প্রণোদনা কর্মসূচি
৩৮,৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ নামে পরিচিত রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় ডিজিটাল বোতাম চেপে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় ১৫ জন আখচাষিকে চেক প্রদান করেন তিনি।
বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাইদ চাঁদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা।
এর আগে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
রাজশাহীতে কর্মসূচি শেষ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এর আগে ঢাকা থেকে সামরিক উড়োজাহাজে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। উড়োজাহাজটি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন তিনি। পরে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
৬ দিন আগে
মাগুরায় ভারতীয় নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষে সফলতা
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় পরীক্ষামূলক ভারতীয় নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষে সফলতা এসেছে। জাতটি মূলত গ্রীষ্মকালীন। ফলে দেশে শীতকালীন পেঁয়াজ শেষ হলে বাজারে যে সংকট দেখা দেয় তা মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলার কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মূলত পরীক্ষামূলক জাতটির চাষ করা হয়েছে।
পেঁয়াজের বাজারদরে যে কতোটা আগুন লাগতে পারে তা এর আগে মোটামুটি সবাই দেখেছে। ভারতসহ একাধিক দেশ থেকে তখন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। এ কারণেই দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।
এবার বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ৩০ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে জাতটির চাষ শুরু করা হয়। এই পেঁয়াজের বীজ, সার ও বীজতলা করার পলিথিনসহ বীজতলা তৈরির সকল উপকরণ চাষিদের বিনামূল্যে দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় পেঁয়াজ চারা সঙ্কটের আশঙ্কা
গত সেপ্টেম্বরে চাষিরা বীজতলা করেন। এরপর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করেছেন। এখন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলাতে ৩০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এই পেঁয়াজ চাষে উপজেলার ২২৫ জন চাষিকে এক কেজি বীজ ও সারসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে ৫৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা। হেক্টর প্রতি ১৮ মেট্রিক টন ফলনের আশা কৃষি বিভাগের।
ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহ থেকে নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ মণ। লাল রঙের প্রায় প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন হয়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছেন তারা। অসময়ে চাষ ও ফলন ভালো হওয়ায় অনেক এই পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী বছর এ পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: পেঁয়াজ সংরক্ষণে আলোর মুখ দেখাচ্ছে ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’
উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কুদলা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, আমি এই পেঁয়াজের চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। এক একটি পেঁয়াজের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়েছে। এই পেঁয়াজ তোলার পর এই জমিতে আবারও পেঁয়াজ লাগাবো। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সারসহ সব জিনিস বিনামূল্যে দিয়েছে। বিভিন্ন সময় কৃষি উপ-সহকারী অফিসাররা খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী বছর এ পেঁয়াজ আরও বেশি লাগাবো।
উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের কৃষক মোকাদ্দেশ হোসেন বলেন, আশেপাশের কৃষকেরা পেঁয়াজ দেখে অবাক হচ্ছেন এবং এ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলন ভালো হয়েছে। পাট কিংবা আউশ ধান তোলার পরে জমিটা আগে পতিত পড়ে থাকতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে বাড়তি আয় হলো। আগামী বছরও এই পেঁয়াজ চাষ করবো।’
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী মেহেদি হাসান জানান, শীতকালে তাদের এলাকায় স্থানীয় ‘মুড়িকাটা’ নামের একটি জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়। বর্ষাকালে দেশে বারি পেঁয়াজ-৫ চাষ হয়। কিন্তু এই পেঁয়াজের বীজের খুব সংকট। এ জন্য বর্ষাকালে কোনো পেঁয়াজই চাষ হতো না। এবার নাসিক এন-৫৩ জাতের (গ্রীষ্মকালীন) চাষ হয়েছে। পতিত পড়ে থাকা জমিতে এই পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকেরা বাড়তি টাকা আয় করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সালমা জাহান নিপা বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে নাসিক এন-৫৩ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আগামীতে চাষ আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হিলির আড়তগুলোতে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে
১৩৭৪ দিন আগে
করোনা মোকাবিলায় আরও ২ প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন
দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গতি সঞ্চার এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২ হাজার ৭০০ কোটির টাকার আরও দুই প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে সরকার।
২১০৮ দিন আগে