মৃত্যুদণ্ড
আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, আট জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও রাজসাক্ষীকে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগকর্মী রনি ভূঁইয়া।
এ মামলায় সাবেক মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৮ আসামির মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীক্ যাবজ্জীবন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজুকে যাবজ্জীবন, সাবেক এসআই মালেককে মৃত্যুদণ্ড, এসআই আরাফাত উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, এএসআই কামরুল হাসানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, মামলার রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আট আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপনকে যাবজ্জীবন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদকে মৃত্যুদণ্ড, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে যাবজ্জীবন, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাসকে যাবজ্জীবন, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহাকে মৃত্যুদণ্ড ও যুবলীগের রনি ভূইয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। এর মধ্যে কনস্টেবল শেখ আবজালুল হক আদালতে দোষ স্বীকার করলে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এতে শহিদ হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৬ তারিখ ধানমন্ডিস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কার্যালয় অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়। একই দিনে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখ তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেন।
তদন্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এ ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৩ জনকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাঁদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ গঠন ও সূচনা বক্তব্য
গত বছরের (২০২৫) ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, কিন্তু এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও রাজসাক্ষীর জবানবন্দি
এ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহিদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
বিচার চলাকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল এসআই শেখ আবজালুল হকের রাজসাক্ষী হওয়া। গত বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দিলেও, তার দেওয়া তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি নিজের জানা সব তথ্যই প্রকাশ করেছেন। সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আরেক আসামি আরাফাত হোসেন।
যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণা
গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষের নিযুক্ত ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। গত ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও যুক্তিখণ্ডন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান
এ মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল এবং রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক।
বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
পলাতকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
১১ দিন আগে
ফেনীতে আলোচিত নাশিত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেনীতে চাঞ্চল্যকর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে (১০) অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিপাত (২০)।
এদিন বেলা ১১টার দিকে কারাগার থেকে তিন আসামিকে আদালতে আনা হয়। এজলাসে নেওয়ার সময় তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধাত্যপূর্ণ আচরণ করেন। রায় ঘোষণা শেষে আদালত সাজার রায় দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের অ্যাকাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত।
১৮ দিন আগে
মিয়ানমারভিত্তিক অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারভিত্তিক একটি পারিবারিক অপরাধ চক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চক্রটির বিরুদ্ধে ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
ওয়েনঝৌ সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানায়।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটির আদালত ওই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মিং গুওপিং ও মিং ঝেনঝেন, যারা প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া ঝৌ ওয়েইচ্যাং, উ হংমিং ও লুও জিয়ানঝাংওয়ের মতো চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এই শাস্তি পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর চক্রটির পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও গত নভেম্বরে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চাপ প্রয়োগ করলে ওই পারিবারিক চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে ‘স্ক্যাম পার্ক’ শিল্পভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেখানে পাচার হওয়া ও স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে সারা বিশ্বের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো হয়ে থাকে।
এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
১৮ দিন আগে
শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর এ রায় দেওয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. কামরুজ্জামান।
২০২৩ সালে সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নিবিড়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন নিহত শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে ছিল। স্থানীয় শিশুকানন নামের একটি বিদ্যালয়ের দি্বতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল নিবিড়। ওই দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করেন। তবে পুলিশকে জানানোয় পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ওই বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শিশুটির বাবা মনির খান বলেন, ‘আমার অবুঝ আদরের সন্তান নিবিড়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২১ বছরের সাজার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এখন আমার এবং পরিবারের একটাই দাবি, আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
৩৪ দিন আগে
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি
গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ নভেম্বর এই অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইবুনাল গঠনের করা হবে। এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ হবে জামিন ও আপসের অযোগ্য।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর বিষয়টি অস্বীকার করে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখে এবং এ কাজের ফলে ওই ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে কাজটি গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধে দায়ী ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আর গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
যদি কোনো ব্যক্তি গুমের স্বাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদের জন্যও সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে অধস্তনদের আদেশ, অনুমতি, সম্মতি, অনুমোদন বা প্ররোচনা দেন, কিংবা নিজেই অংশ নেন, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারের অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে অধস্তনরা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালেও সাজা পাবেন সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান করার ব্যর্থতার ফলে অধস্তনরা যদি এ ধরনের অপরাধ করে, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা যাবে।
৭৬ দিন আগে
কক্সবাজারে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মো. সোলেমান নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ ওসমান গনি এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মো. সোলেমান টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল এলাকার বাসিন্দা।রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে আদালত থেকে হাজতে নেওয়ার পথে সোলেমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরও পড়ুন: ডা. নিতাই হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
নিহত শিশুটি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার বাদী ও মেয়েটির বাবা জানান, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তার মেয়ে। পরে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া বাঁধ এলাকা তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ ডিসেম্বর মহেশখালী থানায় মামলা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন টিটু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নৃশংস খুনিকে দণ্ডিত করার ফলে অপরাধীরা আর এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না।
১৭৩ দিন আগে
ডা. নিতাই হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
রাজধানীর বনানীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত (নিতাই) হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।একই সঙ্গে চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. রেজাউল করিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— কামরুল, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, হাসান মিজি, সাঈদ ব্যাপারী ওরফে আবু সাঈদ। এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন— সাইদুল, প্যাদা মাসুম, আবুল কালাম ও ফয়সাল। তাদেরও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে রিকশাচালক আটক: ওসির কাছে ব্যাখ্যা তলব
এ ছাড়া রফিকুল ইসলাম নামে আরও এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর মহাখালী ডাক্তারের কোয়ার্টার এলাকায় নিজের বাসায় খুন হন ডা. নিতাই। সেদিন দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে নিতাইয়ের মা মঞ্জু দত্ত দ্বিতীয় তলায় চিৎকার শুনে ছেলের ঘরে গিয়ে ছেলের বুকে ও মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নিতাইয়ের মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ডা. আক্তার হোসেনসহ নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে আসেন এবং তাকে দ্রুত বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই নিহতের বাবা তড়িৎ কান্তি দত্ত বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ১০ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান। অভিযোপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চুরি করতে গিয়ে তারা ডা. নিতাই চন্দ্রকে হত্যা করেন।
মিন্টু, রফিকুল, পিচ্চি কালাম, সাইদুল, প্যাদা মাসুম ও ফয়সাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই বছরের ২২ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিপক্ষ থেকে পাঁচজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।
১৮৩ দিন আগে
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা, বাবাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ মেয়ে মীরা আক্তার আছমাকে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে আসামিদের অনুপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ নুরুল আমিন বিপ্লব এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন— করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া গ্রামের জহিরকোনা এলাকার নিহত মীরা আক্তার আছমার বাবা আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আঙ্গুর মিয়া, চাচা খুরশিদ মিয়া ও চাচাতো ভাই সাদেক মিয়া।
এই ঘটনায় অপর আসামি আছমার মা মোছা. নাজমুন্নাহারকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আঙ্গুর মিয়া, খুরশিদ মিয়া, সাদেক মিয়া ও নাজমুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করছিল।
আরও পড়ুন: যশোরে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর রাতে আনোয়ারুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে নুরুল ইসলামের পতিত জমিতে বাঁশঝাড়ের নিছে অপর আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার নিজ মেয়ে আছমাকে জবাই করে হত্যা করে। হত্যার পরে আসামিরা প্রতিপক্ষের নামে করিমগঞ্জ থানা একটি হত্যা মামলা করে।
তবে মামলার তদন্তে বের হয়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মামলার বাদীরাই তাদের মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে করিমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দত্ত বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ ৬ আগস্ট এই রায় দেন আদালত।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অনামিকা রেজা রোজি ও রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এপিপি মাজহারুল ইসলাম।
১৯৪ দিন আগে
যশোরে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরার শালিখার হরিশপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক আল আমিন হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। একই সঙ্গে অপর এক আসামিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৩ আগস্ট) বিকালে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক জয়ন্তী রাণী দাস এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) এসএম আব্দুর রাজ্জাক।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন— শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের ছেলে জুয়েল খান, একই এলাকার সেলিম হোসেনের ছেলে হারুন অর রশিদ এবং যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আলামিন।
দুই বছরের সাজা পাওয়া আসামি রাসেল মোল্যা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের সুলতান মোল্যার ছেলে। তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া বিল্লাল মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় হারুন অর রশিদ ও রাসেল মোল্যা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসামিদের মধ্যে হারুন কারাগারে আটক আছেন। জুয়েল কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে এসে কোর্ট পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান। তাছাড়া জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন আরেকিআসামি আলামিন। আর দুই বছরের সাজা পাওয়া রাসেল মোল্যাও কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মাগুরার শালিখার হরিশপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিন। তিনি ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকালে আল আমিন বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে ভাড়ায় চালানের উদ্দ্যেশে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় আল আমিনের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন দুপুরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আল আমিনের স্বজনরা জানতে পারেন, তার ইজিবাইক যশোর চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে বাঘারপাড়ার বুধোপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে আল আমিনের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় ১১ ডিসেম্বর নিহতের পিতা মোস্তাফিজুর রহমান বাঘারপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর আল আমিনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি জুয়েল, হারুন ও আলামিন এবং চোরাই ইজিবাইক ক্রয় করায় রাসেলকে আটক করে র্যাব। পরে ২০২২ সালের ১৫ মে ওই চারজনকে আসামি করে আদালতে আভিযোপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হরষিত রায়।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি জুয়েল, হারুন ও আলামিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি রাসেল মোল্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
১৯৬ দিন আগে
সিলেটে স্কুলছাত্র হত্যা: সাইফুলসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের বিশ্বনাথে চৈতন্নগর গ্রামে স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া (১৮) হত্যা মামলায় আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও ১৭ জন আসামিকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোট ৩২ জন আসামির মধ্যে একজন এখনো পলাতক।
বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এ রায় ঘোষণা করেন। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলায় মোট ৩২ জন আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম, নজরুল, সদরুল, সিরাজ, জামাল, শাহিন, আব্দুল জলিল ও আনোয়ার।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ইলিয়াছ, আব্দুন নুর, জয়নাল, আশিক, আছকির, ফরিদ ও আকবর।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ মে বিশ্বনাথ উপজেলার চৈতন্নগর গ্রামের নজির উদ্দিনের খেতের জমি থেকে জোর করে রাস্তায় মাটি তুলতে চান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম। এসময় তাকে বাধা দেন নজির উদ্দিন, চাচাতো ভাই মানিক মিয়া ও ভাতিজা ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া। এতে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাইফুল আলমের বন্দুকের গুলিতে ওইদিন সুমেল মিয়া নিহত হন। এ সময় সুমেলের বাবা ও চাচাসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ঘটনার পর সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২১ সালের ৩ মে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ওসি তদন্ত কর্মকর্তা রমা প্রসাদ চক্রবর্তী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। মামলার প্রায় চার বছর পর আজ (বুধবার) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
এর আগে, গত ১৩ জুলাই মামলাটি যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওইদিন আদালত ৩০ জন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার ৩২ জন আসামির মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি মামুনুর রশীদ পলাতক এবং প্রধান আসামি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম আটকের পর থেকে প্রায় পৌনে ৪ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।
২০১ দিন আগে