বাঁশখালী
দেশে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্টকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
যারা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না এবং এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, তার জন্য বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-কারখানা স্থাপন করতে হবে। আর তার পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপনার এলাকায় বা বাজারে যখন কোনো গণ্ডগোল হয়, কোনো সমস্যা হয়, তখন কি দোকানপাট খোলা থাকে না বন্ধ থাকে? বন্ধ হয়ে যায়। কেন বন্ধ হয়ে যায়? কারণ এই যে ছোট দোকানদার বা যেই ব্যবসায়ী হোক, তারা এইজন্য বন্ধ করে দেয় যাতে ওই গণ্ডগোলে তার ব্যবসার যাতে ক্ষতি না হয়। একইভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন পরিবেশ চান, যেখানে তাদের উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দর দিয়ে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সঠিকভাবে আনা যাবে।
তারেক রহমান বলেন, যদি মিল-কারখানা সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তার কথায়, ‘যদি দেশের সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়—এইসব ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, একইভাবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যারা বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায়, তারা যাতে কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারীরা নিজেদের মতো করে বিভ্রান্ত করে চলে যাবে, তারা জনগণের সঙ্গে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থাকা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা।
তিনি বলেন, এই যে বর্তমান সরকার, এই সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কাজেই এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকা, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা।
সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের মানুষের কল্যাণে কয়েকটি মৌলিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিষয়টিও ছিল।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয় এবং তা শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। বাঁশখালীসহ এ অঞ্চলে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। আগামী চার বছর ধরে এ কার্যক্রম চলবে এবং আরও অনেক মা-বোনকে এর আওতায় আনা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরাই নয়, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণচাষিদের স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে সচ্ছল করতে আলোচনার মাধ্যমে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
মাতারবাড়ী সফরের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, দেশের সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেছেন।
চীনের বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সরকারপ্রধান বলেন, চীন সফরকালে তিনি দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চট্টগ্রামে কয়েক শত মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেসব কারখানায় সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সেই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও ব্যবহার করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাঁশখালীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ দেশের সব উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে এ খাতে অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। জনগণের স্বার্থে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কিছু সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমরা এরই ভেতরে তার কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছর আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে—সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’
এ পরিকল্পনার মাধ্যমে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।’
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এখন দেশের জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময় বলে মনে করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হলেও কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশকেও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
‘কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, একই সঙ্গে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
১৫ দিন আগে
বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বন্যাকবলিত বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ইউএনবিকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।’
তারেক রহমান এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন বলেও জানান রনি।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে যান।
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গত ৭ জুলাই থেকে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের কয়েকটি প্রত্যন্ত ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়।
বন্যায় ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ফটিকছড়িতে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা পরিদর্শন এবং হেফাজতে ইসলাম আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিউর রহমান রুমন।
১৬ দিন আগে
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নিরাপত্তা কর্মী নিহত
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি ইনচার্জসহ ছুরিকাঘাতে দুই নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন সাবেক সেনা সদস্য।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে বাঁশখালী থানার গন্ডামারা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ২৫
নিহতরা হলেন— ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আব্দুর রহমানের ছেলে ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার সরওয়ার আলম (৫১) এবং রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাশেদ জাওয়ারদার (২২)। তাদের মধ্যে সারওয়ার সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। তিনি পাওয়ার প্ল্যান্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ ছাড়া রাশেদ পাওয়ার প্ল্যান্টের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘রাতে চুরি করে পালানোর চেষ্টার সময় দুজনকে বাঁধা দেন নিরাপত্তাকর্মী সারওয়ার আলম ও রাশেদ জাওয়ারদার। এ সময় চোররা তাদের ছুরিকাঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হলে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বঙ্গোপসাগরের তীরে গণ্ডামারায় ৬০৬ একর জমিতে আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে চুক্তি সই হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেনা-বেচা সংক্রান্ত চুক্তিও সই হয়। ওই বছরই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
আরও পড়ুন: নড়াইলে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত
নরসিংদীতে মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ৩
৭২১ দিন আগে
বাঁশখালীতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পৃথক দুটি পুকুরে ডুবে রোমাইসা জান্নাত ও আবির নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৮টা ও দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভার উত্তর জলদী এলাকায় পৃথক ঘটনাগুলো ঘটে।
মারা যাওয়া রোমাইসা জান্নাত (দেড় বছর) ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী ইসহাক মুন্সির বাড়ি এলাকার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ফয়সালের মেয়ে এবং আবির (২) উত্তর জলদী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেয়াজর পাড়া এলাকার সিএনজি চালক আবু হামিদের ছেলে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
স্থানীয়রা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে কোনো এক সময়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় রোমাইসা। খোঁজাখুজি শুরু হলে তাকে পুকুরে ভাসতে দেখা যায়। উদ্ধার করে চাম্বল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শিশু আবিরের চাচা বলেন, আজ দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পরিবারের অজান্তে আবির পুকুর পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পানির মধ্যে শব্দ পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানের চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, সকাল থেকে পানি পড়ে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে তার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
৮২৪ দিন আগে
বাঁশখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব নাটমুড়া গ্রামে দারোগা মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কালাম (৬৫) ওই এলাকার মৃত বশরত আলীর ছেলে।
বাঁশখালী পুকুরিয়া ইউপি সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, ভোরের নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করার সময় পেছন থেকে বন্য হাতি আক্রমণ করে। এসময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে তাড়া করলে হাতিটি অন্যত্র চলে যায়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নুরুল আলম আশেক জানান, সকালে ৯টা ২০ মিনিটে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় আবুল কালামকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
৯৩০ দিন আগে
বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে গেছে ৫ দোকান ও ১২টি অটোরিকশা
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে পাঁচ দোকান ও ১২টি অটোরিকশা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের জালিয়াখালী নতুন বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: শনিবার রাতে ঢাকায় দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
তবে তার আগেই আগুনে গ্যারেজে থাকা ১২টি অটোরিকশা এবং পাশের আরও পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের লিডার নুরুল বাশার বলেন, আমাদের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: ঢাকার আশুলিয়ায় বাসে আগুন
গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানে আগুন
৯৯২ দিন আগে
বাঁশখালীতে গৃহ পরিচারিকার লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় রাফিয়া বেগম নামে এক পরিচারিকার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৪ অক্টোবর) ছনুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনুমিয়াজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত রাফিয়া ছনুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাঁসপাড়া এলাকার আবুল হাশেমের স্ত্রী। এদিকে পুলিশ ও পরিবারের ধারণা রাফিয়া বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা : ওসি মিজানের ১০ বছর কারাদণ্ড
নিহতের বড় ছেলে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমার মা ৬ মাস ধরে ওই বাড়িতে কাজ করছেন। মা শারীরিক প্রতিবন্ধী। কেউ আমার মাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। আমরা খুনিদের বিচার চাই।’
বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব পোদ্দার বলেন, ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মৃত আরেফুল কাদের চৌধুরীর বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে থাকতেন রাফিয়া বেগম। ভোরে বাড়িসংলগ্ন পুকুরের ঘাটে রাফিয়া বেগমের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, লাশের কপালে, মুখে, মাথায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কেউ রাফিয়াকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে আসামি ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মারা গেল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সিংহী ‘নোভা’
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
১০৪৫ দিন আগে
বাঁশখালীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রামদাশ মুন্সির হাট পিএবি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল আরোহী মোহাম্মদ সায়মন (৩২) উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের বাঘগোনা এলাকার আব্দুস শুক্কুরের ছেলে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, দুপুরে মাইটপাড়া এলাকার একটি ইটভাটা থেকে মোটরসাইকেল যোগে ফিরছিলেন তিন ব্যক্তি। মোটরসাইকেলটি পিএবি সড়কে পৌঁছালে একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সায়মনের মৃত্যু হয়।
শহিদুল ইসলাম জানান, লাশটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।
বাসটি জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: জীবননগরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
১১০৬ দিন আগে
বাঁশখালীতে অতি বৃষ্টিতে ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. মিজবাহ (৩) সাধনপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বৈলগাঁও গ্রামের কৃষক রফিউল আলমের ছেলে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দেয়াল ধসে নিহতের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে অস্ত্রোপচার করে সুঁই বের করার সময় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. আব্দুল হামিদ বলেন, রাতের কোনো এক সময় দেয়াল ধসে শিশুটি মারা যায়। শিশুটির বাবা কৃষিকাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শিশুটির মা অসুস্থ। চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে আর্থিক অনটনে আছে পরিবারটি। তাই বর্ষা আসার আগে তারা বাড়িও মেরামত করতে পারেননি। অতি বৃষ্টির কারণে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: ভোলায় একদিনে পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
১১১৫ দিন আগে
বাঁশখালী-মেঘনাঘাট ৪০০ কেভি বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন চালু
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মদুনাঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট পর্যন্ত ৪০০ কেভি বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন চালু করেছে।
পিজিসিবি জানিয়েছে, ২৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনটি মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে চালু করা হয়েছে। এটি মেঘনাঘাট প্রান্ত থেকে চালু করা হয়েছে।
লাইনটি বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে চট্টগ্রাম শহরের মদুনাঘাট হয়ে মেঘনাঘাটে নবনির্মিত ৪০০/২৩০ কেভি গ্রিড সাবস্টেশনে বিদ্যুত সরবরাহ করবে।
আরও পড়ুন: নতুন রেকর্ড গড়ে বিদ্যুত উৎপাদন ১৫,৩০৪ মেগাওয়াটে
এর আগে গত ২৩ জুলাই মেঘনাঘাট থেকে ঢাকার আমিনবাজার পর্যন্ত ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়।
উভয় লাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪০০ কেভি লাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ায় উচ্চ ভোল্টেজ পাওয়ার ট্রান্সমিশন অবকাঠামো এখন আরও নিবিড় হয়েছে।
দীর্ঘতম ৪০০ কেভি লাইনটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: আদানি প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুত সঞ্চালন শুরু
খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আবারও ৫ শতাংশ বাড়ল, বুধবার থেকে কার্যকর
১১২৬ দিন আগে