মৃত্যুদণ্ড
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: অনিক, আকাশ খান ও চান্দি বাবু।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সীমান্ত। এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তারা সীমান্তকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে তার ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত তা কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা হাজী আলমও। ছেলের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১ দিন আগে
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যারে দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার অপরাধে জয় বিশ্বাস অনিক (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরকে (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বাসিন্দা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর সারপাড় এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার রবি ভক্তের ছেলে ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ওমর সরকার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা যোগসাজশে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
ওই রাতেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কেউ হত্যা করেছে—এমন সংবাদ তার বাবার কাছে পৌঁছান। পরে রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ির অদূরে (প্রায় ৮০ গজ) দাস বাড়ির উঠানে গিয়ে ওমর সরকারের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি ও জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধর জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় আসামিপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
৫ দিন আগে
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটিতে ১৪ বছর ধরে চলা সংঘাতে এসব অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর আজকের এ রায়ই বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা। আদালতের এই বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রায়ে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন।’
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের তদারকির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজিবকে কারাবন্দিদের পোশাক পরে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিচারক তার সাজা পড়ে শোনান। রায় শুনতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আদালত ভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
৭ দিন আগে
যুগান্তকারী ভোটে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল লেবানন
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে লেবানন। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি চালু করল দেশটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটের মাধ্যমে এই আইনটি বিলোপ করে দেশটি।
লেবাননের ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক এর বিরোধিতা করে।
পার্লামেন্টে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এ সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আহ্বান জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসছে, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড তার নিষ্ঠুরতা ও চূড়ান্ততার দিক থেকে অনন্য এবং এতে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত ও ভুলের ঝুঁকি থেকেই যায়।’
তবে কঠোর শ্রমের শাস্তি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, নতুন শাস্তির শর্তগুলো এখনও পরিষ্কার নয়।
লেবাননের আইনে আদালতের রায় ও বিধিবিধানে ‘কঠোর শ্রমের’ শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, সম্পদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাঁসা কারাগারগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই শাস্তিও খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।
লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে দেশটির ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় কিছু দণ্ড কমানো, এমনকি দণ্ডিত জঙ্গি ও মাদক কারবারিদের মুক্তিও দেওয়া হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আইনটির বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে চেয়েছিলেন, কম মেয়াদের কারাদণ্ড নয়।
ঐতিহাসিক এই ভোটের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু নিজস্ব বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডকে বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি অবশ্য ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য সেগুলো স্থগিত অথবা কমিয়ে দেওয়া হয়।
৭ দিন আগে
সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় আসামি জাকিরের মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলার আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ জজ আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।
মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিহত শিশুটির প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা হন।
পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী জানান, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। আদালত জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার এক মাস পর পুলিশ জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকেও মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
ঘটনার দুই দিন পর গত ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তারের পর জাকির প্রথমে পুলিশের কাছে ও পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠান জাকির। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। একা পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে এলাকায় শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখেন জাকির। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ ডোবার পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
এ ঘটনার পর ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
১২ দিন আগে
ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২) ও তার ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং বাবুল আকন্দ (৩৬)। তাদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া পলাতক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে ছিলেন।
এ ঘটনার পরের দিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় চান সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলি সেতু-সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। অন্যদিকে, আসামি চান সরদার আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার আগে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসমিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চারজন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখিত তিনজন আসামিসহ তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাবুল আকন্দের নাম সংযুক্ত করেন। এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২১ দিন আগে
খুলনায় রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনার বটিয়াঘাটায় রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুরশিদ আলম, আব্দুস সালাম ও খায়রুল শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় রেজাউলের ছোট ভাই তাদের ঠেকাতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম, মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও তার ভাই মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার এরশাদকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে খুরশিদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটা দিয়ে রেজাউল শেখের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২২ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
২৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় আলোচিত শিশু মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বড় মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনসহ কয়েকটি শিশু হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় আবুল হোসেন শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে মরিয়মকে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যান এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মরিয়ম ফিরে না আসায় অন্য শিশুরা গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ভুট্টাখেতে গিয়ে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার চলাকালে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় তার ধর্ষণের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।
মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বুধবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয় এবং আদালত ২০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।
২৯ দিন আগে
মাগুরায় শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরায় রাজিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে আজ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান শেখ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের কুমার নদের তীরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড় থেকে রাজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মিকিজ শেখ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মা ছবিরন নেছা জানান, রাজিয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি জমিতে রসুন দেখতে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পরে এই মামলার রায় হলো।
মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে কিশোরীর মা এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, রায়টি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বাবলু জানান, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
২৯ দিন আগে