মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২) ও তার ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং বাবুল আকন্দ (৩৬)। তাদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া পলাতক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে ছিলেন।
এ ঘটনার পরের দিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় চান সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলি সেতু-সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। অন্যদিকে, আসামি চান সরদার আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার আগে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসমিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চারজন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখিত তিনজন আসামিসহ তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাবুল আকন্দের নাম সংযুক্ত করেন। এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
১ দিন আগে
খুলনায় রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনার বটিয়াঘাটায় রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুরশিদ আলম, আব্দুস সালাম ও খায়রুল শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় রেজাউলের ছোট ভাই তাদের ঠেকাতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম, মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও তার ভাই মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার এরশাদকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে খুরশিদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটা দিয়ে রেজাউল শেখের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় আলোচিত শিশু মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বড় মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনসহ কয়েকটি শিশু হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় আবুল হোসেন শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে মরিয়মকে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যান এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মরিয়ম ফিরে না আসায় অন্য শিশুরা গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ভুট্টাখেতে গিয়ে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার চলাকালে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় তার ধর্ষণের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।
মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বুধবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয় এবং আদালত ২০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।
৯ দিন আগে
মাগুরায় শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরায় রাজিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে আজ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান শেখ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের কুমার নদের তীরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড় থেকে রাজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মিকিজ শেখ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মা ছবিরন নেছা জানান, রাজিয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি জমিতে রসুন দেখতে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পরে এই মামলার রায় হলো।
মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে কিশোরীর মা এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, রায়টি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বাবলু জানান, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
৯ দিন আগে
টাঙ্গাইলে শিশু অপহরণ ও হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
টাঙ্গাইলে ৯ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে সাব্বির মিয়া (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত সাব্বির মিয়া সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। এ সময় সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে সাব্বির শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহটি পাশের একটি ধানখেতের নালায় কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখেন তিনি।
এরপর তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমো আইডি থেকে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার একদিন পর ৮ সেপ্টম্বর সেই ধানখেতের নালা থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, বিচার শেষে সামিয়াকে হত্যার দায়ে আসামি সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। এছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।
পিপি আরও জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে মিন্টু হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভালুকার নারাঙ্গীর বাসিন্দা মো.মাসুদ মিয়া (৪১) ও মো. ফরিদ খলিফা (৪৮)।
এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফরিদ খলিফার ভাই আব্দুস ছামাদ (৬৮) ও ভাতিজা আব্দুল মতিন (৪৫); মো. মোশারফ হোসেন (৫৮) ও তার ভাই মো. মোখলেছুর রহমান (৫৩); মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮) ও তার ভাই তোফাজ্জল হোসেন (৪৮); মো. নাজমুল মিয়া (৪৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮) ও তার ভাই মো. আতিকুল আকন্দ (৩৯) এবং মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)। আদালতে সব আসামি উপস্থিত থাকলেও সিদ্দিক মিয়া পলাতক রয়েছেন।
বিশেষ দায়রা জজ আদালতের স্টোনোগ্রাফার হাফিজুর রহমান জানান, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকালে ভালুকার নারাঙ্গী এলাকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টুর ওপর তার প্রতিবেশীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত মিন্টুর স্ত্রী লতিফা খাতুন ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত, ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আইনজীবীদের তর্ক, শুনানী শেষে আদালতে বিচারক এ আদেশ দেন বলে জানান হাফিজুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এইচ এম খালেকুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।
১৪ দিন আগে
দুই আইএস সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির নাম মোহিয়েদ্দিন আবদুল্লাহি ও হোসেইন পালানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের আঞ্চলিক পরাজয়ের পর গড়ে ওঠা একটি আইএস সেলের সদস্য ছিলেন তারা। ওই সেলটি ইরানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ইরাক সীমান্তসংলগ্ন বামো পার্বত্য এলাকায় সেলটির আস্তানার সন্ধান পায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। পরে সেখানে পরিচালিত অভিযানে কয়েকজন জঙ্গি নিহত এবং অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) তিন সদস্যও নিহত হন। এ সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে ফাঁসির মাধ্যমে সেই দণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কোথায় কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ কোনো তথ্য জানায়নি।
১৫ দিন আগে
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে মামলা থেকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সকালে কড়া নিরপাত্তায় ৮ আসামিকে আদলতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।
সে রাতে যা ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে প্রবেশ করেন তার স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ সেখানে পৌঁছে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকাপয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যারা
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযোগপত্রে আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
১৫ দিন আগে
জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
জয়পুরহাটে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেশী আলম মন্ডলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলম মন্ডল জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পালশা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে কাপড় পরিবর্তন করছিল ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আলম। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পালিয়ে যান ধর্ষক। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই কিশোরীকে জয়পুরহাটের তৎকালীন আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানিতে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ (সোমবার) এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নন্দকিশোর আগরওয়ালা।
এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ আলী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
১৬ দিন আগে