লোডশেডিং
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগ-১-এর অভিযোগকেন্দ্রে কয়েকজন এসে হামলা চালিয়ে কাঁচের দরজা ভাঙচুর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১২টার পরপর এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তিনি ছাড়া অভিযোগকেন্দ্রে আর কেউ ছিলেন না। কর্মচারীরা ৩ জায়গায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ ঠিক করার কাজে গিয়েছিলেন। তখনই ৩/৪ জন লোক এসে দরজাটি ভেঙে চলে যান। খবর পেয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান, তারা ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানার উপপরিদর্শককে (এসপি) জানিয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাহিদার এক ভাগ বিদ্যুৎও সরবরাহ নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আজ দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগের-১ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট। তবে এর বিপরীতে ওই এলাকায় সরবরাহ ছিল ১১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ৩ ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎত মিলছে না ওই এলাকায়।
এই বিতরণ বিভাগের অধীন এলাকায় ৮টি ১১ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এর মধ্যে গড়ে ৫টি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
তীব্র গরমের মধ্যে ব্যাপক লোডশেডিং হওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কেউ কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৪ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের আঁচ: তাপপ্রবাহের মাঝে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ঝিনাইদহবাসী
বৈশাখের তীব্র তাপদাহে যখন প্রাণীকূলের জীবন হাঁসফাঁস করছে, তখন তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। আর এই বিপর্যয় নিয়ে দুঃসহ দিন পার করছেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) লাখো গ্রাহক।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রভাব প্রকট হয়ে উঠেছে জেলাজুড়ে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর মোট চাহিদা ১২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট ও ওজোপাডিকোর ৫৪ মেগাওয়াট। কিন্তু এই দুই দপ্তর মিলে পাচ্ছে মাত্র ৭৭ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে ৫২ মেগাওয়াট।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রকৌশলী নাজমুন নাহার জেরিন জানান, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বর্তমানে গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৬৪। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১২৬, বাণিজ্যিক ২৫ হাজার ৮৪৫, সেচ পাম্প ১০ হাজার ৮৯৫, হাসপাতাল ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৬৭০ এবং শিল্প ও অন্যান্য স্থাপনায় ৩ হাজার ৭২৮টি সংযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩৮ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফিডারে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ইহছানুল ইসলাম নামে পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। টানা বিদ্যুৎ বন্ধ না করে রেশনিং পদ্ধতি ও সমতার ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।
সাবেক অধ্যক্ষ সায়েদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের ঘাটতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় টানা এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না এই দুর্ভোগ যুদ্ধের কারণে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলার ছোটবড় কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় তারা এলাকাভেদে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বার্তা দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওজোপাডিকোর ঝিনাইদহ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দ্বীন মোহাম্মদ মহিম জানান, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫। ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ৫৪ থেকে ৬০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতেও চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম। ফলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে মানুষ।
৫ দিন আগে
খুলনায় ১০ টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানির সংকটে ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে খুলনাঞ্চলের শহর ও গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে ছোটবড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এনএলডিসি থেকে বিদ্যুতের চাহিদা পাচ্ছি না। আমাদের হাতে কোনো জ্বালানি নেই। জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা কেন্দ্রটি চালাতে প্রস্তুত আছি।
এদিকে, বিদেশি ঋণ সহায়তায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গেলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
চলমান সংকটকে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইরান- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো একটি আমদানিনির্ভর দেশে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮-৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়ে।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় ৯ টাকা। এ বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর না ঘটালে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের ছাদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি কৃষিখাতে সৌর সেচ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, বাড়িভিত্তিক সৌর প্যানেলে ভর্তুকি, দ্রুত সৌর পার্ক অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকেন্দ্রীকরণের মতো পদক্ষেপ।
গৌরাঙ্গ নন্দী বলেছেন, সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাই তেলের জালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর শক্তি নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর দাবি জানান তিনি।
৮ দিন আগে
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
হঠাৎ করেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সিলেট। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এর মধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের মধ্যে দিনব্যাপী ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট জেলায় পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ।
যদিও পিডিবির এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মেলেনি। সেই হিসাবে লোডশেডিং হয়েছে কম হলেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু পিডিবির হিসাব বলছে ২৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের কথা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারা দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে আনা হয় পরিবর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে। এতকিছুর পরেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পরপর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন আশার বাণী শুনাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে গরমে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই আলোকে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে লোডশেডিং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
সিলেটের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছেনা উৎপাদন।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে রাত-দিন সমানতালে চলে লোডশেডিং।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলো পিডিবির অধীনে থাকায় অনেকটা রুটিন করে লোডশেডিং করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। গত রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের লোকজন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাকারিয়া তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে, এক ঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি বিপণি বিতানের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকালে খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারা দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
৯ দিন আগে
খুলনায় অব্যাহত লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন
খুলনায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষ। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। এর মাঝে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনার বাসিন্দারা জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, ‘দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং চলছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে শিশুরা খুব কষ্টে আছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনউজ্জামান জানান, ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় খুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৫৩ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫৫০ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং হয় ১০৩ মেগাওয়াট।
এর আগে, ১৫ এপ্রিল দুপুর ১টায় চাহিদা ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৫৭২ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয় ১৭৮ মেগাওয়াট। একই দিন রাত ৯টায় চাহিদা ছিল ৬৮৬ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫৪২ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং হয় ১৪৪ মেগাওয়াট।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তীব্র গরমের এই সময়ে লোডশেডিং কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
১০ দিন আগে
ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা
গত দুইদিন ধরে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ফলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষজন। এতে করে বিদ্যুৎ নির্ভর সব কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন। এছাড়া শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিংয়ের হার আরও বেশি।
এদিকে খুলনায় দিনে রাতে সমান তালে চলছে লোডশেডিং। এছাড়া চরম বিপাকে খুলনা ও বরিশাল এবং ফরিদপুর এলাকার পাঁচ জেলার মানুষ।
আরও পড়ুন: বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ, দিনাজপুরে তীব্র লোডশেডিং
খুলনার ১০ জেলা, বরিশালের ৩ জেলা ও ফরিদপুরের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)।
সংস্থাটির খুলনার বয়রার প্রধান কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২১ জেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ১৪ লাখ ২৮ হাজার। শুধুমাত্র খুলনায় আছে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার গ্রাহক।
২১ জেলায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় চাহিদা ছিল ৬৫৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ৫৬০ মেগাওয়াট।
এদিকে রাতে ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। লোডশেডিং ছিল ১০০ মেগাওয়াটের বেশি।
এছাড়া খুলনাতে ৪৫ মেগাওয়াট, বরিশালে ১১ মেগাওয়াট, গোপালগঞ্জে ৫ মেগাওয়াট, নড়াইলে ২ মেগাওয়াট, মাগুরায় ৩ মেগাওয়াট, সাতক্ষীরায় ২ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ায় ৬ মেগাওয়াট, চুয়াডাঙ্গায় ৫ মেগাওয়াট, ফরিদপুরে ৬ মেগাওয়াট, রাজবাড়িতে ৪ মেগাওয়াট, মাদারীপুরে ৪ মেগাওয়াট, শরীয়তপুরে ২ মেগাওয়াট ও ঝালকাঠিতে ৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।
নগরীর মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা কলেজছাত্র ইমন শেখ বলেন, খুলনায় আবার লোডশেডিং শুরু হয়েছে। লোডশেডিংয়ের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক দিন মোমবাতি কেনা লাগত না, এখন আবার কিনতে হচ্ছে।
দাকোপ উপজেলার গুনারি গ্রামের সাব্বির হেসেন বলেন, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমেও ফ্যান চালানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ যাওয়ার পর এক ঘণ্টার মধ্যে আর আসে না।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, লোডশেডিং হলে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কোল্ড স্টোরেজে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
এছাড়া লোডশেডিং চলাকালে জেনারেটর চালিয়ে রাখতে বাড়তি ব্যয় হয় বলে জানান ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক।
খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগ ৪ এর সহকারী প্রকৌশলী মামুন হক বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে। কিন্তু আমরা অপারগ।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওজোপাডিকোর এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। সে কারণে ঘাটতিপূরণে লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এটা শুধু খুলনা অঞ্চলে নয়, আরও অনেক জেলায় হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কম, সারাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং
৫৪১ দিন আগে
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ, দিনাজপুরে তীব্র লোডশেডিং
দিনাজপুরের ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট অচল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার কবে উৎপাদন ও সরবরাহ সম্ভব হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৬ মিনিট থেকে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি অচল হয়ে পড়ে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী (তত্ত্বাবধায়ক) আবু বকর সিদ্দিক জানান, কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি চলতি বছরের শুরু থেকেই নষ্ট। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি ওভার হোলিংয়ের কারণে বন্ধ রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ইউনিটটি চালু করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ১২
ওভার হোলিং থাকা ১ নম্বর ইউনিটটি দু-একদিনের মধ্যে চালু হতে পারে বলে জানান প্রধান প্রকৌশলী।
এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ জাতীয় গ্রিডে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে দিনাজপুর। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে দিনাজপুরবাসী। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন বিদ্যুৎনির্ভর কার্যক্রম। কৃষি ও শিল্প খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নেসকোর রংপুর অঞ্চলের ব্যবস্থাপক শাহজাহান জানান, সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ১৬ দিন পর ফের উৎপাদন শুরু রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে
৫৯৪ দিন আগে
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কম, সারাদেশে বাড়ছে লোডশেডিং
গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে কম থাকায় সারাদেশে লোডশেডিং বাড়ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকাল ৩টায় দেশে ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াটের চাহিদা ছিল কিন্তু লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৮৭৪ মেগাওয়াট।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির দাপ্তরিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকট: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় চাহিদা বেড়ে ১৫ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে কারণে লোডশেডিং বাড়বে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঢাকার অনেক এলাকার বাসিন্দাদের কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, দিনের শুরুতেই সকাল ১১টায় এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান, মোহাম্মদপুর, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছেন না বলে জানান বিপিডিবির কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সিলেট নগরবাসী
বিপিডিবি থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ৪ হাজার ১৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সামিট গ্রুপ তাদের এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারছে না। যে কারণে আমদানি করা সরবরাহ থেকে জাতীয় গ্রিড প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাচ্ছে না।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৪ হাজার এমএমসিএফডি গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২ হাজার ৬০৯ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে।
আরও পড়ুন: লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সিলেট, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা
৫৯৪ দিন আগে
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি-গ্রামে লোডশেডিংয়ের সরকারের নীতির সমালোচনা বিএনপির
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে ইউটিলিটি সার্ভিসসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে।
বুধবার (১৯ জুন) এক বিক্ষোভের বক্তব্যে তিনি তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামাঞ্চলে জনদুর্ভোগের জন্য সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সব জিনিসপত্রের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।’
তিনি বলেন, যারা ঈদুল আজহা উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন।
রিজভী আরও বলেন, ‘সরবরাহ কম থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ আইপিএস থেকে ব্যাকআপ বিদ্যুতও পান না। প্রতি দুই-তিন ঘণ্টা পর পর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।’
ঈদের সময় ঢাকায় গ্যাসের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। যার ফলে মানুষ রান্নাবান্না ঠিকমতো করতে না পারে।
রিজভী আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে কোরবানির পশুর মাংস নষ্ট হয়ে গেছে। ‘লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজ কাজ করছিল না, গ্যাস সংকটের কারণে চুলা জ্বালানো যাচ্ছিল না।’
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নেতারা
'তথাকথিত' উন্নয়নের নামে কিছু ব্যক্তিকে লুটপাটের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি দাবি করেন, একটি গোষ্ঠী সাধারণ গরিব মানুষের জমি ও সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলে থাকেন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় না দিতে, কিন্তু তার সরকার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বেনজীর পরিবার দেশের ভিতরে-বিদেশে কত টাকার মালিক হয়েছেন তা আমরা জানি না।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেল যোগাযোগ পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ
৬৭৬ দিন আগে
তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং
গ্যাস সংকটের জন্য ৪ হাজার ৭৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরে রয়েছে
সোমবার আগের দিনের তুলনায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম থাকলেও মঙ্গলবার দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা দেয়।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য অনুযায়ী, দিনের ব্যস্ত সময়ে বিকেল ৩টায় দেশে ২১০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়। সে সময় ১৬ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন: দেশে দেড় হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং, দুর্ভোগে মানুষ
যেকোনো সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ এবং তার চাহিদার মধ্যে পার্থক্য হলো লোডশেডিংয়ের পরিমাণ।
পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে চাহিদা ১৭,৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠবে এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ২,২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এনএলডিসির তথ্যে আরও দেখা যায়, দেশে অন-গ্রিড স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৭ হাজার ৫৭ মেগাওয়াট, তবে জ্বালানি ঘাটতি এবং প্ল্যান্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির কারণে এর প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বর্তমানে হিসাবের বাইরে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এনএলডিসির তথ্য উল্লেখ করে ইউএনবিকে বলেন, ‘গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রায় ৪ হাজার ৭৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।’
নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আরও ২ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।
স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ২ হাজার ৩১৭ এমএমসিএফডির চাহিদার বিপরীতে তারা প্রতিদিন ১ হাজার ২৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা এবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রধান শিকার কারণ অনেক অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং হয়।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) একজন কর্মকর্তার মতে, ‘গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এত ঘন ঘন হয়। যেকোনো বিপত্তি হলেই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ফিরে পেতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ঢাকা অঞ্চলে ৩৬০ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামে ১৬৫ মেগাওয়াট, খুলনায় ১৩২ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ১৮২ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ২৪৫ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ২৭৫ মেগাওয়াট, সিলেটে ৪৪ মেগাওয়াট এবং রংপুরে ১৩০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪৩ ডিগ্রি, লোডশেডিং রেকর্ড ৩২০০ মেগাওয়াট
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, লোডশেডিং ছাড়িয়েছে ১৮৬০ মেগাওয়াট
৭২৬ দিন আগে