পেট্রোল পাম্প
সিলেটে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ধর্মঘট স্থগিত
সিলেটে সিএনজি, এলপিজি ও পেট্রোল পাম্পে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। হঠাৎ করে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের ঘোষণায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে পাম্পগুলো।
বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাম্প মালিকদের দাবিদাওয়া পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে, বুধবার রাত ১১টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সিলেটের পাম্প মালিকরা হঠাৎ করে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। এতে সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয় এবং পরিবহন খাতে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়। অনেক চালক ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই উদ্যোগ নেয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা। রাত দেড়টার দিকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী ও সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সঙ্গে পাম্প মালিক নেতাদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার এলাকায় অবস্থিত মেঘনা অয়েল ডিপোতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে।
বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বৈঠক শেষে ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৫ দিন আগে
নাটোরে জ্বালানি সংকট ঘিরে বিশৃঙ্খলা: পাম্প ব্যবস্থাপককে মারধর, মহাসড়ক অবরোধ, সাংবাদিক লাঞ্ছিত
জ্বালানি সংকট ঘিরে নাটোরে একাধিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপককে মারধর করে আহত করা হয়েছে, তেল না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একদল মোটরসাইকেল-চালক এবং পৃথক ঘটনায় পেট্রোল মজুদের ছবি তুলতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক সাংবাদিক।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতের বিভিন্ন সময় নাটোর শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
গতকাল (মঙ্গলবার) ৯টার দিকে নাটোর শহরের হাফরাস্তা এলাকায় অবস্থিত নাটোর পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে জারকিনে পেট্রোল না দেওয়ায় পাম্প ম্যানেজার সানু সাহাকে পিটিয়ে জখম করেছেন শাহীন নামে স্থানীয় এক যুবক। পরে জনতার ধাওয়ায় পালিয়ে যায় ওই যুবক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওই ঘটনার প্রায় একই সময়ে শহরতলীর মোকরামপুর এলাকায় রিভু পেট্রোল পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় নাটোর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন মোটরসাইকেল-চালকরা। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান ওসি মাহাবুর রহমান।
এছাড়া, গতকাল রাতেই লালপুর উপজেলার সাদিয়া পেট্রোল পাম্পে ড্রামে পেট্রোল মজুদের ছবি তুলতে গেলে ওমর ফারুক নামে এক স্থানীয় সাংবাদিককে মারধর করেছে দুর্বৃত্তরা। ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী।
৬ দিন আগে
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রমে নজরদারি জোরদার করতে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৮ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত ২৭ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, দেশের সকল পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) তাদের অধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১০ দিন আগে
জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতায় পাম্প বন্ধের শঙ্কা পাম্প মালিকদের
জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন রবিবার (২২ মার্চ) রাতে তাদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এ আশঙ্কার কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ, কারণ তারা অয়েল কোম্পনিগুলো থেকে প্রতিদিন যে তেল পাচ্ছে, তা দিয়ে বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এখন বস্তবতাটা এমন যে দেশে যে কোটি কোটি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী আছেন, তারা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত, বিরক্ত হয়ে পড়ছেন।
একইসঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলো তেল দেওয়ার নজেলম্যানরাও বিরক্ত। তারা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, গণ্ডগোল করতে করতে আর পেরে উঠছে না। আসলে এভাবে বিরামহীন ডিউটি করার অভ্যাসও তাদের নেই। সব মিলিয়ে অবস্থা এখন এমনিই হয়ে পড়েছে, যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো নিরাপত্তা এবং তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বন্ধ হেয়ে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
১৫ দিন আগে
সিলেটে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা পাম্প মালিকদের
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিমালার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি ও পাম্পগুলোতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে মঙ্গলবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে বিকেল থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল, সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসি হঠাৎ করে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। যেখানে গত বছর মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, ওই গড়ের ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ৩০ দিনে মাস ধরে এই গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্প মাসে ২০/২২ দিন তেল উত্তোলন করে। পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে কোটা বেঁধে দেওয়া হযেছে, ফলে তারা পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণ তেল দিতে পারছে। এতে ডিপো থেকে পাম্পে তেল আনতে পরিবহন ব্যয় একই রয়েছে, কিন্তু তেল কম আসছে।
সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় জানিয়ে সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
পাম্প মালিকদের মতে,‘ আমরা কোনো ধরনের মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
তাদের দাবি, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম। নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।
এদিন সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মী মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি মঙ্গলবার আধাবেলা ধর্মঘটের ডাক দেয়।
২৭ দিন আগে
সিলেটে পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত, আজ অর্ধদিবস ধর্মঘট
সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রাহকের ছুরিকাঘাতে মিঠু গোয়ালা নামে পাম্পটির এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে ইফতারের আগে ওই পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসেন এক গ্রাহক। সেখানে তেল না পেলে পাম্পটির কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তার। তখন তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ইফতার শেষে ওই গ্রাহক আবার পাম্পে এসে কর্মী মিঠুকে ছুরিকাঘাত করেন।
সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নগরীর এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বলেন, পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, সিলেট বিভাগে জ্বালানি তেল বিপণন খাতে বর্তমান সংকট নিরসন ও পাম্প সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সকল ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। ধর্মঘট আহ্বান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সোমবার বিকেলে নগরীর চৌকিদেখী এলাকায় উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামক পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের ম্যানেজারের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নেতারা বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশদ আজিম আদনান জানান, বিপিসির ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি তেল বিপণন নীতি সংশোধন করে সিলেট বিভাগে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করা হবে।
২৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ ৭ জনকে আটকের পর পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও ৩টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান ও পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাক্ষরিত এক প্রেসনোটে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
জেলা পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।
এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পাম্পের ৩ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তারা একই মালিকের আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ঘটনার দিন দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি ও জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে তারা আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিং করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা জানান, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপরাধ রয়েছেন। ফলে আইনের প্রয়োগ যেন সঠিক হয়।
হত্যার চেয়ে যদি ভাঙচুরের ঘটনা বড় করে দেখানো হয়, তবে সেটা দুঃখজনক ঘটনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার জেরে বাসে আগুন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ শহর। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাসে আগুন দেওয়াসহ সৃজনী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করে একদল ব্যক্তি।
শনিবার (৭ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের আরাপপুর এলাকায় ও ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের আবু দাউদকে আটক করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবকে হত্যা করার জেরে শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর আগে, সৃজনী এনজিওর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের কোষাধ্যক্ষ আলামিন শেখ জানান, গতকাল (শনিবার) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে আকস্মিক হামলা চালিয়ে পাম্পের মেশিন ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ঝিনাইদাহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে থাকা তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব জানিয়েছেন, আজ (রবিবার) জোহরের পর নিহত নিরবের জানাজার নামাজ শেষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা হবে। শহরে অব্যাহত ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শহরের বেপারীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নিরব খুন হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাত ৮টার দিকে জ্বালানি তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতা ফারদিন আহমেদ নিরবকে পিটিয়ে জখম করে পাম্পের কর্মচারীরা। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩০ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ শহরের সৃজনী পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাম্পকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা তাদের মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তারা ফিরে আসার সময় দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তাদের মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩০ দিন আগে
চলছে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট, বিপাকে রাজধানীবাসী
দশ দফা দাবিতে সারাদেশে চলছে আধাবেলা পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট, বন্ধ ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন, বিপাকে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা বাইক চালক জিয়া হোসেন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হলে দেখেন আশপাশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ।
নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়ে জিয়া বলেন, অনেকেই জানে না আজকে ধর্মঘট চলছে। বাইক ঢেলে ঢেলে নানা পাম্পে ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি।
রাইড শেয়ারের আরেক বাইক চালক মনসুর বলেন, "আমরা প্রতিদিন সকালে তেল নিয়ে কাজে বের হই। আজকে সকাল থেকে প্রতিটা পাম্প বন্ধ। বাইকে তেল না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে।"
প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার নজরুল জানান, পাম্পে তেল থাকলেও বিক্রি বন্ধ রেখেছে কর্মচারীরা। জ্বালানি না থাকায় সড়কে গাড়ির চাপও তুলনামূলক কম।
আরও পড়ুন: ১০ দাবিতে নাটোরে তেল ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে
সরেজমিনে রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মধুবাগ, শাহজাহানপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ।
রামপুরার হাজিপাড়া পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী আকবর বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। এসময় তেল উত্তোলন এবং বিপণন বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকা এই ধর্মঘটের মূল দাবি তেল বিক্রির কমিশন ন্যূনতম ৭ শতাংশ করা এবং সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল আগেরটাই বহাল রাখা।
পাম্প সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন হিসাবে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষণ ফি এবং নিবন্ধন প্রথা বাতিল, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিইআরসি, কলকারখানা পরিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, বিপণন কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ, অননুমোদিতভাবে ঘর বা খোলা স্থানে তেল বিক্রয় বন্ধ, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যুতে জটিলতা দূর করা এবং সব ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া যেখানে-সেখানে ট্যাংকলরি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা না করে ডিপো গেইটে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সব ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলে গঠিত এ ঐক্য পরিষদ।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সকালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বৈঠকের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ নেতারা।
৩১৭ দিন আগে