কৃষক
ঝিনাইদহে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে ছিলেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানমাঠ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রফিকুল সরকার (৫০) ও নুর আলম (৩৫)। রফিকুল ওই গ্রামের মৃত জমশেদ সরকারের ছেলে এবং নুর আলম মৃত আবু সামার ছেলে।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু জানান, দুপুরে রফিকুল সরকার বাগানমাঠ এলাকায় নিজের ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এ সময় মাঠের মধ্যে একটি মোটরের বৈদ্যুতিক তার নিচু হয়ে ঝুলে ছিল। অসাবধানতাবশত সেই তার শরীরে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
তিনি আরও জানান, পাশের জমিতে কাজ করা নুর আলম ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এসে মামাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মাঠে কাজ করার সময় মোটরের লিকেজ বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মামা-ভাগ্নে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা, নষ্ট হওয়ার পথে হাজার হেক্টর জমির ধান
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান-ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের বোরো ফসল। এতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে হাওরের কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন। উজানের হাওরের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন। কারণ তখন ভাটির কৃষকের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ সময় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ৫৩টি ছোট-বড় হাওরে ৭১০টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ।
গেল বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও চলতি বছর মার্চ মাসে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে। চেরাপুঞ্জিতেও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উজান-ভাটির বৃষ্টিপাতের পানি নদ-নদী ছাপিয়ে নানা দিক দিয়ে হাওরে ঢুকছে।
গত ৩১ মার্চ জরুরি সভা করে পানি নিষ্কাশনকল্পে সরেজমিন ঘুরে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ আংশিক কেটে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ কেটে দিতে চাইলে ভাটির পক্ষ তাদের জমি জলাবদ্ধতার কারণে কাটতে দিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাঁধ কাটার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হাওরে এই ফসল লাগানো হয়েছে। চলতি মওসুমে সব ধান গোলায় তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
তবে জলাবদ্ধতা ও আগামী সপ্তাহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি হাওর, ছায়ার হাওর, পুটিয়ার হাওর, ডাকুয়ার হাওর, জোয়ালভাঙ্গা হাওর, কানলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং হাওরের তুলনায় নদীতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, আমাদের ডাকুয়ার হাওরের উপরের অংশের কৃষকরা জোর করে বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন। এতে নিচের অংশের কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। কারণ নিচে জলাবদ্ধ হাওরে নতুন করে আরও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে তাদের ধান। উপরের কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। তবে উপরের অংশের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের খালটি নোওয়াগাঁও এলাকায় বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আগাম বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর ফলে পানি বেড়েছে। কিন্তু এই পানি ধারণের আধার নদ-নদী ও খাল-বিল বরাট হয়ে গেছে। যার ফলে তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিটি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কৃষকরা মারামারি করছেন। একমাত্র নদ-নদী-বিল খনন করে দিলেই এই সমস্যা কমে যাবে বলে তিনি মতামত দেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, এবার চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে। এই পানি এখন হাওরে চাপ তৈরি করেছে। অথচ গত বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ নিয়ে জরুরি সভায় কমিটি করে প্রশাসনকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাওরের পানি নিষ্কাশনও হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তবে নিষ্কাশন করতে গিয়েও হাওরের উঁচু ও নিচু এলাকার কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছেন। কারণ এক পক্ষের পানি নিষ্কাশিত হলে অপরপক্ষের ফসল জলাবদ্ধ হয়। এছাড়াও আগামী ৬-৭ এপ্রিল ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৬ দিন আগে
ঝালকাঠিতে জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝালকাঠিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল পাচ্ছেন না। যার কারণে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, পাওয়ার পাম্প, পাওয়ার টিলার, কীটনাশক দেওয়ার মেশিন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র প্রভৃতি চালাতে পারছেন না।
অনেকে আবার দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে ব্যবহার করলেও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন।
প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর ঝালকাঠি। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এ জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিনির্ভর এ জেলায় চাহিদা অনুয়ায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এ বছর ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টরে এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ফলে খেত তৈরি করতে তাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। খেতে পানি দিতে সেচপাম্প ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজেল। আগে পেট্রোল পাম্প, ডিলার ও খুচরা দোকান থেকে লিটারপ্রতি ১০০ টাকা দামে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যেত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে জনপ্রতি ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। এতে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার কৃষক আল আমিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা দোকানে গেলে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। আমাদের বেশি প্রয়োজন ডিজেল। এখন ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল পাই না। অনেক বিক্রেতার কাছে পেলেও তারা লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
নলছিটির মালিপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, জমিতে সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। এখান থেকে পেট্রোল পাম্প অনেক দূরে। তাই ডিলার ও দোকানিরা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে ধান ও চালের দামও বেড়ে যাবে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। হয়তো খুচরা বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে, তারপরও যদি কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারেন, তাদের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশ বাঁচবে, তাই কৃষকের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন শহরের পেট্রোল পাম্প এবং ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ আবার তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতা ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপো থেকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়।
১৯ দিন আগে
কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষক ও কৃষাণী ভালো থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বিএনপির রাজনীতি। বিএনপি জনগণের দল জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সরকার পরিচালনা করব।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ‘শাহাপাড়া খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, খাল খনন কর্মসুচির মাধ্যমে আমরা দেশ গড়ার কর্মসুচিতে হাত দিলাম। কৃষক ও কৃষানের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
তারেক রহমান বলেন, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ শাহাপাড়া খালটির খনন কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে ১২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং এলাকার সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে এই খালের সুবিধা ভোগ করবেন। এতে এই এলাকায় আগের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি ফসল উৎপাদিত হবে।
এ সময় শুধু খাল খননই নয়, খালের দুই পাড়ে সাত হাজার বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণেরও ঘোষণা দেন তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আমরা সুদসহ সেই কৃষি ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি। দেশের চার কোটি পরিবারের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার মায়ের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানকার বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য ইপিজেডগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর এ বিষয়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমরা বসব।
বিএনপি সরকারকে ‘কৃষকবান্ধব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য হলো মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। আজকে যে মানুষটি মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে, আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যে তার আয় যেন ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়, আমরা সেই পলিসি নিয়েই কাজ করছি। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে।
দেশের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশের উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। জনগণই হচ্ছে আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। এই দেশের মানুষই একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে এবং ২৪ সালে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার বিদায় করেছে। এ মানুষগুলোই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
তবে বিভিন্ন রকম মিষ্টি কথা বলে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল কাটার উদ্বোধন করেন এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
৩৪ দিন আগে
নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত
নওগাঁয় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ধামইরহাট ও মান্দা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ধামইরহাট উপজেলার ভাবির মোড় এলাকার মোখলেসুর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দীন ও মান্দা উপজেলার চকরামপুর মধ্যপাড়া ঈদগাহ-সংলগ্ন পাড়ার মোসলেমের ছেলে পিন্টু ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে একটি বিলে শসা তুলতে যান জালাল উদ্দীন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, বাড়ির পাশের মাঠে ধানখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পিন্টু। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানায়, দুর্যোগজনিত কারণে মৃত্যু হওয়ায় তাদের মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩৮ দিন আগে
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় চাঁদপুরে কৃষককে ‘পিটিয়ে হত্যা’
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, জাকির তিন মেয়ে ও দুই ছেলেসহ পাঁচ সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ফাইম মিয়াজী (২৪), মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের রিফাত বেপারী ও রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনায় জাকির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হঠাৎ হামলা চালান। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান জাকির।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। টানা ১৩ দিন ঢামেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল (রবিবার) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজীর ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী মামলা করেছেন।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে।
বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তদের নামে নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।
৪১ দিন আগে
বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ গেল কৃষকের
বান্দরবান জেলার লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা (৬০) নামের এক আদিবাসী বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ত্রিশডেবা ডলুঝিরি পাড়ায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ক্যচিং মং মার্মা বাচিং কারবারি পাড়ার বাসিন্দা বাচিং মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যচিং মং মার্মা নিজ ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে যান। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও ক্যচিং মং মার্মা বাড়িতে না ফিরলে স্বজনেরা খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে ক্যচিং মং মার্মাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ধানখেতে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ক্যচিং মং মার্মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে উচিংহ্লা মার্মা জানান, ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে গেলে আমার বাবা বন্যহাতির কবলে পড়েন। ওই হাতির পায়ের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, হাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা নিহতের ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
৫৩ দিন আগে
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৫ আদিবাসী কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন আদিবাসী কৃষক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলার মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের শিবপুর পাঠকাঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের মৃত কোকো পাহানের ছেলে বীরেন পাহান (৩৫), মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জল পাহান (৩৮), ঝটু পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২৫), মৃত মাংরা উড়াও এর ছেলে সঞ্জু উড়াও (৪৫) এবং ঝটু পাহানের ছেলে বিপ্লব পাহান (২২)।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, ভোরে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করতে নূরপূর থেকে ব্যাটারী চালিত ভ্যানে চড়ে মহাদেবপুর হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন ওই কৃষকরা। পথে ভ্যানটি মহাদেবপুর-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের পাঠকাঠি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুত গতিতে আসা একটি ডাম্প ট্রাক তাদের চাপা দেয়। পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত অবস্থায় ৪ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় ফায়ার সার্ভিস ।
মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল কাসেম বলেন, ডাম্প ট্রাকটি মহাদেবপুর থেকে পত্নীতলার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইমরুল কায়েস বলেন, ফায়ার সার্ভিস দুই দফায় পাঁচ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছিল। তাদের মধ্যে চার জন আগেই মারা গেছেন। বাকি একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ডাম্প ট্রাকটি সড়কের পাশের একটি খালে ফেলে রেখে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সকাল ৭টার দিকে সৎকারের জন্য মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতক ডাম্প ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭৮ দিন আগে
নাটোরে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ
সারের দাবিতে নাটোরের নলডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সার না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলা মোড়ে কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে উপজেলা মোড়ে অবস্থিত সার ডিলার শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালের দোকানে গিয়ে সারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। সেখানে সার না থাকার খবর পেয়ে একপর্যায়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন তারা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখান থেকে ফিরে উপজেলা মোড়ে গিয়ে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় কৃষকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিশোয়ার হোসেনের অপসারণ দাবি করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সার প্রপ্তি নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।
শ্যাম সুন্দরের ব্যবস্থাপক বকুল দাস জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী সব সার তারা উত্তোলন করতে পারেননি। অনেক কৃষক চলতি রবি ও আসন্ন বোরো মৌসুমের একবারে সার সংগ্রহ করার কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী সকল সার কৃষক-পর্যায়ে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খান বলেন, ডিলার পয়েন্টে সার পৌঁছলেও কৃষকরা কেন পাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৩৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নায়েব আলী (৬২) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নায়েব আলী উপজেলার মালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার (২৮ মে) সকাল ১০টার দিকে নায়েব আলী বাড়ির পাশে বসে ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ইউনুছ আলী ও তার ছেলে আল-আমিন এসে তার ওপর হামলা চালায়।
তারা বাশের লাঠি দিয়ে তাকে উপর্যপুরি পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, নায়েব আলীর বোনের জমি কিনেছে প্রতিবেশি ইউনুছ আলী। ওই জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে এ বিরোধের জেরে নায়েব আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার খালিদ হাসান বলেন, “নায়েব আলী আগেই মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে লাঠির আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা গেছেন।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আসামিদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
৩২৬ দিন আগে