কৃষক
তিস্তার পানি বাড়া-কমায় পাকা ধান নিয়ে ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
উত্তরের তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তিস্তার পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চরের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুরো চরাঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিস্তার পানি ওঠানামা না করলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার কৃষকরা লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানিবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন তারা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে সাত বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ, তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। জানি না এবার কী হবে।’
এদিকে চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকারের জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। তিনি বলেন, ‘বড় চিন্তায় রয়েছি, কী হবে? পাকা ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
১১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে সার বিতরণে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা
কুড়িগ্রামে চলতি আমন মৌসুমে সারের বরাদ্দ বাড়লেও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও ঘাটতির গুজবে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
জেলার রৌমারী উপজেলায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রৌমারী উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় বন্দবেড় ইউনিয়নের কৃষকরা সার সংগ্রহের জন্য ভোররাত থেকে এক ডিলারের গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। সকাল গড়িয়ে বেলা ১১টা বাজলেও সার বিক্রি শুরু হচ্ছিল না। কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিত ছিলেন না। একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সারের বস্তা তুলে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক জাকির হোসেন জানান, বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও ডিলার বিক্রি শুরু করেনি। পুলিশ বা প্রশাসনের লোকও ছিল না। তীব্র গরমে দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে তৈরি অসন্তোষের কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অবশ্য পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে অনেকে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত দেন বলেও জানা গেছে।
একই দিন বেলা ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, সার নিতে এসে সকাল থেকে দুপুর পার হয়ে যাওয়ায় তাদের পুরো দিনের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। তারা খোলাবাজারে সহজ নিয়মে সার বিক্রির দাবি জানান।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ দাবি করছে, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। আগাম সারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের গুজবের কারণেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় সারের সরবরাহ বিগত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
স্থানীয় কৃষকদের অনেকে অভিযোগ করেন, খুচরা সার বিক্রি বন্ধ থাকায় কিছু খুচরা বিক্রেতা দিনমজুর বা ভাড়াটে লোক লাইনে দাঁড় করিয়ে অবৈধভাবে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তারাই মূলত লাইনে ভিড় তৈরি করছেন এবং সাধারণ কৃষকদের উসকানি দিচ্ছেন। এছাড়া সামনের রবি মৌসুমে ভুট্টা ও আলু চাষের জন্য চরাঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা সার বিতরণে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
সারের ঘাটতির তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় জানিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি মাসে আমন ধানে সার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রায় শেষ। এলাকায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে আগামী রবি মৌসুমে সংকট হতে পারে—এমন গুজবে কান দিয়ে কিছু কৃষক আগাম অতিরিক্ত সার কেনার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, সারের কোনো অভাব নেই এবং আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসের রবি মৌসুমের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ আসবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কৃষকদের শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
৪০ দিন আগে
লালমনিরহাটে কৃষকের ‘সোনালি আঁশের’ স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন
লালমনিরহাটে চলতি মৌসুমে পাটের আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা। ফলন ও দাম—দুই দিক থেকেই ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন জেলার পাটচাষিরা।
কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের দাম না পেলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও লোকসান গুনতে হবে। এতে আগামী মৌসুমে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
জেলার আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও গ্রামে এবার ব্যাপকভাবে পাটের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর চরাঞ্চলের অনাবাদি ও বন্যাপ্রবণ জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ধানসহ অন্যান্য ফসল ভালো হয় না—এমন জমিতেও এবার পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা।
তবে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এখন ভালো দাম পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাট কাটার পর তা ডোবা, নালা, পুকুর ও খাল-বিলে পানিতে স্তূপ করে জাগ দিচ্ছেন। সাধারণত ২০ থেকে ২৫ দিন পর পাট পচে গেলে সেখান থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। অনেক কৃষকের পাট এখনও পুরোপুরি পচেনি; তবে কয়েক দিনের মধ্যে আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
৪৯ দিন আগে
উত্তরাঞ্চলে টিএসপি সারের সংকট, কৃষকের অসচেতনতাকে দুষছে কর্তৃপক্ষ
আমনের ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া গেলেও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের। এমনকি বাড়তি দাম দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে চাহিদামতো টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম হতাশয় দিন পার করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, অতিরিক্ত দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন উত্তরের ৮৮৩টি চরের কৃষকেরা। চর এলাকায় সারের কোনো ব্যবসায়ী না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আট বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান লাগিয়েছেন। ধানখেতে ছিটানোর জন্য তার ১০০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্তু ছয়টি সার বিক্রয়ের দোকানঘুরে মাত্র ৪৫ কেজি টিএসপি সার সংগ্রহ করতে পেরেছন তিনি। তার মধ্যে ১৫ কেজি সার কিনেছেন সরকারের নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজি দরে। বাকি ৩০ কেজি কিনতে প্রতি কেজিতে তাকে ৩-৪ টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধান গাছে শিকড় শক্ত ও গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্ত তিনি চাহিদামতো সার সংগ্রহ করতে না পারায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ চাহিদামতো রয়েছে। চাহিদামতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটাতে না পারলে আমনের আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। টিএসপি সারের এতটাই সঙ্কট দেখা দিয়েছে যে বাড়তি টাকা দিয়েও এ সার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রামের কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। এর মধ্যে অনেক কৃষক দুই সপ্তাহ আগেই চারা রোপণ শেষ করেছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারী এলাকার কৃষক বাবলু মিয়া জানান, তিনি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন, কিন্তু চাহিদার ২০ শতাংশও টিএসপি সারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও ডিএপি সার সরবরাহ থাকলেও তাদের প্রতি কেজি সার কিনতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার ১৭০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু সংগ্রহ করেছি মাত্র ৫০ কেজি। দোকানে গেলে ডিলাররা বলছেন, টিএসপি সারের সরবরাহ নেই। বাড়তি দাম দিতে চেয়েও এই সার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। সময়মতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটানো না গেলে ধান গাছের শিকড় শক্ত হবে না এবং দ্রুত গাছ বেড়ে উঠতে পারবে না।
গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মোন্নাফ মিয়া বলেন, টিএসপি সার সংগ্রহ করতে তিনি ৩ দিন সার বিক্রেতাদের দোকানে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদামতো সার না পেয়ে চরম হতাশ তিনি।
এই কৃষক বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। আপাতত ১৫০ কেজি টিএসপি সারের চাহিদা থাকলেও মাত্র ৫০ কেজি সংগ্রহ করতে পেরেছি, তাও নির্ধারিত মূল্যে থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে।
তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে টিএসপি সার চাহিদামতো সরবরাহ পেতাম, কিন্তু এ বছর তা পাচ্ছি না। সার বিক্রেতাদের বাড়তি টাকা দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ডিলার জুলহাস হোসেন জানান, কৃষকদের মাঝে বর্তমানে টিএসপি সারের ব্যাপক চাহিদা, কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী এই সার দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার দোকানে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ হাজার কেজি টিএসপি সারের চাহিদা। তবে আমি সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৫০০ কেজি। সরকার সারের বরাদ্দ না দিলে আমরা কীভাবে কৃষকের চাহিদা পূরণ করব?
৬৬ দিন আগে
পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে কৃষিকাজ করতে গিয়ে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার সদর ও দণ্ডপাল ইউনিয়নে এ দুটি ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাহার মালচণ্ডী পশ্চিম তেলিপাড়া এলাকার খাদিমুল ইসলামের ছেলে মো. মামুন ইসলাম (৩০)। অপরজন দণ্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকার আকাব্বর খান (৬০)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে নিজ জমিতে পাট কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মামুন ইসলাম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন দুপুরে দণ্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় কৃষিজমিতে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সময় আকাব্বর খান হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
বজ্রপাতের ঘটনায় পৃথক স্থানে দুই কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম এমু।
৯৫ দিন আগে
নওগাঁয় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
নওগাঁয় পৃথক উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাণীনগর ও মান্দা উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— রাণীনগর উপজেলার মালশন গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (৫৫) ও মান্দা উপজেলার এলেঙ্গা মৃধাপাড়া এলাকায় তহির সরদারের ছেলে ইসমাইল সরদার (৫০)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গতকাল (বুধবার) মধ্যরাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। সকালে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, সকালে ইসমাইল সরদার নিজ জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বিকটশব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নওগাঁর রাণীনগর ও মান্দা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত প্রতিটি পরিবারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফান্ড থেকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে।
১০১ দিন আগে
হাওরে ফসলহানি: ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে পায়নি মানবিক সহায়তা, তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের ‘ঘনিষ্ঠজনেরা’
গেল মার্চের স্বস্তির বৃষ্টি অতিবৃষ্টিতে রূপ নিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গোটা হাওরাঞ্চল। দেড় মাসের টানা বৃষ্টিতে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জের লক্ষাধিক কৃষক পরিবার। দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে হাওরাঞ্চলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কৃষকই সরকারি মানবিক সহায়তার চাল ও নগদ অর্থ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কিংবা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ৬৪ হাজার ৩৮৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৪ হাজার ৬৩০, বিশ্বম্ভরপুরে ২ হাজার ৪৬৬, জামালগঞ্জে ৫ হাজার ১০৩, শান্তিগঞ্জে ২ হাজার ৭০৩, তাহিরপুরে ৯ হাজার ১৫৯, ছাতকে ১ হাজার ৯৪, দিরাইয়ে ১১ হাজার ৭৫৬, জগন্নাথপুরে ৩ হাজার ৬০৩, দোয়ারাবাজারে ১ হাজার ৪০, শাল্লায় ১০ হাজার ১২৫, ধর্মপাশায় ৫ হাজার ৪৩৪ এবং মধ্যনগরে ৭ হাজার ২৭১টি পরিবার রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে বড় একটি অংশের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এলাকায় বসবাস করেন না, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের পাশাপাশি নিকটাত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং পছন্দের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকা প্রণয়নে সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ৮২ জনের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এমনকি জমিজমা নেই বা বোরো আবাদই করেননি—এমন ব্যক্তিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই একই ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে।
গোপালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কালীকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘জমি করছিলাম ১৫ কিয়ার। আমার ৮ কিয়ারের ক্ষতি হইছে। এইডি এক্কেবারে তলাইয়া গেছে, কাটতে পারছি না। আমারে কিচ্ছু দিছে না, অথচ আমরার গ্রামের যারার ক্ষতি হইছে না, তারারে দিতাছে। আমরার ওয়ার্ডের মানিক মেম্বারে দেইখ্যা দেইখ্যা নাম দিছে। আমার নাম নাই।’
গত ২১ জুন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অভিযোগ দেন। ১০ জনের স্বাক্ষরিত অভিযোগে গ্রামের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নন—এমন ১২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়।
ওই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. তুরুক মিয়া বলেন, ‘যে সাহায্য আইছে, এইডা মনে করৌক্কা যেরা পাইতো এরা পাইছে না। যেরার খেত নাই, এরা পাইছে। এক বাড়িতে তিন-চাইট্টা নাম। কোনো জমিজমা করছে না। এরার হাবিগোষ্ঠী লন্ডন। কিন্তু ক্ষতি হইলেও আমরার নাম নাই।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গেল বোরো মৌসুমে জেলার ছোট-বড় ১৯৩টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জেলায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ হলেও প্রায় ৪ লাখ কৃষক চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষকের ৪৩ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০১ টাকা। চালের হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৭ টন।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব সহায়তায় প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয় না। এগুলো কৃষকের নাম ভাঙিয়ে ফাঁকিবাজি ছাড়া কিছুই না। এসব বাদ দিয়ে কৃষকদের ফসল বীমার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, ইউএনওর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগ মিলে মানবিক সহায়তার তালিকা করা হয়েছে। এককভাবে কেউ তালিকা করেনি। ভুলত্রুটি হলে উপজেলা কমিটি খতিয়ে দেখবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা থেকে হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ আছে, উপজেলা প্রশাসনকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
১০২ দিন আগে
রংপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু, আহত ১
রংপুরে বজ্রপাতে পৃথক এলাকায় রহমত উল্যাহ (৩৫) ও আব্দুর রশিদ (৪৮) নামে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় খোরশেদ আলম নামে আরও এক কৃষক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকা ও বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘিরনই এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন বলেন, বিকেলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
অপরদিকে, আজ (শুক্রবার) দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘিরনই এলাকায় বজ্রপাতে একজন কৃষক নিহত ও আরেকজন কৃষক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে রহমত উল্যাহ, খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তারা পাশের একটি সেচযন্ত্রের ঘরে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই রহমত উল্যাহ নিহত হন। খোরশেদ আলম গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় বজ্রপাতে ছয়টি ছাগলও মারা যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত খোরশেদকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিকে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
১২৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে কৃষি সহায়তায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, বঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারঘোষিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে কিছু জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজন, অকৃষক, প্রবাসী, এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে কৃষকদের মধ্যে।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত হওয়ায় প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে তাদের পছন্দের ব্যক্তি ও স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায়ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
এছাড়া কৃষি সহায়তার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে প্রকাশিত ৪৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আত্মীয়স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় গ্রাম পুলিশ, প্রবাসী এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাজমুল মিয়া ঢাকায় কর্মরত থাকলেও তাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের ছেলে মৃদুলের নামও তালিকায় রয়েছে, যদিও তাদের পরিবার হাওরে কোনো জমি চাষ করেনি। ইউপি সদস্য মাসুম আহমদের ভাই জাবেদ আলীর নামও তালিকায় রাখা হয়েছে, অথচ তাদের কোনো জমি তলিয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের অন্তত ২০-২৫টি নাম তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত অনেকেই কৃষি পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।
স্থানীয় কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, আমার সাত কেয়ার জমি তলিয়ে গেছে, অথচ আমার নাম তালিকায় নেই। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম দিয়েছেন। যাদের জমিই তলিয়ে যায়নি, তারাও সহায়তা পাচ্ছেন।
এদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সবুজ মিয়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছয়ফুজ্জামান ও মহিলা সদস্য আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৭ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ৪০ জন কৃষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, শাল্লা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় দুই মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তারা হলেন— বাহাড়া ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের রনু রঞ্জন সরকার ও সুধীন চন্দ্র দাস।
স্থানীয়রা জানান, রনু রঞ্জন সরকার গত বছর মারা গেছেন এবং সুধীন চন্দ্র দাস মারা গেছেন প্রায় ছয় মাস আগে, অথচ তাদের নামও সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী বলেন, আমার তালিকা অন্যরা করেছেন। তালিকায় কিছু মৃত ব্যক্তির নাম আসতে পারে। এগুলো বাদ দেওয়ার বিষয়ে পরিষদে আলোচনা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, তালিকায় মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য কারও নাম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, সুনামগঞ্জে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অকৃষকদের নাম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তা বাদ দেওয়া হবে।
১৪৯ দিন আগে