মৃত্যুদণ্ড
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন সচিব
সম্প্রতি সৌদি আরবে কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ঢাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
৯ ঘণ্টা আগে
সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবে সম্প্রতি বাংলাদেশি এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা এখনও বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি সরকারকে বাংলাদেশ চিঠি পাঠিয়েছে।
এর আগে সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ওই দুজন ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে তাদের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে থাকতে পারে এবং সে অনুযায়ী দেশটির আদালত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যা যা জানার প্রয়োজন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাব আসলে তিনি জানাতে পারবেন।
এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সৌদি আরবের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সে সফরের প্রস্তুতিও চলছে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সাংবাদিকেরা আবার জানতে চান, দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে না জানানোর কারণটি সরকার আলাদাভাবে জানতে চেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যা যা জানার দরকার, সবকিছুই আমরা জানতে চেয়েছি। এখন তাদের উত্তর আসুক। এরপর আবার জিজ্ঞেস করলে বলতে পারব।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১ দিন আগে
ফরিদপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে শিশুকে ধর্ষণ, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ (২৫) আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকালে আকিদুল শিশুটিকে রাস্তা পার করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পাশের বাঁশবাগানে নিয়ে যান। পরে সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছায়। শিক্ষকরা তার শারীরিক অবস্থা দেখে ও ঘটনার কথা শুনে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।
৩ দিন আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
১১ দিন আগে
ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মীকে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মী সায়মনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চোরাই মোবাইল ফোন কেনার দায়ে সুজন নামের আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। সেই সঙ্গে চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে দণ্ডিত সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি বেতন পেয়ে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে বের হন।
কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী সায়মনের পথ আটকান। তাদের এক ছোট ভাইকে সায়মন মেরেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তারা ভয়ভীতি দেখান এবং ‘কথা আছে’ বলে সায়মনকে সঙ্গে নিয়ে যান।
পরে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে দিয়ে তাকে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর তারা চাকু বের করে সায়মনকে ভয় দেখান এবং তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দিতে বলেন। সে সময় সায়মন টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তিনজন পালিয়ে যান।
সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
ইউসুফ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ঘটনায় ইকবাল ও মেহেদী জড়িত থাকার কথা জানান তিনি।
এছাড়া সায়মনের মোবাইল ফোনটি সুজনের কাছে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও জানান ইউসুফ।
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হত্যা এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল কেনার অপরাধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
১২ দিন আগে
প্রেমিকাকে হত্যা ও পোড়ানোর দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে হাছিনা বেগম সুমি নামের এক নারীকে হত্যা ও দেহ পোড়ানোর মামলার আসামি মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এ রায় দেন। এ সময় মামলার একমাত্র আসামি উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের মার্চে প্রেমের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমিকে কাপ্তাইয়ের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান মহিবুল্লাহ। এ সময় তিনি হাছিনার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। পরে আলামত নষ্ট ও দেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তা স্কুলের পরিত্যক্ত টয়লেটে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন।
পরবর্তীতে সুমির মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে র্যাব ও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও সার্বিক প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, আসামির স্বীকারোক্তি, সুরতহাল ও মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি দোষী সাব্যস্ত হন। দণ্ডবিধি ৩০২ ও ২০১ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
১২ দিন আগে
লালমনিরহাটে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে আতিকুল ইসলামেদিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকায় বসতঘর থেকে মিতু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দুই বছর আগে মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আতিকুল স্ত্রী মিতুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায় ঘোষণাকালে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়া জব্দ করা আলামত ধ্বংসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বাদীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
১২ দিন আগে
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চেয়ে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
এর আগে গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ইনুকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করায় সব মিলিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগে প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়।
রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে জানানো হয়। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়েও তাকে দণ্ডিত করা হয়। অপর একটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাজা দেওয়া হয়।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। এখন খালাস পাওয়া অভিযোগসহ প্রমাণিত অভিযোগে দেওয়া সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। আবেদনটি এখন আপিল বিভাগ বিবেচনা করবে।
ইনুর বিরুদ্ধে আট অভিযোগ
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ইনু নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দেন।
তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরি এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারের নেওয়া হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়। এ দুটি অভিযোগে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ মামলায় ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। সপ্তম অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এই দুই অভিযোগেই ইনুর বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়েছে।
অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেন ইনু। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
১৩ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে তার সৎবাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তকে সাজার পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ওই সৎবাবা ১৩ বছরের কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হয়।
তিনি আরও বলেন, এমন অপরাধ কেবল এই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া আদালতের দায়িত্ব।
৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ করেছেন উল্লেখ করে বিচারক বলেন, একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা বিচারকের দায়িত্ব। সেই হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো।
এদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী বা তার আইনি উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করতে জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তার মা ও সৎবাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকত এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। মায়ের অনুপস্থিতে সৎবাবা তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তোভোগির মা ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
১৯ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার (২৭) হত্যা মামলায় স্বামী ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই ঝর্ণা আক্তারকে তার স্বামী নির্যাতন করতেন। ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঝর্ণা আক্তার তার বাবার বাড়িতে রান্না করার সময় স্বামী ইসমাইলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইসমাইল তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা আক্তারকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা জাহেরা বেগম বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামি ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
২০ দিন আগে