পেট্রোল পাম্প
সিলেটে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা পাম্প মালিকদের
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিমালার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি ও পাম্পগুলোতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে মঙ্গলবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে বিকেল থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল, সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসি হঠাৎ করে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। যেখানে গত বছর মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, ওই গড়ের ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ৩০ দিনে মাস ধরে এই গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্প মাসে ২০/২২ দিন তেল উত্তোলন করে। পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে কোটা বেঁধে দেওয়া হযেছে, ফলে তারা পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণ তেল দিতে পারছে। এতে ডিপো থেকে পাম্পে তেল আনতে পরিবহন ব্যয় একই রয়েছে, কিন্তু তেল কম আসছে।
সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় জানিয়ে সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
পাম্প মালিকদের মতে,‘ আমরা কোনো ধরনের মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
তাদের দাবি, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম। নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।
এদিন সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মী মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি মঙ্গলবার আধাবেলা ধর্মঘটের ডাক দেয়।
৭ দিন আগে
সিলেটে পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত, আজ অর্ধদিবস ধর্মঘট
সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রাহকের ছুরিকাঘাতে মিঠু গোয়ালা নামে পাম্পটির এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে ইফতারের আগে ওই পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসেন এক গ্রাহক। সেখানে তেল না পেলে পাম্পটির কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তার। তখন তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ইফতার শেষে ওই গ্রাহক আবার পাম্পে এসে কর্মী মিঠুকে ছুরিকাঘাত করেন।
সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নগরীর এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বলেন, পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, সিলেট বিভাগে জ্বালানি তেল বিপণন খাতে বর্তমান সংকট নিরসন ও পাম্প সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সকল ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। ধর্মঘট আহ্বান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সোমবার বিকেলে নগরীর চৌকিদেখী এলাকায় উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামক পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের ম্যানেজারের ওপর হামলা চালায়। ছুরিকাঘাতে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নেতারা বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশদ আজিম আদনান জানান, বিপিসির ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি তেল বিপণন নীতি সংশোধন করে সিলেট বিভাগে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করা হবে।
৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবনসহ ৭ জনকে আটকের পর পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও ৩টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান ও পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল সাক্ষরিত এক প্রেসনোটে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
জেলা পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব।
এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত পাম্পের ৩ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। নীরব হত্যার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তারা একই মালিকের আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। ঘটনার দিন দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি ও জে লাইন পরিবহনের একটি বাসে তারা আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিং করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা জানান, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে খারাপ। আমরাও চাই প্রকৃত অপরাধীর বিচার হোক।
তিনি বলেন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই নিরাপরাধ রয়েছেন। ফলে আইনের প্রয়োগ যেন সঠিক হয়।
হত্যার চেয়ে যদি ভাঙচুরের ঘটনা বড় করে দেখানো হয়, তবে সেটা দুঃখজনক ঘটনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার জেরে বাসে আগুন, পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর
ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল শনিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সহিংস হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ শহর। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাসে আগুন দেওয়াসহ সৃজনী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করে একদল ব্যক্তি।
শনিবার (৭ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের আরাপপুর এলাকায় ও ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারোইখালি গ্রামের নাসিম, আড়ূয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল ও কাস্টসাগরা গ্রামের আবু দাউদকে আটক করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবকে হত্যা করার জেরে শহরের আরাপপুর এলাকায় সৃজনী ফিলিং স্টেশনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। এর আগে, সৃজনী এনজিওর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের কোষাধ্যক্ষ আলামিন শেখ জানান, গতকাল (শনিবার) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে আকস্মিক হামলা চালিয়ে পাম্পের মেশিন ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন গুঁড়িয়ে দেয়।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এসব হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ঝিনাইদাহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে থাকা তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মীর রাকিব জানিয়েছেন, আজ (রবিবার) জোহরের পর নিহত নিরবের জানাজার নামাজ শেষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা হবে। শহরে অব্যাহত ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শহরের বেপারীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে নিরব খুন হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাত ৮টার দিকে জ্বালানি তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতা ফারদিন আহমেদ নিরবকে পিটিয়ে জখম করে পাম্পের কর্মচারীরা। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ শহরের সৃজনী পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাম্পকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা তাদের মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তারা ফিরে আসার সময় দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তাদের মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৯ দিন আগে
চলছে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট, বিপাকে রাজধানীবাসী
দশ দফা দাবিতে সারাদেশে চলছে আধাবেলা পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট, বন্ধ ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন, বিপাকে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা বাইক চালক জিয়া হোসেন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হলে দেখেন আশপাশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ।
নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়ে জিয়া বলেন, অনেকেই জানে না আজকে ধর্মঘট চলছে। বাইক ঢেলে ঢেলে নানা পাম্পে ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি।
রাইড শেয়ারের আরেক বাইক চালক মনসুর বলেন, "আমরা প্রতিদিন সকালে তেল নিয়ে কাজে বের হই। আজকে সকাল থেকে প্রতিটা পাম্প বন্ধ। বাইকে তেল না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে।"
প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার নজরুল জানান, পাম্পে তেল থাকলেও বিক্রি বন্ধ রেখেছে কর্মচারীরা। জ্বালানি না থাকায় সড়কে গাড়ির চাপও তুলনামূলক কম।
আরও পড়ুন: ১০ দাবিতে নাটোরে তেল ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে
সরেজমিনে রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মধুবাগ, শাহজাহানপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ।
রামপুরার হাজিপাড়া পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী আকবর বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। এসময় তেল উত্তোলন এবং বিপণন বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকা এই ধর্মঘটের মূল দাবি তেল বিক্রির কমিশন ন্যূনতম ৭ শতাংশ করা এবং সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল আগেরটাই বহাল রাখা।
পাম্প সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন হিসাবে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষণ ফি এবং নিবন্ধন প্রথা বাতিল, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিইআরসি, কলকারখানা পরিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, বিপণন কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ, অননুমোদিতভাবে ঘর বা খোলা স্থানে তেল বিক্রয় বন্ধ, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যুতে জটিলতা দূর করা এবং সব ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া যেখানে-সেখানে ট্যাংকলরি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা না করে ডিপো গেইটে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সব ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলে গঠিত এ ঐক্য পরিষদ।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সকালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বৈঠকের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ নেতারা।
২৯৬ দিন আগে
১০ দাবিতে নাটোরে তেল ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে
কমিশন বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স নবায়ন সহজ করাসহ ১০ দফা দাবিতে ৮ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু করেছেন নাটোরের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (২৫ মে) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় নেতা রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং তারা আশ্বাস দেওয়ার পরও সেগুলো পূরণ হয়নি।
এ কারণে আজ (রবিবার) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তেল বিক্রি, উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাছাড়া, দাবি না মানা হলে কর্মসূচি আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন রফিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে বাড়লেও মার্চে অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ শতাংশ করাসহ তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো— সওজ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল পুনর্বহাল করা, পাম্পের সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন বলে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষা ফিস ও নিবন্ধন প্রথা বাতিল করা, পেট্রোল পাম্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ, বিইআরসি, কলকারখানা পরিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণ প্রথা বাতিল, বিপণন কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স বাধা-বিপত্তি ছাড়াই ইস্যুকরা, সব ট্যাংকলরি জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করা এবং বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত ও অবৈধভাবে ঘরের মধ্যে, খোলা স্থানে যত্রতত্র মেশিন দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করা।
এর আগে, গত ১১ মে পরবর্তী ১২ দিনের মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ না হলে আজ (২৫ মে) থেকে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আট ঘণ্টা সারা দেশের সব পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেয় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদ।
এরই ধারাবাহিকতায় নাটোরে আজ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
২৯৭ দিন আগে
মৌলভীবাজারে মাস শেষের আগেই ফুরিয়ে যায় গ্যাস, ভোগান্তিতে গাড়িচালক-যাত্রীরা
মৌলভীবাজারে পেট্রোল পাম্পের জন্য নির্ধারিত গ্যাস বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রতিমাসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গাড়ি চালক ও যাত্রীদের।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের আওতাধীন ১১টি সিএনজি পাম্প রয়েছে। মৌলভীবাজার কার্যালয়ের আওতাধীন ৬টি, কুলাউড়ার আওতাধীন ২টি ও শ্রীমঙ্গলের আওতাধীন ৩টি রয়েছে।
প্রতি মাসের শেষের দিকে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের আওতাধীন ৪ থেকে ৫টি পাম্পের নির্ধারিত গ্যাস বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ থাকে। এ কারণে চালু পাম্পগুলোতে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
কুলাউড়ায় গর্নভেলি সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষারত এক সিএনজি অটোরকিশা চালক বলেন, রাত ৩টা কেউ রাত ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে সিরিয়াল ধরে গ্যাস নিতে হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকে। বন্ধের সময়টা কমিয়ে দিলে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রে ৫৫ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ
মৌলভীবাজার মেসার্স সাজ্জাদুর রহমান সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষারত গাড়ির চালক রফিক মিয়া জানান, সকাল থেকে পাম্প বন্ধ থাকার কারণে আমাদেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। পাম্প বন্ধের সময়টা কমানো হলে খুবই ভালো হয়। নিদিষ্ট পাম্পে গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবহন চালক এলপিজি ব্যবহার করছে। এলপিজির দাম একটু বেশি এতে বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন চালকরা।
মৌলভীবাজার জ্বালানি ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মৌলভীবাজারে সিএনজি ফিলিংস্টেশনগুলো গড়ে ওঠে। ওই সময় জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সঙ্গে প্রতিটি পাম্পের বরাদ্দের বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ থেকে তিন লাখ কিউবিক ফুট গ্যাস পায় ফিলিংস্টেশনগুলো। শুরুর দিকে সমস্যা না হলেও কয়েক বছর ধরে এর চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি আমিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য জালালাবাদ গ্যাসের কাছে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৈঠক ও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান মিলছে না।
জালালাবাদ গ্যাস আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয় মৌলভীবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীরা নিয়ম না মেনে সময়ের আগেই গ্যাস বিক্রি করে দেন। ফলে মাস শেষে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে জনসাধারনের ভোগান্তি কথা বিবেচনা করে গ্যাস কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন চালক ও জনগণ।
আরও পড়ুন: অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা
৭৩৫ দিন আগে
ঢাকায় অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প স্থাপনে নিয়ম মানা হয়নি
ঢাকা শহরের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি মানা হয়নি দুটি স্টেশনের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালাও।
পরিবহন ও পেট্রোলিয়াম খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে গ্রাহকদের সহজে গাড়ির জ্বালানি পেতে সমস্যা হচ্ছে।
তাদের মতে, মোটর গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও শহরে পেট্রোল পাম্পের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
পেট্রোলিয়াম খাতের প্রধান সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, সিটি করপোরেশন এলাকা, জেলা শহর ও অন্যান্য স্থানে নতুন পেট্রোল পাম্প স্থাপনের বিষয়ে সরকার ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি কিছু সংশোধনীসহ একটি গেজেট প্রকাশ করেছে।
সরকারি নীতি অনুযায়ী, উল্টো দিকের দু'টি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে ১ কিলোমিটার এবং একই দিকে ২ কিলোমিটারের দূরত্ব থাকা উচিত। সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরের বাইরে যেসব পেট্রোল পাম্প মূলত মহাসড়কের পাশে সেগুলোর ক্ষেত্রে দূরত্ব হতে হবে দ্বিগুণ।
কিন্তু ঢাকা শহরে পাম্প স্থাপনের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন দূরত্ব সঠিকভাবে বজায় রাখা হয়নি।আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ সোলার পাম্প, কৃষকের মনে স্বস্তি
বিপিসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ঢাকা শহরে পাম্পগুলো অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি।
কিন্তু এসবই নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আগেই করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন কোনো পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে না।
তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘আসলে জমির অতি মূল্যের কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ব্যক্তিগত জমিতে নতুন পেট্রোল পাম্প স্থাপনে মানুষের আগ্রহ নেই।’
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, জমি অন্য কাজে ব্যবহার বেশি লাভজনক হওয়ায় ব্যক্তি মালিকানায় পেট্রোল পাম্প ব্যবসা চালানো সত্যিই কঠিন।
অনেক পাম্প মালিক এখন তাদের রিফুয়েলিং ব্যবসা বন্ধ করে ভালো মুনাফার জন্য একই জমিতে আবাসিক বা বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় চার হাজার, ঢাকা জেলায় ৩০০টি এবং ঢাকা শহরে ৮০টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৫০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ৩০টি পাম্প রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের কাছাকাছি কয়েকটি স্থানে গুচ্ছ পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- মহাখালী, গাবতলী এবং সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী অন্যতম।
নাজমুল হক জানান, গত ২০ বছরে ১১টি পেট্রোল পাম্প মালিকরা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং জমিগুলো বহুতল মার্কেট, অ্যাপার্টমেন্ট বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর মহাখালীতে পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেনারেল এরশাদের আমলে নিরাপত্তাজনিত কারণে মহাখালী থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন স্থাপনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তিনি বলেন, নিকুঞ্জ এলাকায় শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) স্থাপিত একটি পাম্প রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ঢাকা জেলার অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে যেকোনো পেট্রোল পাম্প স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতি দেন এবং চূড়ান্ত অনুমতি আসে বিপিসির পক্ষ থেকে।
বিপিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে পূর্বানুমতি নেওয়ার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ ১৪টি পৃথক কর্তৃপক্ষ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মহাখালীতে পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণ: ঢামেক হাসপাতালে একজনের মৃত্যু
৭৪০ দিন আগে
রাজধানীর মহাখালীতে পেট্রোল পাম্পে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮
রাজধানীর মহাখালীর রয়েল ফিলিং স্টেশনে বুধবার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ৮ জন দগ্ধ হয়েছেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনাথ মিত্র স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
আহতরা হলেন- সালাউদ্দিন (৩৮), মোহাম্মদ মামুন (৩০), মাসুম (২৫), আমির হোসেন সুমন (৩২), মো. রানা (৩০), কামাল আবেদীন (৫০), জীবন (২১) ও প্রকৌশলী খায়ের গাজী (৪৪)।
রয়েল ফিলিং স্টেশনের পাশের বিএন ফিলিং স্টেশনের কর্মীরাও দগ্ধ হয়েছেন বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর মহাখালীতে পেট্রোল পাম্পে আগুন
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. তরিকুল ইসলাম জানান, আহতদের কেউই আশঙ্কামুক্ত নন।
রয়েল ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী কামরুল হাসান বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনে ৩ দিন ধরে গ্যাস লাইনের কাজ চলছিল। আমি জানতে পেরেছি যে আজ (বুধবার) পরীক্ষার সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে আমাদের ফিলিং স্টেশনের ৪ জনসহ মোট ৮ জন দগ্ধ হন।’
বুধবার রাত ৮টা ৮ মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের (মিডিয়া সেল) উপ-সহকারী পরিচালক শাহজাহান শিকদার জানান, বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের দু’টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: মহাখালীর আগুন নিয়ন্ত্রণে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২
মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন: ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩
৮৩২ দিন আগে