হারভেস্টার মেশিন
সুনামগঞ্জের হাওরে চলছে না হারভেস্টার, ধান কাটা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষক ও মেশিনমালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিনে ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহের জটিল প্রক্রিয়াও সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় ধান কাটা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজারো কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন সচল না থাকায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ফসল কাটার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় ধান কাটা থেমে গেছে বা ধীরগতিতে চলছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৯০ কেয়ার (৩০ একর) জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত দুই দিনে কষ্ট করে কিছু ধান কাটতে পেরেছি। এখনও অনেক জমি বাকি। ধান পাকলেও কীভাবে কাটব চিন্তায় আছি।
একই এলাকার গোবিন্দপুরের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল আহমদ বললেন, হারভেস্টার মেশিনের মালিক-চালকরা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনেকেই তেল নিতে এসে না পেয়ে ঘুরে গেছেন। পাম্পের লোকজন বলে দিয়েছে কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যয়ন আনতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের হারভেস্টার মালিক আবদুল হক পাম্পে বিকেলে তেল নিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, বুধবার থেকে করচার হাওরে ধান কাটা শুরু করেছি। মেশিনে তেল ছিল। প্রথম দিন কেয়ারে (তিন কেয়ারে এক একর) ১৯০০ টাকা হিসাবে কাজ করেছি, দুই কেয়ার ধান কাটতে পেরেছি। বৃহস্পতিবার চার–পাঁচ কেয়ার কাটা হয়েছে। শুক্রবার আর মেশিনে তেল থাকবে না।
তিনি বলেন, তেল কিনতে পাম্পে গেলে তারা জানায় কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত স্লিপ লাগবে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা থেকে এক ঘণ্টায় প্রথমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার শনাক্তকরণ স্লিপ, পরে কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়ন নিয়ে ২০০ লিটার তেলের অনুমতি পাই। এরপর শহরের ওয়েজখালির পাম্পে গেলে তারা জানায় ১০০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া যাবে না। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে তেল না পেয়ে ২১ কিলোমিটার দূরের দিরাই সড়কমোড়ের পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে ঘুরে ঘুরে তেল নিলে কীভাবে মেশিন চালাব, আর কীভাবে ধান কাটব।
শুধু আবদুল হক নন, বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেলের স্লিপ নেওয়া আটজন হারভেস্টার মালিককেই একইভাবে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মালিক ও কৃষকরা জানান, এভাবে অফিস থেকে স্লিপ সংগ্রহের ঝামেলার কারণে অনেকেই আর তেল নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না, ফলে ধান কাটায় বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে পাম্প বা ডিলার পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, তিনি দুটি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটার কাজ করেন, যা থেকেই তার জীবিকা নির্বাহ হয় এবং অনেক কৃষকও নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মৌসুমে তীব্র ডিজেল সংকটে তার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কৃষকরাও সময়মতো ধান কাটতে না পারায় উদ্বেগে রয়েছেন।
জামাল বলেন, আমার দুটি হারভেস্টার আছে। ডিজেলের কারণে একটি বন্ধ, আরেকটি সচল থাকলেও পুরো দিন চালাতে পারছি না। যা পাওয়া যায় তা অপ্রতুল। খোলা বাজারে ডিজেল পাওয়া যায় না, লুকিয়ে বিক্রি হলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, ১০০ টাকার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বালিজুরি বাজারের ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয় তেল নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য বাজার থেকে বেশি দামে তেল আনতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকের ধান কাটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
একই এলাকার হারভেস্টার মালিক মো. রফিক উদ্দিন বলেন, এবার মেশিন নিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি।
এদিকে দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক ও যন্ত্র দুটোই সংকটে পড়ায় ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জের হারভেস্টার মালিক আবিদুর রহমান টিপু বলেন, আমাদের চারটি মেশিন আছে। কিন্তু ডিজেল সংকটে সেগুলো ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৫টি রিপার মেশিন রয়েছে। তবে জ্বালানি সমস্যার কারণে এসব যন্ত্রের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলায় প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি বিতরণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে পুরো জেলায় ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ধানকাটা মেশিনের আঘাতে নিহত ১
চুয়াডাঙ্গা সদরের ছয়মাইল বুড়োপাড়ায় ধান কাটার সময় হারভেস্টার মেশিনের আঘাতে ইবাদত হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের বুড়োপাড়া গ্রামের আপাগাড়ির মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইবাদত হোসেন ওই গ্রামের মৃত আজগার আলীর ছেলে। পেশায় তিনি ইজিবাইকচালক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গবাদিপশুর জন্য মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন ইবাদত। এ সময় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে গ্রামের আইনালের জমিতে ধান কাটা হচ্ছিল। ইবাদত মেশিনের পিছনে ঘাস কুড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ মেশিনটি পিছনের দিকে সরালে চাকায় আঘাত পেয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত, আহত ৬
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি দুর্ঘটনা। মেশিনের রডে আঘাত লেগেই তিনি মারা গেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যরা মৃত অবস্থায় ইবাদতকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি মাঠেই মারা গিয়েছিলেন।
২৪৫ দিন আগে
সুনামগঞ্জে আগাম জাতের বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী
সুনামগঞ্জ জেলাসহ দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে আগাম জাতের বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডেকার হাওরের দক্ষিণ পাড়ে আস্তমা গ্রামের হাওরে পাগলা কান্দিগাঁও গ্রামের কৃষক হাজী আব্দুল হেকিমের জমিতে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে হাইব্রীড ১২০৪ জাতের ৩০ কেদার জমির ধান কাটার উদ্বোধন করা হয়।
আরও পড়ুন: হাওরে ৯৯ ও সারা দেশে ৩৯ শতাংশ বোরো ধান কাটা শেষ
উদ্বোধন পূর্ববর্তী দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের হাওরে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় শত্রুতা করে বোরো ধানের ৬ বিঘা বীজতলা নষ্টের অভিযোগ
এ সময় আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষক বান্ধব সরকার। সরকার কৃষকদের জন্য ও বোরো ফসলের জন্য অতিরিক্ত প্রণোদনা দিয়েছে। কম সময়ে, কম জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য হাইব্রিড ধান চাষাবাদ করতে উৎসাহিত করেছে। হাইব্রিড ধান চাষাবাদ করায় আগাম কর্তন করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি ফসলের ঝুঁকি কমেছে।'
আরও পড়ুন: ৪০০ কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে খুলনা
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে জমিতে ধান কাটা ও আলোচনা সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ফরিদুল হাসান, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী, সুনামগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল কালাম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আব্দুল হেকিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৮৪৮ দিন আগে