বেরোবি
হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় বেরোবি শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানে কমিটি গঠন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কোনো শিক্ষক জড়িত আছেন কিনা, তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির জন্য গোপন তৎপরতায় দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক লিপ্ত রয়েছেন। উক্ত গোপন তৎপরতায় বেরোবির কোনো শিক্ষক জড়িত রয়েছেন কিনা, সে সম্পর্কিত তথ্যানুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারন আল-রশিদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার রেহেনা আক্তার মনি।
গঠিত কমিটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার সংবাদ পেয়েছি। ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ২ জন পলাতক ও বাকিরা ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে ছদ্মনাম ব্যবহারকারীদের আসল নাম খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আপাতত আমরা একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছি। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ওই সাতজনের মধ্যে গণিত বিভাগের মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের আসাদুজ্জামান আসাদ মণ্ডল পলাতক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
অফিস আদেশে সদয় অবগতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে না দেওয়া হলেও খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল।
ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ।
এ সময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।
১ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
২ দিন আগে
আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে বেরোবির চার শিক্ষকের ১২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চার শিক্ষকের ১২টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন (পিয়ার রিভিউ) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম), একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতি সংখ্যা) বাড়ানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়।
বেরোবির প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের ১০টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল হুদা লিটনের যৌথ ১টি ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল কবির বিপ্লবের ১টি গবেষণাপত্র রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ ডেটাবেস’-এর তথ্য বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে আসে। ওই ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণা-নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলো এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, ‘গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণাপত্র বিভিন্ন কারণে প্রত্যাহার হতে পারে। তবে যদি অনিয়মের কারণে প্রত্যাহার হয়, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো নীতিমালা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লেখ রয়েছে, যেসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধান নেই, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।’
এ বিষয়ে বেরোবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘অনিয়মের কারণে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের এক বছরের পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন যাদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, ‘কেন এমনটা হলো, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।’
২ দিন আগে
কয়েক দফা তারিখ পিছিয়েও বেরোবিতে হয়নি সমাবর্তন, টাকা ফেরত পেলেন শিক্ষার্থীরা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার হলেও এখনও আয়োজন করা হয়নি প্রথম সমাবর্তন। কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়েছে তারিখ। তারপরও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে সমাবর্তনের অংশ নিতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফির টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর প্রথম সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় তারিখ পরিবর্তন করে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে সমাবর্তনের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সমাবর্তন কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। নিবন্ধন কার্যক্রম ২১ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমাবর্তনের নিবন্ধন সময়সীমা পরিবর্তন, ফি কমানোসহ বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিও সমাবর্তন স্থগিতের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় সমাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শাহেদুল আলম বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। তিনি আমাদের বলেছিলেন, নির্বাচনের পর আমরা এটা নিয়ে কথা বলব। কিন্তু নির্বাচনের চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও এটা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। সংখ্যায় অল্প হওয়ায় আমরা টাকা ফেরত দিচ্ছি।’
তবে শহিদ আবু সাঈদের শাহাদাত বার্ষিকীর পর সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বসার কথা জানান তিনি।
২৬ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্র সংসদের নামে ৪৫ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও ছাত্র সংসদের কোনো আইন প্রণয়ন হয়নি। অথচ ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ফি’র নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৬৭ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা সংগ্রহ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থের কোনো স্বচ্ছতা বা হিসাব প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ করেছেন। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েনি, গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংসদ আইন বাস্তবায়ন ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে গত রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে আমরণ অনশনে বসেছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) বিকাল ৪টা পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়া ৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে জাহিদ হাসান জয় ও মাহিদুল ইসলাম মাহিদকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করা এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে ছাত্র সংসদ বিষয়ে আইনটি কৌশলে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৯ পাশ করা হয়েছে।
পড়ুন: দাবি আদায়ে অনড় বেরোবি শিক্ষার্থীরা, ১০ কার্যদিবস সময় চাইলেন উপাচার্য
বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদেরে নামে কোনো কিছুই অবশিষ্ট না থাকলেও প্রতি বছর প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা হারে অর্থ নেওয়া হতো। সেই হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ উপাচার্যের আমলে ১৯ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থীর কাছে ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা সংগ্রহ করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল ফান্ডে রেখে ইচ্ছেমতো খরচ করেছেন সেই সময়কার প্রশাসন।
তবে, ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ শিক্ষা বর্ষে ২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছাত্র সংসদ নামে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ইলিয়াছ প্রামাণিক জানান, ২০০৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নামে কোনো আইন পাস করা হয়নি।
এরপর গত বছরের ২৮ অক্টোবর ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনে একটি চিঠি দিলে মঞ্জুরি কমিশন ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ এর গঠনতন্ত্রটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়ার জন্য খসড়া সংবিধিটি পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খানকে। আইনি ভেটিংয়ের পর রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলেই আইন আকারে প্রকাশ হবে।
এদিকে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আইন না থাকা, নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ ঘোষণা না করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত রবিবার সকাল ১১টা থেকে একদল শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন।
বিষয়টি নিরসনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন, আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন উপাচার্য ড. শওকাত আলী। তাতেও কোনো সমাধান আসছে না।
বেরোবির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উপেক্ষা করছে—এমন অভিযোগ এনে সোমবার বিকাল তিনটায় আবু সাঈদ চত্বরে কমিশনের গায়েবি জানাজা করেছে শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন শহরের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরাও।
অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ১৭ বছরে কোনো ছাত্র সংসদ নেই। অথচ ছাত্র সংসদের নামে কোটি টাকা উঠেছে। আমরা জানি না এই টাকা কোথায় গেল। পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতৃত্ব ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, ছাত্র সংসদ হলো শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু প্রশাসন তা বাস্তবায়ন না করে উল্টো অর্থ লোপাট করেছে। আমরা অবিলম্বে ছাত্র সংসদ আইন ও নির্বাচনের রোডম্যাপ চাই। ছাত্র সংসদ আইন বাস্তবায়ন ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ছাড়া অনশন ভাঙবেন না তারা।
অনশনের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষকরাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে আমি একমত। ছাত্র সংসদ আইন ছিল না। আমি নিয়োগ পাওয়ার পর খসড়া করে তা সিন্ডিকেটে পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এখন কমিশনে আছে ভেটিংয়ের জন্য। এরপর রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলেই হবে। শিক্ষার্থীরা অনশনে কষ্ট করছে, আমি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। চাইলে কালই এই আইন পাস হবে এমনটা নয়। আমি আশ্বস্ত করছি আগামী অক্টোবরের মধ্যে এই আইন পাস হবে।
৩৫১ দিন আগে
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
উত্তরের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। শহিদ আবু সাঈদের এই বিশ্ববিদ্যালয় জুলাই বিপ্লবের জন্য একটি ঐতিহাসিক নাম। আবু সাঈদ গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় নানা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আগামী ১৬ জুলাই পালিত হতে যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের শাহাদাত বার্ষিকী ও ‘জুলাই শহিদ দিবস’। দিনটি উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে বেরোবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোতায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
শনিবার (১২ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী তিন দিন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বহিরাগত প্রবেশ করতে পারবে না। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়।
এতে বলা হয়, ১৬ জুলাই ২০২৫ শহিদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৫’ উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ১৩ জুলাই রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে আগামী ১৬ জুলাই বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই সময়ে বেরোবির সকল শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি করা হয়েছে, যাতে ক্যাম্পাসে কেউ কোনো ধরনের শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়। ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কার্ড থাকলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।’
তাহলে নবীন শিক্ষার্থী যারা এখনও স্টুডেন্ট আইডি কার্ড পায়নি তাদের কী হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সব বিভাগীয় প্রধানদের বলে দেব, শিক্ষার্থীরা যেন প্রক্টর অফিস থেকে কার্ড নিয়ে নেয়।’
আরও পড়ুন: শহিদ আবু সাঈদ স্মরণে বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
এদিকে, আগামী ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টা। দিনটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টা। তারা হলেন— আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. তানজীমউদ্দীন খান।
সার্বিক বিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ১৬ জুলাই আবু সাঈদের শাহাদাৎবার্ষিকীতে থাকবেন চার উপদেষ্টা। এ ছাড়া আরও ২১ জন শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী তিন দিন কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে পারবে না।
৩৮৯ দিন আগে
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেরোবির সাবেক প্রক্টর গ্রেপ্তার
আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ছিলেন।
শরিফুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সাক্ষাৎ
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, গত ১৬ জুলাই বেরোবির গেটে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুলিশকে গুলি করতে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আছে।
এর আগে একই মামলায় মহানগর পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমীর আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৮ আগস্ট আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী পুলিশের সাবেক আইজিপিসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ সাতজনের নাম মামলায় নথিভুক্ত করার জন্য সম্পূরক এজাহার দেন তিনি। আদালতের আদেশে তাদেরও ওই মামলায় এজহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: শহীদ আবু সাঈদকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান
আবু সাঈদ হত্যা: অভিযুক্ত ২ পুলিশ সদস্যের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
৬২৪ দিন আগে
বেরোবিতে প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছে: ইউজিসি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়েছে বলে শনিবার দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
১৯৭৮ দিন আগে