজদারি মামলার পলাতক আসামি হওয়ার পরও কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পোস্টিং দেয়া থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া এনডিসি এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পোস্টিং দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ রবিবার এ রুল জারি করেন।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক কাজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আদালত
গত ২৩ আগস্ট ফৌজদারি মামলার আসামি কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীনসহ চার জনের পোস্টিংয়ের বৈধতা নিয়ে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রুল জারি করেন হাইকোর্ট। নির্যাতনের শিকার কুড়িগ্রামের সাংবাদিক মো. আরিফুল ইসলাম রিগান এ রিট দায়ের করেন। রিটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
রিটকারীর আইনজীবীরা বলেন, ওই চার সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। সে মামলায় তারা এখনো জামিন নেননি। ফলে আইনের দৃষ্টিতে তারা এখনো পলাতক। অথচ তারা ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে বরখাস্ত না করে একজনকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে এবং অন্য তিন জনকে পোস্টিংয়ের চেষ্টা চলছে। যা আইনবহির্ভূত। তাই এক জনের পোস্টিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং মামলার তিন আসামিকে যেন পোস্টিং দেয়া না হয় সেজন্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী আইনে গোপনে একটি ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এই ধারা সংবিধান পরিপন্থী।’
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। আমলযোগ্য অপরাধে যে কারও বিরুদ্ধে মামলা হলেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। কিছুদিন আগে কয়েকজন ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা হওয়ার পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। অথচ প্রশাসনের এদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান বৈষম্যমূলক।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সচিবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল
তিনি বলেন, ‘আমি শুনানিতে বলেছি, মাননীয় আদালত পলাতক আসামি এখন বিচারকের ভূমিকায় পদায়ন করা হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব? হাইকোর্টের নির্দেশে কুড়িগ্রামের ঘটনায় সাবেক ডিসিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সে মামলায় ডিসি ছাড়াও তিনজন সহকারি কমিশনার পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার না করে বরং একজনকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
মামলা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মৌখিকভাবে বলেছে, তাদের গ্রেপ্তার করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। এজন্য রিটটি করা হয়। আদালত রুল দিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনের নামে জেলা প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। এরপর তাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দিয়ে জেলা প্রশাসনে নিয়ে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। পরে তার কাছে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মধ্যরাতেই কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনা গণমাধ্যমগুলো তুলে ধরলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় পরদিন ঘটনাস্থলে যান রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: কারাগারে চিকিৎসকের ২৯ শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের
পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যার ধারাবাহিকতায় সুলতানা পারভীনকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত, এনডিসি রাহাতুল ইসলামের তিনটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন, আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে নিম্নধাপে নামিয়ে দেয়া ও রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও রিন্টু বিকাশ চাকমার বিষয়টির এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে অন্যদের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে এনডিসি রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
১৭৪৭ দিন আগে
একাধিকবার ভোটার হওয়ায় খুলনায় ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
ভোটার তালিকায় একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খুলনা বিভাগে চিকিৎসকসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
২০৭৯ দিন আগে