অস্ট্রেলিয়া
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া-ইউনিসেফের ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সই করেন।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এ সহযোগিতার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ চুক্তি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ।
২০১৭ সাল থেকে এ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত মোট ১২৬ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা দিয়েছে।
নতুন এ ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করবে ইউনিসেফ।
১১৬ দিন আগে
টাইগারদের হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
চট্টগ্রামে লড়াকু বাংলাদেশকে মাত্র ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ছুড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৮৯ রানে থমকে যায়।
হাই-স্কোরিং ম্যাচের শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তার মাঝে নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন অ্যারন হার্ডি। শেষ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। তবে হার্ডির করা শেষ বলে ৩৫ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় আউট হলে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
শেষ ৬ বলে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। ওভারটিতে দুটি ওয়াইড দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয়ের কাছে একটি ছক্কা ও একটি চার হজম করে বসেন হার্ডি। তবে অজি পেসারের করা শেষ স্লোয়ার বলটি কাভার করতে গিয়ে ডিপ লং-অন অঞ্চলে টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়।
১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেটে ৭২ রান তুলে উড়ন্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাট রেনশর শিকার হন। এরপর মিডল ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান।
অন্যদের মধ্যে সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ বলে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে ইমন ও সাইফের বিদায় স্বাগতিকদের রান তোলার গতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস তার ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা টেনে ধরেন। অন্যদিকে হার্ডি ৪০ রান খরচায় নেন ২ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ উইকেটটি। এছাড়া অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই মাত্র ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। লেগ-স্পিনার নাসুম আহমেদ মাত্র ২৭ রান দিয়ে তুলে নেন জশ ইংলিশ (১১) ও নিখিল চৌধুরীর (৮) উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানও শুরুর দিকে আঘাত হেনে যথাক্রমে কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শকে সাজঘরে পাঠান।
তবে চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে অজিদের ম্যাচে ফেরান রেনশ ও ডেভিড। ২৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ডেভিড। পরে তিনি আব্দুল গফফার সাকলাইনের বলে আউট হন। সাকলাইন ৪ ওভারে ৫৩ রান দেন।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজানো তার এই নান্দনিক ইনিংসটিই সফরকারীদের ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পুঁজি এনে দেয়।
১২১ দিন আগে
শিশুদের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ‘পুরোপুরি’ না মানার অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেসবুক, ইনস্টগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মত কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশুদের এগুলোর ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ই-নিরাপত্তা কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানান। প্রতিবেদনে তিনি ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সী সকল অস্ট্রেলীয় শিশুদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইনের আওতায় ওই প্ল্যাটফর্মগুলো কী কী যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখবে অস্ট্রেলিয়ার আদালত।
জুলি ইনম্যানের রিপোর্টে বলা হয়, প্রায় ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় শিশুর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও অনেক শিশু এখনও তাদের অ্যাকাউন্টটি ধরে রেখেছে। তারা পুনরায় অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোতে আ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রদত্ত বয়স যাচাই পর্বও কোনোরকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই পাস করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ওই ১০টির মধ্যে অন্তত পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের কমপ্লায়েন্স নিয়ে তাদের ‘গুরুতর উদ্বেগ’ রয়েছে। তার দপ্তর ইতোমধ্যে এই পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছে, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয় সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা পালনে যথেষ্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
এই আইন না মানলে আদালত সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। ই-নিরাপত্তা সংস্থা খুব দ্রুতই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
২০১ দিন আগে
মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ছোট ভাইবোনকে বাঁচাতে তীব্র ঠান্ডা পানিতে উত্তাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা সাঁতরেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পার্থের বাসিন্দা ওই পরিবারটি কায়াক (ছোট নৌকা) এবং প্যাডেলবোর্ড নিয়ে সাগরে নেমেছিল। এর মধ্যে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল বাতাস তাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায় কিশোর অস্টিন অ্যাপেলবি এবং মা, ভাইবোনদের উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অস্টিন বলে, ‘ঢেউগুলো ছিল বিশাল এবং আমার গায়ে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।… আমি শুধু ভাবছিলাম—শুধু সাঁতার কাটতে থাকো, সাঁতার কাটতে থাকো। একসময় আমি তীরে পৌঁছাতে পারি এবং সৈকতে আঘাত করি ও পড়ে যাই।’
সে আরও জানায়, কায়াকে যাওয়ার সময় প্রথমে সে লাইফ জ্যাকেট পরেছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং প্যাডেলবোর্ডটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, তাই সে সেটি থেকে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতার কাটতে সমস্যা হওয়ায় লাইফ জ্যাকেটটিও খুলে ফেলে। তার ভাষ্য, তখন ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে সে।
সেদিন দুপুরের আগেই পরিবারটি তাদের সমুদ্র অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। অস্টিনের কর্তৃপক্ষকে জানাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মা জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭), ভাই বিউ (১২) এবং বোন গ্রেসকে (৮) উদ্ধার করে একটি হেলিকপ্টার।
পরিবারটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের কুইন্ডালুপ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা তারা পানিতে ভেসেছিল।
স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি বলেন, ছেলেটির কাজের কেবল প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, তার দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস তার মা এবং ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।
জোয়ান অ্যাপেলবি সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো ছেলেমেয়েদের সাগরের মাঝখানে রেখে তীরে চলে আসতে পারি না! তাই বড় ছেলেকে পাঠাই।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল অস্টিনকে বলা— চেষ্টা করো, তীরে গিয়ে সাহায্য নাও। কারণ আমরা খুব শিগগিরই বড় বিপদে পড়তে পারি।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অস্টিন তীরে পৌঁছাবে, কিন্তু যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং তখনও আমাদের কাছে সাহায্য পৌঁছায়নি, তখন ছেলের বিষয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।
জোয়ান অ্যাপেলবি বলেন, যখন আমাদের উদ্ধার করা হয়, তখন আমরা তিনজনই কাঁপছিলাম। তীব্র ঠান্ডায় বিউয়ের পা তো অবশই হয়ে গিয়েছিল। তবে আমার তিনটি বাচ্চা, তিনজনই বেঁচে আছে—এটাই আসল কথা।
২৫৭ দিন আগে
সিডনিতে গুলিতে ১৫ প্রাণহানির পর কঠোর অস্ত্র আইনের পথে অস্ট্রেলিয়া
সিডনির বন্ডি সমূদ্রসৈকতে ইহুদিদের হনুক্কা উৎসব চলাকালে গুলিবর্ষণে শিশুসহ ১৫ জন নিহতের ঘটনার পর জাতীয় পর্যায়ে আরও কঠোর অস্ত্র আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
এই ঘটনার তদন্তের পর জানা যায়, হামলাকারী ছিলেন দুজন। তারা পিতা-পুত্র। তাদের মধ্যে পিতার গত এক দশক ধরে অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসারেই ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
এই তথ্য সামনে আসার পর স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন, তা পুনর্নির্ধারণ করে নতুন অস্ত্র আইনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আর এ জন্য কঠোর অস্ত্র আইনের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বদলায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ চরমপন্থা দ্বারাও প্রভাবিত হতে পারে। তাই (আগ্নেয়াস্ত্রের) লাইসেন্স কোনোভাবেই আজীবনের জন্য হওয়া উচিত নয়।’
রবিবারের ওই হামলায় অন্তত ৩৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও একজন রাব্বি ছিলেন।
সৈকত-সংলগ্ন ছোট এক পার্কে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজার খানেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গরমের মধ্যে ওই সন্ধ্যায় সৈকতে প্রচুর ভিড় ছিল। এরই মধ্যে গুলি চালান দুই হামলাকারী।
গণহামলা ঠেকাতে অস্ত্র আইন
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতটিতে সংঘটিত এই নৃশংস হামলা দেশটিতে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনা। রাইফেলের মাধ্যমে ব্যাপক হারে গুলিবর্ষণ ঠেকাতে দেশটিতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে।
তারপরও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর এমন বর্বরতাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ। তিনি বলেছেন, এই ঘটনা গোটা দেশের হৃদয়ে আঘাত করেছে। যত দ্রুত সম্ভব এই ধরনের নৃসংশতা ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউ সাউথ ওয়েলসের নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি অস্ত্র আইনসংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। কারণ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নে রাজ্য আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার কথায়, ‘কিছু আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণয়ন করা যায়, কিন্তু আরও কিছু আইন রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়নের এখতিয়ার রাজ্য সরকারগুলোর। আমরা চাই সবাই যেন সম্পূর্ণভাবে সমান অবস্থানে থাকে।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার (রাজ্য সরকারপ্রধান) ক্রিস্টোফার মিন্স আলবানিজের প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তিনিও মনে করেন, অস্ত্রের লাইসেন্স আজীবনের জন্য দেওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের রাজধানী সিডনিতে সাংবাদিকদের মিন্স বলেন, ‘রাজ্যের বিদ্যমান অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদে একটি বিল উপস্থাপন করা হবে, যাতে এসব ভয়ংকর অস্ত্র প্রাপ্তি আরও কঠিন হয়। আমাদের সমাজে যেসব অস্ত্রের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।’
৩০৭ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে ৪০টি বাড়ি ভস্মীভূত, এক ফায়ার ফাইটার নিহত
অস্ট্রেলিয়ার দুই অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৪০টি বাড়ি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কমিশনার ট্রেন্ট কার্টিন জানান, নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বুলাহডেলা শহরের কাছে রবিবার রাতে একটি দাবানল নেভানোর সময় ৫৯ বছর বয়সী ওই ফায়ার ফাইটারের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে তাকে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি।
রবিবারে লাগা ওই আগুনে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর (৮ হাজার ৬৫০ একর) বনভূমি এবং চারটি বাড়ি পুড়ে গেছে।
কার্টিন বলেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আরও কয়েক দিন কাজ চালিয়ে যেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩১৫ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফেনীর শিক্ষার্থী নিহত
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আদিব ফারহান (২০) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। রবিবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে নিউক্যাসল শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আদিব ফারহান ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার ঢাকার নাখালপাড়া এলাকায় বসবাস করছে। ছয় মাস আগে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি।
পড়ুন: যশোরের মনিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত, আহত বাবা-মা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আদিব চার বন্ধুসহ ভোরে নাশতা করতে বেরিয়েছিলেন। পথে তাদের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে আদিব ফারহানসহ সবাই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আদিবসহ দুই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজনও চিকিৎসাধীন।
নিহতের চাচা আবুল হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদিব ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। তিনি এ লেভেল, ও লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আদিবের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
৪১৩ দিন আগে
সিডনির বায়ুদূষণ চরমে, জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত, বায়ুদূষণে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলো তালিকার শীর্ষস্থানগুলো দখল করে থাকলেও ইউরোপ-আমেরিকার ধনী দেশগুলোর শহরগুলোকে এই তালিকায় দেখা যায় না। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত, পরিচ্ছন্ন দেশের কোনো শহর এই তালিকায় থাকবে— তা একপ্রকার অকল্পনীয়। তবে কল্পনাকে হার মানিয়ে সেই দৃশ্য দেখা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিসহ বেশ কয়েকটি শহরে বায়ুদূষণ চরমে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, সিডনির বাতাসের একিউআই স্কোর ৫১৯— হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী স্কোর ৩০০’র বেশি হলেই যা ‘বিপজ্জনক’, সেখানে সিডনির বাতাসের মান ৫০০’র বেশি, একেবারে ‘বিপর্যয়কর’।
হঠাৎ করে সেখানকার বাতাসের মানে এমন চরম অবনতি কেন, তা জানতে দেশটির শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতে ঢুঁ মারলে দেখা যায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া থেকে উঠে আসা এক ধুলিঝড় এসে সিডনির আকাশ ঢেকে দেয়। ঘন ধুলার কুয়াশায় হারিয়ে যায় শহরের পরিচিত দৃশ্যপট— হারবার, স্কাইলাইন, এমনকি দূরের ব্লু মাউন্টেনসও বা নীল পর্বতশ্রেণিও।
আরও পড়ুন: আন্তঃদেশীয় বায়ুদূষণ রোধে মাথা ব্যথা নেই সরকারের
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল নিউজ ডটকমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সিডনির কিছু এলাকায় বায়ুদূষণের জন্য দায়ী বস্তুকণা পিএম১০-এর মাত্রা পৌঁছায় ৬০০ মাইক্রোগ্রামে। সিডনির দক্ষিণে অবস্থিত নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চল ইলাওয়ারায় এই মাত্রা ছিল আরও বেশি, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ৯০৩.২ মাইক্রোগ্রাম।
এটি কতটা বিপর্যয়কর দুটি উদাহরণ থেকে চলুন বুঝে নেই। একই সময়ে আইকিউএয়ারের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৭৩, মানে ‘অস্বাস্থ্যকর’। আর সেখানে পিএম ২.৫ দূষণ কণার উপস্থিতি ছিল প্রতি ঘনমিটারে মাত্র ৮৭।
পিএম ২.৫ কণা প্রতি ঘনমিটারে ৮৭ থাকলেও লাহোরের বাতাস কেবল সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর নয়, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর। সেখানে সিডনি বা ইলাওয়ারায় দূষণ কণা ছিল পিএম১০, যা আরও ক্ষতিকর এবং তার পরিমাণ তালিকার দুইয়ে থাকা লাহোরের চেয়ে ১০ গুণের বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দূষিত বায়ুর শহর ভারতের রাজধানী দিল্লির বাতাসের এই মান ছিল তখন ১০৭, যা পরে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায় নেমে আসে ৫৭-তে।
এসব সূক্ষ্ম কণা ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা ব্রঙ্কাইটিসের উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাও সৃষ্টি করতে পারে বলে নাগরিকদের সতর্ক করেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এমন পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে যারা হাঁপানি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বাইরে না যাওয়া, ঘরের জানালা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজনে নাক-মুখ ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বায়ুদূষণের কারণে স্বাস্থ্যগত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বাসিন্দাদের ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন ১৮০০ ০২২ ২২২-এ যোগাযোগ করতে কিংবা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ০০০ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস রুরাল ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খরার কারণে সৃষ্ট ধুলা প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় রূপ নিয়ে সিডনি ও আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল ৮টার দিকে শহরের বাতাসের মান চরমে পৌঁছালেও ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে অবশ্য তা কিছুটা কমে আসে বলে খবরে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুপুর পড়তেই ঢাকার বাতাসের মানে লক্ষণীয় উন্নতি
ও হ্যাঁ, আজ সকালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যখন বায়ুদূষণে নগরবাসী নাকাল, তখন প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে কেমন আছে আমাদের ঢাকা, তা তো বলা হলো না!
আজ সকাল ৯টায় রাজধানী ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৬০, আইকিউএয়ারের মতে বাতাসের মান ‘ভালো’ থেকে ১০ দূরে; অর্থাৎ ‘মাঝারি’ হলেও তা মন্দ নয়। আর দূষিত শহরের তালিকায় অবস্থান? ৪২তম।
৫১০ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলেন আলবানিজ
নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের মধ্যদিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্থনি আলবানিজ।
আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে না। তবে সারা দেশে লিবারেল ন্যাশনাল জোটের শোচনীয় পরাজয়ের পর আলবানিজের বামপন্থী সরকার নাটকীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
আরও পড়ুন: গোয়েন্দাদের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে যুদ্ধ হয়: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শনিবার (৩ মে) আলবানিজ বলেছেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়ার জনগণ মূল্যবোধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, ন্যায্যতা, আকাঙ্ক্ষা ও সুযোগ সৃষ্টির জন্য। এটি প্রতিকূলতায় সাহস দেখানোর শক্তি এবং যাদের প্রয়োজন তাদের প্রতি দয়া দেখানো।’
জোট নেতা পিটার ডাটন নিজের ২৪ বছর ধরে জয় পাওয়া নিজের আসনে হেরেছেন। তিনি দলের পরাজয়ের জন্য নিজের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে দলীয় এমপিদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৫৩৩ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে ফাইনালে ভারত
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার দুঃস্বপ্ন এখনও তাড়া করে বেড়ায় ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকদের। তবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে ফাইনালে উঠে এতদিন পর সেই ক্ষতে প্রলেপ দিয়েছে রোহিত শর্মার দল।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে চার উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত।
এদিন টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করে ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতেই ২৬৪ রান তুলে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ৯৬ বলে ৭৩ রান করে দলটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। এছাড়া মিডল অর্ডারে নামা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি করেন ৬১ রান।
ভারতের হয়ে দশ ওভারে মাত্র ৪৮ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ শামি। এছাড়া দুই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও রবীন্দ্র জাদেজা নেন দুটি করে উইকেট।
২৬৫ রানের জবাবে খেলতে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারালেও ১১ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ভারত।
তিনে ব্যাট করতে নামা বিরাট কোহলিই এদিন ভারতের জয়ের ভীত গড়ে দেন। ৯৮ বলে ৮৪ রান করার পথে শ্রেয়াস আইয়ার (৪৫), অক্ষর প্যাটেল (২৭) ও লোকেশ রাহুলের (৪২*) সঙ্গে গড়েন যথাক্রমে ৯১, ৪৪ ও ৪৭ রানের জুটি।
পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই যখন জয়ের সুবাতাস পেতে শুরু করেছে ভারত, ঠিক তখনই একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে আউট হন ২৪ বলে ২৮ রান করা হার্দিক পান্ডিয়া। পরে জাদেজাকে নিয়ে ভারতীয়দের জাহাজ জয়ের বন্দরে নোঙর করেন রাহুল।
এদিন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পেলেও কার্যকর সময়ে ভারতীয় ব্যাটারদের প্যাভিলিয়নে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুর দিকেই কেবল ভারতকে রুখে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয় দলটি। পরে সময় যত গড়িয়েছে, জয়ের পাল্লা ভারতের দিকেই তত ভারী হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস ৪৯ রান খরচ করে এবং অ্যাডাম জ্যাম্পা ৬০ রানে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেই বিদায় নিতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচটি জিতলেও বৃষ্টির কারণে পরের দুই ম্যাচ পণ্ড হয়। ফলে ওই এক ম্যাচ জিতেও অপরাজিত থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দুবারের শিরোপাধারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ২৬৪/১০ (৪৯.৩ ওভার) (স্মিথ ৭৩, ক্যারি ৬১, হেড ৩৯; শামি ৩/৪৮, জাদেজা ২/৪০, চক্রবর্তী ২/৪৯)।
ভারত: ২৬৭/৬ (৪৮.১ ওভার) (কোহলি ৮৪, আইয়ার ৪৫, রাহুল ৪২*; এলিস ২/৪৯, জ্যাম্পা ২/৬০)।
ফলাফল: ভারত চার উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বিরাট কোহলি।
৫৯৩ দিন আগে