কৃষক
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় চাঁদপুরে কৃষককে ‘পিটিয়ে হত্যা’
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, জাকির তিন মেয়ে ও দুই ছেলেসহ পাঁচ সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ফাইম মিয়াজী (২৪), মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের রিফাত বেপারী ও রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনায় জাকির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হঠাৎ হামলা চালান। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান জাকির।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। টানা ১৩ দিন ঢামেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল (রবিবার) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজীর ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী মামলা করেছেন।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে।
বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তদের নামে নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ গেল কৃষকের
বান্দরবান জেলার লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা (৬০) নামের এক আদিবাসী বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ত্রিশডেবা ডলুঝিরি পাড়ায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ক্যচিং মং মার্মা বাচিং কারবারি পাড়ার বাসিন্দা বাচিং মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যচিং মং মার্মা নিজ ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে যান। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও ক্যচিং মং মার্মা বাড়িতে না ফিরলে স্বজনেরা খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে ক্যচিং মং মার্মাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ধানখেতে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ক্যচিং মং মার্মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে উচিংহ্লা মার্মা জানান, ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে গেলে আমার বাবা বন্যহাতির কবলে পড়েন। ওই হাতির পায়ের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, হাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা নিহতের ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
১২ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন আদিবাসী কৃষক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলার মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের শিবপুর পাঠকাঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের মৃত কোকো পাহানের ছেলে বীরেন পাহান (৩৫), মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জল পাহান (৩৮), ঝটু পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২৫), মৃত মাংরা উড়াও এর ছেলে সঞ্জু উড়াও (৪৫) এবং ঝটু পাহানের ছেলে বিপ্লব পাহান (২২)।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, ভোরে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করতে নূরপূর থেকে ব্যাটারী চালিত ভ্যানে চড়ে মহাদেবপুর হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ওই কৃষকরা। পথে ভ্যানটি মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের পাঠকাঠি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুত গতিতে আসা একটি ডাম্প ট্রাক তাদের চাপা দেয়। পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত অবস্থায় ৪ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় ফায়ার সার্ভিস ।
মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল কাসেম বলেন, ডাম্প ট্রাকটি মহাদেবপুর থেকে পত্নীতলার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইমরুল কায়েস বলেন, ফায়ার সার্ভিস দুই দফায় পাঁচ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছিল। তাদের মধ্যে চার জন আগেই মারা গেছেন। বাকি একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ডাম্প ট্রাকটি সড়কের পাশের একটি খালে ফেলে রেখে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সকাল ৭টার দিকে সৎকারের জন্য মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতক ডাম্প ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩৭ দিন আগে
নাটোরে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ
সারের দাবিতে নাটোরের নলডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সার না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলা মোড়ে কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে উপজেলা মোড়ে অবস্থিত সার ডিলার শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালের দোকানে গিয়ে সারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। সেখানে সার না থাকার খবর পেয়ে একপর্যায়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন তারা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখান থেকে ফিরে উপজেলা মোড়ে গিয়ে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় কৃষকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিশোয়ার হোসেনের অপসারণ দাবি করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সার প্রপ্তি নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।
শ্যাম সুন্দরের ব্যবস্থাপক বকুল দাস জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী সব সার তারা উত্তোলন করতে পারেননি। অনেক কৃষক চলতি রবি ও আসন্ন বোরো মৌসুমের একবারে সার সংগ্রহ করার কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী সকল সার কৃষক-পর্যায়ে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খান বলেন, ডিলার পয়েন্টে সার পৌঁছলেও কৃষকরা কেন পাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৯২ দিন আগে
ঝিনাইদহে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নায়েব আলী (৬২) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নায়েব আলী উপজেলার মালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার (২৮ মে) সকাল ১০টার দিকে নায়েব আলী বাড়ির পাশে বসে ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ইউনুছ আলী ও তার ছেলে আল-আমিন এসে তার ওপর হামলা চালায়।
তারা বাশের লাঠি দিয়ে তাকে উপর্যপুরি পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, নায়েব আলীর বোনের জমি কিনেছে প্রতিবেশি ইউনুছ আলী। ওই জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে এ বিরোধের জেরে নায়েব আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার খালিদ হাসান বলেন, “নায়েব আলী আগেই মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে লাঠির আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা গেছেন।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আসামিদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
২৮৫ দিন আগে
নড়াইলে কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
নড়াইলের লোহাগড়ায় খাজা মোল্যা (৪৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ মে) উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাজা মোল্যা ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গা পার ঈশাখালি গ্রামের লবা মোল্যার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে কৃষক খাজা মোল্যা নিজ বাড়ি থেকে চা পানের উদ্দেশে কুমারডাঙ্গা বাজারে যান। সেখানে দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্রসহ খাজা মোল্যাকে ঘিরে ফেলে।
আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তের হাতে ঢাবি শিক্ষার্থী খুন: ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিলে বহিরাগত!
পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে জখম করে। উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
২৯৯ দিন আগে
ভোক্তার খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থও দেখতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
শহুরে মানুষের খাদ্যের জোগান ও দাম নাগালে রাখতে কৃষকের দিকটা না দেখেই আমদানির মাধ্যমে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় জোর দিতে গিয়ে কৃষকের দিকটা সেভাবে দেখা হয় না।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের খাদ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে হবে, যাতে ভোক্তা এবং কৃষক দুই পক্ষই উপকৃত হন। ভোক্তার খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থও দেখতে হবে।’
সোমবার (৫ মে) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের ন্যায্যতা সম্মেলন ২০২৫’ এর ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ন্যায্যতা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ফরিদা বলেন, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের কথা বলা হচ্ছে। সেটা করতে গিয়ে কোনো ক্ষতি করছি কিনা সেটিও দেখতে হবে। কারণ এর কারণে গবাদিপশুর ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এখানে ভোক্তার দিকটাও দেখতে হবে, যেন তারা নিরাপদ খাদ্য পায়। আবার কৃষকের দিকটাও দেখতে হবে, যেন তারা উৎপাদন করে লাভবান হন।
তিনি বলেন, এক সময় কৃষির অধীনেই মৎস ও প্রাণিসম্পদ ছিল। এখন এগুলো আলাদা হয়েছে। পণ্যভিত্তিক কৃষকও আলাদা হয়েছে। মৎসের ক্ষেত্রে আমরা যদি দেখি, উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশ ভারতের পরই দ্বিতীয় স্থানে আছে। অথচ হাওর, নদী-নালা ধ্বংস করছি আমরা। জলাশয়গুলোকে রক্ষা করতে চাচ্ছি যখন, তখন আবার দেখা যাচ্ছে কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশকে মাছ মারা যাচ্ছে।
আরো পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কৃষকের আত্মহত্যা
হাওরে কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, হাওর মাছের অনেক বড় একটি উৎস। আবার অনেক সময় আগাছা পরিষ্কার না করে কীটনাশক দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এতে করে গরু ছাগলসহ অন্যান্য প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহারে একটা নীতি গ্রহণ করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের এখানে মাংস উৎপাদন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। এখন আমাদের লাখ লাখ খামারি আছে। আমাদের দেশে এক কোটি ২৪ লাখের বেশি গরু ছাগল মজুদ আছে। ২২ লাখের মতো চাহিদার চেয়ে বেশি আছে।
বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। এছাড়া, প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, টি.কে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মুস্তফা হায়দার, এসিআই এগ্রি বিজনেস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট ড. এফ এইচ আনসারী, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৩০৮ দিন আগে
মাগুরায় নিম্নমানের সরকারি পাটবীজ বিতরণ, অনাগ্রহ কৃষকদের
পাটের জীবনকাল বেশি, লম্বা, পেঁচিয়ে যাওয়া ও ফলন কম হওয়ার কারণে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার পাট চাষিরা সরকারি বিএডিসির দেওয়া পাট বীজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। জমিতে চাষ করছেন না সরকারের দেওয়া বিএডিসির বীজ। বিকল্প হিসেবে চাষিরা ঝুঁকে পড়েছেন এলসির মাধ্যমে আসা ভারতীয় সেবায়ন জে আর ও ৫২৪, চক্র মার্কা জে আর ও ৫২৪, ও শঙ্খ মার্কা পাটের বীজের দিকে।
এ মৌসুমে উপজেলায সর্বমোট ৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে।
উপজেলার পাট চাষিরা সরকারিভাবে উপজেলা থেকে দুইটি মাধ্যমে পাটের বীজ ও রাসায়নিক সার পেয়ে থাকেন। প্রথমত উপজেলা কৃষি অফিস, দ্বিতীয় উপজেলা পাট অধিদপ্তরের অধীনে পাট অফিস থেকে।
তথ্যমতে, এই মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এক কেজির ১ হাজার ৫৩০ প্যাকেট ও পাট অফিস থেকে ২ হাজার ৪০০ প্যাকেট বীজ চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় সুনামগঞ্জের কৃষকরা
এ ব্যাপারে উপজেলার কমলাপুর গ্রামের কৃষক জামাল মোল্লা ও ঘাসিয়ারা গ্রামের বক্কার মোল্লার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সরকারি বিএডিসির পাট বীজ জমিতে বপন করলে পাট দ্রুত বেড়ে অনেক লম্বা হয়ে যায় এবং লাল হয়ে যায়, যা অত্যন্ত নরম এবং পাটের সঙ্গে পাট পেঁচিয়ে যায়। আমরা সাধারণত যে সময় পাট কাটি সে সময় পাট কাটলে এর ফলন কম হয়। পাট কাটতে অনেক ঝামেলা হয়, যেকারণে আমরা জমিতে এ পাট বীজ বপণ করি না। যারা উপজেলা থেকে এ বীজ আনে তারা শুধুমাত্র রাসায়নিক সার পাওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলার একজন সচেতন কৃষক গোলাম আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিবছর বিএডিসির কৃষি মন্ত্রণালয় ও পাট অধিদপ্তর থেকে চাষিদের জন্য কোটি কোটি টাকার যে পাটবীজ বিতরণ করা হয়, তা চাষিদের কোনো কাজেই আসছে না। ব্যাপারটি ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এ ব্যাপারে কাদিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন খান জানান, সরকারি বিএডিসি থেকে যে পাট দেওয়া হয় সেটার প্রতি কৃষকদের অনীহা রয়েছে। এ মৌসুমে সরকারি বীজ নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হলেও কিছু কৃষক এসেছে। বাকি বীজের প্যাকেট গোডাউনে পড়ে আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সালমা জাহান নিপা জানান, বিএডিসির দেওয়া এ পাট বীজের জীবনকাল বেশি। অন্যান্য পাটের জীবনকাল সাধারণত ৯০ থেকে ৯৫ দিন হয়ে থাকে। আমরা বিএডিসি থেকে সরকারি যে বীজ দিয়ে থাকি সেটি জীবনকাল ১২০ থেকে ১২৫ দিন হয়ে থাকে। যে কারণে হয়তোবা চাষিরা এ বীজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলা পাট কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, এ বীজের প্রতি চাষিদের অনীহার কারণ যে এটি বপণ করলে অন্যান্য পাটের তুলনায় আশ শক্ত হতে বেশি দিন সময় লাগে। চাষিরা তাদের জমিতে অন্য ফসল ফলানোর জন্য তাড়াতাড়ি পাট কেটে ফেলে। যে কারণে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যদি সময় মতো পাট কাটা যায়, তাহলে অন্য পাটের তুলনায় এর ফলন বেশি হবে। এ ব্যাপারে চাষিদের নিয়ে আমারা কর্মশালা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাষিদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগুনে রঙের ধান চাষে সাড়া ফেলেন কৃষক রবিউল
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি বিএডিসি থেকে যে পাটবীজ পাট চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হয়—তা চাষিরা বপণ করে না। ঘরেই রেখে দেন। আর প্রণোদনা হিসেবে যে সার পাওয়া যায়—তা অন্য জমিতে ব্যবহার করা হয়।
৩১৪ দিন আগে
ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় সুনামগঞ্জের কৃষকরা
সুনামগঞ্জের হাওরে পুরোদমে চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। ধান কাটা আর কেনাবেচা নিয়েও আলোচনা মুখে মুখে। তবে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা। তারা ধারণা করছেন, সরকার প্রতিমণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও, হয়তো সেটি পাবেন না।
রাজনীতিবিদ ও কৃষক সংগঠকদের পরামর্শ সরকার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এবং বেশি সংখ্যক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে পারলেই কেবল ধানের নির্ধারিত মূল্য পাবেন কৃষকরা। অর্থাৎ মিলার ও ফড়িয়ারা তখন বাধ্য হবে উপযুক্ত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে।
বাজারে ধানের মূল্য কি পরিমাণ বাড়বে বা কমবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে রবিবার(২০ এপ্রিল) জেলা ধান ক্রয় কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তের উপরই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে এখন জোরেশোরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত হাওর ও হাওরেরে বাইরের খেত মিলিয়ে ২৪ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই করা হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পাশাপশি খরচের জন্য ধান বিক্রয়ও করছেন কৃষকরা। এক্ষেত্রে বিপদগ্রস্ত কৃষকরা মিলার ও ফড়িয়াদের কাছে কম দামে অগ্রিম বিক্রয় করছেন ধান। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন, সরকার ধান কেনা শুরু করলে ধানের দাম কিছুটা বাড়তে পারে, তখনই ধান বিক্রি করবেন তারা।
বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওরপাড়ের মুক্তিখলার এক কৃষক জানান, ধান কাটানোসহ অন্যান্য খরচ চালানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম এনেছি। তাদের কথা দিয়েছি শুকনো ধান দেব প্রতিমণ ১০০০ টাকা দরে।
আরও পড়ুন: কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেভাবেই ধানের দাম নির্ধারণ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
একই এলাকার আরেক কৃষক মহিবুর রহমান বলেন, সাত কেয়ার (তিন কেয়ারে এক এক একর)জমিতে ধানচাষ করেছেন তিনি। এরমধ্যে চার কেয়ার বর্গা (আধা আধি দেবার চুক্তিতে) করেছেন। চার কেয়ার শ্রমিক দিয়ে কেটেছেন, সাত ভাগে একভাগ দেবার চুক্তিতে। ধান পেয়েছেন প্রতি কেয়ারে ২২ মণ। সব মিলিয়ে ১৫০ মণের মতো ধান পাবেন তিনি। ১৫ থেকে ২০ মণ ধান বিক্রয় করবেন। সরকার ধান কেনা শুরু করলে গোডাউনে এক টন দেবার চেষ্টা করবেন। না হলে মহাজনের আড়তে নিয়ে যাবেন ১৫ থেকে ২০ মণ ধান।
জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুরের কৃষক মুকুল রায় বলেন, ব্যাপারী (ধান কাটার শ্রমিক) মিলাইতে পারিনি। কাল-পরশু কাটানোর চেষ্টা করবো। ভরতপুর থেকে শ্রমিক আনার চেষ্টা করছি। তারা বলেছে কেয়ারে ৩০০ টাকা নগদ এবং সাত ভাগের এক ভাগ দিতে। হাওরে হারভেস্টার মেশিন (ধান কাটার যন্ত্র) নামে না। এজন্য বিপদে পড়েছি। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর শুকিয়ে, আমরা দুই তিন ভাই মিলে দুই তিন টন ধান বিক্রি করবো। সরকারি গুদামে দিতে পারলে ভালো হত। এর আগে কোনো সময়ই দিতে পারিনি।
তাহিরপুরের বড়দলের সামায়ুন আহমদ বলেন, বিগত সময়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের কৃষি কার্ড একজন নিয়ে গেছে। এই টাউটরাই ধান দিয়েছে। খাদ্য গোদামে ধান দিতে গেলেও তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে আমাদের বিদায় করেছে। এবার যদি সুযোগ পাই খাদ্য গোদামে ধান দেবার চেষ্টা করবো।
সামায়ুন জানান, বারো কেয়ার (এক হাল) জমি করেছেন। ছয় কেয়ার জমির ধান কেটেছেন, বাকী আছে ছয় কেয়ার। সব মিলিয়ে ২৫০ মণ ধান পাবেন।
৩২১ দিন আগে
ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার গলায় জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ঘাস কাটতে গিয়ে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক লাইনের তারে গলা আটকে গিয়ে আসাদুল ইসলাম (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের খর্পদোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল উপজেলার উত্তর গোতামারী এলাকার মৃত সামাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আসাদুল বাড়ির অদূরে ভারতীয় সীমান্তঘেষা খর্পদোলায় ঘাস কাটতে যান। সেখানে পানি সেচের জন্য বৈদ্যুতিক মোটরের সংযোগের লাইনের বাঁশের খুটি ভেঙে তার ঝুলে ছিল। একপর্যায়ে ওই ঝুলে থাকা তারে তার গলা জড়িয়ে যায়, আর তিনি সেখানেই পড়ে থাকেন। পরে দুপুরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মৃত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে হত্যা মামলায় ১৬ বছর পর ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোনাব্বেরুল হক মোনা বলেন, ‘ঘাস কাটতে গিয়ে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক লাইনের তারে গলা আটকে আসাদুলের মৃত্যু হয়।’
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন-নবী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’
৩৩০ দিন আগে