এলপিজি
ফরিদপুরে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে
ফরিদপুরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায়ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করছেন না। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে আকার ও ব্র্যান্ডভেদে একটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা।
নগরকান্দা, সালথা, মধুখালী উপজেলার প্রত্যন্ত বাজারগুলোতে কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের দুজন অটোচালক, একজন হোটেল ব্যবসায়ী ও একজন গৃহিনী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে রান্নার গ্যাসও যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানান তারা।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। নগরকান্দা বাজারের কয়েকজন জানান, উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রামে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম অনেক বেশি। হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও চায়ের দোকানের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এলপিজি ব্যবহার হওয়ায় তাদের ব্যয় বেড়েছে।
উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দিতে গিয়ে লাভ কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি। সব মিলিয়ে আগের মতো ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তবে খুচরা এলপিজি বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় এলপিজির সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। সরবরাহ সংকটের কারণে তাদেরও বাড়তি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘আমরাও বেশি দামে গ্যাস কিনে এনেছি। সরবরাহ ঠিকমতো না থাকায় অনেক সময় সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে আমরা ইচ্ছা করে বেশি দাম নিতে চাই না।’
এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ থাকলেও ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘এলপিজির দাম নিয়ে বাজার তদারকির জন্য জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
১২ দিন আগে
নির্ধারিত দামে এলপিজি-অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ডিসিদের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার।
সেই সঙ্গে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে যথেষ্ট অস্থিরতা রয়েছে। এর মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নিয়ে অনলাইনে সভা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। এখন এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী এলপিজি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে মন্ত্রীকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে এলপিজি নিয়ে বাজারে বর্তমান সংকট কমে আসবে।
নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ থাকলে গণমাধ্যমকে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, এর পরও কোথাও যদি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া না যায়, তাহলে গণমাধ্যম জনস্বার্থে বিষয়টি তুলে ধরবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
১২ দিন আগে
এলপিজির দামে বড় লাফ, ১২ কেজি সিলিন্ডারে বেড়েছে ২৫২ টাকা
অক্টোবরের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা দাম প্রতি কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন দাম এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি অক্টোবরের জন্য ভ্যাটসহ বেসরকারি এলপিজির খুচরা দাম প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করেছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩২ টাকা ৮ পয়সা।
সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হয়েছিল। সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবরে এলপিজির দাম বাড়ল।
অক্টোবরে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টনে ৭১২ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। ৩৫:৬৫ অনুপাতের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
অক্টোবরে ৫ দশমিক ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৭২৭ টাকা। আর ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯১৩ টাকা করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৬৫২ টাকা।
১৫ কেজি, ২০ কেজি ও ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ৩ হাজার ৬১ টাকা ও ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এসব সিলিন্ডারের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮২ টাকা, ২ হাজার ৬৪২ টাকা ও ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা।
মোটরযানে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবরে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি, যা সেপ্টেম্বরের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সার তুলনায় ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বেশি।
পাইপলাইনভিত্তিক ব্যবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের দাম তরল অবস্থায় প্রতি কেজি ১৪৯ টাকা ৩১ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি লিটার ৩৩ দশমিক ১৯ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ৩৩১ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আদেশ অনুযায়ী ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এলপিজির ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সায় অপরিবর্তিত রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিইআরসি এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ লাইসেন্সধারীদের সংশোধিত দামে পরিবেশকদের কাছে এলপিজি বিক্রি এবং সে অনুযায়ী মূসক চালান বা ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করার নির্দেশও দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার খবরের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হলো। সেপ্টেম্বরে বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু এলাকার ভোক্তারা এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে এলপিজি কিনেছেন।
১৪ দিন আগে
এলপিজির সংকট নেই, মজুত করলে ব্যবস্থা: ডা. জাহেদ
দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এলপিজি মজুত করে জনঅসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরে এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন।
এ সময় দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, দেশের বাজারে এলপিজির কোনো সংকট নেই বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা। সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজারদর পর্যালোচনায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ নিশ্চয়তা দেন।
পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুত করে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে পণ্যের বাজারে এক ধরনের জল্পনামূলক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবেও দাম বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
১৯ দিন আগে
সেপ্টেম্বরে এলপিজির দাম কমল
সেপ্টেম্বরের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা ৩ পয়সা কমানো হয়েছে। এতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন দাম নির্ধারণ করে, যা বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
আগস্টে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এর আগে জুলাইয়ে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
চলতি মাসে দাম কমলেও ভোক্তাদের জুলাইয়ের তুলনায় এখনও প্রতি সিলিন্ডারে ৫৭ টাকা বেশি দিতে হবে।
পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের চলমান সংকটের কারণে রান্নার জন্য এলপিজির ওপর পরিবারগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে এবং খরচের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। এর মধ্যেই এ দাম সমন্বয় করা হলো।
বিইআরসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের জন্য সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য ৩৫:৬৫ অনুপাতে বিবেচনায় নিয়ে গড় সৌদি সিপি (চুক্তিমূল্য) প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়েছে।
সৌদি সিপি, জাহাজ পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম ও প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা গড় বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে কমিশন।
সংশোধিত দামে সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২৭ টাকা। আর সাড়ে ১২ কেজি, ১৫ কেজি, ১৬ কেজি, ১৮ কেজি, ২০ কেজি, ২২ কেজি, ২৫ কেজি, ৩০ কেজি, ৩৩ কেজি, ৩৫ কেজি ও ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ১ হাজার ৬৫২ টাকা, ১ হাজার ৯৮২ টাকা, ২ হাজার ১১৩ টাকা, ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২ হাজার ৯০৭ টাকা, ৩ হাজার ৩০৩ টাকা, ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৪ হাজার ৬২৪ টাকা ও ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা।
যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমিয়ে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা করা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, যার দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি সিপি নামে পরিচিত প্রোপেন ও বিউটেনের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত দামে এলপিজি প্রায়ই পাওয়া যায় না বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন ভোক্তারা। তবে বিইআরসি বলেছে, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, বিতরণ বা খুচরা বিক্রয়সহ সরবরাহব্যবস্থার যেকোনো পর্যায়ে কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে এলপিজি বিক্রি করা যাবে না।
৪৬ দিন আগে
১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম বেড়ে ১,৫৯৮ টাকা
সৌদি আরামকোর ঘোষিত কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) সমন্বয়ের ফলে আগস্ট মাসের জন্য বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানিয়েছে, এই নতুন দর আজ (রবিবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাইয়ে এ দাম ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা।
মূল্য সমন্বয় করে বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের মধ্যে সাড়ে ৫ কেজির দাম ৭৩২ টাকা, ১২ কেজির ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ১৩০ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৩৯৭ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৪৫ কেজির দাম ৫ হাজার ৯৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকো আগস্ট মাসের জন্য প্রতি টন প্রোপেনের দাম ৬২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৬৪০ ডলার নির্ধারণ করেছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৩৩ ডলার বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাইয়ে গড় সৌদি সিপি ধরা হয়েছিল প্রতি টন ৫৯৩ ডলার। সে হিসাবে আগস্টে গড় সৌদি সিপি প্রতি টনে ৪০ ডলার বেড়েছে।
এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহকৃত বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রতি লিটার ২৮ পয়সা ৭৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।
তবে সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আদেশ অনুযায়ী সরকারি এলপিজির ডিলার ও রিটেইলার পর্যায়ে সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাই বহাল থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, বিতরণ ও খুচরা বিক্রির কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। কমিশনের আগের অন্যান্য নির্দেশনাও বহাল থাকবে।
৭৭ দিন আগে
এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমল ৩৫৭ টাকা
ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ টাকা। জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নতুন এ দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন দর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) কমে আসায় এ মূল্য হ্রাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
বিইআরসি জানিয়েছে, চলতি (জুলাই) মাসে অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।
এদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে, ২ এপ্রিল, ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল ১,৭২৭ টাকা।
অর্থাৎ, দুই দফায় ১২ কেজি এলপিজির দাম মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর জুন মাসে ১২ কেজির দাম ১,৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা এবং অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৯.৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৬.৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এলপিজি খাতে নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। মার্চ মাসে নির্ধারিত মূল্য ছিল ১,৩৪১ টাকা। তবে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রির খবরও রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো এলপিজির দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়, সৌদি আরবের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য প্রতি মাসে সমন্বয় করা হবে। আর কমিশন, জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কমিশনে পরিবর্তন আনতে হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর থেকেই প্রতি মাসে এলপিজির নতুন দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।
১০৮ দিন আগে
মে মাসে অপরিবর্তিত থাকছে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মে মাসের জন্য দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ১ হাজার ৯৪০ টাকায় পাওয়া যাবে ১২ কেজির সিলিন্ডার।
রবিবার (৩ মে) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মে মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আজ (রবিবার) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম কার্যকর থাকবে।
এর আগে, গত মাসে দুইবার সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। গত ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। এরপর ১৯ এপ্রিল ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
তবে চলতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৬৮ দিন আগে
১৮ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম
এক মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
এর আগে, সবশেষ গত ২ এপ্রিল চলতি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওইদিন ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। এ হিসাবে ২ এপ্রিলের পর মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে দাম বাড়ল ৫৯৯ টাকা। অর্থাৎ, গত ১ এপ্রিল ১২ কেজির যে সিলিন্ডারটি ১৩৪১ টাকায় কেনা যেত, আজ থেকে সেটি কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হবে ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
ভোক্তাপর্যায়ে বিইআরসি ঘোষিত নতুন দামে বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮৮৯ টাকা, সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২১ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৪২৫ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৯১০ টাকা, ২০ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ২৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ২২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা, ২৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৪২ টাকা, ৩০ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা ও ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৭৫ টাকা।
নতুন নির্ধারিত দামে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির জাহাজভাড়া ও ট্রেড্রারের প্রিমিয়াম চার্জ এবং ডিজেলের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
১৮২ দিন আগে
এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলারের তারল্যচাপ কমানো এবং দেশের বাজারে চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রে বিধি শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাকিতে এলপিজি আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা। সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত এই ঋণসুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে দেশীয় ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিটে আমদানির করা এলপিজি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদে বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন।
এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে দেশে সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমদানিতে বাড়তি সময়ের ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরাও একই সুবিধার আওতায় এলেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরবরাহকারীর কাছ থেকে বাণিজ্যিক ঋণের পাশাপাশি আমদানিকারকেরা চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা ঋণ নিতে পারবেন। একইসঙ্গে দেশের নির্ধারিত ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও ঋণ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির পর তা বাজারে সরবরাহ করতে সময় বেশি লাগায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি হয়। এই চাপ কমানো এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই পণ্যের আমদানিতে গতি আনতেই বাকিতে পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিতে তাৎক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও বেশি দাম দিয়েও সরবরাহ মিলছে না। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ভোগান্তি বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন বিভাগের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ। এতে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে এবং ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে।
২৭৯ দিন আগে