ঘোড়দৌড়
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
নড়াইলে ঘোড়দৌড় দেখে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র ফাহিম মোল্যা (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নড়াইল ও যশোর জেলার সীমান্তবর্তী অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাহিম মোল্যা কালিয়া উপজেলার পেড়োলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মনিরুল মোল্যার ছেলে। খড়রিয়া এ জি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।
ফাহিমের চাচা জাহাঙ্গীর মোল্যা বলেন, গতকাল (বুধবার) নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় ঘোড়দৌড় দেখতে যায় ফাহিম। পরে বিকেলে ঘোড়দৌড় দেখে মোটরসাইকেল চড়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিল সে। পথের মধ্যে অভয়নগর থানার লেবুগাতি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা এক ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিম ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান পৌঁছে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যায় ফাহিম।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাটি আমাদের থানার মধ্যে ঘটেনি। যেহেতু ঘটনাটি পাশের যশোর জেলায় ঘটেছে, সে কারণে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৩ ঘণ্টা আগে
পৌষ সংক্রান্তিতে নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, দর্শনার্থীর ঢল
টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটছে গ্রামের একঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেওয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে চলে তাদের প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার দেখা মিলেছে নড়াইল সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে একপ্রকার মেলা বসে সেখানে। বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘোড়দৌড় প্রায় ৪ থেকে ৫ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। পৌষ মাসের শেষের দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে রয়েছে। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তার দৌড়ানোর যে অংশ, সেটিও আমি সংস্কার করেছি যাতে এই অঞ্চলে উৎসবটি টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণায় আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর বিএনপি সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
৪ ঘণ্টা আগে
সিলেটে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজি গ্রামের পূর্বের মাঠে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড়কে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সব বয়সী হাজারো দর্শক দৌড় উপভোগ করেন। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রতিটি দৌড় হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রতিযোগিতায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, ছাতক ও চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক বাহারি নাম ও রঙের ঘোড়া নিয়ে সৌখিন ঘোড়ার মালিকরা অংশ নেন।
দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘মাহিন রাজা’, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘লাল চান’ ও ‘আর্জেন্টিনা’ নামের ঘোড়া।
দর্শকরা জানান, একসময় ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উৎসব বিরাজ করত। এখন আর আগের মতো এই প্রতিযোগিতা চোখে পড়ে না। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘লিভারপুল’ নামের ঘোড়ার মালিক আনোয়ার আলী বলেন, ঘোড়ার প্রতি তার ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। শখের ঘোড়া নিয়ে তিনি বিভিন্ন দৌড়ে অংশ নেন। জয়-পরাজয় যাই হোক, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও সৌহার্দ্যই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আয়োজক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ধন মিয়া বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে।
২৪ দিন আগে
কাঁঠালিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় মানুষের ঢল
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঈদ উপলক্ষে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম শৌলজালিয়া গ্রামের একটি মাঠে স্থানীয় যুব সমাজ এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে নববর্ষে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা
এ প্রতিযোগিতায় কাঁঠালিয়া, ভান্ডারিয়া, রাজাপুর, বেতাগীসহ বিভিন্ন এলাকার ২০টি ঘোড়া অংশ নেয়।
ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় উপভোগ করেন নানা শিশু, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মাঠের দুই পাশে দাঁড়িয়ে উপভোগ
করেন।
পরে প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ঘোড়ার মালিকদেরকে হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন।
আরও পড়ুন: মাগুরায় শতবর্ষী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
৯৯৫ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সেনুয়া নামে নতুন ইউনিয়ন ঘোষণার খুশিতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৮৩৮ দিন আগে
শেরপুরে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা
প্রতিবছরের মতো এবারও শেরপুর শহরের নবীনগর ছাওয়াল পীরের দরগা সংলগ্ন খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা।
১৮৩৯ দিন আগে