ঈদুল আজহা
ঈদের দিন সুদানের গ্রামে চালানো হামলায় নিহত ২৭
সুদানের উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে একটি গ্রামে ঈদুল আজহার সময় চালানো হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক । এ হামলার জন্য আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বাহিনীকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, আধাসামরিক আরএসএফ বাহিনী বৃহস্পতিবার নর্থ কর্ডোফানের বারাহ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মুররাহ এলাকার কয়েকটি গ্রামে হামলা চারিয়েছে। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে হামলা চালানো হয় ।
সংগঠনটি জানায়, সামপ্রতিক যুদ্ধের কারণে সুদানে সাধারণ মানুষ যে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই হামলা চলমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলে আসছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এই দুই বাহিনীর মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে কর্ডোফান অঞ্চল সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা বর্তমানে পশ্চিম দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা কর্ডোফান অঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চলই তেলক্ষেত্র ও স্বর্ণখনিতে সমৃদ্ধ। এছাড়া বারাহ শহর নিয়েও আরএসএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে জানায়, গ্রাম ও বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং এভাবে নাগরিকদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সুদানের সাউথ কর্ডোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট নর্থ বাহিনী এবং ওতোরো গোত্রের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ৬১ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ টি শিশুও ছিল।
এছাড়া গত সপ্তাহে মধ্য দেশটির একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।
যুদ্ধের ফলে দেশটির বহু এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সুদানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
২১ ঘণ্টা আগে
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ডিএসসিসির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় কোরবানির পশু ও অস্থায়ী হাটের বর্জ্য দ্রুত অপসারণে নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে করপোরেশন।
নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ উপহার দিতে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি চলমান বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত কাজ শেষ করার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণের প্রতিশ্রুতি
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ঈদুল আজহার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৬ টন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
ডিএসসিসির তথ্যমতে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্প করা হয়েছে।
অবৈধ হাট পরিচালনায় কঠোর ব্যবস্থা
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট নির্ধারিত স্থানের বাইরে সম্প্রসারণ কিংবা অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে তাদের জরিমানা আরোপসহ কালোতালিকাভুক্ত করা হবে।’
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করা, পশুর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আন্তরিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত জনবল, যানবাহন, কনটেইনার ও পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো কার্যক্রম তদারকিতে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
১ দিন আগে
অধিকাংশ চরাঞ্চলে নেই ঈদের আনন্দ, হয়নি পশু কোরবানি
উত্তরের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে এবার ঈদুল আজহা এসেছে নিঃশব্দ বেদনা হয়ে। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা শত শত চরে নেই উৎসবের রঙ, কোরবানির আনন্দ। কোথাও ঈদের দিনেও হাঁড়িতে ওঠেনি মাংস, কোথাও আবার নদীভাঙনের আতঙ্কে মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বসতভিটা।
রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় প্রায় ৭০০টি চর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর কুড়িগ্রামে, প্রায় ৪৫০টি। প্রতিটি চরে বসবাস করে ১৫০ থেকে ৫০০ পরিবার। এসব চরবাসীর প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। কিন্তু এবার আলু, ধান, ভুট্টাসহ প্রায় সব ফসলেই লোকসানের কারণে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে। অধিকাংশ চরেই হয়নি পশু কোরবানি।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধান এলাকার কৃষক মকবুল হোসেনের বয়স এখন ৬৮। জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে মাঠে-ঘাটে। কিন্তু এবারের ঈদ তার কাছে উৎসব নয়, বরং দীর্ঘশ্বাসের আরেকটি দিন। উঠানে ধান শুকালেও ঘরে নেই ঈদের আনন্দ, শিশুদের নতুন জামার হাসিও নেই।
১১ বিঘা জমিতে আলুচাষ করে ৩ লাখ টাকার বেশি লোকসান গুনেছেন তিনি। এখনও তার মাথায় আড়াই লাখ টাকার ঋণ। ভেবেছিলেন বোরো ধান হয়তো কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু ভালো ফলন হলেও বাজারদর তাকে আরও হতাশ করেছে।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ৯৫০ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। ধান, আলু, ভুট্টা—সবখানেই লোকসান। কয়েক দফা কালবৈশাখীতে সবজিও নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষিকাজে এবার শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি। মনে কোনো শান্তি নেই। ঈদের আনন্দও নেই।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর বুকে দ্বীপচর ফলিমারীতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। গত কয়েকদিন ধরে নদীভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চরে। ঈদের দিনেও নদীর তীরে চলেছে ভাঙন। ফলে উৎসবের বদলে উৎকণ্ঠাই এখন সঙ্গী। গত বছর এই চরে দুটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি হলেও এবার কোনো পশু কোরবানি হয়নি।
১ দিন আগে
নিজ গ্রামে ঈদের নামাজ আদায় করলেন ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিজ এলাকায় পরিবারের সকলের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টায় তেঁতুলিয়া পূর্ব পাড়া ঈদগাহ ময়দানে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন।
নামাজে তার সঙ্গে তার বাবা ও ভাইসহ এলাকার অন্যান্য মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা পরিবারের মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে দোয়ায় অংশ নেন। নামাজ ও দোয়া শেষে মোস্তাফিজের পরিবারের পক্ষ থেকে পশু কুরবানি করা হয়।
২ দিন আগে
ঈদের দিন দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ঝরল দুই শিশুর প্রাণ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা দুই শিশু নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশু দুটির মা ফরিদা বেগম (২৫) ও দুলালী বেগম (২০)। অটোরিকশাচালকও এ ঘটনায় সামান্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিন ভোর সোয়া ৪টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত আব্দুল্লাহ (৪) জয়পুরহাটের পাঁচবিবির রশিদপুর গ্রামের মোহাম্মদ শামসুল হকের ছেলে। নিহত আরেক শিশু আরিফা (৪) দিনাজপুরের হাকিমপুরের বারো আরিয়া মাটিকাটা গ্রামের আল আমিনের মেয়ে ছিল সে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে বিকল্প কোচে চড়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাদুরিয়ান এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিল দুই পরিবারের দুই শিশুসহ দুই নারী। গোবিন্দগঞ্জে কোচ থেকে নেমে অটোরিকশায় চড়ে গন্তব্যে যাবার সময় ঘোড়াঘাটের কানাগাড়ী বাজার হাইওয়ে এলাকায় ভোর সোয়া ৪টার দিকে বৃষ্টির কারণে ধীরগতিতে চলা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটি উল্টে যায়। এরপর তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে শিশুদুটিকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের চিকিৎক।
এছাড়া ওই দুই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
২ দিন আগে
গোর-এ-শহিদ বড় ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত
উৎসাহ, উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কঠোর নিরপত্তায় দেশের মধ্যে বৃহত্তম দিনাজপুরের গোর-এ-শহিদ বড় ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন প্রায় মুসল্লি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় আয়োজিত নামাজে অংশ নিতে আশপাশেরসহ দূর-দূরান্তের মুস়ল্লিরা শরিক হন।
নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমি। নামাজে উপস্থিত ছিলেন এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নামাজ শেষে সামাজিক অপরাধ নির্মুলে হেদায়েত কামনাসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন তারা।
বেশি সওয়াবের আশায় বড় ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা।
২ দিন আগে
ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবার আমরা ঈদ উদযাপন করছি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এবার এমন এক পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঈদুল আজহা উদযাপন করছি যখন বিশ্বের নানা জায়গাতে সংকট চলছে। দেশে নবনির্বাচিত সরকার একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে আমাদের কাজে নিয়োগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দেশবাসীর কাছে আমরা ঈদের দিন দোয়া কামনা করি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল স্কুল ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ উৎসবের মধ্য দিয়ে ত্যাগের মহিমাকে সামনে তুলে ধরা হয়। সর্বশক্তিমানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়, প্রতি বছর ঈদুল আজহার মধ্য দিয়ে সেই মূল্যবোধকেই জাগ্রত করা হয়।
পরে তিনি সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ঈদগাহ মাঠে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত
মুষলধারে বৃষ্টি ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত। চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ জামাতে প্রায় লাখো মুসল্লি অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন বড়বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশ থেকেও আগত মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোর থেকেই জায়নামাজ হাতে দলে দলে মুসল্লিরা শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসতে শুরু করেন। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা। রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ঈদের জামাত।
জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে প্রবেশের আগে প্রত্যেক মুসল্লিকে তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
মাঠ ও প্রবেশপথজুড়ে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। ছিল চারটি ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সহায়তায় কাজ করেন বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসক দল। রাখা হয় সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালানো হয় ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিদের অনেকে জানান, শোলাকিয়ার বিশাল জামাতে অংশ নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে—এমন বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগ থেকেই প্রতি বছর তারা এই ঐতিহাসিক ঈদগাহে ছুটে আসেন।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, এবারের জামাতে প্রায় এক লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। তিনি বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের জন্য পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামী রমজানের ঈদের আগেই মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সর্বোচ্চ মানের।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
২ দিন আগে
ঈদুল আজহায় ত্যাগ, সাম্য ও সহমর্মিতার মূল্যবোধ ধারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ত্যাগ, সাম্য, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার ও মনের পশুত্বকে কুরবানি করার এক চিরন্তন ও সর্বজনীন আহ্বান।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, ইসলামের সাম্য, সম্প্রীতি ও ত্যাগের অনুপম মহিমায় আমরা আজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছি। ঈদের শিক্ষা আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি সুদৃঢ় করতে উদ্বুদ্ধ করে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কুরবানির ঈদ সমাজের অসচ্ছল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিসঞ্চারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
তিনি বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমি সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা কুরবানির আনন্দ, বঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষ, এতিম, অভাবগ্রস্ত আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে ভাগাভাগি করে নিন। তাদের ন্যায্য হক আদায়ে এগিয়ে আসুন এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করুন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কুরবানির বর্জ্য দ্রুত ও যথাযথভাবে অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাই সচেতন থাকুন।
তিনি আরও বলেন, বিভেদ নয়, ঐক্য; হিংসা নয় সহমর্মিতা; স্বার্থপরতা নয়, ন্যায়পরায়ণতা; বৈষম্য নয়, সাম্য—পবিত্র ঈদুল আজহার এই মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ হৃদয়ে ধারণ করে আসুন, আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার মহিমান্বিত বার্তা মানবতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক। আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক প্রশান্তি, সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধি—এই প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন।
এর আগে, আজ সকালে জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নিয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ নামাজে অংশ নেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে হাত তোলেন।
২ দিন আগে
বৈষম্য দূর করে আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই: মির্জা ফখরুল
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে থেকে সাম্য ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের ঢল নামে। ঈদের জামাত শেষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, মানবতা ও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দেশের যারা দুস্থ, দরিদ্র ও বৈষম্যের শিকার, তাদের বৈষম্য দূর করে আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।
কোরবানিকে আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো হত্যা নয়, বরং মানুষের ভেতরের কলুষতা দূর করার একটি প্রতীকী শিক্ষা। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, ওরে হত্যা নয় আজ, সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন।
ঈদের জামাতে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন আলহাজ মাওলানা মো. খলিলুর রহমান। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে