দিল্লি
দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত, চারজনের অবস্থা গুরুতর: হাইকমিশন
নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে হাইকমিশন এক বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে হাইকমিশন বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মালভিয়া নগরের এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই হাইকমিশন ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হাইকমিশন জানায়, এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে নয়জন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া মোজাম্বিকের দুজন, লাইবেরিয়ার একজন, নাইজেরিয়ার চারজন এবং উজবেকিস্তানের একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের আটজন নাগরিক ছাড়াও নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের দুজন করে, লাইবেরিয়ার তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং কাজাখস্তানের তিনজন নাগরিক।
সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আহত বাংলাদেশিদের দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনও সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার তদারকি করছে।
আহতদের দ্রুত সুস্থতার স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীদের সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।
একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশে থাকতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১৫ দিন আগে
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদেশি নাগরিকসহ নিহত ২১
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। সেই সঙ্গে ৪০ জনের বেশি মানুষকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত ‘ফ্লাওয়ারিশ স্টে’ হোটেলের রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মালভিয়ায় শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের বসবাস বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন। ক্ষতি কমাতে নিচে গদি বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চার থেকে ছয়জনকে কাঁচ ভেঙে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছি। তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।’
হাউজ রানি এলাকার সরু গলিতে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ ছিল। আগুন লাগার সময় সেখানে ৪০ জনের বেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে আসা বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লি সরকারের কাছ থেকে ফ্লাওয়ারিশ স্টে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বি অ্যান্ড বি)’ পরিষেবা আইনের অধীনে লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনার সুযোগ ছিল। কিন্তু হোটেলটি বেজমেন্টসহ প্রায় ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ ছিল কি না, তাও যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।
ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
নিহতদের পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘যারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে শক্তি ও সাহস দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি।’
তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা মোতায়েন করা হয় এবং তারা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি বলেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
দিল্লি সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই শোকের মুহূর্তে দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
১৬ দিন আগে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর: দিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোর দেবে ঢাকা
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই শুভেচ্ছা সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ঢাকা এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর হিসেবে অভিহিত করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে বুঝতে এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়কমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও ড. খলিলুর রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রত্যর্পণ ও সীমান্ত ইস্যু
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত ফেরত চাইবে ঢাকা। মাসুদ বর্তমানে কলকাতায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।
এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন বলেন, এটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তবে আমরা আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেখতে চাই।
ভিসা সেবা পুরোপুরি চালুর বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করবে ঢাকা। চিকিৎসা পর্যটন থেকে ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে, সে বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হবে। এছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ।
উভয় পক্ষ জ্বালানি সহযোগিতা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য বাধা সহজ করার পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং আরও বহুবিধ সাদৃশ্যের গভীর বন্ধন রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই আলোচনায় আসে।
সফরের সময়সূচি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখান থেকে তিনি মরিশাস যাবেন। নয়াদিল্লি সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সঙ্গে থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হবে ভারতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। দিল্লিতে আগামী ৮ এপ্রিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ভারতের আমন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেছিলেন। মোদি তার চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনযোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আজ (সোমবার) পারস্পরিক স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক লাভের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী পন্থায় একত্রে কাজ করার বিষয়ে ভারতের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতীয় দূত এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, আলোচনায় দুই দেশের জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্বিপাক্ষিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের আলোচনায় জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো স্থান পায়।
হাইকমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক ও সংযোগমূলক সম্পর্ক শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে ভৌগোলিক নৈকট্য থেকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করা উচিত।
পানি বণ্টন
আলোচনায় তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ আবারও উত্থাপন করবে। এছাড়া ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এটি নবায়নের বিষয়টিও এবারের আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চুক্তিটি নবায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তখন বিষয়টি এগিয়ে নেয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতও এ ক্ষেত্রে ভারত সরকার বিবেচনায় নিচ্ছে।
ভিসা ও সংযোগ
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে স্থগিত থাকা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে জনবল স্বল্পতা থাকায় সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে পরিবহন, জ্বালানি এবং ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ কাজ করছে। সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ এবং ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ প্রশিক্ষণ ও গভীর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকা ও দিল্লি উভয় পক্ষই এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে কাজ করছে যা দুই দেশের জন্যই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
৭৪ দিন আগে
ঢাকার বিবৃতিতে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে: দিল্লি
ভারতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ বা ভারতীয় আইনের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকার অবগত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংবাদ বিবৃতি বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বুধবার তিনি বলেন, ‘ ভারতের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না সরকার।’
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংবাদ বিবৃতি 'ভুলভাবে উপস্থাপন' করা হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, ভারত প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে যে, জনগণের ইচ্ছা এবং রায় নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব 'অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক' নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পড়ুন: ঢাকার সঙ্গে সব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনায় প্রস্তুত ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
এর আগে ভারতে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি যাতে দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হতে না পারে সেব্যাপারে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (২০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার ভারত সরকারকে এ ধরনের কোনো কার্যকলাপের অনুমতি বা সমর্থন না করার জন্য অনুরোধ করেছে এবং ভারতের মাটিতে ‘কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং কলকাতায় ‘কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপনের খবর বাংলাদেশ সরকারের নজরে এসেছে।
ঢাকা দাবি করেছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের পটভূমিতে এই ঘটনা ঘটেছে।
মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধের কারণে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় পলাতক দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এখনও ভারতীয় ভূখণ্ডে রয়েছেন বলে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২১ জুলাই সন্ধ্যায় একটি অস্পষ্ট এনজিওর আড়ালে এই ‘কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি জনসাধারণের প্রচারণার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং অবশেষে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আজ পর্যন্ত ভারতীয় গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ভারতে অবস্থান করে দলের ক্রমবর্ধমান প্রচারণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৩০৩ দিন আগে
ঢাকা সবসময় দিল্লির সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক চায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশে ভারতের মেডিকেল টিমের উপস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সর্বদা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক চায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় চেয়েছিলাম যে... প্রথম দিন থেকেই আমরা বলেছিলাম, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক চাই। আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কেউই কখনও বলেনি আমরা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই না।’
বাংলাদেশে ভারতীয় মেডিকেল টিমের উপস্থিতি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উন্নত সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।
বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ভারত থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন একটি চিকিৎসক দল।
এই বিশেষায়িত দলে রয়েছেন রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল এবং দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সরা। পোড়া ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসায় ভারতের শীর্ষস্থানে রয়েছে হাসপাতাল দুটি।
পড়ুন: দগ্ধদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে ভারতীয় মেডিকেল টিম ঢাকায়
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা এই রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি নির্ধারিত হাসপাতালে তাদের কাজ শুরু করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সকল সহায়তা ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তারা বাংলাদেশে আসেন।
তারা রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করছেন এবং প্রয়োজনে ভারতে আরও চিকিৎসা এবং বিশেষায়িত সেবার জন্য সুপারিশ করছেন।
প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং চিকিৎসার উপর নির্ভর করে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হতে পারে।
২১ জুলাই ঢাকায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেছেন এবং সহযোগিতা ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহতদের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যেকোনো জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য তথ্য জানাতে অনুরোধ করেছে।
মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা দেবেন।
মাইলস্টোন স্কুল বিমান দুর্ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ও সম্ভাব্য সকল সহায়তা দেওয়ার বার্তার ধারাবাহিকতায় এই বার্তাটি পাঠানো হয়েছে।
গত সোমবার এক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং সকল প্রকার সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’
৩৩০ দিন আগে
দিল্লিতে তীব্র দাবদাহ, রেড অ্যালার্ট জারি
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১১ জুন) দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
দিল্লির বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০.৯ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও হিট ইনডেক্স বা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব ৫১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রাজধানীতে পারদ চড়লেও উত্তর-পশ্চিম ভারতে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। সংস্থাটির মতে, ১৪ জুন থেকে ওই এলাকায় তাপমাত্রা কমতে পারে। যদিও পশ্চিম রাজস্থান ও আশপাশের এলাকাগুলোতে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, তবুও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে যাওয়ার সময় গোপালগঞ্জের আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে আইএমডি জানায়, ‘পূর্ব ভারতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে পরবর্তী তিন দিনে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং এরপর থেকে তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকবে।’
কবে থেকে কমবে দিল্লির তাপমাত্রা
আইএমডির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পশ্চিম দিক থেকে আসা ঝোড়ো বাতাস কারণে দিল্লিতে শুক্রবারের (১৩ জুন) পর থেকে তাপমাত্রা কমতে পারে।
তার কথায় সমর্থন দিয়েছেন আইএমডির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী নরেশ কুমারও। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তীব্র গরম অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ১৩ জুন রাত থেকে পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হওয়া বাতাসের প্রভাবে দিল্লিতে হালকা বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।’
গতকাল (১১ জুন) আইএমডির বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সবচেয়ে উত্তপ্ত এলাকা ছিল আয়ানাগার (৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এরপর যথাক্রমে পালাম (৪৪.৫), রিজ (৪৩.৬), পিতমপুরা (৪৩.৫), লোধি রোড (৪৩.৪), সফদরজং (৪৩.৩), ও ময়ূর বিহার (৪০.৯) সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে।
আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট বহাল থাকলেও শুক্রবার রাত থেকে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি
পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে দিল্লিতে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা (৮,২৩১ মেগাওয়াট) রেকর্ড করেছে রাজ্য লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এসএলডিসি)।
৩৭২ দিন আগে
ঢাকার বাতাসের মান মাঝারি, দূষণের শীর্ষে ভারতের দিল্লি
রাজধানী ঢাকার বাতাস দিন দিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে, যা শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা এখন ১৭তম স্থানে আছে। যা শহরের পরিবেশগত সংকটের গভীরতা প্রকাশ করে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ৯৩। এই মাত্রার বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘মাঝারি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন এমন মানুষের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
ভারতের দিল্লি, মিশরের কায়রো ও নেপালের কাঠমান্ডু শহর যথাক্রমে ১৯৫, ১৭৪ ও ১৭৪ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুসারে, ঢাকার বাতাস সবসময়ই বিশ্বের সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর তালিকার উপরের দিকে থাকে। কখনও কখনও তা ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে ওঠে।
যখন কণা দূষণের একিউআই মান ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকে, তখন বায়ুর গুণমানকে ‘মাঝারি’ বলে বিবেচনা করা হয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেটা বেড়ে ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে চলে এলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ৩০১ এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
আরও পড়ুন: সারাদেশে আজও বইতে পারে উষ্ণ তাপপ্রবাহ
একিউআই সূচক ৫টি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে উন্নত হয়।
২০২৩ সালে বাংলাদেশে পিএম ২.৫ মাইক্রোনের গড় ঘনত্ব ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বার্ষিক বায়ুমান নির্দেশনার চেয়ে ১৬ গুণ বেশি।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণের ৩টি প্রধান উৎস হলো— ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘দূষণে শহরটি ক্রমাগত বসবাসের অযোগ্য হলেও সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সটি আগামী বর্ষাকাল পর্যন্ত কাজ করবে।
৪২০ দিন আগে
২৭ বছর পর দিল্লির মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি
প্রায় তিন দশক পর দিল্লির ক্ষমতায় বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপি। বিজেপির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারিয়ে ২৭ বছর পর দিল্লির মসনদে বসতে চলেছে নরেন্দ্র মোদির দল।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দিল্লির বিধানসভার ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা শুরু হওয়ার আগেই বুথফেরত জরিপে বিজিপিকে জয়ী দেখানো হয়েছিল।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৮টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।
এর আগে, টানা দুই মেয়াদে দিল্লির ক্ষমতায় ছিলেন আপ নেতা কেজরিওয়াল। ২০১২ সালে দেশটির রাজধানীতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন শুরু করে ব্যাপক জনপ্রিয় হন তিনি। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি দিল্লির ক্ষমতায় বসেন।
ক্ষমতা গ্রহণের পর নানামুখী জনকল্যাণমূলক কাজ করে ব্যাপক জনপ্রিয় হন কেজরিওয়াল। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করায় গত নির্বাচনেও তিনি ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
গত বছর ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হন কেজরিওয়াল। তিনি গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিজেপি তাকে ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ থাকলেও বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে ক্ষমতাসীন দলটি।
আরও পড়ুন: ভারতের নির্বাচনে ভোটদানের বিশ্ব রেকর্ড, বিস্ময়কর বললেন সিইসি
পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে দিল্লির মূখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা। পদত্যাগের পর জাতীয় নির্বাচনি প্রচারে মনোনিবেশ করেন তিনি। তবে যে আসনগুলোতে তিনি জয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন, সেগুলোতেও হেরে যান। এবার বিধানসভার নির্বাচনেও তার পরাজয় প্রায় নিশ্চিত।
চলতি বিধানসভার নির্বাচনি প্রচারে কেজরিওয়ালকে হারাতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এর মধ্যে ছিল আড়াই হাজার নারীকে মাসিক আড়াই হাজার রুপি করে ভাতা এবং গর্ভবতী নারীদের এককালীন ২১ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা প্রদান। এ ছাড়াও ক্ষমতায় এলে রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি, বয়স্কদের মাসিক পেনশন ও তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে ১ হাজার ৫০০ রুপি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল মোদির দল।
বিধানসভার এই নির্বাচন প্রকৃতপক্ষে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে, পরবর্তীতে যা আইন প্রণয়নে দলটির জন্য সহায়ক হয়।
৪৯৬ দিন আগে
গণভবনে কে বসবেন, সেই সিদ্ধান্ত দিল্লি থেকে আসবে না: হাসনাত
ভারতের দাদাগিরি বাংলাদেশে আর চলবে না বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘গণভবনে কে বসবেন, সেই সিদ্ধান্ত আর দিল্লি থেকে আসবে না। বাংলাদেশ প্রশ্নে আমরা আপসহীন।’
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর দিকে চাষাড়া শহীদ মিনারে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের দাবিতে পথসভা ও গণসংযোগে তিনি এ কথা বলেন।
‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব মিডিয়া কথা বলবে, সেসব মিডিয়ার বিপক্ষে অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আসবে সেটা হচ্ছে, তাদের আগে বিচার হতে হবে,’ বলেন এই ছাত্রনেতা।
এ সময়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে লিখলে কলম ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘যেসব টকশোজীবী ও বুদ্ধিজীবী এখন আওয়ামী লীগের মানবাধিকারের জন্য সরব হয়েছেন, আপনারাই এতদিন ফ্যাসিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। এছাড়া ফ্যাসিবাদের পক্ষে যেসব মিডিয়া, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী কথা বলবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেব।’
আরও পড়ুন: ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র দিতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি—আপনারা যদি তরুণ প্রজন্মের কথা বুঝতে ব্যর্থ হন, তাহলে আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে, পরবর্তী সময়ে যারাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসবে তাদের পরিণতিও একই হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই আহ্বায়ক বলেন, ‘আজকে তরুণ প্রজন্মকে রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে। আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে। ভয়কে জয় করতে হয়েছে। কারণ, আমাদের দুর্বৃত্তায়ন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির সংস্কৃতি আশাহত করেছে। আমরা জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র করতে পারিনি।’
‘আপনারা যদি কোনো কারণে মনে করেন প্রোক্লেমেশন দিতে ও জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আপনাদের রাষ্ট্রীয় কোনো বাধা রয়েছে সেটি আপনারা জনগণের সামনে প্রকাশ করুন। আমরা যেভাবে আগস্ট মাসে রাস্তায় নেমেছেন একইভাবে আবার রাস্তায় নেমে আসবেন। এই প্রোক্লেমেশন দিতে আপনাদের বাধা কোথায়? কারা বাধা দিচ্ছে সেগুলো আপনারা জনগণের সামনে প্রকাশ করুন। যদি আপনারা ব্যর্থ হন তাহলে উপদেষ্টার কাতার থেকে জনগণের কাতারে নেমে আসুন। আমরা একসঙ্গে মিলে যেভাবে হাসিনার পতন ঘটিয়েছি, প্রয়োজন হলে সেভাবে আবার আমাদের প্রোক্লেমেশন আদায় করে নেব।’
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, মুখপাত্র আরেফীন মুহাম্মাদ হিজবুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য শওকত আলী, তামিম আহমেদ প্রমুখ।
৫২১ দিন আগে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায় ঢাকা, দিল্লিকে চিঠি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লেখা নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ভারতকে অবহিত করেছি।’
গত ১২ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলামকে চিঠি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ পৃথক মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে ৭ সদস্যের কমিশন গঠন
পলাতক অপরাধীদের দ্রুত হস্তান্তর করার সুবিধার্থে ২০১৬ সালের জুলাইতে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির ১০(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে।
৫ আগস্ট পদত্যাগের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এর পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
৫৪৩ দিন আগে