খুন
নারায়ণগঞ্জে ছুরিকাঘাতে গৃহবধু খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবক নিহত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে আমেনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মেহেদী ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে খুনের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমেনা বেগম কেরাবো এলাকার বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। মেহেদী পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কেরাবো এলাকার মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ান নিজ বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। ওই বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ দেওয়া হয় মেহেদীকে। সেই থেকে আমেনাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন তিনি।
তারা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় আমেনা বেগমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আমেনা বেগম। এ সময় আমেনার কাছ থেকে ছুটে যেতে জোরাজুরি করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমেনার গলায় আঘাত করেন মেহেদী। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন তিনি।
এ সময় আমেনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে শুরু করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মেহেদী নিহত হন।
অপরদিকে আমেনা বেগমকে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে
খুলনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক খুন
খুলনার রূপসায় আব্দুল রাশেদ পিকুল (২৬) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাগমারা এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পিকুল রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আওয়ালের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কদমতলা বালুর মাঠে পিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
রূপসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সবুর বলেন, গতকাল রাতে পিকুলকে কয়েকজন ব্যক্তি গুলি করেন। এর মধ্যে দুইটি গুলি বুকে এবং একটি গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে স্থানীয়রা বের হয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়রা খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
হত্যার কারণ উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
বোনের সঙ্গে প্রেমের চেষ্টা করায় বন্ধুকে খুন করল কিশোর
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম শাওন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করেছে তার বন্ধু ও মেয়েটির ভাই। এ ঘটনায় জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— উপজেলার চানগাঁও চকপাড়া এলাকার আবুল কায়েস (১৪) এবং জাহাঙ্গীরপুর এলাকার মো. মাহফুজ রহমান ইমরান (১৬)।
নিহত শাওন কদমশ্রী ভূঁইয়াহাটি গ্রামের দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, শাওন ও মাহফুজ সহপাঠী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। মাহফুজের ছোট বোন একই বিদ্যালয়ে পড়ত। শাওন তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলে মাহফুজ ক্ষেপে যায়। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শাওন। পরদিন সকালে কদমশ্রী হাওরের একটি কৃষিজমি থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে মাহফুজকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজ জানায়, সে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাওনকে হত্যা করেছে।
মাহফুজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকালে সহযোগী কায়েসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা গামছা ও গ্লাভস উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
১৮ দিন আগে
যশোরে বিএনপি নেতা খুন: বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক বিজিবি
যশোর সদরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি তল্লাশি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করে সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে বিজিবি।
গতকাল (শনিবার) রাত ৮টার দিকে শংকরপুর এলাকার হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে ছিলেন। আলমগীর যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। এলাকায় জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন তিনি।
নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর আলমগীর একটি মোটরসাইকেলে চড়ে শহরের বটতলা থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। হুদা মেমোরিয়াল একাডেমির সামনে পৌঁছালে তাকে গুলি করা হয়। সংবাদ পেয়ে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই।
সীমান্তে নরজদারি বৃদ্ধির বিষয়ে আজ সকালে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আলমগীর হোসেন হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যেসব স্থানে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নেই, সীমান্তের সেসব স্থানে ব্যাপক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনার রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাগর শেখ (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে রূপসা সেতুর পূর্বপাশে জাপুসা এলাকার চৌরাস্তার পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সাগর শেখ গ্রীন বাংলা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফয়েক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাগর বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন তার গতিরোধ করে তাকে গুলি করতে থাকে। একটি গুলি তার মাথায় ও অপরটি হাঁটুতে লাগে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপসা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গৌতম জানান, গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ দাশ বলেন, রাতে জাপুসা এলাকায় ডিউটিতে ছিলাম। থানা থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি করেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুনিদের গ্রেপ্তারে আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
যশোরে যুবক খুন, পকেটে পাওয়া গেল ৬১ পিস ইয়াবা
যশোরে তানভীর (২২) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে শহরের বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের পেছনে ঘটে এ ঘটনা।
নিহত তানভীর শহরের শংকরপুর হাজারিগেট এলাকার মিন্টু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম রিপন জানান, তানভীর ক্যাম্পের পেছনের দিক থেকে দৌড়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে যান। পরে কয়েকজন নারী তাকে দেখতে পেয়ে রিকশায় তুলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে তাকে দেখতে যায়। সেখানে গিয়ে তল্লাশি করে তানভীরের পকেট থেকে ৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শংকরপুর বেলের মাঠ এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে পাঁচটি বোমা ও একটি চাকুসহ নাঈম ও সাজু নামে দুই যুবককে আটক করে। সে সময় তানভীর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আটক দুই যুবকের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলো তানভীরের ছিল। পালিয়ে তিনি বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পের পেছনে অবস্থান নিলে সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
৫১ দিন আগে
রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে ‘গলাকেটে হত্যা’
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃদ্ধ এই দম্পতিকে কেন এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া গ্রামে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুক্তিযোদ্ধা হলেন যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তার স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। যোগেশ চন্দ্র রায় ওই এলাকার রহিমাপুর নয়াহাট মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যোগেশ দম্পতির দুই ছেলে, তারা বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত। ফলে বাড়িতে একাই থাকতেন ওই দম্পতি। প্রতিদিনের মতো গতরাতেও তারা ঘুমাতে যান। এরপর আজ (রবিবার) সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশী দীপক নামের এক ব্যক্তি বাড়ির গেটের সামনে মই লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সুবর্ণা রায়কে রান্নাঘরে এবং যোগেশ চন্দ্র রায়কে খাবার ঘরে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
ঘটনাটি এলাকায় শোক ও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু সাইয়ুম তালুকদার বলেন, ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিনের সদস্যরা রয়েছেন। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
৫১ দিন আগে
খুলনায় ৪৮ ঘণ্টায় ৩ খুন, পুলিশের দাবি ‘টার্গেট কিলিং’
খুলনায় গত শুক্রবার রাত থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তিনজন খুন এবং একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছেন তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে দাবি উঠলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন তারা।
এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘টার্গেট কিলিং’ বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হন সোনাডাঙ্গা থানাধীন সবুজবাগ এলাকার মনোয়ার হোসেন টগর নামের এক যুবক। দুর্বৃত্তরা ওই রাতে টগরের বাড়ির দরজার কড়া নেড়ে তার সঙ্গে ৫ মিনিট ধরে কথোপকথনের একপর্যায়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে।
পরে বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের শনাক্ত করতে পারলেও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় টগরের বাবা জামাল হাওলাদার সাত আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও সবুজবাগ এলাকার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টগর স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারির সঙ্গে চলাফেরা করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী কার্যকালাপ থেকে দুরে থাকার জন্য তাকে বারবার বলা হলেও সে কর্ণপাত করেননি।
ঘটনার দিন রাতে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে সাতজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা সবাই টগরের পরিচিত বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ঘের ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, টগরের কাছে ওই সন্ত্রাসীরা টাকা পেত। সেই টাকা পরিশোধের জন্য সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ তাকে প্রায়ই চাপ দিত। সেই টাকা পরিশোধ না করায় টগরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম নিহত টগরের স্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, টগর আগে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ‘বি’ কোম্পানির সদস্য ছিলেন। পরে তিনি পলাশ-কালা লাভলুর গ্রুপে যোগ দেন। মাদক কারবারের টাকা নিয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্বৃত্তরা নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সেদিনই শেষ রাতের দিকে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামে খুন হন ভ্যানচালক আলামিন সিকদার।
ঘটনা প্রসঙ্গে থানার ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, স্ত্রী রিপা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আলামিন সিকদার। প্রথম স্বামী আসাদুলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার কারণে আলামিন রিপাকে বিয়ে করেন। আর এর জেরে ভোরে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় আলামিনকে।
নিহতের ভাই ফারুক সিকদার এ ঘটনায় আসাদুলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওসি জানান, আসাদুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, রবিবার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৮ টার দিকে নগরীর ২ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকার একটি সেলুনের সামনে অবস্থান নেওয়া যুবক সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। মোটরসাইকেলযোগে আসা সন্ত্রাসীদের মাথায় হেলমেট এবং মুখ ঢাকা ছিল। সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি গুলি সোহেলের পেটে বিদ্ধ হয়। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ প্রসঙ্গে খুলনা উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো: আবু তারেক বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আমরা বিভিন্নস্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাচ্ছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। রাতে শহরের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। আমাদের অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেএমপি পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার।’
একই রাতে নগরীর মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার খানাবাড়ির সামনে গলা কেটে হত্যা করা হয় ঘের ব্যবসায়ী আলামিনকে। ঘটনার ১২ ঘণ্টার বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায়ও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী বলেন, সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে নিহতের ভাই আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে আশপাশের সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনার রাতেই আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা
এদিকে গত কয়েকমাস ধরে খুন, রাহাজানিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব আ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।
তিনি বলেন, ‘গত বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পর অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী জেল থেকে বেরিয়ে গেছে। লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। তাদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার তাদেরকে কাউন্সিলের মাধ্যমে মনোবল ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের কার্যক্রম যেন দায়সারা। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশকেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
সার্বিক বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহম্মদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডগুলো টার্গেট কিলিং। পুলিশের একার পক্ষে এসব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময় খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু আদালতের মাধ্যমে তাদের আবারও জামিন হয়ে যায়।’
১৭৫ দিন আগে
বগুড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বশুর ও পুত্রবধূ খুন
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এক বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধ ও তার পুত্রবধূর গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা ওই দুজনকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বা কারা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতরা হলেন— দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামের বাসিন্দা মো. আফতাব হোসেন (৬৫) ও তর বড় ছেলের স্ত্রী রিভা (৩৫)।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। নিহত আফতাবের হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। হত্যার আগে তাকে বাঁধা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি।
২০১ দিন আগে
খুলনায় খুন-লাশ উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে, জনমনে আতঙ্ক
খুলনায় নদ-নদী থেকে একের পর এক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। অধিকাংশ লাশের হাতের টিস্যু পচে যাওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও পরিচয় শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ। ফলে এসব লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করতে হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত ৪৭ দিনে খুলনায় ১৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে নদী থেকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর অভিযানও চলছে। অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী, তাদের সহযোগী এবং কথিত কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধরা পড়লেও থামছে না হত্যার ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে খুলনার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
গত ৯ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রূপসা উপজেলার আঠারোবেকী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন নদীতে কচুরিপানার মধ্যে লাশটি ভেসে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে বটগাছ থেকে ট্রাকচালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
নৌ-পুলিশ রূপসার ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পাইকগাছা নৌ-ফাঁড়ির আওতায় পড়লেও এখনও পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গেলেও হাতের টিস্যু পচে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
তার আগে ৮ জুন দুপুরে শ্রীফলতলা গ্রামের দাউদ মার্কেটের পাশের কলাবাগান থেকে ভ্যানচালক রবিউল মোল্লার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেই দিন সকালেই রূপসা উপজেলার আইচগাতি উত্তরপাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন জান্নাত (২৩) শ্বাসরোধে খুন হন। রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
৪ জুন সকালে সদর থানার মতিয়াখালী স্লুইচগেট খালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে, ২ জুন দিবাগত রাতে ময়লাপোতা হরিজন কলোনিতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে সবুজ হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবক নিহত হন।
আরও পড়ুন: মাছের ঘেরে যুবকের গলাকাটা লাশ, পুলিশ হেফাজতে ২
সদর নৌ-পুলিশের ওসি বাবুল আক্তার জানান, ৪ জুন অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধারের পর প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এখন একজন এসে ওই লাশ তার আত্মীয়ের দাবি করায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ছাড়া, গত ১০ মে বিকালে খানজাহান আলী থানার ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ১১ মে রাতে হিরনের ঘাট এলাকা থেকে আরও এক অজ্ঞাতনামা (৪২) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে রূপসা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, রাত ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
৭ মে হরিণটানায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে জান্নাতি আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ২৩ মে ভোরে লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড মেইন রোডে মোশারফের বাড়ির পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত আরও এক এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, মৃত ব্যক্তির নাম নাঈম মোল্লা।
২৬ মে রাতে রূপসা উপজেলার মোছাব্বরপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে কালো রনি (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হন। একই রাতে সোনাডাঙ্গা ২২ তলা এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন গোলাম (২৫)। ১৭ মে দুপুরে মীরেরডাঙ্গা খেয়াঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ।
২৯ মে খালিশপুর থানাধীন ৬ নম্বর মাছ ঘাট এলাকা থেকে আরও একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মৃতের পরনে ছিল নীল রঙের গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট। পচে যাওয়া মুখ ও হাতের কারণে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনার আঠারো বেকী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
২৭ মে কয়রা নদীর চর থেকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে শিকলে বাঁধা অবস্থায় আব্দুল মজিদ সানার (৬০) লাশ উদ্ধার হয়। ২২ মে টুটপাড়া দারোগার বস্তির একতলা ভবন থেকে নিলু বেগম (৫৬) নামের এক নারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকাবাসীর ধারণা, লুটেরারাই তাকে হত্যা করেছে।
২৩ মে রূপসায় স্ত্রীর প্রেমের ঘটনায় প্রতিবেশী আবদার শেখকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেন স্বামী মনি শেখ। ওই ঘটনায় স্ত্রী তানজিলাও গুরুতর জখম হন। ৩১ মে কয়রায় পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইকে হত্যা করে বড় ভাই শহীদুল গাজী গ্রেপ্তার হন।
সার্বিক বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড সিপি) খোন্দকার হোসেন আহমদ বলেন, ‘খুলনায় প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিরাও গ্রেপ্তার হচ্ছে। শহরে টহল টিম, সিটিএসবি ও ডিবি সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সুধী সমাবেশও করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
২২২ দিন আগে