জামায়াত
জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম, ঈদের মত আনন্দ লাগছে: আমির হামজা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামাতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা বলেছেন, অনেক দিন পর ভোট দিতে পেরে তার ঈদের মতো আনন্দ লাগছে। জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শহরের কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদের আনন্দ নিয়ে নির্বাচন হবে, ইনশাআল্লাহ। সবাই যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে এই প্রত্যাশা করছি। জনগণের রায় আমরা মেনে নেব।’
আমির হামজা জানান, সদর আসনে মোট ১৪২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে তাদের এজেন্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি সব কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করব। এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংঘাতমুক্ত দেখছি। প্রশাসন নিরপেক্ষ রয়েছে। তবে রাতের বেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে টাকা ও লিফলেট বিতরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে আমির হামজা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও দেখেছেন। তবে তার দাবি, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে এটা বিশ্বাস করে না। এগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, কোনো দলের পক্ষ থেকেই যেন টাকা ছড়ানো না হয়, সেটিই তারা চান।
এ আসনে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের এই প্রার্থী।
এদিকে, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখি ইউনিয়নের কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার ৪ টি আসনে মোট ২৫ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সদর আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
কুষ্টিয়ার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৯ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৯ জন। এছাড়া ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সঙ্গে আজ গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই কুষ্টিয়ায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসনের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সকালে সরজমিনে কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও বয়োবৃদ্ধ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।
১ দিন আগে
রাজনীতিকে পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, রাজনীতিকে আমরা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন ও মামলাবাজি করে। গত ১৫ বছর এদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব টাকার মালিক এ দেশের জনগণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কপালে ভালো পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। বংশানুক্রমিকভাবে রাজার ছেলে রাজা হবে—এ ধারণা পরিবর্তন করতে চাই।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আমাদের আগাগোড়া খেয়ে ফেলেছে। এর জন্য সাধারণ মানুষ নয়, যারা বিগত দিনে দেশ শাসন করেছেন, মূলত তারাই এর জন্য দায়ী। আমাদের দেশের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় অন্য দেশের কপাল বদলে যায়, কিন্তু এ দেশের কপাল বদলায়নি শুধুমাত্র অসৎ নেতৃত্বের কারণে। ভোটের সময় এরা জনগণের কাছে যায় পীর-দরবেশ সেজে, বসন্তের কোকিল হয়ে সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। উন্নয়নের গঙ্গা বইয়ে দেয়। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ময়দানে নেমেছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করে দেব। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না, ফুটপাতের হকারদের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের পাহারাদার হব। জনগণের তহবিলের অপব্যবহার করব না। প্রত্যেক সাংসদ প্রতি বছর নিজের এবং পরিবারের সকল সদস্যের সম্পদের হিসাব দেবেন। সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। প্রয়োজনে রিকশায় বা পায়ে হাঁটব।
এই রাজনীতিক আরও বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, মর্যাদার কাজ চায়। এজন্য গ্রামে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা তৈরি হয়ে যাও, আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই।
মায়ের জাতিকে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক ভাই-বন্ধু কীভাবে বলেন— বোরকা, নেকাব, হিজাব পরে আসলে তা খুলে ফেলবেন? বলতে বলতে তারা একদিন পুরো কাপড়ই খুলে ফেলবেন। এরা কী কোনো মায়ের গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আসেনি? যদি এসে থাকে, তবে তাদের বলব, মায়ের জাতিকে সম্মান দেওয়া শিখুন; আপনার মাকে সম্মান করুন; তা হলেই দেশের ৯ কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, অনেক হয়েছে, এসব আর বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু মায়ের ইজ্জত কেড়ে নিতে দেব না। হাদি, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদসহ সকল শহিদের হত্যাকারীদের ন্যায়বিচার করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রতি নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেবল জামায়াতের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
জেলা জামায়াতের আমির মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, কাজী মহসিন আহমেদ, ড. আহমদ আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় ও কেদ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৬ দিন আগে
ঐক্যের সরকার গড়তে চায় জামায়াত, বিরোধীদেরও দেবে অংশগ্রহণের প্রস্তাব
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি; আগামীতে ঐক্যের সরকার গড়ব। আমরা সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করলে, যারা এখন আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদেরও প্রস্তাব দেব দেশ চালাতে ভূমিকা রাখার জন্য। তবে শর্ত হচ্ছে দুর্নীতি করতে পারবেন না, জুলাইকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় মজলুমের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর আলাদা কোনো বিজয় চাই না; আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়। যে আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক থাকবে সেখানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেতে হবে, যাতে ৩০০ আসনেই বিজয় নিশ্চিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়, তাদের হাতে দেশের ৯ কোটি মা–বোন কখনোই নিরাপদ নয়। মা–বোনদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ সময় বিএনপিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, মজলুম কীভাবে জালিমে পরিণত হয়? আপনারাও তো একসময় মজলুম ছিলেন, এখন কেন জালিম হলেন?
এই রাজনীতিক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ একটি বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। ভোটের দিন ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখে যে নতুন অধ্যায় শুরু হবে, তার ভরকেন্দ্রে থাকবে যুবসমাজ এবং দেশের মা-বোনেরা।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি এবং আমরা থাকব ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনও জালিম হবো না।’
নারী ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, মা-বোনেরা কোনো জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন; চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন। আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাব, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেব, পারলে ঠেকাও।
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।
জামায়াতে ইসলামীর এ নির্বাচনি জনসভায় এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলটির নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
১৩ দিন আগে
জামায়াতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার(৩১ আগস্ট) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
আজ বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
রবিবার প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক আজ বিকাল ৩টার পরিবর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
পড়ুন: প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনী রোডম্যাপ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা: ডা. তাহের
১৬৬ দিন আগে
আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব দমনে নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক পিএসসি চায় জামায়াত
দেশের আমলাতন্ত্র থেকে ‘কর্তৃত্ববাদী ভূত’ দূর করতে একটি স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক এবং নিরপেক্ষ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পিএসসি চাই যা— স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক এবং নিরপেক্ষ, যাতে কোনো ‘স্বৈরাচারী ভূত’ আর প্রশাসনে রাজত্ব করতে না পারে।’
সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংস্কার সংলাপের ২০তম অধিবেশনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, অতীতে অনেক প্রতিভাবান তরুণকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে অথবা তারা তাদের চাকরি হারিয়েছেন। এতে মূলত রাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে পিএসসি নিয়ে কোনো আপস নেই। তারা নিশ্চিত করে যে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয় এবং রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রশাসনে যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়।’
বিদ্যমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রশাসনে নিয়োগ কখনও কখনও 'একটি নোটের মাধ্যমে' নির্ধারিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত পিএসসি। কোনো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপমুক্ত থাকুক।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সোমবার(২৮ জুলাই) সকালে পিএসসি এবং আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান - দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক জেনারেল (সিএজি) এবং ন্যায়পালের কার্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সংবিধানে এই সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। কিন্তু বিএনপি এবং আরও কয়েকজন যুক্তি দিয়েছেন যে, সংবিধান সংশোধন না করে আইনের মাধ্যমে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, ‘যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইনগতভাবে সুরক্ষিত থাকে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্পন্ন যেকোনো সরকার সকাল এবং সন্ধ্যায় যে কোনো সময় আইন পরিবর্তন করতে পারে। তাই, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ও দলীয় সুবিধা দূর করতে সংবিধানে এটি থাকা আবশ্যক।’
সংলাপ থেকে বিএনপির ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তাহের বলেন, ‘পুরো অনুষ্ঠান বর্জন করে পরে যোগ না দেওয়ার জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা দলগুলোকে সরকার বা বিরোধী দল হিসেবে দেখি না - আমরা দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো কী, তার উপর ভিত্তি করে প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করি।’
নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত, তবে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ এবং সমান সুযোগ না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
‘নির্বাচন হলে, ইশতেহারে আমাদের প্রথম এজেন্ডা হবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা,’ ঘোষণা দেন তাহের।
২০০ দিন আগে
সমাবেশে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, ফরিদপুরে দুই জামায়াত নেতা নিহত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় দলটির দুই নেতা নিহত হয়েছেন।
এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ থেকে ৯ জন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— খুলনার দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা মাওলানা আবু সাঈদ (৫৫) এবং একই উপজেলার মোহাম্মদ আমানত শেখ (৫৫)।
আরও পড়ুন: গাংনীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ১
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশফাক হোসেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জামাত ইসলামীর মহাসমাবেশে অংশ নিতে দলটির নেতা-কর্মীদের নিয়ে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা একটি মিনিবাস ভাঙ্গা গোলচত্বর মহাসড়কের ওপর যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় খুলনা থেকে ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেসের একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকা মিন ক্লাসিক নামের ওই বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে সেটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন কর্মী বাসের চাপে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় সেখানে থাকা আরও ৮ থেকে ৯ জন সমর্থক আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ, ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে মিনি বাস ও লাশদুটি ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের অধীনে রয়েছে বলে জানান ওসি।
২০৯ দিন আগে
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল: আইন উপদেষ্টা
আওয়ামী লীগ সরকার নীতিগত অবস্থান থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি, বরং রাজনৈতিক কৌশলের জন্য এটি ব্যবহার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজের কিছু মহল থেকে বহু বছর ধরে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠত। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ কখনোই এটা করেনি। তারপর তারা এটা একটা বিশেষ মুহূর্তে করেছে। যখন ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থান চলছিল। তারা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে জামায়াত-বিএনপির জঙ্গি-সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যায়িত করে এই আন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করার চেষ্টায় ছিল। এর বহু প্রমাণ আপনারা বহুবার পেয়েছেন।’
আরও পড়ুন: এনবিআর পরিদর্শনে গিয়ে কাজের গুরুত্ব তুলে ধরলেন অর্থ উপদেষ্টা
বুধবার (২৮ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, তারা যে সন্ত্রাসী হিসেবে জামায়াত-বিএনপির কর্মকাণ্ডকে আখ্যায়িত করেছিল, ওই ন্যারেটিভের পার্ট হিসেবে তারা জামায়াতকে হঠাৎ করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলতে চেয়েছে, সেই ন্যারেটিভের পার্ট তো আমরা হতে পারি না। এছাড়া তারা কোনো নীতিগত অবস্থান থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি। তারা রাজনৈতিক অপকৌশলের জন্য ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নির্মমভাবে দমন করার জন্য এই ইস্যুটাকে এভাবে ব্যবহার করেছিল।’
আরও পড়ুন: স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনতে পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ অবদান রাখবে: বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত ও প্রত্যাখ্যাত একটি দলের অন্যায় ন্যারেটিভের পার্ট হতে পারি না।’
আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন বাতিল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বুধবার (২৮ আগস্ট) আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ
৫৩৪ দিন আগে
শিবির-ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত জঙ্গি, কোটা সংস্কার ইস্যু ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াতের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা জাতিকে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
সোমবার (২৯ জুলাই) সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'শিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে জঙ্গি, যারা বাংলাদেশের ওপর তাদের থাবা বসিয়েছে।’
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, জঙ্গিবাদের কাজ।
আরও পড়ুন: ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন মেরামতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের অগ্রগতি দেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। তিনি বলেন, 'আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে মর্যাদাশালী করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের সঙ্গে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সম্পর্ককে প্রত্যাখ্যান করে এর সঙ্গে থাকা অসৎ উদ্দেশ্যকে দায়ী করেন। তিনি বলেন,‘তাদের অসৎ উদ্দেশ্য দৃশ্যমান ছিল, কোটা সংস্কার মোটেও কোনো ইস্যু ছিল না।’
সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য 'জঙ্গিদের' সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। জনগণকে সেবা ও সুবিধা প্রদানকারী কাঠামো ধ্বংস করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার শেখ হাসিনার
৫৬৪ দিন আগে
সংসদে জামায়াতের অনুপস্থিতির প্রশংসায় সংখ্যালঘু নেতারা
সম্প্রতি ঢাকায় এক সভায় গতমাসে(৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নবগঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অনুপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৬০ জনেরও বেশি নেতা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এর ফলাফল মূল্যায়নের জন্য দেশের বৃহত্তম সংখ্যালঘু প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভাটি বলছে, অতীতে তারা(জামায়াত) যখন বিএনপির সঙ্গে জোট করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছেন। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে তারা দলটির(জামায়াতের) সংসদ থেকে দূরে থাকাকে 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির' ভবিষ্যতের জন্য 'আশা এবং ভরসা জাগানোর' নতুন কারণ হিসাবে অভিহিত করেন।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সংবাদমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এমন একাধিক নেতার কাছ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানোর পর জামায়াত বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিলে দলটির প্রধান মিত্র বিএনপি ভোট বর্জন করে।
সভায় বলা হয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অবরোধ ও আহমদিয়াসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে জামায়াত।
বৈঠকে হতাশার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, জোট এখনও একই ধরনের দাবিতে অটল রয়েছে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেয়ার পরও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষমতার জন আন্দোলনে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকে একাধিক বক্তা জোটকে পাকাপোক্ত করার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বজায় রাখার বহুল প্রচারণাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন পরিচালনাকে একটি অপরিহার্য নির্দেশক বলে মনে করেন এবং ফলাফলটি সংখ্যালঘু ভোটারদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। বেশি পরিমাণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে প্রমাণ করে বলেও মনে করেন তারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মানবাধিকার কর্মী রঞ্জন কর্মকার বলেন, ক্ষমতার দৃঢ়তা পাকাপোক্ত করতে জামায়াত ও বিএনপির পাঁচ দশকের সাম্প্রদায়িক কার্ডের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বিষয়ে সজাগ থাকুন: শিক্ষামন্ত্রী
তিনি বলেন, নির্বাচনে না এসে রাজপথে দেশের ভাগ্য নির্ধারণে তারেক রহমানের আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত বক্তাদের অনেকেই।
বাংলা ভাইয়ের মতো উগ্র ধর্মীয় জঙ্গি ও ধর্মান্ধদের প্রতি তার ঐতিহাসিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ চালানো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দায়মুক্তি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন নেতারা।
প্লাটফর্মটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্মকার বলেন, এ ধরনের অপরাধের নতুন করে অস্বীকার করাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয়দানের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার যথেষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে ছয় মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের চিঠির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অবস্থা ভয়াবহ হিসেবে তুলে ধরার বিএনপির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তারা আরও মন্তব্য করেন, 'বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার জন্য এই জোট নির্বাচনের পরে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অনুরূপ প্রচেষ্টা শুরু করেছে।’
এই দাবির প্রেক্ষিতে ডি রোজারিও বলেন, 'আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, এই বক্তব্য বাস্তবতাকে মিথ্যা প্রমাণ করে। চিঠিতে যা বলা হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
আরও পড়ুন: বিরামপুরে ‘বিক্ষোভ’ মিছিল থেকে জামায়াতের ১৬ কর্মী আটক
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে, খ্রিস্টানরা সমর্থন পেয়েছে; এটা বলা নিরাপদ যে তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রোমান ক্যাথলিক চার্চের কলেজ অব কার্ডিনালসে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হন ডি'রোজারিও।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ছিল দেশের সবচেয়ে বড় সহিংসতা।
সভার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০০১ সালে জিয়ার বিধবা স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন এবং সেই আমলেও (বিএনপি জামায়াত জোট) সংখ্যালঘু ও প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা গণহত্যায় সারা দেশে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রায় ২৮ হাজার সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
তবে মঠ পোড়ানো, হিন্দু ভোটারদের ওপর হামলা ও উত্তরাঞ্চলের নারী ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনে বিএনপি ও জামায়াতের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই এসব অভিযোগকে অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা ও আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি ৬ নভেম্বর
৭২৮ দিন আগে
নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা ১ হাজার ৯৬৭টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪১ জন।
বুধবার(৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মাদারীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান শাজাহান খান।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হাতে মোট ১৮৮ জন নিহত ও ৪ হাজার ৯৭৩ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'এসব নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৮ হাজার ১০৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৭টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং ১ হাজার ২৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ও তার দোসররা নির্বাচন প্রতিহতের নামে অযৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে অগ্নিসন্ত্রাস, নিরীহ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করার মতো অগ্নিসন্ত্রাসের ঘৃণ্য খেলায় লিপ্ত হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার নামে অগ্নিসন্ত্রাস, হরতাল ও অবরোধের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও নিরীহ মানুষকে হত্যা, রেললাইন উপড়ে ও লাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলে, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবন ও যানবাহন ভাঙচুর করে জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের চিঠি
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে সহিংস কার্যক্রমের মাধ্যমে সারাদেশে ছয় শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮৪টি যাত্রীবাহী বাস, ৪৮টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩টি সিএনজি, ৪টি প্রাইভেটকার, ১১টি পিকআপ, ৫টি ট্রেন, ১৫টি মোটরসাইকেল, ৩টি লেগুনা, ১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস, ১টি অটোরিকশা, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি বাড়ি, ১টি বৌদ্ধ মন্দির ও ১টি নৌকাসহ ৩২৮টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, চালক, হেলপার, পুলিশ, বিজিবি, শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকে অবরোধ ও হরতালে নিহত, আহত বা পঙ্গু হয়েছেন।
এসব ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ট্রেনে নাশকতায় নিহত হয়েছেন ৯ জন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও শাস্তি দিতে দেশে দক্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার ব্যবস্থা এবং আইন রয়েছে। বিদ্যমান আইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
৭৩৭ দিন আগে