লোডশেডিং
আবহাওয়া পরিবর্তন ও লোডশেডিংয়ে ঝিনাইদহের জনস্বাস্থ্যে প্রভাব, হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু
গরমের পাশাপাশি হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে ঝিনাইদহে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে জেলা শহরের দুইটি হাসপাতালে ২০০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে।
এদিকে, মাত্র ৪৬টি বেডের বিপরীতে একই সঙ্গে ১৯৭ শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং যা অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৪৬টি, কিন্তু সেখানে ১৯৭টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৮০ জন, ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত কারণে ৯৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে আরও ২০ জন শিশু।
অন্যদিকে, শহরের ২৫ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আরও ২১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। সদর হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও প্যাসেজে শয্যা পেতে শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
রাহেলা বেগম নামে এক শিশু রোগীর স্বজন জানান, তীব্র গরমের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা ছটফট করছে। এনসিইউ ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে ছোট ছোট শিশুদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মায়েরা।
৩ দিন আগে
লোডশেডিংয়ে নওগাঁর কারখানাগুলোতে কমছে উৎপাদন, ব্যাহত হচ্ছে সেচ
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে নওগাঁর কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় কমছে উৎপাদন। এছাড়া, শহরের বাইরের এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম।
লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর ফলে কারাখানার উৎপাদন কমছে, কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আবার ঘাটতি মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ৭০০-এর বেশি চালকল রয়েছে। এছাড়া জেলায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছোট-বড় অসংখ্য কারখানা রয়েছে।
নেসকোর আওতাধীন নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটিতে গতকাল (বুধবার) দুপুর ১২টা থেকে আজ (বৃহষ্পতিবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ডিজেল ব্যবহার করে মেশিন চালু রাখায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চালকল কারখানাটির মালিক দ্বীজেন ঘোষ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা পর আসে।
তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল দিয়ে মেশিন চালানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিজেল খরচ কমানোর জন্য কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না।
নওগাঁ বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশন) পল্লীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে তাদের কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা থাকলেও ডিজেলের খরচ কমাতে সবসময় জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
১২ দিন আগে
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং, লালমনিরহাটে তাপদাহ ও অনিদ্রায় বিপর্যস্ত জনজীবন
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র ঘুমহীনতায় ভুগছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ফলে সকালে ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুরেরা, যা তাদের ঠেলে দিচ্ছে চরম আর্থিক সংকটে।
পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, সকালের পর থেকেই শুরু হয় ঘন ঘন লোডশেডিং, যা চলে পরদিন ভোর পর্যন্ত। ভ্যাপসা গরম আর মশার উপদ্রবে সারা রাত ছটফট করে কাটাতে হয় শ্রমজীবীদের। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে সকালে ভারী কাজে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে তাদের জন্য।
উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। সকালে চোখ খোলাই যায় না, শরীর এত দুর্বল লাগে যে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোচালকদের ওপরও। সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় যানবাহনের ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না।
লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার মুমিনের গ্যারেজ সড়কের অটোচালক সাইদুর রহমান বলেন, রাতে কারেন্ট না থাকায় গাড়ি ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যায় না। অর্ধেক চার্জ নিয়ে রাস্তায় নেমে মাঝপথেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে দৈনন্দিন আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, সংসার চালানোই এখন দায়।
একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। লালমনিরহাট গোসলা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় কাস্টমারও দোকানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চায় না।
এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উত্তর বাংলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা জানান, রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ঠিকমতো ঘুম না হওয়ায় ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না। বর্তমানে ইয়ারচেঞ্জ পরীক্ষা চলায় এই বিদ্যুৎ সংকট তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুহুলী এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, সামনে তাদের নির্বাচনি পরীক্ষা, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ নেসকো (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণেই এই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বাড়লে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
চরম ভোগান্তিতে পড়া নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের আকুল দাবি, অন্তত রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে তাদের স্বাভাবিক ঘুম, পড়ালেখা ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হোক।
১৩ দিন আগে
রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী
চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড দেখালেও অন্যদিকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপিডিবি) দাবি, চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তবে উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছে।
দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ছোট শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্যেও চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন, এত বিদ্যুৎ যাচ্ছে কোথায়?
বিপিডিবির স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগে বেলা ১১টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬১ দশমিক ২ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯২ মেগাওয়াটে। এটিই ছিল দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে দুপুরে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২ হাজার ৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদা ছিল দুপুরে ১ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ৩২৮ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। ফলে সরকারি হিসাবে দুপুরে ১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ৫৯ দশমিক ১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে এ ঘাটতি প্রায় ৬৩ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে।
সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এসএস পাওয়ার বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসএস পাওয়ার বাঁশখালী দুপুরে ১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। মাতারবাড়ী কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে দুপুরে ২১৩ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২ কেন্দ্র দুটি সারা দিন বন্ধ ছিল। কেইপিজেড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। টেকনাফ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুপুরে ১০ দশমিক ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
মহানগরীর মেহেদীবাগ, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমের মাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিদ্যুতের সমস্যা।
মেহেদীবাগ আমিরবাগ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ কাজল বলেন, ‘সবসময় দেখি চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি। প্লান্টও তো কম নয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় দিনে তিন-চারবার বিদ্যুৎ যায়। গরমে যে কষ্ট পাচ্ছি, তা আর সহ্য হচ্ছে না।’
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার চিকিৎসক রুহুল কবির বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না, পড়াশোনা—সবই ব্যাহত হয়। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যায়, বলার মতো না।’
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক দোকানে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি কমে যাচ্ছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অফিসপ্রধান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অফিস স্থানান্তরের কারণে এখন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে না পারায় সময়মতো নিউজ ফুটেজ পাঠানো যাচ্ছে না। এমনকি লাইভ প্রগ্রাম সম্প্রচারেও বিঘ্ন ঘটছে।
বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবির সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে উৎপাদন বেশি হলেও এর বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। কোথাও কোথাও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পানির স্তর ছিল ১০১ দশমিক ৭৩ ফুট, যা সন্ধ্যায় সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৮ ফুটে দাঁড়ায়। রুল কার্ভ অনুযায়ী নির্ধারিত মান ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ ফুট। অর্থাৎ বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।
২২ দিন আগে
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুরের জনজীবন
তীব্র জ্বালানি সংকট ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সংকটে কৃষিতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ও ভুট্টাখেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক খেতে ধানের শীষে চিটা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীসহ রংপুর বিভাগের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব সংকটে। উৎপাদন না থাকলেও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও চলছে চরম অস্থিরতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও অটোভ্যানচালকরা। সারা দিন কাজ শেষে গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
রংপুর অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্প সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকছে। যে দু-তিন দিন তেল দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। অনেক পাম্পে দেখা দেখা গেছে, তেল দেওয়া শুরুর আগেই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যারা তেল পাচ্ছেন, তা-ও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অনেক পাম্পে গ্রাহক-মালিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হিমাগার মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আলুসহ পচনশীল পণ্য রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হিমাগার সচল রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমাগারগুলোতে রাখা কৃষকের হাজার হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকার বলছেন সারা দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তেল সংকটের কারণে বিদ্যুতের বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ ও ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কিছুটা হলেও এই অঞ্চলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অতি দ্রুত চলমান এই জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সবকিছুতেই এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানির বিকল্প পথ দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া। জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক প্রণয় কুমার বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সবকিছুতে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১১৩ দিন আগে
সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প
শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে।
এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।
কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।
ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।
১১৯ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের অভিযোগকেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত কয়েকজন বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগ-১-এর অভিযোগকেন্দ্রে কয়েকজন এসে হামলা চালিয়ে কাঁচের দরজা ভাঙচুর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভিযোগকেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মচারী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১২টার পরপর এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তিনি ছাড়া অভিযোগকেন্দ্রে আর কেউ ছিলেন না। কর্মচারীরা ৩ জায়গায় ট্রান্সফরমারের ফিউজ ঠিক করার কাজে গিয়েছিলেন। তখনই ৩/৪ জন লোক এসে দরজাটি ভেঙে চলে যান। খবর পেয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান, তারা ঘটনাটি মৌখিকভাবে থানার উপপরিদর্শককে (এসপি) জানিয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাহিদার এক ভাগ বিদ্যুৎও সরবরাহ নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আজ দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিতরণ বিভাগের-১ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট। তবে এর বিপরীতে ওই এলাকায় সরবরাহ ছিল ১১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার ৩ ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎত মিলছে না ওই এলাকায়।
এই বিতরণ বিভাগের অধীন এলাকায় ৮টি ১১ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। এর মধ্যে গড়ে ৫টি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।
তীব্র গরমের মধ্যে ব্যাপক লোডশেডিং হওয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কেউ কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১২৬ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের আঁচ: তাপপ্রবাহের মাঝে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ঝিনাইদহবাসী
বৈশাখের তীব্র তাপদাহে যখন প্রাণীকূলের জীবন হাঁসফাঁস করছে, তখন তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। আর এই বিপর্যয় নিয়ে দুঃসহ দিন পার করছেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) লাখো গ্রাহক।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রভাব প্রকট হয়ে উঠেছে জেলাজুড়ে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর মোট চাহিদা ১২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট ও ওজোপাডিকোর ৫৪ মেগাওয়াট। কিন্তু এই দুই দপ্তর মিলে পাচ্ছে মাত্র ৭৭ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে ৫২ মেগাওয়াট।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রকৌশলী নাজমুন নাহার জেরিন জানান, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বর্তমানে গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৬৪। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১২৬, বাণিজ্যিক ২৫ হাজার ৮৪৫, সেচ পাম্প ১০ হাজার ৮৯৫, হাসপাতাল ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৬৭০ এবং শিল্প ও অন্যান্য স্থাপনায় ৩ হাজার ৭২৮টি সংযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩৮ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফিডারে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ইহছানুল ইসলাম নামে পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। টানা বিদ্যুৎ বন্ধ না করে রেশনিং পদ্ধতি ও সমতার ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।
সাবেক অধ্যক্ষ সায়েদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের ঘাটতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় টানা এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না এই দুর্ভোগ যুদ্ধের কারণে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলার ছোটবড় কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় তারা এলাকাভেদে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বার্তা দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওজোপাডিকোর ঝিনাইদহ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দ্বীন মোহাম্মদ মহিম জানান, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫। ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ৫৪ থেকে ৬০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতেও চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম। ফলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে মানুষ।
১২৬ দিন আগে
খুলনায় ১০ টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানির সংকটে ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে খুলনাঞ্চলের শহর ও গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে ছোটবড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এনএলডিসি থেকে বিদ্যুতের চাহিদা পাচ্ছি না। আমাদের হাতে কোনো জ্বালানি নেই। জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা কেন্দ্রটি চালাতে প্রস্তুত আছি।
এদিকে, বিদেশি ঋণ সহায়তায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গেলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
চলমান সংকটকে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইরান- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো একটি আমদানিনির্ভর দেশে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮-৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়ে।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় ৯ টাকা। এ বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর না ঘটালে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের ছাদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি কৃষিখাতে সৌর সেচ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, বাড়িভিত্তিক সৌর প্যানেলে ভর্তুকি, দ্রুত সৌর পার্ক অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকেন্দ্রীকরণের মতো পদক্ষেপ।
গৌরাঙ্গ নন্দী বলেছেন, সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাই তেলের জালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর শক্তি নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর দাবি জানান তিনি।
১৩০ দিন আগে
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
হঠাৎ করেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সিলেট। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এর মধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের মধ্যে দিনব্যাপী ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট জেলায় পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ।
যদিও পিডিবির এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মেলেনি। সেই হিসাবে লোডশেডিং হয়েছে কম হলেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু পিডিবির হিসাব বলছে ২৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের কথা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারা দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে আনা হয় পরিবর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে। এতকিছুর পরেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পরপর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন আশার বাণী শুনাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে গরমে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই আলোকে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে লোডশেডিং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
সিলেটের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছেনা উৎপাদন।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে রাত-দিন সমানতালে চলে লোডশেডিং।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলো পিডিবির অধীনে থাকায় অনেকটা রুটিন করে লোডশেডিং করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। গত রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের লোকজন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাকারিয়া তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে, এক ঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি বিপণি বিতানের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকালে খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারা দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
১৩০ দিন আগে