আইসিইউ
ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ দিয়ে নয়, হাম ঠেকাতে টিকাই একমাত্র পথ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর দিয়ে নয়, সঠিক সময়ে কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমেই কেবল হামের মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিস্তার ও মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, ‘২০২৪ সালের টিকাদান ক্যাম্পেইনে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই ফল আজকের এই মহামারি। হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড বসিয়ে এই মৃত্যুর ঢল থামানো যাবে না। প্রতিরোধ এবং টিকাদানই এর একমাত্র সমাধান।’
অবাস্তব আশ্বাসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ালেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তবে এ সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে।
শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৫টি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে। তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য (পেডিয়াট্রিকস), মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—এই চার মূল বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের কথা জানিয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে খুব দ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। সংকট কাটাতে শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জনবল কাঠামোকে ভারসাম্যপূর্ণ (পিরামিড শেপ) করতে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, বারডেম কিংবা হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত কিন্তু সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ। ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবা না থাকায় সারা দেশ থেকে রোগীদের রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। তাই ঢাকার ইনস্টিটিউটগুলোর মতো একই মানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।
এ সময় হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর, বি-এর যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে এই গবেষণার মূল ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত যৌথভাবে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর, বি-র ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে ছড়িয়ে পড়া হামের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘B3’ ধরনের বিস্তার এবং টিকাদান ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি। বিশেষ করে ৯ মাস বয়সের আগেই মায়ের দেওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যাওয়ায় এবং নিয়মিত টিকাদানে অবহেলার ফলে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছে।
৭ দিন আগে
দেশের ৩৮ জেলাতেই কোনো আইসিইউ নেই: জোবাইদা রহমান
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জোবাইদা রহমান জানিয়েছেন, দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা সেবার সংকট। তিনি বলেছেন, বর্তমানে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি এবং সাধারণ শয্যা রয়েছে মাত্র ৯টি। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলাতেই কোনো ধরনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। এছাড়া দেশের মোট ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জোবাইদা রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন, কিন্তু ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।’
সংকটের চিত্র তুলে ধরে ডা. জোবাইদা রহমান জানান, দেশে শুধু শয্যার অভাবই নয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (যেমন: অ্যানেসথেটিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নিউরোলজিস্ট), দক্ষ নার্স ও বিশেষায়িত সরঞ্জামেরও তীব্র সংকট রয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আরও বলেন, ‘গুরুতর রোগীদের জন্য দূরত্ব ও যানবাহন একটি বড় অন্তরায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব না হলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে আনা সম্ভব। তাই প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিশ্চিত করা জরুরি।’
সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও আমাদের চিকিৎসক ভাই-বোনেরা দিনরাত পরিশ্রম করে রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এবং অনেক পরিবারের আশার আলো বাঁচিয়ে রাখছেন।’
একটি মৃত্যু যেন কোনো পরিবারকে সর্বস্বান্ত না করে, সেজন্য আগামীতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা সেবার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন ডা. জোবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৬ দিন আগে
জেলা পর্যায়ে পুনরায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালুর প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
করোনা মহামারিকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত ও পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটগুলো আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট চালু করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতায় একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেডিকেল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে, যেন তারা চাপের মুখে পড়ে হতাশায় না ভোগেন।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি খাতগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রত্যাশা আপনারা আপনাদের দায়িত্ব মানবিকতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন। রোগীরা সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি আস্থার স্থানে রাখেন। তাই মেডিকেলে নৈতিকতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষার আধুনিকায়নের উপায় খুঁজছি। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো শিক্ষা পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে আত্মহত্যা প্রবণতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল শিক্ষায় ঋণের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে এই ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক, কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে রিকোভারির বিষয়টিও ভাবতে হবে। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যথেষ্ট ত্যাগ ও ধৈর্য নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালেও তারা রোগীদের জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়। বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ প্রমুখ।
১৩৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
অযত্ন-অবহেলায় যেন নিজেই রোগী হয়ে যাচ্ছে ভারত সরকারের উপহার পাওয়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীর নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থেকে থেকে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এখন কর্তৃপক্ষের বোঝস্বরূপ পড়ে আছে হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন বিল্ডিংয়ের এক কোণে পড়ে আছে এই অ্যাম্বুলেন্সটি। অবশ্য এর আগে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভেতরেও পড়েছিল ভারতের উপহারের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি।
আরও পড়ুন: সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টাকা নিয়ে হাওয়া, ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্কে ফেনী পৌরবাসী
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকার উপহার হিসেবে যেসব অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশ পেয়েছিল, তাদেরই একটি পায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়।
সে দিনই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেওয়ার প্রায় সাড়ে ৩ বছর পার হয়ে গেলেও চালু করা হয়নি এর সেবা। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা যাচ্ছে না। এ যেন গাড়ি থাকলেও ঘোড়া না থাকার মতো অবস্থা।
জানা যায়, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্স তো পরের কথা, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ সেবা চালু নেই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। যে কারণে এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যবহার এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর বিষয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার রায় বলেন, ‘রোগী বহনে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়ে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইসিউই ইউনিট চালু হলে অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা যাবে।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। তবে সেটি সচল করে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন। জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।’
৫২৩ দিন আগে
আইসিইউতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ
বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবস্থার অবনতি হলে আজ রাত ৩টার দিকে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বিএসএমএমইউ’র সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।
শামসুদ্দিন দিদার আরও বলেন, এছাড়া গতকাল সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে তার হার্ট ফেইলিওর হয়েছে এবং তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে।
আরও পড়ুন: সালাহউদ্দিন আহমেদকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে বন্দি রেখেছে: রিজভী
নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন বিএনপির সাবেক এই সংসদ সদস্য।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো.মাহাবুবুল আলম বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ৪ অক্টোবর তাকে বিএসএমএমইউর সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালের কারাকক্ষে স্থানান্তর করা হয়।
৩ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গ্রেপ্তার
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়েছে: অভিযোগ ছেলের
১০০৯ দিন আগে
বিএসএমএমইউয়ে শিশু নেফ্রোলজি বিভাগে আইসিইউ উদ্বোধন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশু নেফ্রোলোজি বিভাগে দুটি শয্যা বিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় (২৯ আগস্ট) বিশ্বিবদ্যালয়ের ডি ব্লকের তৃতীয় তলায় শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের ওয়ার্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এ দু’টি শয্যার শুভ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে নেফ্রোলজি বিভাগের এ আইসিইউর সফলতা কামনা করে দোয়া করা হয়া। এ আইসিইউ দু’টি চালুর ফলে শিশু কিডনি জটিল রোগীদের অন্য কোথাও নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত কিডনি রোগে আক্রান্ত শিশুদের এখানেই সেবা দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন গবেষণার উদ্যোগ নেবে বিএসএমএমইউ
ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএসএমএমইউয়ের বর্তমান প্রশাসন স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণায় নতুনত্ব আনার জন্য কাজ করছে। এসব কাজে নিত্য নতুন প্রযুক্তি ও সুবিধা সংযোগ করাই আমাদের লক্ষ্য। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বর্তমানে এ হাসপাতালের সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ সময় বিএসএমএমইউয়ের উপউপাচার্য ( গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জণ রায়, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, হল প্রোভোস্ট অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তাফা জামান, শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বিএসএমএমইউয়ের ফিটোম্যার্টানাল বিভাগে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ডা. তাবাসুম পারভীনকে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ নিয়োগ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিএসএমএমইউ কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পদ পেতে জালিয়াতির অভিযোগ
১০৯৩ দিন আগে
সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মাসুদ রানা নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৪ জনে।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিইউর চিকিৎসক ডা.হারুনুর রশিদ।
নিহত মাসুদ রানা (৩৬) জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা এবং ওই কনটেইনার ডিপোর শ্রমিক বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এএসআই )মো. আলাউদ্দীন তালুকদার বলেন, ওই শ্রমিক কনটেইনার ডিপোতে মাল লোড-আনলোডের কাজ করতেন। পরবর্তী নিয়ম অনুসরণ করে তার লাশ হস্তান্তর করা হবে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তায় প্রস্তুত ভারত
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন,বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৫ জন রোগীর অবস্থা গুরুতর।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৪ জুন) বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত পৌনে ১১টায় এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে টানা ৭২ ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন সিএমএইচের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: ফায়ার সার্ভিসের আরও ৩ সদস্য নিখোঁজ
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করে। ফলে মৃতের সংখ্যা ৪৩ হয়।
মঙ্গলবার বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রাতে ডিপো থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যাওয়ায় আগুন নেভানোর জন্য দমকলকর্মীরা এখনও ডিপোতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।
আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যেই তিনটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: নিহতদের পরিচয় শনাক্তে চলছে ডিএনএ টেস্ট
১৫৪০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় অবহেলায় পড়ে আছে ভারতের উপহারের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
চুয়াডাঙ্গায় ভারত সরকারের দেয়া উপহারের অ্যাম্বুলেন্সটি অবহেলায় পড়ে আছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভেতরে। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেয়ার পর ৬ মাস পার হয়ে গেলেও চালু হয়নি জীবনরক্ষাকারী এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকার উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত একটি অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়। সেদিনই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালু নেই। ছিল না একটিও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। করোনা মহামারির সময়ে গত বছরের ৭ আগস্ট সাজেদা ফাউন্ডেশন নিজস্ব জনবলে ও যন্ত্রপাতি নিয়ে অস্থায়ীভাবে সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে আইসিইউ ও এইচডিইউ ইউনিট চালু করে। তবে জেলায় করোনা মহামারির প্রকোপ কমতে শুরু করায় চুক্তি শেষ হওয়ায় ফাউন্ডেশনটি আইসিইউ সেবা বন্ধ করে দেয়। তবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। যে কারণে এ জেলার একমাত্র আইসিইউ সুবিধার অ্যাম্বুলেন্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকেই ঝুঁকি নিয়ে অসুস্থ রোগীদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় অনেক প্রাণহানির ঘটনার সর্ম্পকে জানা গেছে। এ অবস্থায় এ জেলার সাধারণ মানুষ অত্যাধুনিক ও জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আতাউর রহমান বলেন, রোগী বহনে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না। লাইফ সাপোর্ট না পাওয়ায় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে অনেক সময় কার্ডিয়াক রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সটির সেবা চালু হলে বিপদ অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইসিউই ইউনিট চালু হলে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটিও সচল হবে বলে আশা করছেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাত হাসান বলেন, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। তবে সেটি সচল করে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন। জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা যাচ্ছে না।
তবে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে থাকায় তিনিই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে সিভিল সার্জন জানান।
আরও পড়ুন: ভারতের উপহার ৩০ অ্যাম্বুলেন্স পেট্রাপোল বন্দরে
ভারতের উপহার আরও ৪০ অ্যাম্বুলেন্স পেট্রাপোলে
১৫৪৪ দিন আগে
জ্যোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই
প্রখ্যাত গীতিকার ও জ্যোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরী (৭৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি ক্লিনিকে তিনি মারা যান।
মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাতিজি শাতিলা আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমার চাচা, গীতিকার ও জ্যোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরী মারা গেছেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমীন।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরদিন পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ধানমন্ডি ক্লিনিকে নেয়া হয়।
১১ ফেব্রুয়ারি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
কাওসার আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যা ও রক্তের সংক্রমণসহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া এর আগে তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘আপনার রাশি’ নামে রাশিফল গণনার মধ্য দিয়ে কাওসার আহমেদ চৌধুরী পাঠকদের কাছে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন।
এছাড়া তিনি এলআরবি, মাইলস, সামিনা চৌধুরী, লাকী আখন্দ, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর মতো অনেক বিখ্যাত গায়ক ও ব্যান্ডের জন্য বেশ কয়েকটি বিখ্যাত গানের কথা লিখেছেন।
‘কবিতা পড়ার প্রহর’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘রূপালী গিটার’, ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ প্রভৃতি তার জনপ্রিয় কিছু গান।
আরও পড়ুন: গীতিকার-জ্যোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরী আইসিইউতে
১৬৪৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ডা. সামিনার মৃত্যু
চট্টগ্রামের কাজির দেউরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চিকিৎসক সামিনা আকতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গুরুতর আহত অবস্থায় থাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।চিকিৎসকরা জানান, ডা. সামিনার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি। মাথায় মারাত্মক আঘাত ছিল, বুকের হাড়ও ভেঙে গেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রকৌশলী পাপন বড়ুয়া নিহত
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিলেন চিকিৎসক সামিনা আকতার। কাজীর দেউড়ি হোটেল রেডিসন ব্লু’র সামনে এলে তার রিকশাকে পিছন থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দেয়। সিএনজির ধাক্কায় রিকশা থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন সামিনা। তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য ডা. সামিনা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার স্বামী মীর ওয়াজেদ আলীও চিকিৎসক। তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
১৬৫১ দিন আগে