চিকিৎসাসেবা
গ্রামের কোনো মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়: জুবাইদা রহমান
দেশের কোনো গ্রামের বাসিন্দা যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায় এবং কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা বা নবজাতক যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে জীবন না হারায়, এমন মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো রোগাক্রান্ত গ্রামবাসী যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়। কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা না যান। কোনো নবজাতক যেন তার মায়ের কোল খালি করে না চলে যায়।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। কারণ, সবার স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মাননা পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, কঠোর শিক্ষাক্রমের মধ্যেও যারা সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রেখেছেন, তারা প্রশংসার দাবিদার। ‘সংস্কৃতি মানবসভ্যতার ভিত্তি। আপনারা যদি নিজেদের সুপ্ত প্রতিভাকে লালন করতে পারেন, তাহলে তা আপনাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।’
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম মেধাবী। তবে একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার জন্য শুধু মেধাই নয়, মানবিক মনও প্রয়োজন।
‘অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার মধ্যেই একজন চিকিৎসকের আত্মতৃপ্তি, জীবনের সার্থকতা ও সফলতা নিহিত। আমি আশা করি, আপনারা জ্ঞান ও সেবার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করবেন। অনেকেই হয়তো উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য উন্নত বিশ্বে যাবেন, কিন্তু সেই জ্ঞান নিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন,’ বলেন তিনি।
দেশের স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩, অর্থাৎ একজন চিকিৎসককে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এ অনুপাত আরও বৈষম্যমূলক।
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা শিক্ষাজীবন থেকেই দেশসেবার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকি, তাহলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে নার্সের সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৫৪৯, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড ১ দশমিক ৪৮। চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় প্রতি ৬ হাজার ৫০০ মানুষের জন্য মাত্র একজন সরকারি চিকিৎসক রয়েছেন। ফলে চিকিৎসা ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারাই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। দেশবাসীকে সেবার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকটেরও সমাধান সম্ভব।’
৩ দিন আগে
৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি জানিয়েছেন, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—এই তিন খাতের সমন্বিত উদ্যোগে একটি জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইটেক চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেশের একদম প্রান্তিক ও গরিব মানুষের কাছে নাগরিক অধিকার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশে সরকারি খাত, বেসরকারি উদ্যোগ এবং এনজিও—এই তিন সেগমেন্টেই চোখে পড়ার মতো ও প্রশংসনীয় কাজ হচ্ছে। তবে আমাদের একটি সমন্বিত ও কমন রিপোর্টিং সিস্টেম নেই। তাই আমরা একটি জাতীয় উদ্যোগ বা ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ গ্রহণ করছি। এই খাতটি এক দিনে পরিবর্তন হবে না, তাই আমরা পাঁচ বছর মেয়াদি উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি।
তিনি আরও জানান, প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান আই কেয়ার সুবিধা ও প্ল্যানিং পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও নতুন জনবল নিয়োগ এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি বয়সের মানুষের কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছানোর জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করে বলেন স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের জন্য সমন্বিত ক্যাম্পেইন ও প্রোগ্রাম চালানো হবে। প্রতিটি কলকারখানা, অফিস ও প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী মানুষের চোখের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হবে এবং চশমা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে তাদের কাজের উৎপাদনশীলতা (বহুগুণ বাড়ে বলে জানিয়েছেন ড. মুহিত।
তিনি বলেন, বয়স্ক মানুষদের ছানি দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হবে। প্রতি বছর কয়েক লাখ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো উদীয়মান চক্ষু সমস্যা চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর এনহ্যান্সড স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করতে পারি। প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কমিউনিটি আউটরিচ বা মাঠপর্যায়ে সেবা দেওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমরা চাই হাইটেক আই কেয়ার শুধু শহরের ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রান্তিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছাক।
আই কেয়ার খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এবং ট্রেনিং ক্যাডারের ওপর সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। দেশে বর্তমানে এনজিও এবং প্রাইভেট খাতের অনেক ভালো ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন রয়েছে। আমাদের সরকারি-বেসরকারি সকল ইনস্টিটিউশনের সংখ্যা এবং মান বাড়িয়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা অর্জনের পথ সহজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এস এম এম ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা।
কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দেশের প্রবীণ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, অ্যাকাডেমিক ব্যক্তিত্ব, জেলা ও পেরিফেরি পর্যায়ে কাজ করা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক, বিএনএসবি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
৩ দিন আগে
চরম সংকটে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা
কেবল নামেই ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, বাগেরহাট। ১০০ শয্যার জনবল ও বরাদ্দ দিয়ে জোড়াতালিতে চালানো হচ্ছে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের ৫৮টি পদের মধ্যে ৩৩টিই খালি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগে ৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও একজন মাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট দিয়ে সারা হচ্ছে কাজ। চিকিৎসক না থাকায় হৃদরোগ, চোখ ও নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ডায়ালাইসিস কার্যক্রম এখনও চালু হয়নি। এমনকি মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় আইসিইউ বিভাগ খোলা হলেও মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানে। রোগীদের চাপ বাড়তে থাকায় শয্যা সংকুলান না হওয়ায় শীতের মধ্যেও প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবার বরাদ্দ না থাকায় ভর্তি হলেও ২৫০-র বেশি রোগীকে খাবার সরবরাহ করা হয় না। ফলে প্রতিদিন অন্তত দেড়শ রোগী হাসপাতালের খাবার পাচ্ছে না।
এত এত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে নার্সরাও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। একদিকে চিকিৎসকসহ জনবলের সংকট, অন্যদিকে ২৫০ শয্যার জন্য বরাদ্দ এখনও না মেলায় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থান: আহতদের চিকিৎসায় আগত বিদেশি চিকিৎসকদের ভ্যাট অব্যাহতি
সরজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ৭ তলা ও পুরাতন ২ তলা চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম ভবনজুড়ে। এর মধ্যে নতুন ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বারান্দা, চলাচলের পথ, সিঁড়ির পাশে, নার্সদের কাউন্টারের পাশসহ বিভিন্ন জায়গায় মেঝেতে রোগীদের শয্যা পাতানো হয়েছে। দিনের পর দিন মেঝেতেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। মেঝেতে রোগীদের চাপ এতটাই যে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদেরও চলাচল করতে কষ্ট হয়।
৫২৯ দিন আগে
বন্যায় বিপর্যস্ত ফেনীতে গাছতলায় দিতে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা
ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটে ব্যথা, জ্বর, নিউমোনিয়া ও চর্মরোগসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ। হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে রোগীর সংখ্যা। শয্যা সংকটে মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ি ও গাছতলায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। অন্যদিকে ধারণক্ষমতার প্রায় ১০ গুণ বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন ফেনী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক। এছাড়া রোগীদের কারও ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়, সিঁড়িতে বা হাসপাতালের সামনে গাছতলায়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে চিকিৎসক-নার্স সংকট, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে ১৭ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭৬ জন। আরেকটি ওয়ার্ডে ২১ শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা ৮০ জন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেও ২৬ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৩৬ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতাল আঙিনা ও বাহিরে গাছতলায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলার ৭টি হাসপাতালে এ পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৩০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়েছেন ১০ হাজার ৭৫৪ জন। এর ভেতর ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৪৯৮ জন, সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা এ পর্যন্ত ২২৫ জন। হাসপাতালগুলোতে নতুন ভর্তি ৫২৪ জন, এরমধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১৮৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে রোগী আছেন ৯১৩ জন।
উপজেলাগুলোতে দেখা যায়, সোনাগাজীতে ৬১০ জন, পরশুরামে ৫৩৬ জন, ফুলগাজীতে ৩১৪ জন, ছাগলনাইয়ায় ১ হাজার ২৭২ জন, দাগনভূঁঞাতে ৬৩০ জন ও ফেনী সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৭৯০ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঈদে চিকিৎসাসেবায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৬৯২ দিন আগে
সবাইকে স্বাস্থ্যকার্ড দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, সরকার সব মানুষকে স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের জন্য স্বাস্থ্যকার্ড থাকবে। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পরিকল্পনা কমিশনে দেয়া হয়েছে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী এটি পাস করে দেবেন। এছাড়া এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসায় ডেঙ্গু রোগীদের মৃত্যু বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, হেলথ কার্ডে স্বাস্থ্যবিষয়ক সব তথ্য থাকবে। বিদেশে এমন কার্ড দেয়া হয়। আমরাও তাদের মতো করে হেলথ কার্ড দেবো।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোগী ভর্তিসহ পুরোদমে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হবে ২৩ জানুয়ারি থেকে।
২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর হাসপাতালের ১৪ বিভাগে রোগী দেখা শুরু করেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।
আরও পড়ুন: ঢাকা শহরে কোনো অননুমোদিত ক্লিনিক নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ষাটোর্ধ্বদের করোনা টিকার ৪র্থ ডোজ দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১২৯৩ দিন আগে
ইআরএফ ও ইউনিভার্সেল হাসপাতালের মধ্যে স্বাস্থ্য চুক্তি
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় করপোরেট স্বাস্থ্য চুক্তি সই হয়েছে।
২০৩৫ দিন আগে